বর্তমানে সর্বাধিক চাহিদায় থাকা ৭টি অনলাইন চাকরি

Last updated on May 5th, 2024 at 09:34 pm

অনলাইনে কোন কাজের চাহিদা সবচেয়ে বেশি ? এই প্রশ্ন আজ প্রায় প্রত্যেকেই করছেন।

অনলাইনে কোন কাজের চাহিদা সবচেয়ে বেশি
Best high demand online freelancing work.

কেননা, বর্তমান সময়ে যেকোনো জায়গায় বসে একটি ল্যাপটপ এবং ইন্টারনেট এর মাধ্যমে অনলাইনে বিভিন্ন কাজ আমরা করতেই পারছি।

অনলাইনে করা আলাদা আলাদা কাজ গুলোর থেকে আলাদা আলাদা রকমের ইনকাম করা সম্ভব।

তবে, আপনি যদি তথাকথিত ট্র্যাডিশনাল চাকরির জালে জড়িয়ে না পরতে চান, তবে এমন অনেক পেশা বিদ্যমান আছে যা আপনাকে কাজ করার স্বাধীনতা দেবে। এইসকল কাজে আপনি নিজেই নিজের ‘বস’ হবেন এবং ঘরে বসে আরাম করেই রোজগার করতে পারবেন।

এর জন্য একটি সচল ল্যাপটপ এবং স্টেবল ইন্টারনেট কানেকশন থাকা আবশ্যক।

তবে আপনি যদি ভেবে থাকেন এইসকল কাজ করা খুবই সহজ তাহলে হয়তো একটু ভুল ভেবে থাকবেন।

কেননা রিমোর্ট মোডে কাজ করার একাধিক সুবিধা থাকলেও, ‘গাইডেন্স’ -এর অভাব অনুভব করতে পারেন।

তাই যেই পেশার সাথে আপনি যুক্ত হবেন তার সম্পর্কে গভীর জ্ঞান থাকা জরুরি। পাশাপাশি কমিউনিকেশন স্কিলে অবশ্যই পোক্ত হতে হবে।

যাইহোক আপনি যদি নিজের জন্য একটি উপযুক্ত অনলাইন চাকরি খুঁজে থাকেন,

তবে আমাদের এই প্রতিবেদন থেকে বর্তমানে সর্বাধিক চাহিদায় থাকা ৭টি অনলাইন চাকরির তালিক দেখে নিতে পারেন।

অনলাইনে কোন কাজের চাহিদা সবচেয়ে বেশি ?

চলুন তাহলে, আর বেশি সময় না নিয়ে নিচে আমরা অনলাইনে কোন কাজের চাহিদা সবচেয়ে বেশি সেই কাজ গুলোর বিষয়ে জেনেনেই।

১. ফ্রিল্যান্স রাইটার (Freelance Writer) :

ছোট-বড় যেকোনো বিষয়ে জানতে হলে এখন আমরা ইন্টারনেটে সার্চ করে থাকি।

কিন্তু ইন্টারনেটে থাকা যেইসকল আর্টিকেল আমাদের নতুন নতুন তথ্য জানতে বা কোনো বিষয় সম্পর্কে বিশদে জানতে সাহায্য করে তা কিন্তু লিখে থাকেন ওয়েব পোর্টালগুলির রাইটার বা লেখকেরা।

ফলে সময়ের সাথে মানুষ যত ইন্টারনেট নির্ভর হয়ে পড়ছেন, ততই তাদের জিজ্ঞাসা মেটাতে গজিয়ে উঠছে একটার পর একটা নতুন সাইট।

যার দরুন লেখকদের চাহিদাও এখন তুঙ্গে।

ফলে এই সুযোগের সদ্ব্যবহার করে আপনি রিমোর্ট মোডে ফ্রিল্যান্স রাইটার হিসাবে লেখালিখির কাজ শুরু করতে পারেন।

অথবা কোনো সংস্থায় ভ্যাকেন্সি থাকলে তাদের সাথেও যুক্ত হতে পারেন।

একজন ফ্রিল্যান্স রাইটার হিসাবে আপনাকে – আর্টিকেল রাইটিং, কনটেন্ট রাইটিং এবং ‘ক্রিয়েটিভ’ বা ব্যতিক্রমী আর্টিকেল লেখার আইডিয়া প্রস্তাব করতে হবে পারে।

