কিভাবে মাসে ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা আয় করা যাবে? অনলাইনে কাজ করে

মাসে ৩০ হাজার টাকা আয় করার উপায়: বর্তমান ২০২৪ সালে যদি আপনি অনলাইনে কাজ করে প্রতি মাসে কমেও তিরিশ হাজার টাকা ইনকাম করতে চাইছেন, সেক্ষেত্রে ইনকামের প্রচুর উপায় গুলো রয়েছে। কেননা, আমি নিজেই গত ৬-৭ বছর ধরে অনলাইনে নানান মাধ্যমে কাজ করে প্রতিমাসে ৩০ থেকে ৫০ হাজার টাকা আয় করতে সফল হয়েছি।

অনলাইনে কাজ করে টাকা ইনকাম করাটা বর্তমানে প্রচুর জনপ্রিয়তা লাভ করেছে এবং সত্যি বলতে লোকেরা ঘরে বসে অনলাইনে নানান কাজ গুলি করে প্রত্যেক মাসে আরামে ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা ইনকাম করতে পারছেন। তবে, অন্যান্য যেকোনো কাজ গুলোর মতোই অনলাইন কাজ গুলো করার জন্যও স্কিল, সময়, জ্ঞান এবং চেষ্টার প্রয়োজন।

এখন, যদি আপনি চাকরির পাশাপাশি পার্ট-টাইম কাজ করে প্রতি মাসে কিছুটা অতিরিক্ত টাকা আয় করার কথা ভাবছেন, তাহলে আপনি Blogging, Affiliate marketing, Freelancing, ইত্যাদির মতো বিভিন্ন অনলাইন কাজ গুলি করতে পারবেন।

এছাড়া, মাসে ৩০ হাজার উপার্জন করার যদি অন্যান্য নানান অনলাইন এবং অফলাইন উপায় গুলোর বিষয়ে জেনেনিতে চাইছেন, তাহলে আমাদের এই আর্টিকেলটি সম্পূর্ণ পড়ুন।

সূচিপত্র:

মাসে ৩০ হাজার টাকা আয় করার উপায় এবং মাধ্যম গুলো: (অনলাইনে)

মাসে ৩০ হাজার টাকা আয় করার উপায়
How to earn 30 thousand a month?

বর্তমান সময়ের এই গতিশীল অর্থনীতিতে প্রতি মাসে ৩০ হাজার টাকা উপার্জন করাটা সত্যি বাস্তবসম্মত। তবে এক্ষেত্রে আপনাকে একেবারে সঠিক কৌশল গুলোকে কাজে লাগানোর পাশাপাশি, নিয়মিয়ত বজায় রেখে কাজ করতে হবে।

প্রতিদিনের সেই ৯-৫ চাকরির বদলে, অফলাইন বা অনলাইন মাধ্যমে কাজ করে মোটামোটি ৩০ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকা আয় করার জন্য বেশ কয়েকটি জিনিসের উপর নজর রাখা দরকার।

১. কোন অনলাইন কাজ আপনার জন্য সেরা?

দেখুন, অনলাইন মাধ্যমে ইনকাম করার একাধিক উপায় গুলো রয়েছে, তবে প্রত্যেকেই কিন্তু প্রত্যেকটি উপায়ে কাজ করে সফল হতে পারেননা। তাহলে কি করতে হবে আপনাকে? দেখুন, যেকোনো অনলাইন কাজ শুরু করার আগে আপনাকে সবচেয়ে আগেই নিজের মধ্যে থাকা দক্ষতা, কৌশল এবং পছন্দ-অপছন্দ গুলোর উপর নজর দিতে হবে।

কি ধরণের কাজ গুলো করে আপনার ভালো লাগে? কোন কাজ গুলো প্রচুর আগ্রহের সাথে করতে পারবেন, সেটা লেখালেখি হোক বা গ্রাফিক্স ডিজাইনিং, ভিডিও এডিটিং হোক বা ছবি তোলা, অনলাইনে প্রতিটি কাজেরই চাহিদা এবং সুযোগ রয়েছে।

