ব্লগে ট্রাফিক কিভাবে আনবেন ? বন্ধুরা, একটি ফ্রি ওয়েবসাইট বা ব্লগ বানানোর পর, আমাদের সব থেকে জরুরি কাজ যেটা থাকে সেটা হলো, “ব্লগে ভিসিটর্স বা ট্রাফিক নিয়ে আশা“।

ব্লগে ট্রাফিক ও ভিসিটর
How to get thousands of traffic to your blog ?

আমি আগেই আপনাদের বলে দেই, এই আর্টিকেলে আমি, ব্লগিং এ একদম নতুন (beginner) দেড় জন্য কিছু উপায় বা মাধ্যম বলবো যেগুলি ব্যবহার করে তারা ফ্রি ওয়েবসাইট ও ব্লগ ট্রাফিক (blog traffic) পেয়ে যাবেন।

তাই এই আর্টিকেল, নতুন করে ব্লগিং (blogging) আরম্ভ করা ব্লগার (blogger) দেড় অনেক কাজে আসবে।

আজ, প্রত্যেক দিন হাজার হাজার লোকেরা blogger বা WordPress ব্যবহার করে নিজের ফ্রি ব্লগ তৈরি করছেন এবং লক্ষ লক্ষ লোকেরা ব্লগে আর্টিকেল পাবলিশ (article publish) করছেন। এক্ষেত্রে, ৭০% লোকেরা কিছু দিন পরেই ব্লগে কাজ করা ছেড়ে দেন।

এবং শেষে, হতাশ হয়ে বলেন যে, “ব্লগ থেকে টাকা আয় করা সম্ভব না“.

কারণ, তারা ব্লগ বানানোর থেকে শুরু করে, আর্টিকেল লেখা অব্দি সবটাই করছেন। কিন্তু, তারা নিজের ব্লগে ভিসিটর্স বা ট্রাফিক কিভাবে আনবেন বা সঠিক ভাবে ব্লগে ভিসিটর্স কিভাবে বাড়াবেন, এর বেপারে কোনো জ্ঞান রাখেননা।

এটাই, তাদের ব্লগিং ক্যারিয়ারে সব থেকে বড়ো অসফলতার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

হে, আমিও যখন আমার প্রথম ব্লগ বানিয়েছিলাম, তখন আমিও জানতামনা যে একটি ব্লগে ট্রাফিক বা ভিসিটর কতটা জরুরি এবং কিভাবে ব্লগে ভিসিটর্স বাড়িয়ে নিতে পারবো। তাই, আমার প্রথম ব্লগ নিয়ে আমি বেশি দিন কাজ করতে পারিনেই।

কিন্তু, আজ আপনারা সবাই আমার বাংলা ব্লগ “banglatech.info” র ব্যাপারে জানেন এবং এই ব্লগে এসে আমার আর্টিকেল পড়ছেন। এবং আমি, সঠিক নিয়ম বা মাধ্যম ব্যবহার করে ব্লগে ভিসিটর্স (visitors) বাড়িয়ে নেয়ার উপায় কি, সেটা শিখতে প্রায় ১.৫ থেকে ২ বছর সময় লাগিয়েছি।

এখন, আমি সবটাই জেনে গেছি এবং দিনের পর দিন আমার ব্লগের ট্রাফিক (traffic) বেড়েই চলেছে। এর সাথে সাথে আমার ব্লগ থেকে ইনকাম এর পরিমান বেড়ে যাচ্ছে।

শেষে, আমি চাইনা যে, আপনারাও আমার মতো নিজের ১.৫ থেকে ২ বছর কেবল ব্লগে ট্রাফিক বাড়ানোর নিয়ম খুঁজতে খুঁজতেই শেষ করে দেন।

তাই, আমি আমার ৫ বছরের অনুভব আপনাদের সাথে এক এক করে শেয়ার করছি এবং আপনার নতুন ব্লগ বা ওয়েবসাইটে কিভাবে ফ্রি visitors বা traffic পেয়ে যাবেন, সেবেপারে এক এক করে বলছি।