তাই কোনো নির্দিষ্ট বিষয় সম্পর্কে আপনার যথাযথ জ্ঞান থাকলে বা লেখার হাত ভালো হলে এই পেশা আপনার জন্যই।

তবে হ্যাঁ, ইংরেজির পাশাপাশি কয়েকটি স্থানীয় ভাষাও জানতে হবে আপনাকে।

আর যদি ফ্রিল্যান্স রাইটার হিসাবে আপনি দীর্ঘ দিন কাজ করে থাকেন, তবে চাকরি ও মাইনের অভাব হবে না।

২. ভার্চুয়াল অ্যাসিস্টেন্ট (Virtual Assistant) :

ভার্চুয়াল অ্যাসিস্টেন্ট বা সংক্ষেপে VA -কে একজন স্ব-নিযুক্ত পেশাদার বলা যেতে পারে।

এই পেশায় নিযুক্ত ব্যক্তিরা ছোট-বড় ব্যবসায়িক সংস্থাগুলির হয়ে তাদের ‘রিমোর্ট’ মোডে দৈনন্দিন কাজকর্মে সহায়তা করে থাকেন।

তবে হ্যাঁ, প্রত্যেক ভার্চুয়াল অ্যাসিস্টেন্টের কাজ কিন্তু এক সমান হয় না।

মূলত ক্লায়েন্টের চাহিদা ও প্রয়োজনীয়তা উপর নির্ভর করে কাজের প্রক্রিয়া।

তবে আপনাকে একটা ধারণা দেওয়ার জন্য উদাহরণস্বরূপ বলে রাখি,

আপনি যদি ইন্টারনেট ব্যবহারে দক্ষ হন এবং এই পেশায় নিযুক্ত হতে চান তবে আপনাকে আপনার ক্লায়েন্টের হয়ে – মিটিং শিডিউল, প্রেজেন্টেশন বানানো, ফোন কল রিসিভ এবং ওয়েবসাইট পরিচালনার মতো কাজ করতে হতে পারে।

এছাড়া ইমেলের উত্তর দেওয়া বা ছোটোখাটো কনটেন্ট লেখার কাজও করতে বলা হতে পারে।

তবে ভার্চুয়াল অ্যাসিস্টেন্ট হওয়ার জন্য সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, আপনাকে – ভাল কমিউনিকেশন স্কিল, যথাযথ টাইম ম্যানেজমেন্ট স্কিল এবং মাইক্রোসফ্ট অফিসে কাজ করা জানতে হবে।

৩. ওয়েব ডিজাইনার/ডেভেলপার (Web Designer/Developer) :

বর্তমান সময়ে অধিকাংশ ব্যবসায়িক সংস্থা ট্র্যাডিশনাল মার্কেটিংয়ের পরিবর্তে ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের মাধ্যমে নিজেদের প্রোডাক্ট বা পরিষেবার প্রচার করতে পছন্দ করছে।

কেননা এখন প্রায় প্রত্যেকটি মানুষই দিনের বেশিরভাগ সময় তাদের মোবাইল দেখেই কাটিয়ে দেন।

তাই ইন্টারনেটের মাধ্যমে প্রচার কার্য পরিচালনা করলে স্বল্প সময়ে বিস্তৃত অঞ্চলের মানুষের কাছে পৌঁছনো যায়।

আর এমনটা করার জন্য সবথেকে আগে যেই জিনিসটি দরকার, তা হল একটি ওয়েবসাইট।

তাই এখন বিশেষভাবে ওয়েব ডিজাইনার বা ডেভেলপারদের চাহিদা বৃদ্ধি পেয়েছে।

ফলে আপনি যদি কোনো ইনস্টিটিউশন থেকে ওয়েব ডিজাইনিং কোর্স করে থাকেন এবং কোনো সংস্থার অধীনে কাজ করতে না চান,

তাহলে পার্সোনাল কন্ট্রাক্ট জোগাড় করার মাধ্যমে বাড়িতে বসেই এই কাজ করতে পারেন।

তবে আগেই বলে দিই, একজন আদর্শ ওয়েব ডিজাইনার হওয়ার জন্য আপনার মধ্যে সৃজনশীলতা এবং ব্যতিক্রমী ভাবনাচিন্তা থাকা আবশ্যক।

কেননা একটি ওয়েবসাইটের ডিজাইন যত আকর্ষণীয় এবং অনন্য হবে ততই ভিজিটররা সেই সংস্থার প্রোডাক্ট সম্পর্কে জানার আগ্রহ প্রকাশ করবে এবং ‘পেইড কাস্টমার’ -এ পরিণত হবে।

