অন্যের ওয়েবসাইট থেকে কনটেন্ট কপি করাটা কেন ক্ষতিকারক

আমরা প্রত্যেকেই জানি যে, ব্লগিং করে প্রচুর টাকা আয় করা সম্ভব।

বর্তমান সময়ে,

ব্লগিং এমন একটি অনলাইন ব্যবসা যেটা করে লোকেরা ঘরে বসেই অনলাইন টাকা আয় করছেন।

এবং, বর্তমান সময়ে ব্লগিং এর মাধ্যমে ঘরে বসে টাকা আয় করার উদ্দেশ্যে, নানান লোকেরা ব্লগিং করার রুচি রাখেন।

তবে,

আমাকে অনেকেই ইমেইল এর মাধ্যমে প্রশ্ন করেন যে,

“অন্য ওয়েবসাইট থেকে আর্টিকেল কপি করলে কি কোনো সমস্যা হবে” ?

মানে, ব্লগে কপিরাইট কনটেন্ট (copyright content) ব্যবহার করা যাবে কি ?

যদি যাবেনা তাহলে সেটা কেন ?

তাছাড়া, বর্তমান সময়ে ৭০% লোকেরা নিজের ব্লগে লিখা আর্টিকেল গুলো অন্যের থেকে কপি করা।

তবে অন্যের আর্টিকেল গুলো চুরি করে নিজের ব্লগে ব্যবহার করার এই প্রক্রিয়া লোকেরা বর্তমানেও ব্যবহার করেই চলেছে।

আর এই সেই ব্লগাররা, যারা কিছু দিন পর আমাকে ইমেইল করবেন যে,

দাদা আমার ব্লগে গুগল থেকে ট্রাফিক কেন আসছেনা“.

কিছুদিন আগেই আমার ব্লগের আর্টিকেল গুলো সম্পূর্ণ ভাবে একটি ওয়েবসাইটের দ্বারা ব্যবহার করা হয়েছিল।

তবে, সেই বিষয় নিয়ে আমার কোনো চিন্তা নেই।

কারণ,

Google বা অন্যান্য search engine অবশই জানেন যে, কোন ওয়েবসাইটে আর্টিকেল গুলো আগেই পাবলিশ করা হয়েছে এবং করা কনটেন্ট চুরি করে ব্যবহার করছে।

নিজের ব্লগে অন্য ওয়েবসাইট থেকে চুরি করে বা কপি করে কনটেন্ট ব্যবহার করে আপনার কোনো ভাবেই কোনো লাভ হচ্ছেনা।

আর সেটা কেন, সেই বিষয়েই আজকের আর্টিকেলের মাধ্যমে আমি আপনাদের জানিয়ে দিবো।

কেন কপিরাইট কনটেন্ট ব্লগে ব্যবহার করাটা ক্ষতিকারক ?

Copyright infringement in blogging
Copyright infringement in blogging.

আমি, আপনি বা জেকেও যখন একটি ব্লগ তৈরি করি, তখন আমাদের প্রথম উদ্দেশ্য থাকে,

ব্লগে Google search engine থেকে ট্রাফিক পাওয়া“.

ব্লগে ফ্রি ট্রাফিক ও ভিসিটর্স আনার উপায় এমনিতে আরো অনেক রয়েছে।

কিন্তু, সব থেকে লাভজনক ও কার্যকর উপায় বা মাধ্যম হলো “Google search“.

এবং, যখন আমাদের ব্লগে প্রচুর Google search engine traffic আসা চালু হয়, তারপর আমাদের দ্বিতীয় উদ্দেশ্য থাকে,

Google adsense এর জন্য এপলাই করা” ও তারপর “ব্লগে এডসেন্স বিজ্ঞাপন দেখিয়ে টাকা আয় করা“.

তাই, blogging এর মাধ্যমে টাকা আয় করার ক্ষেত্রে, সব থেকে জরুরি বিষয়টি হলো “Google search থেকে organic traffic গ্রহণ করা”.