Blog traffic বা visitors কি ? (What is blog traffic)

আমরা অনেক কষ্ট করে দিনের পর দিন কাজ করে একটি ব্লগ তৈরি করি। এবং, তার থেকেও বেশি কষ্ট করে তাতে রেগুলার আর্টিকেল লিখি।

এখন, যেই আর্টিকেল গুলি আমরা ইন্টারনেটে ব্লগের মাধ্যমে প্রচার বা পাবলিশ করছি, সেগুলি পড়ার জন্য যদি কেও নাই আশে, তাহলে আমাদের ব্লগ লেখার মানে কি।

তাই, প্রত্যেকটি ব্লগার নিজের ব্লগে একটাই উদ্দেশ্য নিয়ে আর্টিকেল লিখেন। এবং, সেটা হলো, “তার লেখা আর্টিকেল পড়তে যাতে অসংখক মানুষ বা লোকেরা বিভিন্ন মাধ্যমে আসে”।

এখন, একটি ব্লগ বা ওয়েবসাইটে অনলাইন বিভিন্ন মাধ্যম যেমন, “social media“, “Search engines” বা “paid advertisement” আশা লোকেদের বা মানুষের সংখ্যাকেই “ট্রাফিক” বা “ভিসিটর্স” বলা হয়।

তাহলে, এখন হয়তো আপনারা ব্লগ ট্রাফিক কি, সেটা অবশই বুঝে গেছেন।

ব্লগে ট্রাফিক বা ভিসিটর্স কেন জরুরি ? 

দেখেন, আমি আগেই বলেছি, একটি ব্লগারের ব্লগ বা আর্টিকেল লেখার উদ্দেশ্য হলো ব্লগে ট্রাফিক বা ভিসিটর্স আনাটা।

এখন কথাটা হলো, কেন ? কেন আমরা আমাদের ব্লগে অধিক পরিমানে ট্রাফিক বা ভিসিটর্স চাই ?

আপনাদের মধ্যে অনেকেই হয়তো এর উত্তর জানেন।

তাইতো…..?

হে, আপনি ঠিক ভাবছেন। একটি ব্লগে যত বেশি পরিমানে ভিসিটর্স বা ট্রাফিক আসবে, ততটাই বেশি সুযোগ হবে টাকা ইনকামের।

মানে, ব্লগে যদি মিনিমাম ১০০০ জন প্রত্যেকদিন আপনার আর্টিকেল পড়তে আসে, তাহলেও “গুগল এডসেন্স” এবং অন্য কিছু মাধ্যম ব্যবহার করে, আপনারা ভালো পরিমানেই টাকা আয় করতে পারবেন।

তাই, আজকাল ব্লগের এই ব্যবসা অনেক লাভজনক প্রমাণিত হয়েছে। কিন্তু, এই ব্যবসার মূল মন্ত্রটাই হলো “visitors” বা “traffic”. যত বেশি লোকেরা আপনার ব্লগে আসবে ততটাই বেশি অনলাইন ইনকাম এর সুযোগ আপনার বাড়বে।

তাই, নিজের ব্লগ থেকে টাকা আয় করার জন্য, প্রথমেই আপনার ভাবতে হবে যে, “ব্লগে ট্রাফিক কিভাবে বাড়াবো ?“.

তাহলে, ব্লগে ট্রাফিক ও ভিসিটর্স কেন জরুরি সেটা বুঝলেন তো ? আশা করি বুঝেছেন।

ব্লগে ফ্রি ট্রাফিক ও ভিসিটর কিভাবে আসবে ?

