কিছু দিন আগেই, ১০ হাজার টাকায় ব্যবসা শুরু করার কিছু আইডিয়া আমি আপনাদের দিয়েছিলাম। এবং, সেখান থেকেই আমার মনে “বাড়িতে বসে ব্যবসা” করার জন্য কিছু লাভজনক ঘরোয়া ব্যবসার আইডিয়া এসে পরে।

ঘরে বসে কি কি ব্যবসা করতে পারবেন ?

তাই, ঘরে বসে ব্যবসা করার কথা, যেসব মহিলারা, retired persons, students বা যেকোনো ব্যক্তিরা ভাবছেন, তাদের জন্য এই আর্টিকেলে আমি ১৫ টি ঘরোয়া ব্যবসার আইডিয়া শেয়ার করবো।

এই ব্যবসা গুলি আপনারা ঘরে বসেই শুরু করতে পারবেন এবং ভালো করে করলে, লাভের সুযোগ অনেক রয়েছে।

তাছাড়া, এই ১৫ টির মধ্যে কিছু কিছু ঘরোয়া ব্যবসা গুলি আপনারা অনেক কম টাকা লাগিয়ে আরম্ভ করতে পারবেন।

প্রায় ১০,০০০ টাকা থেকেও কম টাকায় শুরু করা সম্ভব।

বেশিরভাগ ঘরোয়া ব্যবসা, প্রথম অবস্থায় ছোট হিসেবে শুরু করতে হবে যদিও, সফলতা পাওয়ার পর, সেগুলি একটি বড়ো ফার্ম বা কোম্পানিতে পরিণত করা যেতে পারে।

কিন্তু, সে পুরোটাই আপনার পরিশ্রম এবং কাজের ধারণক্ষমতার (capacity) ওপরে নির্ভর।

তাছাড়া, এমন কিছু প্রফেশনাল বিসনেস আইডিয়া (professional business idea) রয়েছে যেগুলির মাধ্যমে, আপনারা কোনো টাকা ছাড়াই, ঘরে বসে ব্যবসা শুরু করতে পারবেন।

যেমন, tuition classes, Blogging, YouTube channel, PTC websites ও affiliate marketing. এখানে বেশিরভাগ কিছু অনলাইন ব্যবসার ব্যাপারে বলেছি।

তাহলে চলুন, বেশি সময় না নিয়ে আমরা নিচে জেনেনেই “বাড়িতে বসে কি কি ব্যবসা আমরা করতে পারি” তার ১৫ টি ধারণা।

বাড়িতে বসে কি কি ঘরোয়া ব্যবসা করা যাবে ? – (১৫ টি ব্যবসার ধারণা) 

হতে পারে আপনারা নিজের full-time job ছেড়ে ঘরে বসে ব্যবসা করার কথা ভাবছেন বা job করার সাথে সাথেই একটি part-time business করার ধারণা আপনার মনে এসেছে।

দুটো ক্ষেত্রেই, আপনারা এই home based business গুলি করতে পারবেন এবং নিজের আর্থিক পরিস্থিতি (financial condition) ভালো করে নিতে পারবেন।

১. Blogging business 

যখন কথা আসে, ঘরে বসে কাজ করে টাকা আয় করার, আমার প্রথম প্রিয় পছন্দ হবে “ব্লগিং“. কেননা, ব্লগিং করে আমি নিজেই মাসে অনেক ভালো পরিমানে টাকা আয় করছি এবং এই কাজের জন্য আমার বেশি সময় দিতে হয়না।

কেবল, দিনে ২ থেকে ৩ ঘন্টার সময় দিয়েই, আমি ব্লগিং করে মাসে প্রায় ২০ হাজার থেকেই বেশি টাকা আয় করছি।

আজ, ব্লগিং কোরে বিভিন্ন দেশ বিদেশের হাজার হাজার লোকেরা মাসে ভালো পরিমানে টাকা আয় করছেন। এতো টাকা যে, অনেকেই তাদের high salary paying jobs ছেড়ে দিয়েছেন।

তাই, যদি আপনাদের সাধারণ ইন্টারনেট এবং কম্পিউটারের জ্ঞান আছে, তাহলে ব্লগিং এর ব্যবসা (blogging business) অবশই শুরু করুন।  এ অনেক লাভজনক।