এক্ষেত্রে নতুন নতুন ডিজাইন তৈরীর জন্য আপনি ইন্টারনেটে থাকা ওয়েব ডিজাইন টেমপ্লেটগুলির থেকে অনুপ্রেরণা নিতে পারেন।

৪. সোশ্যাল মিডিয়া ম্যানেজার (Social Media Manager) :

আগেই যেমনটা বলছিলাম, এখন ছোট-বড় প্রায় প্রত্যেক সংস্থাই স্বল্প খরচ ও সময়ে প্রচারকার্য চালানোর জন্য ইন্টারনেটের উপর বিশেষভাবে আস্থা রেখেছে। এক্ষেত্রে ওয়েবসাইটের পাশাপাশি বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলিও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

কেননা একটি ওয়েবসাইট বানাতে গেলে আপনাকে ওয়েব ডিজাইনারের পারিশ্রমিক ও ডোমেইন খরচ বাবদ কম করেও ১৫,০০০ টাকা হাতে নিয়ে নামতে হবে।

আবার রেডিও বা পত্র-পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দেওয়ার জন্য ২,০০০-৫,০০০ টাকা লাগবেই।

কিন্তু সোশ্যাল মিডিয়াতে মাত্র ৪০-৫০ টাকা খরচ করেও ডিজিটাল বিজ্ঞাপন দেওয়া সম্ভব।

কিন্তু বিজ্ঞাপন দিলেই তো আর হবে না, ক্রেতা আকর্ষণ করার জন্য একটা লোভনীয় পোস্ট করতে হবে, তার প্রচার বারংবার করতে হবে এবং ক্রেতারা যোগাযোগ করতে চাইলে তাদের সহায়তাও করতে হবে।

আর এই সকল কাজ একজনের দ্বারা তো সম্ভব নয়।

তাই এখন একটি নতুন পেশা বাজারে খুব চাহিদায় আছে, যা হল সোশ্যাল মিডিয়া ম্যানেজার।

এই পেশায় যাওয়ার জন্য আপনার কাছে একটা বড় ফলোয়ার বেস থাকতে হবে, যাদের মধ্যে আপনাকে একটি কোম্পানির হয়ে তাদের প্রোডাক্ট বা সার্ভিসের প্রচার করতে হবে।

একই সাথে ব্যবসায়িক সংস্থাগুলির যাবতীয় সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট পরিচালনার দায়িত্বেও থাকেন সোশ্যাল মিডিয়া ম্যানেজার।

৫. ইমেল মার্কেটার (Email Marketer) :

ইমেইল মার্কেটারের কাজ হল, একটি ব্যবসায়িক সংগঠনের ইমেল অ্যাডভার্টাইজমেন্ট ক্যাম্পেইন বা প্রচারকার্যের প্ল্যানিং করা এবং সংস্থার লয়াল কাস্টমার বেসের একটি তালিকা তৈরী করে প্রত্যেক ক্লায়েন্টকে নতুন প্রোডাক্ট বা পরিষেবা সম্পর্কে প্রতিনিয়ত বিজ্ঞপ্তি দেওয়া।

তাই প্রোডাক্ট বিক্রি করার জন্য একজন ইমেল মার্কেটারকে যথেষ্ট দায়িত্ববান ও অভিজ্ঞ হতে হবে।

আর তাই এই পেশায় শুধুমাত্র তাদেরই নিয়োগ করা হয়, যারা পাবলিক রিলেশন বা মার্কেটিং নিয়ে পড়াশোনা করেছে বা দীর্ঘ দিন এই কাজের সাথে যুক্ত।

প্রসঙ্গত, আপনার কমিউনিকেশন স্কিলও ভালো হতে হবে।

আর যদি গ্রাফিক ডিজাইন এবং ওয়েব ডিজাইনের মতো কাজ জেনে থাকেন তবে ইমেল মার্কেটার হিসাবে আপনার কাজের অভাব হবে না।

৬. অ্যানিমেশন নির্মাতা (Animation Maker) :