নিজের ব্লগের জন্য ট্রাফিক (traffic) কিভাবে এবং কোনখান থেকে পাবো, এই প্রশ্নটি কিন্তু নতুন ব্লগার রা অনেক করেন। এবং, আমার উত্তর পড়ার পর নতুন ব্লগার রা নিজের ব্লগিং এর ক্যারিয়ারের এক কদম আরো এগিয়ে যাবেন।

১. Search engine (Google, Yahoo & Bing)

সার্চ ইঞ্জিন যেমন গুগল, ইয়াহু Bing আমাদের ব্লগ বা ওয়েবসাইটে অসংখক ভিসিটর্স (visitors) পাওয়ার এক অনেক গুরুত্বপূর্ণ উপায় বা মাধ্যম।

অন্যান্য সার্চ ইঞ্জিন এর তুলনায় গুগল সার্চ (Google search) থেকে ৯০% organic traffic আপনারা পেয়ে যাবেন।

আজ আমার ব্লগে প্রত্যেক দিন প্রায় ১৫০০ নতুন লোকেরা আসেন আর্টিকেল পড়তে। এবং তাদের মধ্যে প্রায় ১৩০০ জন Google search এর মাধ্যমে আশা ভিসিটর্স।

নিজের ব্লগে ভিসিটর্স পাওয়ার এই মাধ্যম সব থেকে সেরা এবং সব ব্লগাররাই গুগল সার্চ ইঞ্জিনের মাধ্যমে নিজেদের ব্লগে হাজার হাজার ভিসিটর্স (visitors) প্রত্যেক দিন পেয়ে যাচ্ছেন।

এখন প্রশ্ন হলো, আপনি আপনার ব্লগের জন্য Google search engine থেকে ট্রাফিক (traffic) কিভাবে পাবেন ? এর সঠিক উপায় কি ?

গুগল সার্চ ইঞ্জিন থেকে কিভাবে ট্রাফিক বা ভিসিটর্স পাবেন ?

আজ, ইন্টারনেট এবং অনলাইন ব্লগ বানানোর কথা প্রায় বেশির ভাগ লোকেরাই জানেন। এবং, প্রত্যেক দিন নতুন নতুন ব্লগ তৈরি হচ্ছে এবং লক্ষ লক্ষ আর্টিকেল পাবলিশ (publish) করা হচ্ছে।

এই ক্ষেত্রে, ব্লগিং এর লাইনে প্রতিযোগিতা অনেক বেড়ে গেছে এবং সহজে Google search থেকে নিজের ব্লগে ফ্রি ভিসিটর্স পাওয়াটাও অনেক কঠিন হয়ে পড়েছে।

তাই, আমরা search engine optimization নামের এক প্রক্রিয়া ব্যবহার করে, নিজের ব্লগে গুগল সার্চ থেকে অধিক সংখ্যাই সার্চ ট্রাফিক পেয়ে যেতে পারি। এবেপারে পরে আমি বলবো।

সবচে আগেই, আপনার নিজের ব্লগ ও ওয়েবসাইট গুগলের কাছে জমা দিতে হবে। এর পর গুগল আপনার ব্লগ (blog) বা ওয়েবসাইট (website), তার সার্চ রেজাল্টে দেখাবেন এবং যার মাধ্যমে আপনার ব্লগে ভিসিটর্স আসবে।

নিজের ওয়েবসাইট গুগলের কাছে জমা দিন 

গুগল সার্চ ইঞ্জিনে আপনার ওয়েবসাইট দেখানোর জন্য বা এর মাধ্যমে নতুন নতুন ভিসিটর পাওয়ার জন্য, প্রথমেই আপনার ওয়েবসাইট Google search console এ গিয়ে রেজিস্টার (Register) করতে হবে।

এখানে রেজিস্টার করার জন্য আপনার একটি গুগল একাউন্ট বা জিমেইল একাউন্টের প্রয়োজন হবে। জেনেনিন, gmail account খোলার নিয়ম

আপনার নতুন ব্লগ বা ওয়েবসাইট “Google search console” এ জমা দেয়ার পর, প্রায় দুদিন পর থেকেই আপনার ব্লগ এবং এর সাথে জড়িত সব ধরণের পেজ, গুগল তার সার্চ রেজাল্টে দেখানো শুরু করতে থাকবেন।