কেবল একটি ল্যাপটপ বা কম্পিউটারের প্রয়োজন হবে এবং তার সাথে ইন্টারনেট। তারপর আপনার তৈরি করতে হবে একটি ব্লগ।

তাছাড়া, যেকোনো একটি বিষয়ে আপনার অভিজ্ঞতা বা নলেজ (knowledge) থাকতে হবে যেটা নিয়ে আপনি আর্টিকেল লিখবেন।

ভালো ভালো বিষয় নিয়ে ব্লগে আর্টিকেল লিখতে থাকুন এবং একবার ব্লগে ট্রাফিক ও ভিসিটর্স আশা শুরু হলে, Google adsense, affiliate marketing, paid promotion এবং আরো অনেক মাধ্যমে হাজার হাজার টাকা আয় করা সম্ভব।

তবে, ব্লগিংকে ফুলটাইম এর সাথে সাথে পার্টটাইম ব্যবসা হিসেবে নিয়েও কাজ করতে পারবেন।

ব্লগিং এর ব্যাপারে আরো জেনেনিন

২. YouTube channel business 

এখন আপনারা ঘরে বসে কেবল নিজের মোবাইল দিয়ে ভালো ভালো ভিডিও তৈরি করে মাসে হাজার হাজার টাকা আয় করতে পারবেন।

হে, অনেকেই করছেন এবং এই অনলাইন ব্যবসাতে অনেকেই সফল।

আমি কথা বলছি নিজের একটি “YouTube channel” বানিয়ে তাতে ভিডিও আপলোড করে টাকা আয় করার বিষয়ে।

আপনার একটি ইউটিউবের চ্যানেল তৈরি করতে হবে এবং সেটা পুরোটাই ফ্রি।

তারপর, নিজের চ্যানেলে আপলোড করতে হবে নিজের বানানো ভিডিও। আপনি, যেকোনো বিষয় বা টপিক নিয়ে ভিডিও বানাতে পারবেন।

যেমন, “২১ টি ঘরোয়া ব্যবসার আইডিয়া” বা যেকোনো অন্য বিষয়ে যেই বিষয়ে ভিডিও দেখে লোকেরা ভালো পাবেন।

তারপর, কিছুদিন ভালো ভালো ভিডিও আপলোড করার পর, যখন আপনার চ্যানেলে subscribers বাড়বে, তখন আপনি বিভিন্ন মাধ্যমে নিজের YouTube channel থেকে টাকা আয় করতে পারবেন।

যেমন, Google adsense, paid promotion, affiliate marketing.

মনে রাখবেন, যত বেশি আপনার ভিডিও গুলিতে ভিউস হবে ততবেশি টাকা আয়ের সুযোগ আপনার হবে।

কারণ, যত বেশি লোক আপনার ভিডিও দেখবেন ততটাই বেশি বিজ্ঞাপন আপনার ভিডিও গুলিতে গুগল এডসেন্স এর দ্বারা দেখানো হবে। ফলে, আয়ের সুযোগ বেড়ে যাবে।

আজ, ভারত সহ অনেক দেশে হাজার হাজার ইউটিউবার রয়েছেন, যারা নিজের ইউটিউবের চ্যানেলের মাধ্যমে অনেক সফল হয়েছেন।

এবং, অনেকেই নিজে একটি অফিস (office) তৈরি করে মালিক হিসেবে কাজ করছেন।

তবে, প্রথম অবস্থায় এই ইউটিউবের ব্যবসা (YouTube business) বাড়িতে বসে শুরু করাটাই লাভজনক।

তাছাড়া, অনেক সফল ইউটিউবাররা এখনো নিজেদের ঘরে বসেই এই অনলাইন ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন।

কেননা, ইন্টারনেট থেকে টাকা আয় করার সব থেকে সহজ ও বিশ্বাসী মাধ্যম হিসেবে YouTube কে বলা হয়।

YouTube থেকে আয় করার ব্যাপারে আরো জানুন –

৩. PTC websites গুলির মাধ্যমে

PTC websites এর মাধ্যমে আপনারা ঘরে বসে কাজ করে টাকা আয় করতে পারবেন। এটাও এক ধরণের অনলাইন ব্যবসা হিসেবে ধরা যেতে পারে।

