টিকটক থেকে কিভাবে টাকা ইনকাম করা যায় – ইনকামের ৯টি উপায়

২০১৭ সালে আন্তর্জাতিকভাবে লঞ্চ করা হয় TikTok নামক শর্ট ভিডিও মেকিং প্ল্যাটফর্মকে। যারপর মাত্র ৫ বছরের অন্তরে আলোচ্য অ্যাপটি বিশ্বব্যাপী ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করে। অ্যাপটি খুললেই আপনারা – সাংস্কৃতিক ভিডিও থেকে শুরু করে ফ্যাশন, পেইন্টিং, ড্যান্সিং, কমেডি ইত্যাদি যেকোনো বিষয়ক ভিডিও ভরপুর বিদ্যমান পেয়ে যাবেন।

এক্ষেত্রে অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগে যে – ইউজাররা যে গুচ্ছ-গুচ্ছ ভিডিও টিকটকে পোস্ট করছেন এবং ভিডিও তৈরির জন্য সময় খরচ করছেন তার পরিবর্তে কী পাচ্ছেন? তবে এর উত্তর হল, TikTok -এ শর্ট ভিডিও পোস্ট করার মাধ্যমে ফলোয়ারদের সন্তুষ্ট করতে পারলেই কড়কড়ে নগদ টাকা রোজগার করা সম্ভব।

টিকটক থেকে কিভাবে টাকা ইনকাম করা যায়? বা টিকটক থেকে টাকা ইনকাম করার উপায় গুলো কি কি? আজ বিশ্বজুড়ে ইন্টারনেট জগতে এই দুটি প্রশ্ন ট্রেন্ডিংয়ে রয়েছে। কেননা, আজ প্রত্যেকেই টিকটক প্লাটফর্মটিতে শর্ট ভিডিও বানিয়ে অনলাইনে হাজার হাজার টাকা ইনকাম করার স্বপ্ন দেখছেন।

তবে, আপনিও যদি এই বিষয়ে যাচাই করার উদ্দেশ্যে আমাদের এই আর্টিকেলে চলে এসেছেন, তাহলে একেবারেই ঠিক জায়গায় এসেছেন। টিকটকে ভিডিও বানিয়ে টাকা ইনকাম করার প্রত্যেকটি উপায় নিয়ে আজকের এই আর্টিকেলে আমরা আলোচনা করতে চলেছি।

মনে রাখবেন, যেইসকল কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের বিশাল ফলোয়ার বেস আছে, তারা নামিদামি ব্র্যান্ডের সাথে অংশীদারিত্ব করার সুযোগ পেয়ে যাবেন। বিনিময়ে ফ্রি গিফ্ট, অর্থ ইত্যাদি দেওয়া হয় তাদের। এখন, আপনিও যদি TikTok -এর হাত ধরে টাকা আয় করতে চান, তবে নিচে দেওয়া টিপস -গুলি অনুসরণ করে নিজেদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ভরাট করতে পারেন।

টিকটক থেকে টাকা ইনকাম করার উপায় গুলো জানার আগেই আপনাকে এটা অবশই জেনে রাখতে হবে যে, যেকোনো অন্য কাজের মতোই, এখানেও আপনাকে প্রয়োজনীয় সময় টুকু অবশই দিতে হবে এবং সঠিক নিয়ম গুলো অনুসরণ করার মাধ্যমে কাজ করতে হবে।

আমার হিসেবে টিকটকে ভিডিও বানিয়ে রাতারাতি ধনী হওয়াটা সম্ভব না যদিও, নিয়মিত ভাবে কাজ করতে পারলে অনলাইন প্রচুর টাকা ইনকাম করার সুযোগ অবশই পাবেন।

অবশই পড়ুন: দৈনিক ৪০০-৫০০ ইনকাম করার অনলাইন উপায়

আর্টিকেল সূচি: show

ভিডিও আপলোড করে টিকটক থেকে টাকা ইনকাম করা যায়?