এতটা কষ্ট করে ব্লগ তৈরি করার পর, যদি আপনি গুগল থেকে ট্রাফিক না পান, তাহলে ব্লগিং করার লাভ কি।

এই প্রশ্ন আপনি নিজেকে একবার করে দেখুন।

আর মনে রাখবেন, যখন আপনি নিজের ব্লগে কপিরাইট কন্টেন্ট ব্যবহার করবেন, তখন ব্লগিং নিয়ে সফলতা পাওয়ার সুযোগ “০ (zero)“.

কেন ? সেটা নিচে জেনেনেই চলুন।

তবে তার আগেই চলুন জেনেনেই, “কপিরাইট কনটেন্ট মানে কি। (What Is Copyright Content).

Copyright content কি ?

একজন প্রফেশনাল ব্লগার হওয়ার জন্য সবচেয়ে আগেই, copyright content এর ব্যবহার করার থেকে আপনার বেঁচে থাকতেই হবে।

এবং তাই সবচেয়ে আগেই আপনার জেনেনিতে হবে যে “কপিরাইট কনটেন্ট কাকে বলে“.

এমন যেকোনো কনটেন্ট (images, text, document, music etc.), যেগুলোর মালিকানা অধিকার রয়েছে এবং যেই কনটেন্ট গুলো পাব্লিক্যালি (publicly) ব্যবহার করার অনুমতি থাকেনা, সেই সব ধরণের কনটেন্ট গুলোকে বলা হয় copyright থাকা content.

বা, সহজেই বললে কপিরাইট কনটেন্ট (copyright content).

তবে, content এর owner নিজের ইচ্ছে হিসেবে সেগুলোকে ব্যবহার,পাবলিশ বা বিতরণ করতে পারেন।

ইন্টারনেটে, যেকোনো digital product বা work এর copyright protection এর ক্ষেত্রে ১৯৯৮ সালে “Digital Millennium Copyright Act” (DMCA) আনা হয়েছিল।

DMCA এর আইন এর মাধ্যমে, ইন্টারনেটে থাকা বিভিন্ন creative work গুলোর মালিকানা অধিকার রক্ষা করা হয়।

ব্লগিং এর ক্ষেত্রে যদি বলা হয় তাহলে,

যখন আমরা অন্যের ব্লগ বা ওয়েবসাইট থেকে কোনো অনুমতি ছাড়া তাদের “ছবি (images)” বা “আর্টিকেল (article)” কপি করে নিজের ব্লগে ব্যবহার করি,

তখন সেটা, কপিরাইট লঙ্ঘন (copyright infringement) বলে ধরা হয়।

এবং এটা সেই সময়, যখন আপনি সত্যি একটি ভারী বিপদে পড়তে পারেন।

তাছাড়া,

এর ফলে আপনার সম্পূর্ণ blog বা website এর প্রচুর ক্ষতি সাধন হওয়ার ১০০% সুযোগ রয়েছে।

কিভাবে ???

১. Google থেকে ট্রাফিক পাবেননা

যখন আপনি অন্যের ব্লগ বা ওয়েবসাইট থেকে আর্টিকেল কপি করে নিজের ব্লগে পাবলিশ করবেন, সেই সময় হয়তো আপনার ওয়েবসাইটের কোনো ধরণের ক্ষতি হবেনা।

তবে, অবশই মনে রাখবেন,

আপনার কপি করা কনটেন্ট গুলো গুগল এর সার্চ রেজাল্ট পেজে বেশি দিন কিন্তু rank করতে পারবেনা।

কারণ,

বর্তমান গুগল এর বোট (Google Bots) গুলো প্রচুর advanced ও modern হয়ে এসেছে।

আর তাই,

যেকোনো ধরণের কপি করা কনটেন্ট এর বিষয়ে গুগল ঝট পট ধরে ফেলার ক্ষমতা রাখে।

যেই ব্লগ বা ওয়েবসাইট থেকে আপনি কনটেন্ট কপি করেছেন, সেই ওয়েবসাইট যদি গুগলে আগের থেকেই র্যাংক হয়ে রয়েছে,

তাহলে গুগল অনেক সহজেই বুঝে যাবে যে আপনি কোন পেজ থেকে কনটেন্ট কপি করেছেন।

যার বিপরীতে,

গুগল আপনার কপি করা আর্টিকেল বা কনটেন্ট পেজ, কখনোই তার সার্চ ইঞ্জিন রেজাল্ট পেজে (SERP) র্যাংক হতে দিবেনা।

তাহলে কি বুঝলেন ?

