ডিজিটাল কনটেন্ট কি এবং কত প্রকার? কিভাবে তৈরি করবেন? (What is digital content in Bengali)

ডিজিটাল কনটেন্ট কি? ডিজিটাল কনটেন্ট কত প্রকার ও কি কি? আপনিও কি এই বিষয়ে জেনেনিতে চাইছেন?

বর্তমানে ডিজিটাল যুগে নানান ধরণের কনটেন্ট গুলি পাবলিশ বা প্রচার করা হয়ে থাকে। এদের মধ্যে digital content বলতে কোন গুলিকে বুঝায়, সেটা অনেকেই হয়তো বুঝতে পারেননা।

তবে চিন্তা করতে হবেনা, আজকের এই আর্টিকেলে আমি আমার অভিজ্ঞতা বা নলেজ হিসেবে ডিজিটাল কনটেন্ট কাকে বলে এবং এর নানান প্রকার গুলি কি সেই বিষয়ে সম্পূর্ণ বিস্তারিত ভাবে বুঝিয়ে বলবো।

আমি নিজেই গত ৭ বছর ধরে নানান ডিজিটাল কনটেন্ট গুলি তৈরি করে চলেছি এবং সেগুলিকে নানান ওয়েবসাইট, ব্লগ, চ্যানেল বা সামাজিক মাধ্যম গুলিতে পাবলিশ করে চলেছি।

তাই, ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরি করার অভিজ্ঞতা আমার অনেক আগের থেকেই রয়েছে।

ডিজিটাল কনটেন্ট কি – What is digital content in Bengali

ডিজিটাল কনটেন্ট কি, কত প্রকার
What is digital content in Bengali?

ডিজিটাল কনটেন্ট গুলিকে এমন এক ধরণের মিডিয়া (Media) বলে বলা যেতে পারে যেটিকে একটি সংগঠন, ব্যক্তি, অনলাইন মার্কেটার, কোম্পানি, এফিলিয়েট মার্কেটার বা ব্লগার দ্বারা তৈরি করা হয়।

এই ধরণের কনটেন্ট তৈরি করার মূল উদ্দেশ্য হলো, ইউজার বা দর্শক, ওয়েবসাইট এবং অ্যাপ ভিসিটর, গ্রাহক ইত্যাদির সাথে সংযুক্ত থাকা বা জড়িত হয়ে থাকা। আর এই ধরণের কনটেন্ট গুলি তৈরি করার ক্ষেত্রে নানান online delivery systems গুলির ব্যবহার করা হয়।

আরো সোজা ভাবে বললে, ডিজিটাল কনটেন্ট গুলি কনটেন্ট এর এমন এক ধরণ যেগুলি মূলত ডিজিটাল ডেটা আকারে বিদ্যমান। এছাড়া, এই ডিজিটাল কনটেন্ট গুলিকে নানান ডিজিটাল মিডিয়া গুলিতে স্টোর করে রাখা হয়।

আর এই ডিজিটাল মিডিয়া গুলির কিছু উদাহরণ হলো, digital video, video games, web pages এবং websites, social media, digital data এবং databases, digital audio, এবং আরো আছে।

ডিজিটাল কনটেন্টে নানান ধরণের তথ্য গুলিকে জমা বা যুক্ত রাখা হয় যেগুলিকে ডিজিটালভাবে সম্প্রচারিত, স্ট্রীম করা বা কম্পিউটার ফাইল হিসেবে স্টোর করে রাখা যায়।

তাহলে আশা করছি, ডিজিটাল কনটেন্ট মানে কি বিষয়টা বুঝতেই পেরেছেন। চলুন এবার নিচে এর নানান প্রকার গুলির বিষয়ে জেনেনেই।

অবশই পড়ুন:

ডিজিটাল কনটেন্ট কত প্রকার ও কি কি?