টিকটক থেকে টাকা ইনকাম করার উপায়
How to earn money online from TikTok?

ভিডিও তৈরি এবং আপলোড করার জন্য টিকটক কনটেন্ট ক্রিয়েটারদের সরাসরি কোনো ধরণের টাকা দিয়ে থাকেনা। তবে টিকটক প্ল্যাটফর্মের অধীনে ‘ক্রিয়েটিভিটি প্রোগ্রাম’ নামের একটি প্রগাঢ় চালু করা হয়েছে, যাতে অংশগ্রহণকারীরা কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের ফান্ডিং সরবরাহ করে। এক্ষেত্রে একটা বিষয় জানিয়ে রাখি, ভিডিও -তে আসা ভিউ -এর পরিমাণ, এনগেজমেন্ট রেট এবং পোস্ট অথেন্টিসিটি কিরকম তার উপর নির্ভর করে অর্থের পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়। 

রিলেটেড: ইনস্টাগ্রাম থেকে টাকা আয় কিভাবে করবেন?

টিকটকে কত ভিউতে কত টাকা ইনকাম করা যায়?

টিকটক তাদের প্ল্যাটফর্মে আপলোড করা ভিডিও -তে আসা প্রতি ১,০০০ ভিউয়ের জন্য প্রায় ০.০২ থেকে ০.০৪ ডলার টাকা অফার করে থাকে। অর্থাৎ ভারতীয় মূল্যে প্রায় ১.৬৬ টাকা থেকে ৩.৩১ টাকা প্রদান করা হয়। কনটেন্ট ক্রিয়েটররা অর্জিত টাকা ‘টিকটক ক্রিয়েটিভিটি প্রোগ্রাম’ বা ‘ক্রিয়েটর ফান্ড’ -এর মাধ্যমে পেয়ে যান। আর আগেই যেমনটা বলেছিলাম, অর্জিত টাকার পরিমাণ নির্ভর করে ভিডিও -এর ভিউ এবং এনগেজমেন্ট রেটিংয়ের উপর।

প্রসঙ্গত জানিয়ে রাখি, ক্রিয়েটিভিটি প্রোগ্রামকে সর্বপ্রথম ২০২১ সালে চালু করা হয়েছিল।

রিলেটেড: টেলিগ্রাম থেকে ইনকাম কিভাবে করবেন ?

TikTok -এ মাসে কত টাকা রোজগার করা সম্ভব?

একজন কনটেন্ট ক্রিয়েটর, টিকটকে মাসিক কত টাকা রোজগার করবেন তা নির্ভর করে তার কাজের উপর।

আরো সহজে বললে, পেমেন্টের পরিমাণ ভিডিও -তে আসা ভিউ ও এনগেজমেন্ট ভিত্তিক হওয়ায় প্রত্যেকের অর্থ উপার্জনের পরিমাণ ভিন্ন ভিন্ন হয়। যেমন নামজাদা ক্রিয়েটরদের ফলোয়ার অধিক থাকায়, তারা বিভিন্ন ব্র্যান্ডের সাথে চুক্তি সাক্ষর করে তাদের প্রোডাক্টের প্রচার করে। বিনিময়ে ব্র্যান্ডগুলি নানাবিধ উপহার দিয়ে থাকে।

আবার এই ধরণের ডিল সাইন করলে অ্যাডভার্টাইজমেন্ট রেভেনিউ শেয়ারিংও পাওয়া যাবে, যার দরুন ক্রিয়েটররা প্রতি মাসে হাজার হাজার টাকা উপার্জন করতে পারেন। বিপরীতে একজন নতুন ক্রিয়েটরের জন্য টিকটক থেকে ভিডিও আপলোড করে টাকা ইনকাম করা ততটাই কঠিন।

প্রসঙ্গত একটি সার্ভে থেকে জানা গেছে, শীর্ষস্থানীয় কনটেন্ট ক্রিয়েটররা ‘টিকটক ক্রিয়েটর ফান্ড‘ -এর মাধ্যমে প্রতি ১,০০০ ভিউ পিছু ২-৪% রেভেনিউ লাভ করে। হিসাব করলে, ক্রিয়েটররা উক্ত প্রোগ্রামের অধীনে প্রতি ১ মিলিয়ন ভিউয়ের জন্য ২০ ডলার থেকে ৪০ ডলার পর্যন্ত উপার্জন করতে পারেন।

অবশই পড়ুন: Instagram Reels থেকে টাকা আয় কিভাবে করবেন?