এবার আমাকেই দেখে নিন, আমি গত ৭ বছর ধরে ব্লগিং করে নিয়মিত ইনকাম করছি, তবে এখনো পর্যন্ত ইউটিউবে নিয়মিত ভিডিও আপলোড দিতে পারছিনা। এর কারণ কি জানেন? আমি লেখালেখি করতে অনেক পছন্দ করি আর যার জন্য ব্লগিং করতে বা আর্টিকেল লিখতে আমি সব সময় মোটিভেটেড থাকি।

এবার, ইউটিউবে আমি সফলতা এজন্যেই পাচ্ছিনা, কারণ লেখালেখি করার তুলনায় ভিডিও বানানোর ক্ষেত্রে আমার তেমন কোনো রুচি বা আগ্রহ নেই পাশাপাশি এতটা জ্ঞান ও নেই। তাই, যেই কাজ করতে পছন্দ করেন, যেই কাজে প্রচুর আগ্রহ আছে, সেই কাজের সাথে রিলেটেড অনলাইন কাজ গুলো সিলেক্ট করাটা অনেক জরুরি।

২. অনলাইন কাজের জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা গুলো:

অনলাইন কাজের জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা এবং কৌশল গুলো আগের থেকে জানা থাকলে সফলতা পাওয়ার রাস্তা আপনার জন্য অনেক আগের থেকেই খোলা থাকবে। এতে, প্রতি মাসে ৩০ হাজার কেন ৫০ হাজার আয় করাটাও আপনার জন্য অনেক সহজ বিষয় হয়ে দাঁড়াতে পারে।

সময় ম্যানেজ করতে হবে:

আপনি একজন স্টুডেন্ট, মহিলা, একজন চাকরিজীবী নাকি ব্যবসায়ী, অবশই আমি এবিষয়ে কিন্তু কিছু জানিনা। তবে প্রত্যেকের ক্ষেত্রেই যারা অনলাইনে কাজ করে অর্থ উপার্জন করতে চাইছেন, তাদের কিন্তু সময় পরিচালনা করার কৌশলটি জানা থাকতে হবে।

কেননা, যেকোনো কাজে সফলতা পাওয়ার জন্য প্রচুর পরিশ্রমের প্রয়োজন থাকার পাশাপাশি ধারাবাহিকতা বজায় রেখে কাজ করতে হয়। আর অনলাইন কাজের ক্ষেত্রেও এই একই নিয়ম আপনাকে অনুসরণ করতে হবে।

তাই, নিজের পড়াশোনা বা অন্যান্য কাজ গুলোর সাথে সাথে অনলাইন কাজ গুলোতে কিভাবে সময় দিবেন, সেটা ভালো ভাবে ম্যানেজ আপনাকে করতে হবে।

আপনার কমিউনিকেশন স্কিল কেমন?

দেখুন, অনলাইনে কাজ করে অর্থ উপার্জনের প্রতিটি উপায়ের ক্ষেত্রেই যে আপনার ভালো কমিউনিকেশন স্কিল থাকতে হবে, সেটা কখনোই বলা যাবেনা। যেমন, ধরুন কনটেন্ট রাইটিং, গ্রাফিক্স ডিজাইনিং, ব্লগিং, এফিলিয়েট মার্কেটিং, এই ধরণের কাজে কমিউনিকেশন স্কিল এর এতটা প্রয়োজনীয়তা নেই।

তবে হ্যা, ফ্রিল্যান্সিং, ভিডিও কনটেন্ট তৈরি, পডকাস্ট, ডিজিটাল মার্কেটিং, ইত্যাদির মতো কাজ গুলোতে কমিউনিকেশন স্কিল এর বা যোগাযোগের দারুন দক্ষতা থাকতেই হয়। তাই, আপনি কি ধরণের কাজ গুলো করছেন সেটার উপরেই এই বিষয়টা মূলত নির্ভর করছে।

প্রযুক্তিগত দক্ষতা কতটা আছে?