ডিজিটাল কনটেন্ট হলো এমন যে কোনো ধরণের তথ্য বা মিডিয়া যেগুলি ডিজিটাল ফরম্যাটে তৈরি এবং বিতরণ করা হয়। নিচে আমি কিছু জনপ্রিয় এবং প্রচলিত ডিজিটাল কনটেন্ট গুলির প্রকারের বিষয়ে বলেছি।

১. ডিজিটাল টেক্সট কনটেন্ট:

  • প্রবন্ধ এবং ব্লগ পোস্টসমূহ: ওয়েবসাইট এবং ব্লগে সাইট গুলিতে প্রকাশিত লেখা গুলি মূলত ডিজিটাল টেক্সট কনটেন্ট।
  • ই-বুক এবং PDF ফাইল সমূহ: সাধারণত একাধিক ডিজিটাল পাতা, ছবি, গ্রাফিক্স ইত্যাদি সহ লেখা ও প্রকাশিত টেক্সট মিডিয়া ফাইল।
  • ইমেইল এবং নিউজলেটারসমূহ: ইলেকট্রনিকভাবে ইমেইল এর দ্বারা পাঠানো ও বিতরণ করা লেখা বা তথ্য গুলি।

২. ডিজিটাল ইমেজ কনটেন্ট:

  • ছবি এবং গ্রাফিক্স: ডিজিটাল ফরম্যাটে তৈরি অথবা শেয়ার করা নানান ভিজুয়াল এবং গ্রাফিক্স কনটেন্ট গুলি।
  • ইনফোগ্রাফিকস: তথ্য বা ডাটা গুলির এক ধরণের গ্রাফিক ভিজ্যুয়াল উপস্থাপনা।
  • মিমসমূহ: অসংখ্য ছবি বা ভিডিও কনটেন্ট গুলি যেগুলিকে নিজের মতো এডিট বা তৈরি করে অনলাইনে প্রসার করা হয়।

৩. ডিজিটাল অডিও কনটেন্ট:

  • পডকাস্ট: এগুলি এক ধরণের ডিজিটাল অডিও ফাইল যেগুলিকে ইন্টারনেটে স্ট্রিম করা ও ডাউনলোড করা যায়।
  • সংগীত: ডিজিটাল ফরম্যাটে থাকা গান, অ্যালবাম, এবং নানান প্লেলিস্টসমূহ।
  • অডিও বুকসমূহ: নানান বই গুলির থেকে তৈরি করা সেগুলির অডিও ভার্সন (কথ্য-শব্দ সংস্করণ)।

৪. ভিডিও কনটেন্ট:

  • শর্ট ভিডিও: এগুলি সাধারিতভাবে কয়েক মিনিটের ছোট ছোট ক্লিপসমূহ, যেগুলি টিকটক অথবা ইনস্টাগ্রাম এর মতো প্লাটফর্মে জনপ্রিয়।
  • ইউটিউব ভিডিও: বিভিন্ন বিষয়ে নানান ভাষায় তৈরি করা দীর্ঘ আকারের ভিডিও গুলি যেগুলি ফ্রীতে স্ট্রিম করা যায়।
  • ওয়েবিনার এবং টিউটোরিয়ালসমূহ: শিক্ষামূলক কনটেন্ট, সাধারণ ভিডিও ফরম্যাটে এগুলি উপলব্ধ করা হয়।

৫. সোশ্যাল মিডিয়া কনটেন্ট:

  • পোস্ট এবং আপডেটসমূহ: সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম গুলিতে শেয়ার করা নানান টেক্সট, ছবি, অথবা ভিডিও কনটেন্ট গুলি।
  • লাইভ স্ট্রিমিং: ফেসবুক লাইভ বা টুইচ এর মতো প্লাটফর্ম গুলিতে হওয়া রিয়েল-টাইম ভিডিও সম্প্রচার গুলি।
  • স্টোরিজসমূহ: Instagram বা Snapchat এর মতো প্লাটফর্ম গুলিতে হওয়া নানান অস্থায়ী এবং স্বল্পস্থায়ী কনটেন্ট গুলি।

৭. সফটওয়্যার এবং অ্যাপস:

  • মোবাইল অ্যাপস: স্মার্টফোন বা ট্যাবলেটের জন্য ডিজাইন করা নানান প্রোগ্রাম গুলি।
  • ডেস্কটপ অ্যাপ্লিকেশনসমূহ: পার্সোনাল কম্পিউটার গুলিতে ব্যবহার করার জন্য তৈরি করা নানান সফটওয়্যার গুলি।
  • ওয়েব অ্যাপস: ওয়েব ব্রাউজারের মাধ্যমে অ্যাক্সেস করা যায় এমন নানান অ্যাপ্লিকেশন গুলি।

৮. গেমিং কনটেন্ট:

  • ভিডিও গেমসমূহ: বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মের জন্য তৈরি করা ভিডিও গেমসমূহ।
  • গেম স্ট্রীমিং: ভিডিও গেম গুলির লাইভ বা রেকর্ড করা গেমপ্লে ভিডিও ব্রডকাস্ট।