টিকটক থেকে ইনকাম করার জন্য কতজন ফলোয়ার থাকা আবশ্যক?

টিকটক ব্যবহারকারী কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের মধ্যে যাদের নূন্যতম ১,০০০ জন ফলোয়ার আছে, তারাই শুধুমাত্র লাইভস্ট্রিমিং সাবস্ক্রিপশন এবং ভার্চুয়াল গিফ্ট ফিচার এনাবল করার মাধ্যমে টাকা ইনকাম করতে পারবেন। তবে যারা আরো বেশি টাকা রোজগারের জন্য নিজেদের প্রোফাইল মনিটাইজ করতে চান, তাদের বেশ কয়েকটি যোগ্যতা অর্জনের প্রয়োজন আছে। যেমন, বিগত ৩০ দিনের সময়কালে কমপক্ষে ১০,০০০ জন ফলোয়ার এবং ১,০০,০০০ ভিডিও ভিউ বজায় রাখা দরকার।

অবশই পড়ুন: ছাত্রদের জন্য অনলাইনে আয় করার সেরা ৭ টি উপায়

টিকটক থেকে কিভাবে টাকা ইনকাম করা যায়? ৯টি উপায়

টিকটকে অর্থ উপার্জন করার সবচেয়ে সেরা কয়েকটি উপায় নিচে উল্লেখ করা হল –

১. টিকটক ক্রিয়েটিভিটি বা ক্রিয়েটর ফান্ড প্রোগ্রামে যোগ দিন,

২. লাইভ স্ট্রিম করুন এবং ভার্চুয়াল গিফ্ট সংগ্রহ করুন,

৩. ফলোয়ারদের কাছে প্রোডাক্ট বিক্রি করুন,

৪. অ্যাফিলিয়েট মার্কেটার হন,

৫. ব্যান্ড পার্টনারশিপ,

৬. ক্রাউডফান্ড প্রজেক্টের অধীনে ফলোয়ারদের কাছ থেকে ফান্ড সংগ্রহ করুন,

৭. ভিউয়ারদের থেকে টিপস সংগ্রহ করুন,

৮. ফ্যান সাবস্ক্রিপশন অফার করুন,

৯. ইন-ফিড অ্যাড তৈরি করুন।

চলুন, টিকটক থেকে টাকা ইনকাম করার প্রত্যেকটি উপায় নিয়ে বিস্তারিত জেনেনেই।

১. টিকটক ক্রিয়েটর ফান্ড প্রোগ্রামে যোগ দিন :

টিকটক ক্রিয়েটিভিটি বা ক্রিয়েটর ফান্ড প্রোগ্রামে অংশগ্রহণ করে আপনারা টিকটক থেকে সহজেই টাকা ইনকাম করতে পারবেন।

২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ঘোষিত এই প্রোগ্রামের অধীনে ক্রিয়েটরদের ফান্ড দেওয়া হয়। তবে ফান্ড বা অর্থ উপার্জনের জন্য দুটি শর্ত পূরণ করা আবশ্যক। প্রথম, এক মাসের ব্যবধানে কমপক্ষে ১০,০০০ জন ফলোয়ার জোগাড় করতে হবে এবং দ্বিতীয়ত ১,০০,০০০ ভিডিও ভিউ পেতেই হবে।