যখন কথা বলা হচ্ছে অনলাইনে কাজ করে মাসে ৩০ হাজার টাকা ইনকাম করার উপায় গুলো নিয়ে, তখন অনলাইন মানেই কিন্তু প্রযুক্তি এবং এই প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে ইনকাম করার জন্য কিছুটা হলেও প্রযুক্তিগত দক্ষতা থাকাটা অবশই জরুরি।

উদাহরণ স্বরূপ: অনলাইনে কাজ করার জন্য আপনাকে ল্যাপটপ/কম্পিউটার ব্যবহার করতে জানতে হবে, ইন্টারনেট কিভাবে ব্যবহার করে, নানান ওয়েবসাইটে গিয়ে একাউন্ট কিভাবে বানাতে হবে, ওয়েবসাইটে নিজের প্রোফাইল সেটআপ করা, ইমেইল পাঠানো, অনলাইনে যোগাযোগের নানান মাধ্যম গুলো ব্যবহার করা ইত্যাদি।

ধরুন আপনি ইউটিউব থেকে অর্থ উপার্জন করতে চাইছেন, এক্ষেত্রে কিভাবে একটি ইউটিউব চ্যানেল তৈরি করতে হবে, ভিডিও কিভাবে বানাতে হবে, ভিডিও আপলোড কিভাবে করবেন, ভিডিওতে SEO করার নিয়ম, ভিডিওর মার্কেটিং, ভিডিওর জন্য থাম্বনেইল তৈরি করা, ইত্যাদি এই সমস্ত বিষয় গুলো জানা থাকতে হবে।

চিন্তা করতে হবেনা, আপনি চাইলে যেকোনো ধরণেরই প্রযুক্তিগত জ্ঞান বা দক্ষতা ইন্টারনেটের মাধ্যমেই অনেক সহজে শিখে নিতে পারবেন।

এই অনলাইন কাজ গুলো করে প্রতি মাসে ৩০ হাজার ইনকাম করা যেতে পারে:

কি কাজ করা যাবে?ইনকামের সম্ভাবনা:
১. অনলাইন কোর্স সেলিং১০,০০০ থেকে ৫০,০০০ হাজার
২. এফিলিয়েট মার্কেটিং করুন৫ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা ইনকাম
৩. ই-কমার্স ব্যবসা করুন৩০ হাজার থেকে ১ লাখ ইনকাম
৪. অনলাইনে পড়াশোনা করানো৫ হাজার থেকে ৩০ হাজার
৫. ব্লগিং করুন১০ হাজার থেকে ১ লক্ষ ইনকাম
৬. ইউটিউব চ্যানেল তৈরি৫ হাজার থেকে ৫০ হাজার
৭. ফ্রিল্যান্সিং করে ইনকাম২,০০০ থেকে ৩০,০০০ টাকা
৮. অ্যাপ তৈরি করে ইনকাম১০,০০০ থেকে ৫০,০০০ টাকা
৯. ফেসবুক পেজ থেকে আয়৫,০০০ থেকে ৩০ হাজার টাকা
১০. কনটেন্ট রাইটিং জব৫,০০০ থেকে ৩০,০০০ টাকা আয়।

চলুন, এবার আমরা উপরে বলে দেওয়া প্রতিটি ইনকামের উপায় গুলোর বিষয়ে বিস্তারিত জেনেনেই।

১. অনলাইন কোর্স সেলিং:

বর্তমান সময়ে, ইন্টারনেট প্রত্যেকেই ব্যবহার করছেন এবং হাতের মুঠোয় থাকা সেই স্মার্টফোন এবং ইন্টারনেটের মাধ্যমে আজ জেকেও যেকোনো ধরণের কৌশল এবং কোর্স গুলো করে ঘরে বসেই নতুন নতুন বিষয়ে শিখে নিতে পারছেন। আর এটাই কারণ যার জন্য অনলাইনে নানান বিষয়ে উপলব্ধ নানান ভিডিও কোর্স গুলোর চাহিদা প্রচুর পরিমানে বেড়েই চলেছে।

এবার, আপনার কাছেও যদি কোনো বিশেষ বিষয়ে প্রচুর জ্ঞান এবং অভিজ্ঞতা আছে, তাহলে আপনিও সেই বিষয়ে একটি হাই কোয়ালিটি ভিডিও কোর্স তৈরি করে অনলাইনে নানান মাধ্যমে কোর্সটি বিক্রি করতে পারবেন। এমনিতে, অনলাইন কোর্স তৈরি ও বিক্রি করে ইনকাম করার বিষয়টি নিয়ে একটি বিস্তারিত আর্টিকেল আমি আগেই লিখেছি।