৯. শিক্ষামূলক কনটেন্ট:

  • অনলাইন কোর্সসমূহ: ইন্টারনেটে মাধ্যমে প্রদান করা নানান শিক্ষামূলক প্রোগ্রাম গুলি।
  • শিক্ষামূলক ভিডিও: কিছু বিশেষ ধরনের দক্ষতা এবং কৌশল গুলি শেখানোর জন্য ডিজাইন ও তৈরি করা ভিডিও।

এমনিতে, ডিজিটাল কনটেন্ট কত প্রকার এবং সেগুলি কি কি, এই প্রশ্নের উত্তর হিসেবে আমরা নানান ধরণের কনটেন্ট গুলির বিষয়ে বলতে পারি।

এমন প্রচুর অন্যান্য কনটেন্ট গুলি রয়েছে যেগুলি উপরে উল্লেখ করা হয়নি, তবে সেগুলিও এক ধরণের ডিজিটাল কনটেন্ট বলেই বলা যাবে।

ডিজিটাল কনটেন্ট এর সুবিধা গুলি কি কি?

ডিজিটাল কনটেন্টের সুবিধা বলতে সে অনেক এবং বিভিন্ন ধরণের হতে পারে। আসলে, এই ধরণের কনটেন্ট গুলি বিভিন্ন ধরণের ডিজিটাল মিডিয়া গুলিতে প্রকাশ করা হয়, আর তাই এটি ব্যবহারকারীদের ক্ষেত্রে নানান ভাবে উপকার করার ক্ষমতা রাখে।

ডিজিটাল কনটেন্টের কিছু গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা হলো:

১. অ্যাক্সেসিবিলিটি:

ডিজিটাল কনটেন্ট গুলি মূলত নানান ওয়েব প্ল্যাটফর্মে হোস্ট করা হয়ে থাকে। এতে একজন ইউজার যেখানেই থাকুক, সে সেই কনটেন্ট যেকোনো জায়গার থেকে অ্যাক্সেস করতে পারেন।

২. সহজ আপডেট প্রক্রিয়া:

যেকোনো ধরণের ডিজিটাল কনটেন্ট গুলি অনেক সহজেই আপডেট করা যেতে পারে। এছাড়া, নতুন তথ্য যুক্ত করা, তথ্য এডিট করা এবং সম্পূর্ণ ভাবে ডিলিট করার মতো সুবিধা গুলি থাকে।

৩. ইন্টারঅ্যাক্টিভিটি:

ব্যবহারকারীরা অনেক সুবিধাজনক ভাবে যেকোনো ধরণের ডিজিটাল কনটেন্টের সাথে ইন্টারঅ্যাক্ট বা যোগাযোগ স্থাপন করতে পারেন।

মানে, একজন ব্যবহারকারী হিসেবে আপনি মন্তব্য করা, কনটেন্ট শেয়ার করা, বাটনে ক্লিক করা, বা নানান কমিউনিটি কার্যক্রম গুলিতে অংশগ্রহণ করার মতো নানান মাধ্যমে একটি ডিজিটাল কনটেন্ট এর সাথে ইন্টারেক্ট করতে পারবেন।

৪. মাল্টিমিডিয়া সামর্থ্য:

ডিজিটাল কনটেন্ট গুলি নানান ধরণের ডিজিটাল মিডিয়ার সাহায্যে প্রকাশিত করা যেতে পারে।

যেমন, ভিডিও, অডিও, ছবি, গ্রাফিক্স, এবং ইনটারেক্টিভ সহ বিভিন্ন ধরণের মিডিয়া কনটেন্ট হিসেবে। এতে ব্যক্তি তার নিজের পছন্দ ও সুবিধা মতো, ভালো ইউসার অভিজ্ঞতা সহ কনটেন্ট তৈরি করার স্বাধীনতা লাভ করে থাকে।

৫. মোবাইল অ্যাক্সেসিবিলিটি:

যেকোনো ধরণের ডিজিটাল কনটেন্ট গুলি অনেক সহজেই একটি মোবাইল ডিভাইস দ্বারা অ্যাক্সেস করা যায়। এই কারণে, ডিজিটাল কনটেন্ট গুলি ব্যবহারকারীদের জন্য বেশ কার্যকর এবং সুবিধাজনক হয়ে দাঁড়ায়।

৬. সার্চ এবং ইনডেক্সিং:

ডিজিটাল কনটেন্ট গুলি সহজেই সার্চ এবং ইনডেক্স করা হয়ে থাকে, যা ব্যবহারকারীদের জন্য দ্রুত এবং কার্যকর ভাবে তথ্য অনুসন্ধান করতে সাহায্য করে থাকে।

৭. বাণিজ্যিক সুবিধা:

নানান বাণিজ্যিক উদ্দেশ্য এবং ব্যবসার প্রচারের ক্ষেত্রে ডিজিটাল কনটেন্ট গুলিকে ব্যাপকভাবে ব্যবহার করা হয়ে থাকে।

ডিজিটাল কনটেন্ট গুলির একাধিক প্রকার ও ধরণ হওয়ায়, ব্যবসায়িকরা নিজের পছন্দ ও সুবিধামতো কনটেন্ট তৈরি করিয়ে সেগুলির মাধ্যমে ব্যবসার সাথে জড়িত নানান তথ্য গুলি শেয়ার এবং প্রকাশ করতে পারেন।

কেন ডিজিটাল কন্টেন্ট তৈরি করবেন?

ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরি করার প্রধান কারণগুলি অত্যন্ত বিভিন্ন হতে পারে, এবং এটি ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান, বা সংস্থা পর্যায়ে ভিন্ন ভিন্ন হতে পারে। তবে, কিছু মৌলিক এবং সাধারণ কারণগুলি নিচে উল্লেখ করা হলো:

মিডিয়া ব্যবহারের ধরণ এবং প্রক্রিয়া বর্তমানে প্রচুর আধুনিক হয়ে গিয়েছে। বর্তমান সময়ে ডিজিটাল কনটেন্ট গুলির চাহিদা ব্যাপকভাবে বেড়ে চলেছে আর অনেকেই এই চাহিদা পূরণ করার ক্ষেত্রে নানান ধরণের ডিজিটাল কনটেন্ট গুলি তৈরি ও প্রকাশিত করতে শুরু করেছেন।

তবে একজন ব্যবহারকারী হিসেবে আপনি কেন ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরি করবেন?

১. আপনার দক্ষতা প্রদর্শন:

ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরি করার মাধ্যমে আপনি আপনার দক্ষতা এবং জ্ঞান প্রদর্শন করার একটি ভাল উপায় ও মাধ্যম তৈরি করতে পারবেন, যা আপনার ক্যারিয়ার এবং ব্যক্তিগত উন্নতির ক্ষেত্রে কাজে লাগতে পারে।

২. ব্যক্তিগত বা প্রতিষ্ঠানের প্রচার-প্রসার:

ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরি করে আপনি নিজের বা আপনার কোনো প্রতিষ্ঠানের একটি ভালো ইমেজ তৈরি করতে পারেন। এছাড়া এর দ্বারা বিশেষভাবে যেকোনো সেবা, পণ্য, বা ব্র্যান্ড এর জন্য প্রচার-প্রসার চালানো যাবে।

৩. নিজের দক্ষতা প্রকাশ: 

ডিজিটাল ভাবে কনটেন্ট তৈরি করার মাধ্যমে আপনি নিজের কৌশল, দক্ষতা এবং জ্ঞানের প্রদর্শন করতে পারবেন। আর তাই, আপনার ব্যক্তিগত এবং পেশাদার বিকাশের জন্য এই ধরণের কনটেন্ট তৈরি করাটা আপনার জন্য মূল্যবান সম্পদ হিসেবে প্রমাণিত হতে পারে।

৪. শিক্ষাগত এবং তথ্যমূলক পরিষেবা:

ডিজিটাল ভাবে কনটেন্ট তৈরি করার মাধ্যমে আপনি জনসাধারণের কাছে শিক্ষামূলক বা তথ্যমূলক কনটেন্ট গুলি তুলে ধরতে পারবেন। এর দ্বারা, সমাজে জ্ঞান এবং সচেতনতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে কাজ করা যায়।

৫. আর্থিক লাভ:

YouTube, blogs, social media বা podcasts ইত্যাদির মতো নানান প্লাটফর্ম গুলিতে ডিজিটাল কনটেন্ট প্রকাশ করার মাধ্যমে নানান ভাবে আর্থিক লাভ আয় করা যেতে পারে। বর্তমান সময়ে, ডিজিটাল সামগ্রী তৈরির এটা সব থেকে বড় এবং গুরুত্বপূর্ণ কারণ।