এই দুটি শর্ত পূরণ করতে পারলেই আপনারা টাকা রোজগারের যোগ্য হয়ে যাবেন।

তবে একজন ‘লিগ্যাল টিকটক ক্রিয়েটর’ হওয়ার জন্য এছাড়াও আরো বেশ কয়েকটি যোগ্যতার সিঁড়ি উতরাতে হবে আপনাদের। নিচে বিশদ তথ্য দেওয়া হল – 

• টিকটক ক্রিয়েটিভিটি প্রোগ্রামের অধীনে সাইন আপ করার জন্য আবেদনকারীর বয়স কমপক্ষে ১৮ বছর হতে হবে।

• ক্রিয়েটিভিটি প্রোগ্রামে সুইচ করার জন্য ক্রিয়েটরদের টিকটক ক্রিয়েটর ফান্ডে এনরোল করতে হবে। 

• সর্বোপরি ইউজারদের অ্যাকাউন্ট রাঙ্কিং ভালো হতেই হবে।

২. লাইভ করুন এবং ভার্চুয়াল গিফ্ট সংগ্রহ করুন :

টিকটকের একটি অত্যতম বিশেষ ফিচার হল ‘ভার্চুয়াল গিফ্টিং’। এক্ষেত্রে উপহার পাওয়ার জন্য, কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের লাইভ স্ট্রিমিংয়ের মাধ্যমে তাদের ফলোয়ার-বেসের মনোরঞ্জন করতে হবে। এরপর ফলোয়াররা কনটেন্ট কতটা মনোগ্রাহী তা বিচার করে ক্রিয়েটরদের ভার্চুয়াল গিফ্ট পাঠাতে পারবেন।

এক্ষেত্রে ভার্চুয়াল গিফ্ট হিসাবে অনেকে অর্থও দিয়ে থাকেন। অতএব, আলোচ্য ফিচার ব্যবহার করে এক তীরে দুই পাখি শিকার করা যাবে। প্রথমত লাইভে আসার মাধ্যমে আপনারা নিজেদের ফলোয়ার-বেসের সাথে আরো ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরী করতে পারবেন। দ্বিতীয়ত, টিকটক থেকে সহজে টাকা ইনকাম করার দারুন সুযোগ পারবেন।

৩. ফলোয়ারদের কাছে প্রোডাক্ট বা কনটেন্ট বিক্রি করুন :

বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মের মতো টিকটকেও প্রোডাক্ট বিক্রি করার জন্য আলাদা একটি সেকশন আছে। এখানে আপনারা প্রায় যেকোনো ধরনের কনটেন্ট ও প্রোডাক্ট সেল করার মাধ্যমে নিজের অ্যাকাউন্ট রাঙ্কিং ও মনিটাইজ করাতে পারবেন।

এক্ষেত্রে যারা নৃত্যশিল্পী, গায়ক বা কৌতুক অভিনেতার পেশায় আছেন, তারা ভিডিও বানিয়ে ফলোয়ারদের মধ্যে নিজের কনটেন্ট বিক্রি করতে পারেন। এছাড়া আপনারা ‘মেটেরিয়াল বেসড’ প্রোডাক্ট অর্থাৎ – জামাকাপড়, হ্যান্ড ব্যাগ, মেকআপ কেস, কফি মগ, স্টিকার, নোটবুক ইত্যাদি বিক্রি করেও টাকা ইনকাম করার সুযোগ পেয়ে যাবেন।

প্রোডাক্টগুলি বিক্রি করার জন্য আপনারা টিকটকে বিদ্যমান বিভিন্ন ধরণের ব্র্যান্ডের সাথে হাত মেলাতে পারেন। যদি ঠিকঠাক পদ্ধতিতে প্রোডাক্ট বা কনটেন্ট বিক্রি করতে পারেন, তবে রেভেনিউয়ের পার্সেন্টেজ থেকেই মোটা অঙ্কের টাকা উঠে আসবে।

রিলেটেড: কুইজ খেলে টাকা ইনকাম কিভাবে করবেন?