ইন্টারনেটে (Internet) এমন কিছু অনলাইন ওয়েবসাইট রয়েছে, যেগুলি লোকেদের দ্বারা বিভিন্ন ধরণের কাজ করিয়ে তাদের সেই কাজের জন্য কিছু টাকা দেন।

যেমন, Online বিজ্ঞাপন দেখার কাজ, অনলাইন গেম খেলা, সার্ভের (Survey) কাজ।

আপনি যত বেশি পরিমানে কাজ করবেন ততটাই বেশি পরিমানে টাকা আয় করতে পারবেন।

তাই, প্রফেশনালি কাজ করলে এই ধরণের online PTC website গুলিও, ঘরে বসে ব্যবসা করার উপায় হিসেবে নেয়া যেতে পারে।

তাছাড়া, পার্টটাইম ব্যবসা (part-time business) হিসেবে নিয়েও এই PTC website গুলিতে কাজ করতে পারবেন।

PTC ওয়েবসাইটের ব্যাপারে অধিক জানার জন্য এই আর্টিকেল পড়ুন – পিটিসি ওয়েবসাইট থেকে সহজে টাকা আয় করুন

৪. Home based cloth business 

আজকাল কাপড়ের ব্যবসাতে অনেক বেশি লাভ। এবং, ভালো কোয়ালিটির সুন্দর কাপড় হলে জেকেও আপনার থেকে কাপড় কিনে নিবেন। সে, বাচ্ছাদের কাপড় হোক, বড়োদের কাপড় বা কেবল শাড়ি বা শার্ট সবটাই সহজে বিক্রি হতে পারে।

তাই, নিজের ঘরে কিছু ভালো ভালো শাড়ি বা অন্য ভালো কোয়ালিটির কাপড় এনে ঘর থেকেই কাপড়ের ব্যবসা চালাতে পারবেন।

আপনার কাপড়ের কোলেকশন এবং দেয়া দাম যদি লোকেদের ভালো লাগে তাহলে বিশ্বাস করুন, আপনার ঘরেই দোকানের মতো গ্রাহকের ভিড় লেগে যাবে।

তবে আবার বলি, কম দামে ভালো এবং সুন্দর শাড়ি বা অন্য কাপড় সবাই কিনতে চায়। সে, আপনার দোকান থেকে হোক কি ঘর থেকে, সেটা কোনো ধরণের পার্থক্য করেন।

তবে, নিজের ঘরোয়া কাপড়ের ব্যবসার অল্প প্রচার বা মার্কেটিং আপনার করতেই হবে। এতে, গ্রাহকেরা আপনার ব্যবসার বিষয়ে জানতে পারবেন।

তারপর, একজন থেকে শুনে আরো একজন, তারপর আরো একজন এভাবে একজন থেকে শুনে আরেকজন করে আপনার ঘর থেকেই কাপড় কেনার জন্য গ্রাহকের লাইন লেগে যাবে।

তবে প্রথমেই বেশি টাকার মাল কিনবেননা। ৫ থেকে ১০ হাজার টাকার শাড়ি বা অন্য কাপড় কিনে বিক্রি করুন। সফল হলে পরে আরো বেশি মাল কিনতে পারবেন।

৫. Computer & mobile repairing 

আপনারা কেবল ৪ মাসের একটি কম্পিউটার ও মোবাইল রিপেয়ারিং কোর্স করে তারপর নিজের ঘরেই রিপেয়ারিং এর কাজ করতে পারবেন।

কারণ, আজ প্রত্যেকের ঘরেই একটি মোবাইল, ল্যাপটপ বা কম্পিউটার রয়েছে। এবং, এই ধরণের ইলেকট্রনিক্স প্রায় খারাপ হতেই থাকে।

এবং, আপনার এরিয়া বা locality তে যদি এরকম রিপেয়ারিং এর সার্ভিস এর কাজ অন্য কেও করছেনা, তাহলে আপনি এই ব্যবসা অবশই শুরু করুন।

লোকেরা যখন আপনার কাজের ব্যাপারে জানতে পারবেন, তখন তারা আপনাকে ফোনের মাধ্যমেই যোগাযোগ করতে পারবেন।