কেননা, এতে ডিজিটাল সামগ্রী তৈরি করার পাশাপাশি পার্ট-টাইম ইনকামের একটি দারুন সুযোগ তৈরি হয়ে থাকে।

৬. বিনোদন:

ডিজিটাল কনটেন্ট বানানোর আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হলো, বিনোদন। কেননা, বর্তমান সময়ে নানান ধরণের ডিজিটাল মিডিয়া এবং কনটেন্ট গুলি ব্যবহারকারীদের জন্য তাদের বিনোদনের উল্লেখযোগ্য উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আর তাই, আকর্ষক এবং বিনোদনমূলক সামগ্রী তৈরি করার মাধ্যমে আপনিও ব্যাপক দর্শকদের আকর্ষণ করতে পারবেন। এতে, আপনার জনপ্রিয়তা বাড়ার পাশাপাশি সম্ভাব্য আর্থিক লাভ হওয়ার প্রচুর সুযোগ থাকবে।

৭. নেটওয়ার্কিং এবং কমিউনিটি গঠন:

ডিজিটাল কনটেন্টের মাধ্যমে, বৃহৎ সংখ্যক শ্রোতাদের সাথে যোগাযোগ করতে পারে এবং একই আগ্রহের বিভিন্ন ব্যবহারকারীদের নিয়ে নানান অনলাইন কমিউনিটি গুলিও গড়তে পারবেন।

একজন ডিজিটাল কনটেন্ট রাইটার কে?

একজন ডিজিটাল কনটেন্ট রাইটার হলো সেই ব্যক্তি, যে নানান অনলাইন প্ল্যাটফর্ম গুলির জন্য লেখা বা কনটেন্ট তৈরি, এডিট, পাবলিশ করার ক্ষেত্রে কাজ করেন। এই ধরণের লেখকরা, ওয়েবসাইট, ব্লগ, সোশ্যাল মিডিয়া, ইমেল ক্যাম্পেইন, এবং অন্যান্য ডিজিটাল চ্যানেলের জন্য কনটেন্ট তৈরি করে থাকেন।

একজন ডিজিটাল কনটেন্ট রাইটারের প্রধান দায়িত্বগুলি হলো:

  1. কনটেন্ট তৈরি: নানান ধরণের লেখা গুলি তৈরি করা, যেমনঃ নিউজ, ব্লগ পোস্ট, সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট, এবং অন্যান্য নানান ধরণের কনটেন্ট তৈরি, যাতে একটি সেরা তথ্য বা গল্প প্রস্তুত করা যেতে পারে।
  2. SEO অপটিমাইজেশন: তৈরি করা কনটেন্টটি সার্চ ইঞ্জিন (SEO) এর জন্য অপটিমাইজড করা।
  3. স্টাইল গাইড অনুসরণ করা: ব্র্যান্ড নির্দেশিকা এবং শৈলী গুলি অনুসরণ করে কনটেন্ট তৈরি করা যাতে কন্টেন্টে গুলিতে টোন, ভয়েস এবং মেসেজিং-এ ধারাবাহিকতা বজায় রাখা যায়।
  4. গবেষণা: দর্শকদের সঠিক এবং প্রাসঙ্গিক তথ্য প্রদান করার ক্ষেত্রে, তৈরি করা কনটেন্ট এর বিষয়টি নিয়ে জরুরি গবেষণা গুলি করা।
  5. অভিবাদন সুযোগ: লং-ফর্ম আর্টিকেল, নিউজ আর্টিকেল, সংক্ষেপ সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট, বা প্রচার কপি, ইত্যাদি নানান ধরণের প্লাটফর্মে নানান ফরম্যাটে কনটেন্ট লেখার অভিজ্ঞতা থাকা।
  6. সম্পাদনা এবং প্রুফরিডিং: স্পষ্টতা, ব্যাকরণ, এবং কোয়ালিটি সংরক্ষণের জন্য কনটেন্ট পর্যালোচনা এবং সম্পাদনা করা।

ডিজিটাল কনটেন্ট রাইটাররা, মূলত এমন আকর্ষক এবং মূল্যবান বিষয়বস্তু গুলি তৈরি করে থাকেন, যেগুলি ডিজিটাল শ্রোতাদের নানান বিষয়ে তথ্য গুলি জানাতে এবং পাশাপাশি তাদের ধ্যান আকর্ষণ করতে সাহায্য করে।

কিভাবে ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরি করবেন?