বিগত কয়েক বছর যাবৎ অ্যানিমেশন ইন্ডাস্ট্রি ব্যাপকভাবে জনপ্রিয়তা লাভ করেছে।

যার দরুন শয়ে শয়ে ছেলেমেয়েরা এখন পড়াশোনার পাশাপাশি অ্যানিম্যাশন কোর্স করছে।

আপনিও যদি এমনি কোনো কোর্স করে থাকেন তবে ওয়ার্ক-ফ্রম-হোম মোডে অ্যানিমেশন ক্রিয়েটর হিসাবে নিজের কেরিয়ার শুরু করতে পারেন।

অ্যানিমেশন তৈরীর মাধ্যমে আপনি নিজের সৃজনশীলতার প্রকাশ ঘটাতে পারবেন এবং একই সাথে আশেপাশের ঘটনাবলীর থেকে অনুপ্রেরণা নিয়ে নানাবিধ ‘ক্রিয়েটিভ’ অ্যানিমেশন তৈরী করতে পারবেন।

এক্ষেত্রে আপনার ভাবনা ও প্রজেক্ট যদি ব্যতিক্রমী হয় তবে বিভিন্ন গেম ডেভলপমেন্ট সংস্থায় অ্যানিমেশন নির্মাতা হিসাবে নিযুক্ত হতে পারেন।

অথবা আলাদা করে নিজের একটা ব্যবসা ও অবশই শুরু করতে পারেন।

৭. প্রমোশনাল ভিডিও মেকার (Promotional Video Maker) :

আপনার যদি ফিল্ম মেকিং সম্পর্কে জ্ঞান থেকে থাকে বা এই নিয়ে পড়াশোনা করে থাকেন,

তবে প্রমোশনাল ভিডিও মেকার হিসাবে কাজ করতে পারেন।

এখনকার সোশ্যাল মিডিয়া কেন্দ্রিক যুগে, যেকোনো ধরণের ছোট-বড় কোম্পানি থেকে শুরু করে ইনফ্লুয়েন্সার বা কনটেন্ট ক্রিয়েটাররা তাদের প্রচারকার্যের জন্য ভিডিও তৈরী করে থাকে।

আবার নিউজ পোর্টালগুলিরও অনেক সময়ে ভিডিওগ্রাফারদের প্রয়োজন পরে।

তাই আপনার যদি ক্যামেরার হাত ভালো হয় এবং ঘুরতে ভালোবাসেন তবে এই পেশা আপনার জন্য আদর্শ।

কেননা প্রমোশনাল ভিডিও মেকারদের অনেক সময়ে কাজের সূত্রে বিভিন্ন স্থানে ভ্রমণ করার প্রয়োজন পরে।

অন্যান্য অনলাইন কাজ গুলো

ওপরে উল্লেখ করা কাজ গুলোর চাহিদা অনলাইনে প্রচুর রয়েছে বা একজন ফ্রীল্যান্সার হিসেবে এই কাজ গুলো জানা থাকলে, আপনি প্রচুর টাকা ইনকাম করার সুযোগ পাবেন।

তবে, এগুলোর বাইরেও আরো নানান রকমের online work রয়েছে যেগুলোর চাহিদা বর্তমানে কম বলা যাবেনা।

যেমন,

  • ভিডিও এডিটিং,
  • স্ক্রিপ্ট রাইটিং,
  • ফোটোগ্রাফি,
  • ট্রান্সলেশন এর কাজ,
  • লোগো ডিজাইন,
  • এন্ড্রয়েড এপস ডেভেলপমেন্ট, ইত্যাদি।

অনলাইনে রিমোর্ট মোডে চাকরি করার কী কী সুবিধা ?

১. চাকরির ‘টাইম টেবিল’ বা সময় স্বয়ং নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন।

২. পরিবারকে পর্যাপ্ত সময় দিয়েও উপার্জন করা সম্ভব।

৩. প্রতিদিন বাড়ি থেকে কর্মস্থলে যাতায়াতের জন্য যেই সময় ও টাকা খরচ হয়, তা বাঁচাতে পারবেন।

৪. অনলাইন ভিত্তিক চাকরি করলে হাতে নগদ পাওয়ার পরিবর্তে সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে স্যালারি পরবে। যার দরুন সেভিং করার প্রবণতা আসবে।

৫. বিভিন্ন ফিল্ডের মানুষের সাথে যোগাযোগ স্থাপনের সুযোগ পাবেন, যাতে অভিজ্ঞতা আরো বাড়বে।

৬. কর্ম জীবন এবং ব্যক্তিগত জীবনের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে সক্ষম হবেন।

 

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error:
Scroll to Top