আপনি, নিজের ব্লগের “domain name” লিখে সার্চ করলেই বুঝতে পারবেন যে আপনার ব্লগ Google search এ দেখানো হচ্ছে কি না।

একবার, search console এর মাধ্যমে নিজের ব্লগ Google এ রেজিস্টার করার পর, ভবিষ্যতে আপনি যা যা নতুন আর্টিকেল লিখবেন, সবটাই নিজে নিজে Google search engine এ যোগ হতে থাকবে।

শেষে , আপনার খালি, ভালো ভালো এবং SEO friendly article নিজের ব্লগে লিখতে হবে। এতে, আপনার ব্লগের আর্টিকেল গুলিতে, নিজে নিজেই ট্রাফিক বা ভিসিটর্স গুগল সার্চ থেকে অধিক পরিমানে আসতেই থাকবে।

ব্লগের আর্টিকেলে SEO ব্যবহার করুন 

মনে রাখবেন, ওয়েবসাইটে সার্চ ইঞ্জিন থেকে অধিক পরিমানে ট্রাফিক পাওয়ার জন্য কিন্তু আপনার “search engine optimization” এর ব্যবহার করেই আর্টিকেল লিখতে হবে। এ না হলে, গুগল থেকে ফ্রি ভিসিটর্স পাওয়াটা আপনার জন্য অনেক কঠিন হয়ে দাঁড়াবে।

SEO মানে কি ? ব্লগে seo র কাজ কি এবং আর্টিকেলে SEO র ব্যবহার কিভাবে করবেন সবটাই আমি আগেই আপনাদের বলেছি। তাই, এই আর্টিকেল গুলি অবশই পড়বেন।

২. সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে ট্রাফিক 

হে, সোশ্যাল মিডিয়া যেমন Facebook, TwitterYouTube আপনার ওয়েবসাইটে অসংখক ভিসিটর্স নিয়ে আসতে পারে। মনে রাখবেন, যত বেশি social media traffic আপনার ব্লগে থাকবে, গুগল সার্চ থেকেও ততটাই বেশি সার্চ ট্রাফিক পাওয়ার সুযোগ বেড়ে যাবে।

এইটা সোশ্যাল মিডিয়া ট্রাফিক এর এক আলাদা লাভ। তাই এই ক্ষেত্রে, সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং নামের এক প্রক্রিয়া আপনাদের অনেক কাজে আসতে পারে।

এখন, সোশ্যাল মিডিয়া গুলির থেকে ব্লগে ট্রাফিক পাওয়ার জন্য আপনার কি করতে হবে ? জানেন তো ? জানেননা ?

সবচে আগেই, আপনার Facebook, Twitter এবং YouTube এ নিজের ব্লগের নামে একটি পেজ বা চ্যানেল তৈরি করতে হবে।

এখন, আপনার টুইটার ও ফেসবুক ফ্যান পেজ বা ইউটিউবের চ্যানেলে, নিজের ব্লগে লিখা আর্টিকেল এর সাথে জড়িত ডিটেলস (details) দিয়ে আর্টিকেল এর লিংক দিয়ে শেয়ার (share) করতে হবে।

হে, প্রথমে আপনি ট্রাফিক নাও পেতে পারেন। কিন্তু, আস্তে আস্তে যখন আপনার পেজ ও চ্যানেলে লাইক, followers বা subscribers অনেক হয়ে যাবে, তখন সেগুলির থেকে ব্লগে ভিসিটর্স বা ট্রাফিকের সংখ্যা বেড়ে যাবে।

আপনার যদি আগের থেকেই, ফেসবুক পেজ বা ইউটিউবের চ্যানেল রয়েছে, যেখানে হাজার হাজার লাইক ও subscribers রয়েছে, তাহলে আপনি সেই পেজ বা চ্যানেলের লাভ অবশই ওঠাতে পারবেন।