আপনি চাইলে গ্রাহকের ঘরে গিয়ে তাদের কম্পিউটার বা মোবাইল রিপেয়ার করতে পারবেন বা নিজের ঘরে নিয়ে এসে সেসব ঠিক করতে পারবেন।

এভাবে কম্পিউটার ও মোবাইল রিপেয়ারিং এর কাজ ঘর থেকেই কোরে মাসে ভালো পরিমানে টাকা আয় করতে পারবেন।

এই ধরণের ছোট ব্যবসা আজকাল অনেক লাভজনক। পার্টটাইম ব্যবসা হিসেবে নিয়েও মোবাইল ও কম্পিউটার রিপেয়ারিং এর কাজ করতে পারবেন।

৬. Tuition & coaching classes 

টিউশন এর ব্যবসা আজকাল অনেক সাংঘাতিক লাভজনক ঘরোয়া ব্যবসা হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে। আপনারা নিজের ঘরেই একটি রুম নিয়ে সেখানে যেকোনো বিষয়ে tuition classes বা coaching classes করাতে পারবেন।

এই ব্যবসাতে আপনার বাইরে কোথাও যাওয়ার দরকার নেই। ছাত্ররা আপনার ঘরে আসবে, এবং আপনার তাদের ১ ঘন্টা করে পড়াতে হবে।

একটি ব্যাচে (batch) যদি ১০ জন ছাত্র থাকে এবং প্রত্যেকেই যদি ৫০০ টাকা করে দেয়, তাহলে সারাদিনে ৩ টি ব্যাচ করলে হয়ে যাচ্ছে ৩০ জন ছাত্র। তাই ৩০ জন ৫০০ করে দিলে মোট ৩০*৫০০ = ১৫,০০০/- টাকা।

আপনি যত বেশি ছাত্র পড়াবেন আপনার আয়ের সুযোগ বাড়তে থাকবে।

তবে, কেবল পড়াশুনার বিষয় নিয়ে টিউশন ক্লাস করতে হবে বলে কথা নেই। আপনি চাইলে, Drawing & art classes, Guitar classes, music & singing classes, crafting classes বা Yoga & fitness classes যেকোনো বিষয় নিয়ে ক্লাস দিতে পারবেন।

৭. সেলাই এবং টেইলারিং 

আপনার ঘরে যদি একটি সেলাই মেশিন (sewing machine) রয়েছে, তাহলে বিভিন্ন রকমের সেলাই এবং টেইলারিং এর কাজ করতে পারবেন।

আমি অনেক এরকম লোকেদের দেখেছি যারা ঘরে বসেই টেইলারিং এর ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন।

বিভিন্ন শরীর পাইর সেলানোর কাজ, শার্ট বা প্যান্ট মেলানো, নিজের ব্র্যান্ড এর কাপড় তৈরি করা আদি অনেক রকমের কাজ করে টাকা আয় করা সম্ভব।

কেবল ঘরে সেলাই মেশিন থাকতে হবে এবং আপনার নিজের সেলাইর এবং টেইলারিং এর কাজ জানা থাকতে হবে।

তাছাড়া, আপনার ঘরে বেশি জায়গা থাকলে, কর্মচারী নিয়েও কাজ করতে পারবেন। বিভিন্ন জায়গার থেকে কাপড় সেলানোর কন্ট্রাক্ট নিন এবং সময়ে সময়ে নিজের কাজ করতে থাকুন।

৮. Designer dia & craft making 

আপনার মধ্যে যদি বিভিন্ন ধরণের মাটির পাত্র সুন্দর করে তৈরি করার কৌশল আছে তাহলে এই craft business ঘর থেকে শুরু করতে পারবেন।

মানে, বিভিন্ন ধরণের মাটির পাত্র যেমন, প্রদীপ, কলসি, ফুয়ারা, মাটির সাজানোর জিনিস এইধরণের জিনিস তৈরি করা বা এইগুলোতে রং ব্যবহার করে আরো সুন্দর করা।

এরকম সুন্দর সুন্দর মাটির জিনিস তৈরি করে ও রং করে সাজিয়ে সেগুলি অনলাইন বিভিন্ন ওয়েবসাইটে বিক্রি করতে পারবেন। তাছাড়া, নিজের জায়গার লোকাল দোকানেও সেগুলি বিক্রি করতে পারবেন।