তৈরি করা আপনার ভিডিও কোর্স গুলো আপনি অনলাইনে নানান মাধ্যমে বিক্রি করতে পারবেন। যেমন, Udemy, Teachable, বা Coursera। আবার চাইলে, SEO, পেইড বিজ্ঞাপন, ফেসবুক মার্কেটিং, ইউটিউব, ইত্যাদি নানান প্লাটফর্ম গুলোর সাহায্য নিয়ে অথবা নিজের একটি কোর্স ওয়েবসাইট তৈরি করে সরাসরি সেখান থেকেও বিক্রি করতে পারবেন নিজের অনলাইন ভিডিও কোর্স গুলো।

২. এফিলিয়েট মার্কেটিং করুন:

এফিলিয়েট মার্কেটিং করে ইনকাম করার প্রক্রিয়াটি ভালো করে বুঝতে এবং শিখতে পারলে এর থেকে আপনি আনলিমিটেড টাকা ইনকাম করে নিতে পারবেন। অনেকেই আছেন যারা শুধুমাত্র পার্ট-টাইম হিসেবে এফিলিয়েট মার্কেটিং কাজ করে দিনে ১০০০ টাকা আরামে আয় করে নিতে পারছেন। তাহলে কি এই এফিলিয়েট মার্কেটিং?

Affiliate marketing হলো অনলাইন মার্কেটিং এর এমন একটি আধুনিক এবং জনপ্রিয় প্রক্রিয়া যেখানে নানান কোম্পানি এবং ব্র্যান্ড গুলো তাদের পণ্য বা পরিষেবা গুলোকে নানান অনলাইন চ্যানেল গুলোর মাধ্যমে প্রচার এবং বিক্রি করানোর সুবিধা দিয়ে থাকে।

উদাহরণ স্বরূপ: ধরুন আপনার একটি ফেসবুক পেজ আছে যেখানে হাজার হাজার ফলোয়ার্স যুক্ত রয়েছে, বা আপনার একটি ব্লগ সাইট ইউটিউবে চ্যানেল আছে যেখানে আপনি ব্লগিং বা ওয়েবসাইট বানানোর বিষয়গুলো নিয়ে কনটেন্ট পাবলিশ করে থাকেন।

এবার, আপনার ইউটিউব চ্যানেলে বা ব্লগে নিয়মিত এমন শ্রোতারা প্রবেশ করেন যাদের আগ্রহ মূলত ওয়েবসাইট, ব্লগ, ওয়েব হোস্টিং, ওয়েবসাইট থিম, ইত্যাদির উপর রয়েছে। এক্ষেত্রে, আপনি চাইলে নিজের ভিডিও বা আর্টিকেল গুলোর মাধ্যমে নানান ওয়েব হোস্টিং কোম্পানি হোস্টিং বা ওয়েবসাইট থিম গুলো প্রচার ও সেগুলো বিক্রি করতে পারবেন।

আর যতবার কোনো ব্যক্তি/ইউজার আপনার দিয়ে দেওয়া এফিলিয়েট লিংক/কোড ব্যবহার করে কোনো ডিজিটাল প্রোডাক্ট, জিনিস বা পরিষেবা অনলাইনে কিনে নিবেন, আপনাকে প্রতি বিক্রির বিপরীতে কিছু টাকা কমিশন হিসেবে দেওয়া হবে। এটাই হলো এফিলিয়েট মার্কেটিং এর মূল কনসেপ্ট

শুধু যে একটি ব্লগ বা ইউটিউব চ্যানেল থাকলেই এফিলিয়েট মার্কেটিং করে ইনকাম করা যাবে সেটা কিন্তু কখনোই বলা যাবেনা। আপনি চাইলে নিজের WhatsApp-এর মধ্যে থাকা group বা contacts-দের মাধ্যমেও ইনকাম করতে পারবেন। এছাড়া, পেইড মার্কেটিং, সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট, ব্লগ গেস্ট পোস্ট, SEO, ইত্যাদি নানান উপায় রয়েছে এফিলিয়েট মার্কেটিং থেকে আয় করার।

৩. ই-কমার্স ব্যবসা শুরু করুন:

বর্তমান সময়ে একটি ই-কমার্স সাইট তৈরি করাটা অনেক সোজা কাজ হয়ে গিয়েছে। YouTube-এর মধ্যে গিয়ে কয়েকটা ভিডিও দেখলেই WordPress দিয়ে অনলাইন শপিং ওয়েবসাইট বানানোর সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া আপনারা জেনেনিতে পারবেন।