৩. গেস্ট পোস্ট (Guest posting) এর মাধ্যমে 

আপনারা কি “guest posting কি” সেটা জানেন ? মনেহচ্ছে জানেননা। আসলে, যখন আমরা আমাদের ব্লগের niche বা topic এর সাথে জড়িত অন্য কিছু ব্লগে আর্টিকেল লিখে একজন অতিথি (guest) হিসেবে জমা দেই, তখন সেই প্রক্রিয়াকে guest posting বলে।

মনে রাখবেন, জমা দেয়া আর্টিকেলে আমরা আমাদের ব্লগের লিংক (link) অবশই দিতে হয়। তা না হলে, গেস্ট পোস্ট করে আমাদের কোনো লাভ হবেনা।

Guest posting করে, আপনার দুই রকমে লাভ হতে পারে।

প্রথম, আপনি যেই ব্লগে আর্টিকেল লিখেচেন সেই ব্লগ থেকে আপনার ব্লগে আর্টিকেলে আপনার দেয়া ওয়েবসাইট লিংকের মাধ্যমে ট্রাফিক বা ভিসিটর্স আসবে।

দ্বিতীয়তে, যখন অন্যান্য ব্লগে আপনি আর্টিকেল লিখে নিজের ব্লগের লিংক সেখানে দিয়ে দিবেন, তখন আপনার ওয়েবসাইটের জন্য একটি ব্যাকলিংক (Backlink) তৈরি হবে। এবং, এই ব্যাকলিংক গুগল সার্চ থেকে অধিক ট্রাফিক পাওয়ার জন্য অনেক জরুরি।

তাই, গেস্ট পোস্টিং করলে ব্যাকলিংক তৈরি হবে এবং এ গুগল সার্চ থেকে অধিক ভিসিটর্স পাওয়ার সুযোগও অনেক বাড়িয়ে দিবে।

গেস্ট পোস্টিং (Guest posting) কিভাবে করবেন ?

গেস্ট পোস্ট করার জন্য প্রথমেই আপনার এমন কিছু ব্লগ খুঁজতে হবে, যেগুলির কোয়ালিটি (quality) অনেক ভালো এবং যার niche, টপিক বা বিষয় আপনার ব্লগের সাথে প্রায় এক।

তারপর, আপনার এক এক করে সেই ব্লগের মালিক দেড় ইমেইল করতে হবে। ইমেইলে আপনার লিখতে হবে যে “আপনি তাদের ব্লগে গেস্ট পোস্ট করতে চান”.

তারপর, যদি ব্লগের মালিকরা আপনাকে তাদের ব্লগে অতিথি হিসেবে লেখার অনুমতি দেন, তাহলে আপনি একটি ভালো আর্টিকেল লিখে আর্টিকেলের ভেতরে নিজের ব্লগের একটি লিংক (URL Link) দিয়ে সেটা তাদের জমা দিতে হবে।

তারপর, যখন ব্লগের মালিকরা আপনার লেখা আর্টিকেল তাদের ব্লগে পাবলিশ বা প্রচার করবেন, তখন আপনার ব্লগে তাদের ব্লগ থেকে ব্লগের url link এর মাধ্যমে ডাইরেক্ট ট্রাফিক আসবে।

তাছাড়া, আপনার ব্লগের quality backlink ও তৈরি হবে, যেটা ভবিষ্যতে আপনার ব্লগের Domain authority বাড়িয়ে দিবে এবং ফলে আপনি গুগল সার্চ থেকে অধিক পরিমানে organic visitors পাবেন।

৪. Directory submission 

Directory submission এর মাধ্যমে বেশি না, কিন্তু কিছু পরিমানে direct traffic আপনি আপনার ব্লগে পেয়ে যাবেন।

এই প্রক্রিয়াতে, আপনার নিজের ব্লগের url address কিছু ভালো quality directory website যেমন, Indiblogger বা Blogadda তে জমা দিতে হয়।

