WordPress কি এবং কি কি কাজে ওয়ার্ডপ্রেস ব্যবহার করা হয়, এই ব্যাপারে প্রত্যেক web designer বা blogger আপনাকে ভালো ভাবে বলে দিতে পারবে। আসলে, বিশ্বের সব থেকে সেরা এবং প্রচলিত CMS software হলো WordPress. এই অনলাইন সফটওয়্যার এর মাধ্যমে, যেকোনো ধরণের ওয়েবসাইট বানানো অনেক সহজ। এবং, যদি এর ব্যাপারে আপনার কোনো ধরণের জ্ঞান নেই, তাহলে চিন্তা করবেননা।

WordPress কি ?

এই, আর্টিকেলে আমি আপনাদের, WordPress এর বিষয়ে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিবো। যেমন, ওয়ার্ডপ্রেস কি, ওয়ার্ডপ্রেস এর কাজ, এর কিছু লাভ ও সুবিধা এবং, একজন ব্লগার হিসেবে কেন ওয়ার্ডপ্রেস ব্যবহার করাটা জরুরি।

তাছাড়া, WordPress online CMS software ব্যবহার করাটা কিন্তু অনেক সহজ। এবং, বিশ্বের প্রায় ৬৫% ওয়েবসাইট আজ ওয়ার্ডপ্রেস দ্বারা তৈরি। Netcraft দ্বারা প্রচার করা সার্ভেতে পাওয়া গেছে যে, বিশ্বের প্রায় ৭৫ হাজার লক্ষ থেকেও বেশি ওয়েবসাইট WordPress CMS software দ্বারা বানানো।

তাই, WordPress কতটা বেশি পপুলার ও জনপ্রিয়, সেটা তো আপনারা বুঝতেই পারছেন।

শেষে, যদি আপনি একজন ওয়েব ডিসাইনার (web designer), ওয়েব ডেভেলপার (web developer), ব্লগার (blogger) বা নিজেই একটি perfect website তৈরি করার কথা ভাবছেন, তাহলে ওয়ার্ডপ্রেসের ব্যাপারে জেনে নেয়াটা আপনার জন্য অনেক জরুরি।


ওয়ার্ডপ্রেস কি ? (What Is WordPress In Bangla)

About WordPress CMS Software In Bangla.

সোজা ভাবে বললে, “WordPress” এমন একটি সহজ এবং জনপ্রিয় মাধ্যম যেটা ব্যবহার করে আপনি নিজের একটি ওয়েবসাইট (website) বা ব্লগ (blog) তৈরি করতে পারবেন।

এবং, এই মাধ্যম কতটা জনপ্রিয় এবং সহজ, সেটা বোঝা যায় এর ব্যবহারকারীদের অধিক সংখ্যার ওপরে। ইন্টারনেটে থাকা কোটি কোটি সব ওয়েবসাইট গুলির ভেতরে ৩৪% থেকেও বেশি ওয়েবসাইট ওয়ার্ডপ্রেস দ্বারা তৈরি।

এখন, “WordPress মানে কি” এই ব্যাপারে যদি অল্প টেকনিক্যালি (technically) বলা হয়, তাহলে সেটাও বুঝে নেয়াটা অনেক সহজ।

WordPress হলো সব থেকে বেশি পপুলার একটি open source Content Management System (CMS), যেটা জেকেও নিজের ওয়েব সার্ভারে (web server) ফ্রীতেই ইনস্টল করে, যেকোনো রকমের একটি ব্লগ বা ওয়েবসাইট বানিয়ে নিতে পারবেন।

ওয়ার্ডপ্রেস বিশ্বের সব থেকে শক্তিশালী কিন্তু অনেক সহজ একটি ফ্রি অনলাইন ওয়েবসাইট তৈরি করার মাধ্যম যেটাকে PHP র দ্বারা লিখা হয়েছে।

মনে রাখবেন, ওয়ার্ডপ্রেস দ্বারা ওয়েবসাইট বানানোর জন্য, আপনার একটি ওয়েব হোস্টিং একাউন্ট বা হোস্টিং সার্ভার থাকতে হবে। এবং, তারপর আপনি নিজের সার্ভারে এই WordPress CMS install করে যেকোনো ধরণের ওয়েবসাইট তৈরি করে নিতে পারবেন।

এমনিতে, ওয়েবসাইট তৈরি করার জন্য আরো অনেক ধরণের online CMS software রয়েছে। যেমন, Joomla, Drupal, Typo3.