এবার, ই-কমার্স বলতে আমরা অনলাইন দোকান বা অনলাইনে কেনাকাটা করার ওয়েবসাইট গুলোকেই মূলত বুঝি। বর্তমান সময়ে আমরা প্রত্যেকেই নিজের ঘরে বসে নানান ই-কমার্স সাইট গুলোর থেকেই কেনাকাটা করে থাকি।

যতটা আমি ভাবি, আসছে সময়ে ই-কমার্স সাইট গুলোর চাহিদা, ব্যবহার এবং লাভ সাংঘাতিক পরিমানে বৃদ্ধি পাবেই। তাই, আপনিও চাইলে নিজের পছন্দমতো product/services গুলোকে নিজের ই-কমার্স ওয়েবসাইটের দ্বারা অনলাইন বিক্রি করতে পারবেন।

৪. অনলাইনে পড়াশোনা করানো:

আমি জানি, টিউশনি করিয়ে মাসে ৩০ হাজার টাকা আয় করাটা খানিকটা কঠিন ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায়। তবে এখানে আমরা অনলাইনে টিউশনি করানোর কথা হচ্ছে। আর যতটা আমি বুঝেছি, অনলাইনে আপনি ৫০ থেকে ১০০ জন ছাত্রদের একসাথে পড়াতে পারবেন।

ভেবে দেখুন তো, ১ ঘন্টায় যদি ২০ জন ছাত্র পড়াতে পারেন তাহলে সারাদিনে কতগুলো বাছা পোড়ানো যাবে। সেই হিসেবে দেখলে, মাসে ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা আরামে আয় করা যেতে পারে।

এছাড়া, অনলাইনে শুধুই যে পড়াশোনা নিয়ে টিউশনি করানো যাবে সেটাও কিন্তু নয়। আপনি চাইলে, গান, ছবি আঁকা, গিটার বাজানো, স্পোকেন ইংলিশ, ইত্যাদি নানান বিষয়ে টিউশনি করাতে পারবেন।

অনলাইনে টিউশনি করিয়ে ইনকাম করার জন্য আপনার কাছে কোনো একটি বা একাধিক বিষয়ে প্রফেশনাল নলেজ থাকার পাশাপাশি একটি ল্যাপটপ/ডেস্কটপ এবং Zoom-এর মতো একটি ভালো ভিডিও চ্যাটিং অ্যাপ থাকতে হবে।

৫. ব্লগিং করে ইনকাম করুন:

আমি নিজেই ব্লগিং এর দ্বারা প্রতিমাসে নিয়মিত ৩০ হাজার থেকে ৪০ হাজার টাকা আয় করছি। এর প্রমান আপনারা আমার YouTube channel বা আমার অন্যান্য ব্লগ আর্টিকেল গুলোতে অবশই পেয়ে যাবেন।

একজন ছাত্র, মহিলা, বা যেকোনো চাকরি বা ব্যবসা করা ব্যক্তি নিজের খালি সময়ে ব্লগিং করতে এবং এর থেকে প্যাসিভ ইনকাম জেনারেট করতে পারবেন। মনে রাখবেন, সঠিক ভাবে করতে জানলে blogging করে আনলিমিটেড টাকা রোজগার করার সুযোগ পাওয়া যায়। তবে এক্ষেত্রে আপনাকে ধর্য্য ধরে নিয়মিয়তা বজায় রেখে রেগুলার কাজ করতে হবে।

শুরুতে, blogger.com-এর মতো free platform গুলোকে কাজে লাগিয়ে আপনি নিজের ব্লগ সাইট বানিয়ে কাজ শুরু করতে পারবেন। ধীরে ধীরে যখন আপনার ব্লগে নিয়মিত ট্রাফিক/ইউজার আসতে শুরু করবে এবং ব্লগ থেকে কিছুটা ইনকাম চালু হবে, তখন আপনি WordPress-এর মতো প্রফেশনাল ব্লগিং প্লাটফর গুলো ব্যবহার করতে পারবেন।