এতে, সেই directory গুলিতে আশা ভিসিটররা ডাইরেক্ট আপনার দেয়া লিংকের মাধ্যমে আপনার ব্লগে এসে যাবেন।

আপনি Google এ সার্চ করলে এরকম অনেক directory website পেয়ে যাবেন, যেগুলিতে আপনারা নিজের ব্লগের লিংক যোগ করতে পারবেন।

শেষে, মনে রাখবেন, যেকোনো directory তে নিজের ব্লগ যোগ করবেননা। কারণ, খারাপ বা low quality directory হলে আপনার গুগল সার্চ থেকে আশা ট্রাফিকে খারাপ প্রভাব পড়তে পারে।

তাই, কেবল ভালো এবং high quality directory website গুলিতেই নিজের ব্লগের নাম ও URL link যোগ করবেন।

৫. Blog commenting 

আপনারা যখন, অন্য ব্লগে গিয়ে আর্টিকেল পড়েন, তখন আর্টিকেলের নিচে “Write a comment” বলে একটি জায়গা অবশই দেখেছেন।

এই “write a comment” এর মাধ্যমে, আপনারা সেই ব্লগের আর্টিকেলে আর্টিকেল টির বিষয়ে কিছু কমেন্ট লিখতে পারবেন।

কমেন্ট জমা দেয়ার সময়, আপনাকে আপনার ব্লগ বা ওয়েবসাইটের নামও লিখতে বলা হয়। তাই, এভাবে অন্য ব্লগে কমেন্ট লেখার সময় আপনি আপনার ব্লগের URL address link দিয়ে নিজের ব্লগের প্রচার করতে পারবেন।

এতে, আপনার দেয়া লিংকের মাধ্যমে যেখানে কমেন্ট করেছেন সেই ওয়েবসাইট থেকে ট্রাফিক বা ভিসিটর্স পাওয়ার সুযোগ থাকে।

তাছাড়া, এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে, আপনি নিজের ব্লগের জন্য অনেক ব্যাকলিংক (backlink) তৈরি করতে পারবেন। High quality এবং ভালো ওয়েবসাইট ও ব্লগ থেকে আশা ব্যাকলিংক এর ফলে গুগল সার্চ থেকে আশা অর্গানিক ট্রাফিক বা ভিসিটর্স অনেক সংখ্যায় বেড়ে যাওয়ার সুযোগ থাকে।

৬. Email marketing 

ইমেইল মার্কেটিং কি, এবেপারে আমি আপনাদের আগেই বলেছি। কিন্তু তাও এই বেপারে এখানে আমি আপনাদের অল্প বলে দেয়।

ইমেইল মার্কেটিং হলো এমন এক প্রক্রিয়া, যেখানে আপরা ইমেইল এর মাধ্যমে নিজের ব্লগ বা ওয়েবসাইট, হাজার হাজার লোকেদের কাছে প্রচার করতে পারি।

এক্ষেত্রে, আপনার নিজের ব্লগে একটি “email subscription box” ব্যবহার করতে হবে এবংএর দ্বারা ব্লগের জন্য ইমেইল লিস্ট (email list) তৈরি করতে হবে।

এতে, আপনার ভিসিটর্সরা যখনি সেই বক্সে তাদের ইমেইল আইডি দিয়ে subscribe করবেন, তার পর থেকেই আপনি নিজের ব্লগে প্রচার করা সব আর্টিকেল গুলির notification তারা ইমেইল এর মাধ্যমে পেয়ে যাবেন।

তাই, যদি আপনার কাছে হাজার হাজার email subscribers রয়েছে, তাহলে কেবল ইমেইল এর মাধ্যমেই আপনি আপনার ব্লগে ভালো সংখ্যাতে ট্রাফিক পেয়ে যাবেন।

নিজের ব্লগে, email subscription box ব্যবহার করে ইমেইল লিস্ট তৈরি করার জন্য, আপনারা Google FeedBurner সার্ভিস ব্যবহার করতে পারবেন। আমিও এটাই ব্যবহার করছি নিজের ব্লগের জন্য email list তৈরি করার জন্য।