ডিজিটাল কনটেন্ট কি এবং কত প্রকারের, এই বিষয়ে ভালো ভাবে জানার পর, চলুন নিচে আমরা সরাসরি জেনেনেই, কিভাবে এবং কি কি মাধ্যমে জেকেও তৈরি করতে পারবেন ডিজিটাল কনটেন্ট গুলি।

Digital content তৈরি করার জন্য আপনারা নানান digital platforms গুলি ব্যবহার করতে পারবেন। যেমন, Social media platform, blogging platform, video sharing platform, Groups/communities, ইত্যাদি।

আপনি নিজের পছন্দ মতো ভিডিও বানিয়ে YouTube-এর মধ্যে আপলোড করতে পারবেন, blogger.com সাইটে গিয়ে নিজের ব্লগ সাইট তৈরি করে টেক্সট, ইমেজ এবং গ্রাফিক্স কনটেন্ট তৈরি ও পাবলিশ করতে পারবেন।

এছাড়া, নানান সোশ্যাল মিডিয়া প্লাটফর্ম গুলিতে নিজের একটি একাউন্ট তৈরি করেও টেক্সট, ইমেজ, ভিডিও, অডিও, ইত্যাদি নানান প্রকারের ডিজিটাল কনটেন্ট পাবলিশ ও শেয়ার করতে পারবেন।

এগুলির বাইরেও, ই-বুক, পিডিএফ ফাইল, পডকাস্ট, অনলাইন কোর্স, ইনফোগ্রাফিক্স ইত্যাদি এই ধরণের ডিজিটাল মিডিয়া গুলিকে কাজে লাগিয়ে ডিজিটাল কনটেন্ট বানানো যাবে।

FAQ:

১. ডিজিটাল কনটেন্ট কাকে বলে?

ডিজিটাল ডাটা হিসেবে থাকা যেকোনো ধরণের কনটেন্ট বা সামগ্রী গুলোকেই ডিজিটাল কনটেন্ট বলা যেতে পারে। ডিজিটাল কনটেন্ট গুলির মধ্যে মূলত এমন তথ্য গুলি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে যা ডিজিটালভাবে সম্প্রচারিত, স্ট্রিম করা বা কম্পিউটার ফাইল হিসেবে স্টোর করা রয়েছে।

২. ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরির মূল উদ্দেশ্য কি কি?

এই ধরণের কনটেন্ট গুলির উদ্যেশ্য একাধিক থাকতে পারে যদিও এদের মধ্যে কিছু হলো, শিক্ষিত করা, তথ্য প্রেরণ, ব্যবসার প্রচার, আর্থিক লাভ আয়, যোগাযোগ এবং বিনোদন ইত্যাদি।

৩. ডিজিটাল কনটেন্ট কত প্রকারের হতে পারে?

ডিজিটাল ভাবে নানান ধরণের কনটেন্ট তৈরি করা যেতে পারে। এই ধরণের কনটেন্ট এর প্রকার অনেক থাকলেও, কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রকার গুলি এই ধরণের, ব্লগ আর্টিকেল, ইনফোগ্রাফিক্স, ভিডিও, ইমেজ, নিউজলেটার, সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট, অডিও কনটেন্ট, ই-বই, ইত্যাদি।

উপসংহার:

তাহলে বন্ধুরা, ডিজিটাল কনটেন্ট মানে কি এবং কত প্রকার, এই প্রশ্নের উত্তর আমাদের এই আর্টিকেলের মধ্যে পেয়েছেন। আশা করছি, ডিজিটাল কনটেন্ট নিয়ে থাকা নানান প্রশ্নের উত্তর এবার আপনারা পেয়ে গিয়েছেন।

ডিজিটাল কনটেন্ট বলতে মূলত সেই প্রত্যেক কনটেন্ট গুলিকে বুঝানো হয় যেগুলি ডিজিটাল মিডিয়া, ডিজিটাল প্লাটফর্ম এবং ডিজিটাল মাধ্যমে তৈরি করা হয়ে থাকে। আপনি যখন ফেসবুকের মতো সোশ্যাল মিডিয়া প্লাটফর্ম গুলিতে সাধারণ একটি স্টেটাস, কমেন্ট বা পোস্ট করে থাকছেন, সেক্ষত্রেও কিন্তু আপনি ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরি ও শেয়ার করছেন।

শেষে, আমাদের আজকের আর্টিকেলটি ভালো লেগে থাকলে আর্টিকেলটি শেয়ার করতে কিন্তু ভুলবেননা।

অবশই পড়ুন:

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top