ব্লগ বানিয়ে যদি সেখানে অন্যের থেকে কপি করা আর্টিকেল পাবলিশ করার কথা ভাবছেন, তাহলে আমি পরামর্শ দিবো,

“এতো কষ্ট করে ব্লগ বানানোর প্রয়োজন নেই”.

এতে কেবল আপনার সময় নষ্ট হবে।

লাভ কিন্তু ১ পয়সার ও হবেনা।

তাই, যদি আপনি ভাবছেন যে, অন্যান্য ব্লগ থেকে কনটেন্ট চুরি করে গুগল কে বোকা বানিয়ে র্যাংক (rank) করবেন, তাহলে বোকা গুগল নয় আপনি।

২. Report alleged copyright infringement to Google

Report copyright to google
Report copyright to google

আমি আগেই বলেছি google কিন্তু এখন আর আগের মতো নেই।

Copyright এর লঙ্ঘন করা নিয়ে গুগল প্রচুর সতর্ক।

এমন যেকোনো ধরণের ওয়েবসাইট যেখানে কপিরাইট এর লঙ্ঘন করা হয়েছে, গুগল কখনোই মেনে নিবেনা।

আর তাই, Google এর এমন এক official online tool রয়েছে, যেখানে গিয়ে জেকেও তার কপি হওয়া কনটেন্ট এর বিষয়ে গুগলকে রিপোর্ট করতে পারবেন।

মানে,

ধরুন আমার ব্লগের আর্টিকেল অন্য একজন চুরি করে নিজের ব্লগে পাবলিশ করলেন।

এই ক্ষেত্রে, আপনি গুগলের এই “Report copyright infringement tool” ব্যবহার করে, গুগলকে এই কপিরাইট লঙ্ঘন এর বিষয়ে জানিয়ে দিতে পারবো।

এবং তারপর, আমার দেওয়া তথ্য গুলো গুগল নিজেই যাচাই করবে।

তারপর যদি সত্যি আমার কনটেন্ট চুরি হয়ে থাকে, তাহলে গুগল চুরি করা কনটেন্ট ব্যবহার করা ওয়েবসাইটটিকে নিজের সার্চ রেজাল্ট পেজ থেকে সম্পূর্ণ ভাবে সরিয়ে দিবে।

তাছাড়া, অন্যান্য আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

তাই, যদি আপনি অন্যান্য ওয়েবসাইট থেকে কনটেন্ট কপি বা চুরি করে নিজের ওয়েবসাইটে ব্যবহার করছেন, তাহলে এতে আপনার সম্পূর্ণ ওয়েবসাইট বিপদে পরার সাথে সাথে আপনি নিজেও বিপদে পরতে পারেন।

৩. Google algorithm updates (Google Panda)

প্রত্যেক বছর অসংখক গুগলের র্যাংকিং এলগোরিদম আপডেট গুলো হতেই থাকে।

এবং, গুগলের এই এলগোরিদম আপডেট গুলো করার উদ্দেশ্য একটাই,

“গুগল সার্চ থেকে লো কোয়ালিটি ওয়েবসাইট গুলোকে খুঁজে সরিয়ে ফেলা”.

এবং, কিছু বছর আগেই প্রথম বারের জন্যে ২০১১ সালে গুগল নিয়ে আসে “Google panda update“.