৭. Quora ব্যবহার করে ট্রাফিক নিন 

শেষে, নিজের ব্লগের জন্য ফ্রি কোয়ালিটি ট্রাফিক বা ভিসিটর্স নিয়ে আসার জন্য আমি quora website এর ব্যবহার করি।

Quora এমন এক জনপ্রিয় প্রশ্ন উত্তর সাইট (question answer website) যেখানে প্রত্যেকদিন, হাজার হাজার লোকেরা বিভিন্ন বিষয় নিয়ে প্রশ্ন করেন। তাছাড়া, বিভিন্ন বিষয়ে উত্তর খোঁজার জন্য লক্ষ লক্ষ লোকেরা এখানে প্রত্যেক দিন আসেন।

এবং, আমার আর আপনার মতোই সাধারণ লোকেরা সেই প্রশ্ন গুলির উত্তর দেন। মানে, জেকেও quora তে, লোকেরা করা প্রশ্নের উত্তর দিতে পারবেন।

এখন, আপনিও নিজের ব্লগে লেখা আর্টিকেলের সাথে জড়িত প্রশ্ন quora তে খুঁজে তারপর সেগুলির উত্তর দিতে পারবেন।

এবং, প্রশ্নের উত্তর লেখার সময় আপনি তাতে নিজের “ব্লগের আর্টিকেলের লিংক” সেখানে যোগ করতে পারবেন।

এতে, quora তে লোকেরা আপনার উত্তর পড়ার সাথে সাথে, আপনার দেয়া ব্লগের লিংকের মাধ্যমে আপনার ব্লগে আসবেন। ফলে, ব্লগের ট্রাফিক বা ভিসিটর্স বাড়বে।

এই মাধ্যম ব্যবহার করে অনেকেই নিজের ব্লগ ও ওয়েবসাইটে রেগুলার ট্রাফিক নিয়ে আসছেন।

মনে রাখবেন, যত বেশি প্রশ্নের উত্তর আপনারা দিবেন এবং যত বেশি উত্তরে নিজের ব্লগের আর্টিকেলের লিংক যোগ করবেন, ততটাই বেশি ভিসিটর্স পাওয়ার সুযোগ বেড়ে উঠবে।

শেষে, quora র মাধ্যমে আপনারা quality backlinks তৈরি করতে পারবেন। এর ফলে, গুগল সার্চ থেকে আশা ট্রাফিক এর পরিমাণ বাড়ার ভালো সুযোগ হয়ে দাঁড়াবে।

আমাদের শেষ কথা,

তাহলে বন্ধুরা, ওপরে আমি আপনাদের ৭ টি উপায় বললাম যেগুলি ব্যবহার করে আপনি নিজের ব্লগে ট্রাফিক বা ভিসিটর্স ফ্রীতেই নিয়ে আসতে পারবেন। একটি নতুন ব্লগ হোক কি পুরোনো, আজ নিজের ওয়েবসাইটে ট্রাফিক বাড়ানোর এগুলি সেরা এবং সহজ উপায়।

আমি নিজেই এই উপায় গুলি ব্যবহার করেই, নিজের ব্লগে প্রত্যেক দিন নতুন নতুন ভিসিট নিয়ে আসছি।

আপনারা যদি ব্লগিং (blogging) এ নতুন, এবং একটি ব্লগে ভিসিটর বা ব্লগ পড়ার জন্য মানুষ কিভাবে আসবে বা কোনখান থেকে আসবে সে বেপারে কিছুই জানেননা, তাহলে আজকের এই আর্টিকেল আপনাদের অনেক কাজে এসেছে বলে আমি ভাবি।

কোনো প্রশ্ন থাকলে, নিচে কমেন্ট এর মাধ্যমে জিগেশ করুন। আর্টিকেল ভালো লাগলে শেয়ার অবশই করবেন।