কিভাবে একটি ব্লগ সাইট থেকে টাকা আয় করা যায়, এই বিষয়ে লেখা আমার সম্পূর্ণ বিস্তারিত আর্টিকেলটি পড়লেই এবিষয়ে সবটা ভালোভাবে বুঝে নিতে পারবেন।

৬. ইউটিউব চ্যানেল তৈরি:

বাঁচা বাঁচা ছেলে মেয়েরা নিজের একটি ফ্রি ইউটিউব চ্যানেল তৈরি করে ইউটিউব থেকে প্রতি মাসে লাখ লাখ টাকা রোজগার করছেন। আপনি কি করছেন? এখনো গুগল সার্চ এর মধ্যে মাসে ৩০ হাজার রোজগার করার উপায় গুলো খুঁজছেন?

ঠিক আছে, মানলাম অনেক সময় আপনি নষ্ট করেছেন তবে এখনো দেরি হয়নি। আপনি চাইলে এই মুহূর্তের মধ্যেই নিজের একটি ফ্রি ইউটিউব চ্যানেল তৈরি করে সেখানে ভিডিও বানিয়ে আপলোড করতে পারবেন।

ইউটিউব খুললেই হাজার হাজার নতুন শর্টস ভিডিও এবং লং ভিডিও গুলো আমাদের সামনে চলে আসে। তবে ক্রিয়েটররা নিয়মিত এই পরিমানে ভিডিও বানিয়ে আপলোড করছেন কেন? কোনো লাভ বা ইনকাম না হলে কি কেও কাজ করতো? ভেবে দেখুন।

মনে রাখবেন, যেকোনো অন্য কাজের মতোই অনলাইন কাজে সফলতা পেতে হলে পরিশ্রম, নিয়মিয়ত, এবং স্মার্টওয়ার্ক এর প্রয়োজন। নিয়মিত ১ বছর ধরে চ্যানেলে ভিডিও দিতে থাকা এবং তারপর দেখুন subscribers এবং views কি হিসেবে বাড়বে।

৭. ফ্রিল্যান্সিং করে ইনকাম:

ফ্রিল্যান্সিং করে জেকেও মাসে ৫০০০ থেকে ৫০,০০০ হাজার টাকা আয় করতে পারবেন। তবে, ফ্রিল্যান্সিং শুরু করাটাই খানিকটা চ্যালেন্জিং বিষয় বলে বলা যেতে পারে।

আসলে ফ্রিল্যান্সিং শুরু করার ক্ষেত্রে আপনার মধ্যে একটি বা একাধিক বিষয়ে দারুন দক্ষতা এবং জ্ঞান থাকতে হয়। উদাহরণ স্বরূপ, কেও হয়তো ওয়েবসাইট ডিজাইন করার কাজে দক্ষ, কেও হয়তো কনটেন্ট রাইটিং করতে আবার অনেকেই ওয়েবসার্ভার ম্যানেজ করার কাজ গুলো অনেক ভালো ভাবে করতে জানেন।

ফ্রিল্যান্সিং করে ইনকাম করার ক্ষেত্রে আপনাকে নিজের মধ্যে থাকা এই দক্ষতা এবং কাজের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে অন্যান্য নানান কোম্পানি, ক্লায়েন্ট বা ব্যক্তিদের জন্য কাজ গুলো করে দিতে হয়। এক্ষেত্রে প্রতিটি কাজ সফলতাপূর্বক সম্পূর্ণ করার পর, ক্লায়েন্ট দ্বারা আপনাকে চুক্তিমতো পেমেন্ট পাঠিয়ে দেওয়া হবে।

একজন ফ্রিল্যান্সার হিসেবে কাজ পাওয়াটাও এখন এতটা মুশকিল নয়। কেননা, Fiverr, freelancer.com, upwork, Guru, ইত্যাদির মতো প্রচুর ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেস সাইট গুলো পেয়ে যাবেন যেগুলোতে গিয়ে যেকোনো ধরণের কাজের অভিজ্ঞতা থাকা ব্যক্তিরা নানান ফ্রিল্যান্সিং কাজ গুলো পেতে পারবেন।

৮. অ্যাপ তৈরি করে ইনকাম:

আপনি কি জানেন, আপনি চাইলে নিজের একটি এন্ড্রয়েড অ্যাপ তৈরি করেও মাসে ভালো অংকের টাকা ইনকাম করে নিতে পারবেন? হ্যা, অনলাইনে এই মাধ্যমেও ইনকাম করা যায়।