Google panda algorithm এর কাজ হলো, “গুগল সার্চের পেজ থেকে প্রত্যেক লো কোয়ালিটি ওয়েবসাইট গুলোকে সরিয়ে ফেলা এবং তাদের জায়গায় হাই কোয়ালিটি ওয়েবসাইট গুলোকে রাখা”।

এটা গুগলের এমন একটি এলগোরিদম যে প্রত্যেক বছর সব থেকে অধিক পরিমানের ওয়েবসাইট গুলোকে দণ্ডিত (penalize) করে।

ফলে, দণ্ডিত হওয়া ওয়েব পেজ গুলোকে আর কোনো সময় গুগলের সার্চ রেজাল্ট পেজে (SERP) র্যাংক করা হয়না।

এখন প্রশ হলো,

কোন কোন বিষয়ের ওপরে নির্ভর করে, গুগল পান্ডা এলগোরিদম আপনার ওয়েবসাইটকে দণ্ডিত করতে পারে ?

  • Thin content – প্রয়োজনের থেকেও অধিক কম তথ্য থাকা ওয়েবসাইট গুলোকে।
  • Duplicate content – অন্য ওয়েবসাইট থেকে কনটেন্ট চুরি করে ব্যবহার করলে।
  • Excessive affiliate links – আর্টিকেলে তথ্য কম তবে affiliate links প্রচুর থাকলে।
  • High ad-to-content ratio – আর্টিকেলে কনটেন্ট এর থেকে বিজ্ঞাপন বেশি থাকলে।

তাই, যদি আপনি নিজের ব্লগে কপি করা আর্টিকেল পাবলিশ করছেন, তাহলে সেটা “Duplicate Content” হিসেবে ধরা হবে।

ফলে, আপনার ওয়েব পেজ বা সম্পূর্ণ ওয়েবসাইটটিকে google panda algorithm দ্বারা ধরে দণ্ডিত (penalize) করা হবে।

গুগল পান্ডা, যেকোনো সময় যেকোনো ওয়েবসাইটে গিয়ে এই বিষয় গুলো দেখতে পারে।

তাই, আপনি যদি copy content নিজের ব্লগে পাবলিশ করছেন, তাহলে আজকে নাহলে কালকে ধরা অবশই পরবেন।

Google panda প্রত্যেক সময় আপনার ওয়েবসাইটের ওপরে নজর রাখছে।

৪. Copyright content এর কোনো ভবিষ্যৎ নেই

মনে রাখবেন, যদিও আপনি অন্য ওয়েবসাইট থেকে কনটেন্ট কপি করে সেগুলো কিছু পরিমানে বদলে নিজের ব্লগে পাবলিশ করেছেন, তাও কিন্তু গুগল সেই বিষয়ে বুঝে যাবে।

আর ফলে, আপনি গুগল হাথে ধরা পরে যাবেন এবং গুগল সার্চ থেকে কোনো ধরণের ট্রাফিক পাবেননা।

এখন, যদি একটি ওয়েবসাইটে আপনি অল্প হলেও কাজ করছেন, কিন্তু গুগল থেকে ১০% ট্রাফিক ও পাচ্ছেননা, তাহলে সেই ওয়েবসাইট আপনি কত দিন চালিয়ে নিবেন।

তাছাড়া, চালিয়ে নিলেও কি লাভ হবে।

একটি ওয়েবসাইটে ট্রাফিক ও ভিসিটর্স নেই মানে ইনকাম করার রাস্তা নেই।

তাই আমি বলেছি, কপি করা কনটেন্ট নিজের ওয়েবসাইটে ব্যবহার করলে, সেই ওয়েবসাইটের কোনো ভবিষ্যৎ নেই।

থাকলেও সেটা অন্ধকার।

৫. DMCA আপনার সম্পূর্ণ ওয়েবসাইট ডিলিট করিয়ে দিতে পারে

আমি যদি কোনো বিখ্যাত, জনপ্রিয় বা বড় একটি ওয়েবসাইট থেকে কনটেন্ট কপি বা চুরি করে নিজের ওয়েবসাইটে ব্যবহার করছেন, তাহলে এর পরিনাম অনেক সাংঘাতিক হতে পারে।