৪. অ্যাফিলিয়েট মার্কেটার হন :

আপনারা কী জানেন টিকটকে ‘অ্যাফিলিয়েট মার্কেটার’ হিসেবেও যুক্ত হওয়া যায়? অ্যাফিলিয়েট মার্কেটার তাদের বলা হয়, যারা নিজেদের পছন্দসই প্রোডাক্ট বা ব্র্যান্ডের প্রচার করেন এবং বিনিময়ে অর্থ উপার্জন করতে সক্ষম হন।

এর জন্য ক্রিয়েটররা তাদের প্রোফাইল থেকে প্রোডাক্ট বা ব্র্যান্ড সম্পর্কিত একাধিক পোস্ট করে থাকেন এবং সেই পোস্টে একটি ইউনিক অ্যাফিলিয়েট লিংক বা প্রোমো কোড দেন। এই লিংক বা কোড ব্যবহার করে কোনো ফলোয়ার কেনাকাটা করলে, সেলস রেভেনিউ থেকে কিছু শতাংশ কমিশন ক্রিয়েটরদের অফার করা হয়।

অবগতের জন্য জানিয়ে রাখি, টিকটকের নিজস্ব একটি অ্যাফিলিয়েট প্রোগ্রাম আছে। যাতে অংশ নেওয়ার মাধ্যমে ক্রিয়েটররা সরাসরি টিকটকের মার্কেটপ্লেসে তালিকাভুক্ত ব্র্যান্ড এবং ১০,০০০ -এরও বেশি প্রোডাক্টগুলিকে প্রচার করতে পারবেন।

এর জন্য প্রথমেই একটি ব্র্যান্ডের সাথে যোগাযোগ করে প্রোডাক্টের স্যাম্পেল পিস পাঠানোর রিকোয়েস্ট পাঠাতে হবে। তারপর ভিডিও বা লাইভস্ট্রিমিং করে সেগুলির কার্যকারিতা বুঝিয়ে সেই প্রোডাক্ট কেনার জন্য ফলোয়ারদের মোটিভেট করতে হবে।

৫. ব্যান্ড পার্টনারশিপ :

টিকটক থেকে টাকা আয়ের আরেকটি সেরা উপায় হল, একজন ইনফ্লুয়েন্সার হিসেবে নামিদামি ব্র্যান্ডের সাথে অংশীদারিত্ব করা। এমনটা করলে মোটা টাকা রোজগার গ্যারেন্টেড! তবে হ্যাঁ, এক্ষেত্রে কিছু বিষয় মাথায় রাখা অবশই প্রয়োজন হবে।

এটি টিকটক থেকে ইনকাম করার সবচেয়ে সেরা উপায়গুলির মধ্যে একটি হলেও, ‘কানেকশন’ যার বেশি সেই এই পন্থার সদ্ব্যবহার করতে পারবেন। অর্থাৎ ক্রিয়েটররা টিকটকের মার্কেটপ্লেসে একাধিক ব্র্যান্ড গুলো পেয়ে যাবেন অংশীদারিত্ব করার জন্য। কিন্তু রোজগার করতে চাইলে সঠিক ব্র্যান্ড বেছে নেওয়া জরুরি। এরপর তাদের সাথে যথাযথ সংযোগ বজায় রাখতে হবে এবং তাদের প্রোডাক্ট এর সেল বাড়াতে যে আপনারা সমর্থ তা প্রমাণ করতে হবে।

জানিয়ে রাখি, টিকটকে মার্কেটপ্লেস ব্রাউজ করে ক্রিয়েটররা একটি উপযুক্ত ব্র্যান্ড খুঁজে নিতে পারেন। আবার বিভিন্ন ব্র্যান্ড গুলিও তাদের প্রোডাক্ট বিক্রির জন্য কোন কোন ক্রিয়েটররা উপলব্ধ রয়েছে সেটা দেখতে পারবেন এই মার্কেটপ্লেস থেকেই।