এই, CMS software গুলিও ব্লগ ও ওয়েবসাইট তৈরির জন্য অনেক পপুলার। কিন্তু, ওয়ার্ডপ্রেস এর তুলনায় অনেক বেশি কম।

WordPress এর লাভ ও সুবিধে (Benefits of using WordPress)

WordPress, অনলাইনে ওয়েবসাইট ও ব্লগ তৈরি করার সব থেকে জনপ্রিয় সফটওয়্যার হওয়ার প্রধান কারণ হলো, “এই সফটওয়্যার এর প্রচুর লাভ রয়েছে“.

  1. প্রথমেই, এরকম একটি অ্যাডভান্সড (advanced) ধরণের সফটওয়্যার আপনারা ফ্রীতেই পেয়ে যাচ্ছেন। WordPress ব্যবহার করার জন্য আপনার কোনো টাকা দিতে হয়না।
  2. অনলাইন সফটওয়্যার হওয়ার জন্য, আপনি নিজের ব্লগ বা ওয়েবসাইটের কাজ যেকোনো জায়গার থেকেই করতে পারবেন। আপনার কেবল একটি ল্যাপটপ এবং ইন্টারনেট কানেক্শনের প্রয়োজন হবে।
  3. WordPress সম্পূর্ণ ভাবে SEO friendly . মানে, ওয়ার্ডপ্রেস এমন কিছু সহজ এবং standard রকমের codes ব্যবহার করে ওয়েবসাইট তৈরি করে যেগুলির জন্য অনেক সহজে আপনার ওয়েবসাইট ও ব্লগ Google search engine এ index হতে সাহায্য করে।
  4. WordPress আজ কোটি কোটি webmasters দেড় ভরসা। এবং, এই ভরসা বজায় রাখার জন্য, ওয়ার্ডপ্রেস তার নিরাপত্তার দিগে অনেক ভালো ভাবে ধ্যান দিয়েছে। একটি ওয়ার্ডপ্রেস ব্লগ বা ওয়েবসাইট, হ্যাক (hack) করা বা তার ক্ষতি করাটা কিন্তু ৯৮% অসম্ভব।
  5. কেবল ব্লগ বা সাধারণ ওয়েবসাইট না, আপনি এই CMS software ব্যবহার করে বিভিন্ন রকমের ওয়েবসাইট নিজেই তৈরি করতে পারবেন। যেমন, social media website, e-commerce website, company website, forum এবং আরো অনেক ধরণের।
  6. হাজার হাজার ফ্রি থিম (theme) এবং প্লাগিন (plugin) পেয়ে যাবেন, যেগুলি ব্যবহার করে নিজের ওয়েবসাইটের ক্ষমতা, সৌন্দর্য, ডিসাইন এবং ফাঙ্কশন (function) বাড়িয়ে নিতে পারবেন।
  7. অনেক সহজে থিম (theme) বদলে দিয়ে নিজের ব্লগের ডিজাইন (design) ও বদলে দিতে পারবেন।
  8. সব রকমের latest এবং advanced function ওয়ার্ডপ্রেস আপনাদের দিবে। যেমন, social sharing options, responsive website design, SEO Friendly structure, easy customization, plugins ও আরো অনেক functions রয়েছে।
  9. Customize অপশনে গিয়ে, আপনারা নিজের ব্লগ বা ওয়েবসাইট এর ডিজাইন অনেক সহজে এডিট করতে পারবেন live preview সহ।
  10. ইন্টারনেটে ওয়ার্ডপ্রেসের বিষয়ে অনেক অনেক ভটিউটোরিয়াল (tutorial) ভিডিও এবং আর্টিকেল পাবেন, যেগুলি দেখে অনেক সহজে জেকেও ওয়ার্ডপ্রেস এর বিষয়ে সহজে শিখে নিতে পারবেন।