তাছাড়া, লোকেদের মধ্যে জানাজানি হলে, তারা আপনার হাথে বানানো জিনিস কিনে নিতে আপনার ঘরেও আসবে।

বাস, মনে রাখবেন আপনার বানানো ক্র্যাফট (craft) বা জিনিস আকর্ষণীয় এবং বিরল (uncommon) হতে হবে।

সব থেকে সহজ হবে, বিভিন্ন মাটির প্রদীপ গুলি রং করে সেগুলি আকর্ষণীয় বানিয়ে বেশি দামে বিক্রি করা।

বিভিন্ন উৎসবে আমরা প্রদীপ বা দিয়া অবশই ব্যবহার করি।

৯. Computer Data Entry 

আপনারা ইন্টারনেটে অনেক ধরণের ডাটা এন্ট্রির কাজ (data entry work) পেয়ে যাবেন, যেগুলি অধিক পরিমানে ঘরে বসেই করতে পারবেন। তবে, এই ধরণের ডাটা এন্ট্রির কাজের ব্যাপারে আপনারা বিভিন্ন পেপার (news paper) গুলিতেও পাবেন।

এমনিতে, ঘরে বসে ডাটা এন্ট্রির কাজ গুলি ভালো ঘরোয়া ব্যবসা হিসেবে আমি বলবোনা। তাও, অনেক বেশি পরিমানে সময় দিয়ে কাজ করলে, এই কাজ আপনার জন্য লাভ জনক হতে পারে।

১০. Affiliate marketing business 

Affiliate marketing আপনার জন্য বাড়িতে বসে করা এক লাভজনক অনলাইন ব্যবসা হিসেবে প্রমাণিত হতে পারে। এমনিতে, এফিলিয়েট মার্কেটিং কি, এবেপারে আমি আপনাদের আগেই বলেছি।

আসলে এফিলিয়েট মার্কেটিং হলো, বিভিন্ন কোম্পানির প্রডাক্ট (product) এবং সার্ভিসেস (services) গুলি promote বা marketing করা।

এবং, যেসব product বা services আপনারা প্রচার করবেন blog, YouTube channel বা Social media গুলির মাধ্যমে, সেগুলি যদি কেও কিনেন, তাহলে কোম্পানির তরফ থেকে আপনাকে কিছু কমিশন (commission) দেয়া হবে।

এই ধরণের online home based affiliate business আপনারা ঘরে বসে কেবল একটি কম্পিউটার যার সাথে ইন্টারনেট কানেক্শন থাকলেই শুরু করতে পারবেন।

১১. Car & bike wash 

যদি আপনার ঘরের বাইরে ভালো জায়গা রয়েছে, তাহলে একটি car & bike wash store খুলতে পারবেন। আজকাল, প্রত্যেকের ঘরেই একটি bike বা scooter রয়েছে।

এবং, নিজে নিজের bike, car বা scooter ধুয়ার কারো সময় নেই।

তাই, একটি ছোট জায়গা নিয়ে জলের ব্যবস্থা কোরে অনেক কম খরচে car, bike, scooter জল দিয়ে ধুয়ানোর বা পরিষ্কার করার ব্যবসা শুরু করতে পারবেন।

এই ধরণের ঘরোয়া ব্যবসা আমাদের পাশেই একজন করছেন। এবং, উনার প্রচুর পরিমানে লাভ হয়েছে।

১২. সার্ভে (survey) করে টাকা ইনকাম 

ঘরে বসে কোনো টাকা না দিয়ে অনলাইন টাকা ইনকাম করার জন্য আপনারা বিভিন্ন survey website গুলিতে গিয়ে প্রত্যেক দিন ১-২ ঘন্টা সময় দিতে হবে। তাছাড়া, আপনার কাছে ল্যাপটপ বা কম্পিউটার এবং ইন্টারনেট থাকতে হবে।

আসলে এই survey website গুলিকে বিভিন্ন কোম্পনি গুলি টাকা দিয়ে তাদের product বা services এর বিষয়ে লোকেদের পরামর্শ নেয়ার জন্য বলে।

এবং, survey website গুলিতে যখন আমরা একাউন্ট বানিয়ে সার্ভে করা শুরু করি, তখন তারা আমাদেরকে বিভিন্ন company গুলির বিভিন্ন products বা services এর সাথে জড়িত প্রশ্ন করেন।