কারণ,

সেই বড় ওয়েবসাইটের মালিকের দ্বারা আপনার ওয়েবসাইটের ওপর একটি DMCA  (Digital Millennium Copyright Act) অন্তর্গত অভিযোগ দাখিল করা যেতে পারে।

এবং যদি এরকম হয়, তাহলে আপনার ওয়েবসাইটের ওপর DMCA এর তরফ থেকে অনেক তাড়াতাড়ি শক্ত ব্যবস্থা নেওয়ার সম্বাবনা রয়েছে।

DMCA আইনের অন্তর্গত আপনার সম্পূর্ণ ওয়েবসাইট ডিলিট হয়ে যাওয়ার প্রচুর সুযোগ রয়েছে।

তাই, কোনো ভাবেও কোনো রকমের কপি করা কনটেন্ট নিজের ব্লগে বা ওয়েবসাইটে ব্যবহার করবেননা।

৬. কনটেন্ট চুরি করাটা এক অবৈধ (illegal) কাজ

যখন আপনি অন্য ওয়েবসাইট থেকে ওয়েবসাইটের মালিকের অনুমতি ছাড়া কনটেন্ট চুরি করে নিজের ব্লগে পাবলিশ করছেন, তখন সেটা এক ধরণের অবৈধ (illegal) কাজ।

এবং, গুগল বা যেকোনো অন্য সার্চ ইঞ্জিন, এরকম অবৈধ ওয়েবসাইটকে তাদের সার্চ রেজাল্ট পেজে কখনোই rank হতে দিবেনা।

ফলে, আপনার ব্লগিং ক্যারিয়ার সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যাবে।

মনে রাখবেন, আপনি যদি আপনার সম্পূর্ণ ওয়েবসাইটের কেবল কিছু আর্টিকেলের মধ্যে কপি করা কনটেন্ট ব্যবহার করেছেন, এই ক্ষেত্রেও, আপনার সম্পূর্ণ ওয়েবসাইটের ওপর action নেওয়া হবে।

তাছাড়া, মনে রাখবেন, আজকাল digital content চুরি করে ব্যবহার করা সাংঘাতিক এক অপরাধ।

তাই, এই ধরণের অবৈধ কাজ করার বিপরীতে আপনার কিন্তু প্রচুর সমস্যার হতে পারে।

তাই, কোনো ভাবেই কনটেন্ট চুরি বা কপি করে নিজের ওয়েবসাইটে ব্যবহার করবেননা।

হে, অন্যান্য ওয়েবসাইট বা ব্লগ থেকে কনটেন্ট আইডিয়া (idea) অবশই নিতে পারবেন।

অন্যরা কোন বিষয়ে লিখছেন সেটা জেনে সেই বিষয়ে আপনিও লিখতে পারবেন।

তবে, বিষয় একি হলেও তথ্য ও কনটেন্ট আপনার নিজের হতে হবে।

৭. Adsense account suspend হওয়ার ভয়

গুগল এডসেন্স পলিসি ও নিয়ম কানুন গুলো অনেক কঠোর।

এডসেন্সের নিয়ম হিসেবে, কোনো ধরণের কপি করা বা কপিরাইট লঙ্ঘন করা কনটেন্ট পাবলিশ করা ওয়েব পেজে এডসেন্সের বিজ্ঞাপন দেখাতে পারবেননা।

এবং, যদি দেখিয়ে থাকেন তাহলে আপনার সম্পূর্ণ এডসেন্স একাউন্ট ডিসএবল হয়ে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে।

Google কিন্তু, officially এই নিয়ম মানার পরামর্শ প্রত্যেককেই অবশই দিয়েছে।

ভেবে দেখুন, এতটা কষ্ট করে adsense approval পাওয়ার পর, যদি adsense account disable হয়ে যায়, তখন কতটা খারাপ লাগবে।