ইন্টারনেটে এমন নানান android app builder platform গুলো উপলব্ধ রয়েছে যেগুলোতে কোনো ধরণের কোডিং এর জ্ঞান বা কৌশল ছাড়াই শুধুমাত্র ড্র্যাগ এন্ড ড্রপ এর দ্বারা নানান ধরণের মোবাইল অ্যাপস গুলো তৈরি করা যায়।

এই ধরণের অ্যাপ তৈরির ওয়েবসাইট/প্লাটফর্ম গুলোর কিছুটা ফ্রিতেওঁ উপলব্ধ রয়েছে আবার ভালো এবং প্রফেশনাল অ্যাপ বিল্ডার প্লাটফর্ম গুলোতে কিছু টাকা দিয়ে সাবস্ক্রিপশন নিতে লাগতে পারে।

সে যাই হোক, কোনো ধরণের কোডিং ছাড়া নিজের একটি অ্যাপ তৈরি করার পর সেটিকে Google Play Store-এর মধ্যে জমা দিয়ে অন্যান্য অ্যাপস গুলো যেভাবে টাকা ইনকাম করছে ঠিক সেভাবে আপনিও নিজের অ্যাপ থেকে ইনকাম করে নিতে পারবেন।

শুরুতে বিষয়টা খানিকটা চ্যালেঞ্জিং বলে মনে হলেও, ধীরে ধীরে যখন আপনার অ্যাপ এর ডাউনলোড সংখ্যা এবং জনপ্রিয়তা বাড়বে, তখন নানান মাধ্যমে আপনি আপনার অ্যাপ থেকে ইনকাম করতে পারবেন। যেমন, Google AdMob-এর বিজ্ঞাপন দেখিয়ে, In-app-purchase, Subscription, ইত্যাদি।

৯. ফেসবুক পেজ থেকে আয়:

যদি আপনার একটি ফেসবুক পেজ আছে এবং আপনার পেজের সাথে হাজার হাজার ফলোয়ার্সরা যুক্ত রয়েছে, পেজের দ্বারা নিয়মিত নতুন নতুন শ্রোতাদের আকর্ষিত করতে পারছেন, সেক্ষেত্রে ফেসবুক থেকেও অর্থ উপার্জন করার দারুন কৌশল এবং নিয়ম গুলো রয়েছে। যেমন, Facebook Ad Breaks, এফিলিয়েট মার্কেটিং, ডিজিটাল পণ্য বিক্রি, স্পন্সরড পোস্ট, পেইড প্রমোশন, ইত্যাদি।

১০. অনলাইন কনটেন্ট রাইটিং জব:

একজন কনটেন্ট লেখক হিসেবে আপনি নিজের খালি সময়ে নিজের সুবিধামতো যেকোনো জায়গার থেকে কাজ করতে পারবেন। আপনার কাছে শুধুমাত্র নিজের ল্যাপটপ বা একটি স্মার্টফোন থাকলেই কাজ চলে যাবে।

বর্তমান সময়ে অনলাইনে উপলব্ধ নানান blogs, e-commerce website, online marketing agency, গুলো নানান দক্ষ কনটেন্ট রাইটারদের খুঁজে থাকেন। এছাড়া, LinkedIn সহ নানান জনপ্রিয় ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেস গুলোতেও কনটেন্ট রাইটিং রিলেটেড নানান কাজ গুলো আপনি পেয়ে যাবেন।

একজন কনটেন্ট লেখক হিসেবেও আপনি কিন্তু প্রতি মাসে ৩০ হাজার টাকা বা তার থেকেও অধিক আয় করে নিতে পারবেন। প্রতিটি আর্টিকেল লেখার জন্য কত টাকা চার্জ করছেন, PPW (Pay Per Word) কি হিসেবে নিচ্ছেন, এবং প্রতিদিন বা প্রতিমাসে কতটা আর্টিকেল সম্পূর্ণ করছেন, এই বিষয় গুলোর উপর মূলত আপনার ইনকামের পরিমান নির্ভর করে থাকে।