অর্থাৎ আলোচ্য শর্ট ভিডিও মেকিং প্ল্যাটফর্মে মার্কেটপ্লেস একটি ইনফ্লুয়েন্সার এজেন্সি হিসাবে কাজ করে বললে ভুল কিছু বলা হবে না।

অবশই পড়ুন: অনলাইনে প্রতিদিন ১০০০ টাকা ইনকামের ১৪ টি উপায়

৬. ক্রাউডফান্ড প্রজেক্টের অধীনে ফান্ড সংগ্রহ করুন :

ক্রাউডফান্ডিং হল কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের কাছে টাকা রোজগারের সবচেয়ে সহজ পদ্ধতির। কেননা এর সাহায্যে আপনারা নিজেদের ফলোয়ার-বেসের কাছে কোনো হেতুবশত ফান্ড দেওয়ার অনুরোধ করতে পারবেন। যেমন ধরুন, একজন ক্রিয়েটর তার নিজেস্ব স্টার্টআপ কোম্পানি খুলতে চান। কিন্তু ফান্ডের অভাবে তা সম্ভব হচ্ছে না। এক্ষেত্রে টিকটকে এই বিষয়ক বিভিন্ন ধরণের পোস্ট ও ভিডিও শেয়ার করে ফান্ড জোগাড় করা সম্ভব, যা কিনা ক্রাউডফান্ড নামে পরিচিত।

৭. ভিউয়ারদের থেকে টিপস সংগ্রহ করুন :

আপনারা কি জানেন যে, ফলোয়ারদের যদি কোনো ক্রিয়েটরের কনটেন্ট পছন্দ হয়ে থাকে তাহলে তারা টিকটকের মধ্যেই ক্রিয়েটরদের টিপস বা অনুদান পাঠাতে পারেন।

এইধরণের টিপসগুলি পাঠানোর কারণ হল, দর্শকরা ক্রিয়েটরদের পরিশ্রমের সামান্য মূল্য দিতে চাইছেন বা অনবদ্য একটি মনোরঞ্জক ভিডিও পোস্ট করার জন্য ধন্যবাদ জানাতে চাইছেন। যদিও, ভিডিও ভিউ করছেন এমন প্রতিটি ব্যক্তিকেই যে টিপস দিতে হবে, এমনটা কিন্তু বাধ্যতামূলক নয়।

ফলোয়াররা নিজেদের ইচ্ছানুসারে যেকোন পরিমাণ টাকা অনুদান বা টিপস হিসাবে দিতে পারেন। এক্ষেত্রে বেশি পরিমাণ টিপস পাওয়ার জন্য ক্রিয়েটরদের ফলোয়ার-বেসের সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি।

৮. ফ্যান সাবস্ক্রিপশন অফার করুন :

ক্রাউডফান্ডিং হল বড়সড় একটি প্রকল্প স্বরূপ, আর টিপস হল টিকটক থেকে ঝটপট টাকা ইনকামের অত্যতম সেরা হাতিয়ার। কিন্তু এই দুটি বিকল্প ছাড়াও, নিয়মিত অর্থ উপার্জনের আরেকটি দুর্দান্ত তথা সুরক্ষিত পন্থা আছে। আপনারা টিকটকে নিজেদের ভিউয়ারদের জন্য ‘ফ্যান সাবস্ক্রিপশন’ প্ল্যান চালু করতে পারেন।

এই ধরণের প্ল্যান নিয়ে আসার মাধ্যমে ফলোয়ার আরো বাড়বে, আবার রোজগারের পরিমাণও উর্দ্ধমুখী হবে। যদিও ভিউয়ারদের সাবস্ক্রিপশন প্ল্যান কিনতে আগ্রহী করে তোলার জন্য, আপনার কনটেন্টগুলির অধিক আকর্ষণীয় হওয়া আবশ্যক।

কেননা, একজন ব্যক্তি মনোরঞ্জন বা জ্ঞান অর্জনের জন্যই কিন্তু টাকা খরচ করে সাবস্ক্রিপশন কিনবেন।