তাহলে বন্ধুরা, এগুলি ছিল ওয়ার্ডপ্রেসের কিছু লাভ ও সুবিধে। তাছাড়া, আরো অনেক লাভ বা সুবিধে এই সফটওয়্যার এর রয়েছে। ওয়ার্ডপ্রেসের ব্যাপারে যতই সুনাম করিনা কেন, সেটাও অনেক কম।

একটি ব্লগ বা ওয়েবসাইট বানানোর জন্য, এই CMS software একবার যে ব্যবহার করবেন, সে চিরকাল এটাই ব্যবহার করবেন। কতটা সহজ এবং ভালো এই সফটওয়্যার, সেটা কেবল একবার ব্যবহার করেই বুঝবেন।

ওয়ার্ডপ্রেস প্লাগিন কি ? (WordPress plugin)

What Is WordPress Plugin.?

একটি ওয়ার্ডপ্রেস প্লাগিন হলো এক ধরণের আলাদা সফটওয়্যার, যেটা নিজের ওয়ার্ডপ্রেস ওয়েবসাইটে ইনস্টল করে, নিজের ব্লগ বা ওয়েবসাইটের কার্যক্ষমতা, ফাঙ্কশন বা ফিচারস (features) বাড়িয়ে নিতে পারবেন।

WordPress plugin, আপনার ওয়েবসাইটের যেকোনো function এর কর্মক্ষমতা অধিক বাড়িয়ে দিতে পারে। এবং, তাছাড়া বিভিন্ন নতুন নতুন functions ওয়েবসাইটে যোগ করতে পারে।

এটা, কিছু পরিমানে মোবাইলের applications এর মতোই বলা যেতে পারে। যেভাবে, আমরা Google play store এ গিয়ে, বিভিন্ন রকমের apps মোবাইল ফোনে install করে নতুন নতুন functions যোগ করি, ঠিক সেভাবেই, ওয়ার্ডপ্রেস ওয়েবসাইটেও আমরা বিভিন্ন ফ্রি বা পেইড plugin ইনস্টল করে, নিজের ওয়েবসাইটে অসংখক function যোগ করে নিতে পারি।

WordPress লোকেদের মধ্যে এতোটা বিখ্যাত হওয়ার কারণ এটাও যে, নিজের ওয়ার্ডপ্রেস ওয়েবসাইটে আলাদা করে যেকোনো function যোগ করার জন্য, আপনারা হাজার হাজার ফ্রি প্লাগিন পেয়ে যাবেন।

উদাহরণ স্বরূপে, নিজের ব্লগে বা ওয়েবসাইটে প্লাগিন এর মাধ্যমে আলাদা করে, social media sharing button, email subscription box, social media profiles, website security options, author box, related articles options এবং আরো হাজার হাজার নতুন functions যোগ করতে পারবেন।

এতে, অনেক সহজে আপনি নিজের ওয়েবসাইটকে নিজের হিসেবে তৈরি করতে পারবেন। সে চাই, ডিজাইনের দিক দিয়ে হোক, নিরাপত্তার দিক দিয়ে হোক বা নতুন নতুন ফাঙ্কশন ওয়েবসাইটে যোগ দেয়ার কথা হোক, সবটাই প্লাগিন ব্যবহার করে সহজেই করে নিতে পারবেন।

Official WordPress plugin directory তে আপনারা হাজার হাজার ফ্রি ওয়ার্ডপ্রেস প্লাগিন পেয়ে যাবেন।

তাহলে, ওয়ার্ডপ্রেস প্লাগিন কি, সেটা বুঝলেন তো ? যদি এখনো বুঝেননি তাহলে নিচে কমেন্ট করে বলুন।

কেন ওয়ার্ডপ্রেস ব্যবহার করবেন ?