তাছাড়া, একটি ব্লগ বা ওয়েবসাইট থেকে Google Adsense ছাড়া টাকা আয় করবেন কিভাবে।

তাই, যদি নিজের এডসেন্স একাউন্ট ডিসএবল করতে না চান, তাহলে ব্লগে কপিরাইট কনটেন্ট ব্যবহার করবেননা।

৮. Low quality site

আপনি, অন্যের ওয়েবসাইট থেকে আর্টিকেল কপি করে নিজের ব্লগে পাবলিশ করলে, আপনার ব্লগের কোয়ালিটি কখনো ভালো থাকবেনা।

আপনার ব্লগের visitors এবং user রা, অনেক ভালো করে বুঝে যাবেন যে আপনার কনটেন্ট চুরি করা।

ফলে, আপনি একটি authority website কখনো তৈরি করতে পারবেননা।

তাছাড়া, visitors বা user এর নজরে আপনার ওয়েবসাইটের একটি খারাপ ছবি তৈরি হবে।

মনে রাখবেন, ব্লগিং এর ক্ষেত্রে visitors বা readers কিন্তু সব।

তাই, ব্লগিং এর ক্যারিয়ার নিয়ে সফল হওয়ার জন্যে, একজন প্রফেশনাল ব্লগার এর মতো কাজ করতে হবে।

আর, প্রফেশনাল ব্লগাররা নিজের ব্লগের visitors এবং readers এর কাছে, নিজের অভিজ্ঞতা, জ্ঞান ও অনুভব গুলো শেয়ার করেন।

অন্যের লেখা গুলো কপি করে নিজের ব্লগে পেস্ট করেননা।

এই বিষয়ে অবশই মনে রাখবেন।

৯. Copyright images এর ব্যবহার করলে ভারী সমস্যা হতে পারে

বেশির ভাগ নতুন ব্লগাররা করছেন এই সাংঘাতিক ভুল

মনে রাখবেন,

ইন্টারনেটে যেকোনো জায়গার থেকে যেকোনো ছবি কপি করে নিজের ব্লগের আর্টিকেলে ব্যবহার করতে পারবেননা।

অনেক ক্ষেত্রে, ব্লগাররা গুগল সার্চে সার্চ করে সেখান থেকে ছবি ডাউনলোড করে ব্যবহার করেন।

কিন্তু ইটা এক সাংঘাতিক ভুল।

এতে, সেই ছবির মালিক আপনার ওপর copyright infringement নিয়ে আইনি ব্যবস্থা নিতে পারে।

আর, যদি এটা হয় তাহলে আপনি কিন্তু ভালো রকমের সমস্যায় পরে যাবেন।

তাই, নিজের ব্লগে সব সময় “royalty free images” ব্যবহার করবেন।

Royalty free images গুলোর ওপর কারো কোনো ধরণের মালিকানা অধিকার থাকেনা।

এবং, জেকেও সেই ছবি গুলো যেকোনো ওয়েবসাইট বা ব্লগের আর্টিকেলে ব্যবহার করতে পারে।

আমি আগেই আপনাদের এমন কিছু “স্টক ইমেজ ওয়েবসাইট” এর বিষয়ে বলেছি, যেখানে আপনারা যেকোনো ধরণের রয়ালটি ফ্রি ছবি পেয়ে যাবেন।

একজন ব্লগার হিসেবে নিজেকে কপিরাইট লঙ্ঘন থেকে কিভাবে বাঁচাবেন ?