এছাড়াও আরো বেশ কয়েকটি বিষয় অনুসরণ করলে অধিক সংখ্যক সাবস্ক্রাইবার পাওয়া সম্ভব। যেমন –

• টিকটকে ধারাবাহিকভাবে নিত্যনতুন কনটেন্ট তৈরি ও পোস্ট করুন।

• ফলোয়ার্সদের রিটার্ন-গিফ্ট বা গিভ-আওয়ে প্রোডাক্ট দিয়ে প্রলুব্ধ করুন।

• সব সময় ফলোয়ারদের ধন্যবাদ জানিয়ে পোস্ট বা ভিডিও করুন।

• সর্বোপরি সাবস্ক্রিপশন প্ল্যানের চার্জ কম রাখুন।

৯. ইন-ফিড অ্যাড তৈরি করুন :

টিকটক থেকে টাকা ইনকাম করার উপায় গুলির মধ্যে আরেকটি হলো, “ইন-ফিড এড”। আপনারা যারা টিকটকে নিজেদের প্রোফাইলকে অর্গানিক মাধ্যমে মনিটাইজ করে অর্থ উপার্জন করতে চান, তারা ‘টিকটক অ্যাড ম্যানেজার’ ফিচার ব্যবহার করে ইন-ফিড অ্যাড তৈরী করতে পারেন।

পোস্ট করা এইধরণের বিজ্ঞাপনগুলি ‘For You’ সেকশনের অধীনে পেয়ে যাবেন। ইন-ফিড অ্যাড, অন্যান্য ভিডিওর মতোই অটো-প্লে মোডে চলবে এবং এক্ষেত্রে যত বেশি ভিউ পাবেন ততই আর্থিকভাবে লাভবান হবেন ক্রিয়েটররা।

টিকটকের অ্যাড ম্যানেজার ফিচার ‘স্পটিফাই’ (Shopify) অ্যাপের সাথে ইন্টিগ্রেটেড। তাই আপনারা বিজ্ঞাপন তৈরি করে এবং টার্গেটেড অডিয়েন্স সেট করার পর সেই বিজ্ঞাপনের পারফরম্যান্সকে সরাসরি স্পটিফাই স্টোর থেকেই ট্র্যাক করতে পারবেন।

FAQ: টিকটক থেকে ইনকামের উপায়:

প্রশ্ন: টিকটক থেকে কিভাবে টাকা ইনকাম করা যায়?

TikTok থেকে ইনকাম করার এমনিতে একাধিক উপায় গুলো রয়েছে। তবে আমার হিসেবে এখান থেকে ইনকাম করার ৯টি উপায় সব থেকে অধিক কার্যকর এবং সেরা। যেগুলোর মধ্যে ৪টি হলো, ভার্চুয়াল গিফ্ট সংগ্রহ, ব্যান্ড পার্টনারশিপ, ক্রিয়েটর ফান্ড প্রোগ্রাম ইত্যাদি।

প্রশ্ন: টিকটকে কত লাইক কত টাকা?

TikTok থেকে টাকা ইনকাম করার জন্য কতটুকু লাইক হতে হবে তার কোনো নির্দিষ্ট সংখ্যা নেই। টিকটক থেকে কত টাকা ইনকাম করতে পারবেন সেটা সম্পূর্ণরূপে ইউজারের ব্যস্ততার হারের উপর নির্ভর করে থাকে। আর এগুলোর মধ্যে পড়ছে, likes, views, comments, এবং shares।

প্রশ্ন: ভিডিও আপলোড করে ইনকাম করার অন্যান্য কি উপায় আছে?

যদি আপনি ভিডিও কনটেন্ট তৈরি করে সেগুলিকে অনলাইনে আপলোড করার মাধ্যমে টাকা ইনকাম করার করার কথা ভাবছেন, তাহলে টিকটক এর বাইরেও আপনারা YouTube-এর মতো প্লাটফর্ম গুলো ব্যবহার করতে পারবেন।

অবশই পড়ুন:

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top