ভালো ভাবে সার্ভের উত্তর দেয়ার পর, সেই সার্ভে ওয়েবসাইট গুলি আমাদের কিছু টাকা দিয়ে দেয়। এবং এভাবেই বিভিন্ন সার্ভে গুলির উত্তর দিয়ে দিয়ে আপনারা ঘরে বসে টাকা ইনকাম করতে পারবেন।

প্রত্যেক সার্ভে প্রায় ৫ থেকে ২০ মিনিটের হতে পারে। এবং প্রায় প্রত্যেক সার্ভে পুরো করলে আপনাকে ০.৫ ডলার থেকে ২ ডলার অব্দি দিতে পারে।

কিন্তু সেটা পুরোটাই সার্ভে ওয়েবসাইটের ওপরে নির্ভর।

কিছু সেরা সার্ভে ওয়েবসাইটের নাম হলো –

  • Toluna.com
  • valuedopinions.co.in
  • swagbucks.com
  • surveys.google.com/google-opinion-rewards

১৩. Flower business 

বিভিন্ন ধরণের ফুলের চাহিদা রাখা লোকেদের অভাব নেই। এবং, বাজারেও খুব কম বা কেবল কিছু কিছু জায়গায় ফুলের গাছ পাওয়া যেতে পারে।

এই ক্ষেত্রে, নতুন নতুন এবং জনপ্রিয় কিছু ফুলের গাছ নিজের ঘরে এনে সেগুলি নিজের আসে পাশে থাকা লোকেদের বিক্রি করতে পারবেন।

ফুলের গাছের ব্যবসা খুব কম পরিমানে করা হয়। তাই, এই ধরণের ব্যবসা আপনার জন্য লাভজনক হতে পারে।

১৪. T-shirt printing business 

আপনারা হয়তো জানেন, আজকাল t-shirt বা গেঞ্জি গুলিতে আমরা নিজের মতো করে লেখা বা ছবি প্রিন্টিং করিয়ে ব্যবহার করতে পারি।

এবং, এই ধরণের customized t-shirts লোকেদের মধ্যে অনেক জনপ্রিয় বা বিখ্যাত।

তাই, আপনি একটি টি-শার্ট প্রিন্টিং মেশিন (T-shirt printing machine) কিনে আনতে হবে। তারপর ভালো ভালো এবং আকর্ষণীয় লেখা বা ছবি গেঞ্জিতে প্রিন্টিং করিয়ে সেগুলি ভালো দামে বিক্রি করতে পারবেন।

তাছাড়া, লোকেরা নিজেদের গেঞ্জিতে নিজেদের হিসেবেও লেখা বা ছবি প্রিন্টিং করাতে পারলে, আপনার গেঞ্জির চাহিদা আরো বেশি বেড়ে যাবে।

১৫. Handmade jewelry & accessories

আমি অনেক মেয়েদের দেখেছি যারা ঘরে সুন্দর সুন্দর কানের দুল বানিয়ে তারপর সেগুলি দোকানে দোকানে এবং আসে পাশে লোকেদের বিক্রি করেন।

হে, আপনিও বিভিন্ন রকমের কানের দুল (earrings) বা অন্যান্য নিজে হাথে বানানো jewelry তৈরি কোরে, সেগুলি দোকানে দোকানে দিয়ে ব্যবসা করতে পারবেন।

এরকম ঘরে বসে আকর্ষণীয় handmade jewelry বানানোর কৌশল আপনারা YouTube এ ভিডিও দেখে শিখে নিতে পারবেন।

 

আমাদের শেষ কথা,

তাহলে বন্ধুরা, বাড়িতে বসে ব্যবসা করার জন্য ১৫ টি ঘরোয়া ব্যবসার আইডিয়া বা ধারণা আমি আপনাদের দিলাম। এখন, আপনারা নিজের মোতে যেটাই ভালো এবং সুবিধের বলে মনে করেন সেটাই শুরু করতে পারবেন।

তবে, এই ব্যবসা গুলি করার জন্য আপনাদের বিশেষ কোনো টাকার প্রয়োজন হবেনা। অনেক কম টাকায় বিসনেস গুলি শুরু করা যাবে।