দেখুন বন্ধুরা, কোনো সমস্যা ছাড়া ভালো মতো ব্লগিং করার ক্ষেত্রে, আপনাদের কিছু নিয়ম মেনে কাজ করতে হবে।

এমন, কোনো ধরণের কাজ করবেননা, যার বিপরীতে আপনার ওপর কোনো ধরণের বিপদ বা সমস্যা চলে আসে।

আর এই ক্ষেত্রে,

কিছু সাধারণ নিয়ম মেনে চললেই, আপনি নিজেকে এবং নিজের ওয়েবসাইটটিকে copyright infringement থেকে বাঁচিয়ে রাখতে পারবেন।

  • অন্যের ওয়েবসাইট থেকে যেকোনো ধরণের image বা content কপি করবেননা।
  • যদিও অন্যের ওয়েবসাইট থেকে ছবি কপি করছেন, তাহলে ওয়েবসাইটের মালিক এর থেকে লিখিত ভাবে অনুমতি নিয়ে রাখবেন।
  • নিজের ওয়েবসাইট ও ওয়েবসাইটের আর্টিকেল গুলোতে কেবল “রয়্যালটি ফ্রি ইমেজ” ব্যবহার করুন।
  • গুগল সার্চ ইঞ্জিন থেকে সরাসরি images ডাউনলোড করে নিজের ওয়েবসাইটে ব্যবহার করবেননা।
  • অন্যের ওয়েবসাইটের আর্টিকেল গুলো সরাসরি কপি করে নিজের ব্লগে পাবলিশ করবেননা। হে, অন্যান্য ব্লগ থেকে জ্ঞান নিয়ে নিতে পারবেন। তারপর, নিজের শব্দের মাধ্যমে আর্টিকেল লিখতে পারবেন।

এভাবে, কিছু সাধারণ নিয়ম গুলো মেনে কাজ করলে, আপনি এবং আপনার ওয়েবসাইট কপিরাইট লঙ্ঘনের বিপদ থেকে দূরে থাকবে।

আজকে আমরা কি শিখলাম ?

বন্ধুরা আজকে আমরা কপিরাইট লঙ্ঘন (copyright infringement) নিয়ে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানলাম।

আমরা জানলাম যে, নিজের ব্লগে কপি করা আর্টিকেল বা ছবি ব্যবহার করলে, আমাদের সম্পূর্ণ ওয়েবসাইট এর ওপর প্রচুর খারাপ প্রভাব পরতে পারে।

তাছাড়া, কিছু কিছু ক্ষেত্রে ওয়েবসাইটের মালিক হিসেবে আপনার ওপরেও বিপদ চলে আসতে পারে।

তাই, কখনোই নিজের ব্লগে বা ব্লগের আর্টিকেল গুলোতে অন্যের থেকে চুরি বা কপি করা কনটেন্ট পাবলিশ করবেননা।

এতে, আপনার কোনো ধরণের লাভ হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই।

আর, যদি আপনি নিজের ব্লগ বা ওয়েবসাইট থেকে টাকা আয় করার কথা ভাবছেন, তাহলে ভুলে যান।

কারণ, duplicate বা copied কনটেন্ট ব্যবহার করা ওয়েবসাইটে গুগল থেকে ট্রাফিক পাওয়াটা অসম্ভব।

এবং, ব্লগে ট্রাফিক ছাড়া ইনকাম করবেন কিভাবে ?

তাই, একজন সফল ব্লগার হতে সময় অবশই লাগতে পারে।

কিন্তু, যখন সফল হয়ে যাবেন তখন আপনাকে কেও নিচে নামিয়ে দিতে পারবেনা।

আর যার জন্য, নিজের passion এবং handwork এর প্রয়োজন অবশই হবে।

কষ্ট ছাড়া ফল পাওয়ার আশা করে কোনো লাভ নেই।

যদি আপনি নিজের মতো করে unique এবং quality content কনটেন্ট লিখছেন, তাহলে সেটা আপনার visitors দের সাথে সাথে গুগল সার্চ দাড়াও পছন্দ করা হবে।

যার ফলে, আপনার ওয়েবসাইটে গুগল থেকে প্রচুর ট্রাফিক আসবে এবং ব্লগ থেকে ইনকাম হওয়ার সুযোগ হয়ে দাঁড়াবে।

Related Contents:

BanglaTech
0 Shares

2 thoughts on “অন্যের ওয়েবসাইট থেকে কনটেন্ট কপি করাটা কেন ক্ষতিকারক”

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top
Copy link