তাহলে, ওয়ার্ডপ্রেসের ব্যাপারে এতো কিছু বলার পর, এখনো যদি আপনার মনে এই প্রশ্ন আসছে যে, ওয়েবসাইট তৈরি করার জন্য “কেন ওয়ার্ডপ্রেস ব্যবহার করবো ?” তাহলে ওয়ার্ডপ্রেস ব্যবহার কারণ অনেক।

  • ওয়ার্ডপ্রেস একটি advanced এবং multi functionality CMS software যেটা আপনারা ফ্রীতেই ব্যবহার করতে পারছেন।
  • যেকোনো ধরণের ওয়েবসাইট এখানে বানানো সম্ভব।
  • অনেক সহজেই ওয়ার্ডপ্রেস এর ব্যবহার শিখতে পারবেন।
  • বিভিন্ন ফ্রি themes এবং plugins এর মাধ্যমে, নিজের ওয়েবসাইটের ডিজাইন এবং ফাঙ্কশন বাড়িয়ে নিতে পারবেন।
  • SEO friendly blog বা website বানাতে পারবেন।
  • WordPress অনেক নিরাপদ এবং ওয়েবসাইটের নিরাপত্তা নিয়ে আপনার ভাবতে হবেনা।
  • যেকোনো ধরণের media file যেমন, video, audio, images আপনারা আপলোড করে, নিজের আর্টিকেলের সাথে যোগ করতে পারবেন।

তাহলে, এখন বুঝলেন তো ? ওয়ার্ডপ্রেস ব্যবহার করে একটি ওয়েবসাইট বানানোর লাভ ও সুবিধে অনেক রয়েছে। তাই, একটি ওয়েবসাইট বানানোর ক্ষেত্রে অবশই ওয়ার্ডপ্রেস ব্যবহার করেই ব্লগ বা ওয়েবসাইট বানাবেন।

ওয়ার্ডপ্রেস শিখতে কত দিন লাগবে ?

প্রথম অবস্থায়, লোকেরা ভাবেন ওয়ার্ডপ্রেস অনেক কঠিন। হে, প্রথমে আপনার সেরকম লাগবেই। কিন্তু, কিছু দিন নিজের WordPress dashboard এ গিয়ে অপসন গুলি ব্যবহার করলেই আপনারা অনেক সহজে এর ব্যবহার শিখে যাবেন।

তাছাড়া, ইন্টারনেটে WordPress এর সাথে জড়িত সব রকমের টিউটোরিয়াল ভিডিও বা আর্টিকেল আপনারা পেয়ে যাবেন। সেগুলি একবার পরেই সবটাই আস্তে আস্তে শিখে যাবেন।

তাই, ওয়ার্ডপ্রেসের আসল এবং জরুরি বিষয় গুলি যেমন, কিভাবে আর্টিকেল লিখবেন, প্লাগিন কিভাবে ইনস্টল করবেন, নিজের ওয়েবসাইট ডিজাইন কিভাবে করবেন, থিম ইনস্টল করার নিয়ম, এবং এই ধরণের বিষয় গুলি আপনারা কেবল একবার দেখেই শিখে নিতে পারবেন।

তাই, যদি ভালো ভাবে বিষয়টি নিয়ে ঘাটা ঘাঁটি করেন, তাহলে কেবল ১ সপ্তাহের মধ্যেই ওয়ার্ডপ্রেসের ব্যবহার সম্পূর্ণ ভাবে শিখে যাবেন।

 

তাহলে বন্ধুরা, ওয়ার্ডপ্রেস কি (What Is WordPress In Bangla), ওয়ার্ডপ্রেসের লাভ ও সুবিধা কি এবং কেন ওয়ার্ডপ্রেস ব্যবহার করে ওয়েবসাইট তৈরি করবেন, এই সব বিষয় গুলি নিয়ে আপনাদের মনে থাকা প্রশ্নের উত্তর হয়তো আমি দিয়ে দিয়েছি।

যদি, আপনাদের মনে কোনো ধরণের প্রশ্ন থাকে, তাহলে কমেন্টের মাধ্যমে নিচে আমাকে বলুন, আমি নিশ্চই সাহায্য করবো।