তবে এক্ষেত্রে, আপনাকে একজন দক্ষ এবং প্রফেশনাল কনটেন্ট রাইটার হিসেবে কাজ করতে হবে। চিন্তা করতে হবে, শুরুতে নানান ছোট ছোট ব্লগ এবং ওয়েবসাইট গুলোর জন্য আর্টিকেল লিখে এই ফিল্ডে নিজের অভিজ্ঞতা বাড়িয়ে নিতে পারবেন।

এই অফলাইন উপায় গুলো কাজে লাগিয়েও মাসে ৩০ হাজার উপার্জন করা যেতে পারে:

এখন, আপনি যদি অনলাইনের পাশাপাশি অফলাইন মাধ্যমে মাসে ৩০ হাজার টাকা ইনকাম করার উপায় গুলো জেনেনিতে চান তাহলে চিন্তা করতে হবেনা। নিচে আমি আপনাদের এমন কিছু অফলাইন কাজ গুলির বিষয়ে বলে দিবো যেগুলি দাড়াও প্রতিমাসে ভালো অংকের অর্থ উপার্জন করা যেতে পারে।

১. টিফিন সার্ভিস:

আপনার আশেপাশের এলাকায় কোনো অফিস পাড়া, মেস বা পিজি থাকলে, আপনি নিজের বাড়ি থেকেই একটা টিফিন সার্ভিস শুরু করে  মাসে ৩০ হাজার পর্যন্ত আয় করতেই পারেন। আর, এই ধরণের ব্যবসাতে সেরকম ইনভেস্টমেন্টও লাগে না। তবে হে, আপনার বানানো খাবার জিনিস গুলো কিন্তু সুস্বাধু হতে হবে। এতে, নিয়মিত খাবার অর্ডার পেতে প্রচুর সাহায্য পাবেন।

২. বিউটি পার্লার:

এখনকার দিনে, একটা সাধারণ বিউটিসিয়ান কোর্স করে, নিজের স্কিলের ভিত্তিতে একটা পার্লার তৈরী করাই যায়। তবে, এই ব্যবসা না করতে চাইলে, আপনি Urban Company-এর মতো অনলাইন বুকিং সার্ভিসের সাথে যুক্ত হয়ে, ক্লায়েন্টের বাড়ি গিয়েও পরিষেবা দিতে পারেন।

৩. রেন্টিং বিসনেস:

বাড়িতে খালি ঘর, গ্রাউন্ড ফ্লোর বা গ্যারেজ স্পেস থাকলে, আপনি সেই জায়গাগুলো বিভিন্ন কাজে রেন্টে দিয়েও রোজগার করতে পারবেন। কিংবা, নিজের এলাকার বড় কোনো জায়গা ভাড়া নিয়ে সেটাকে পার্কিং লট বানিয়ে, সেখান থেকেও প্রতি গাড়িতে ঘন্টা প্রতি টাকা রোজগার করতে পারেন।

৪. ডেলিভারি সার্ভিস:

বিভিন্ন ই-কমার্স কোম্পানির ডেলিভারি পার্সন হিসেবে মান্থলি ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত ইনকাম করাই যায়। তবে, এখানে আপনাকে প্রতিটা ডেলিভারি হিসেবে পে করা হয়। তাই, আপনি যত বেশি ডেলিভারি করবেন, ততো বেশি রোজগারও হবে।

৫. কোচিং সেন্টার:

নিজের বাড়িতে কিংবা কোনো জায়গা ভাড়া নিয়ে আপনি নিজের একটা কোচিং সেন্টার খুলে, বিভিন্ন টিউটর নিয়োগ করে সেখান থেকে আয় করতে পারেন। তবে, একের বেশি টিচার ও কোর্স অ্যাড করলেই, তবেই আপনার মাসে ৩০ হাজার পর্যন্ত আয় করা সম্ভব হবে।

৬. ATM-এর জন্যে জায়গা ভাড়া দেওয়া:

আপনার বাড়ির গ্রাউন্ড ফ্লোর যদি কমার্শিয়াল স্পেস হয়, তাহলে আপনার লোকাল যেকোনো ব্যাঙ্ককে আপনি ATM ফ্র্যাঞ্চাইজির জন্যে আবেদন দিতে পারেন। কিন্তু, এক্ষেত্রে আপনাকে নিজের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা ফিক্সড রাখতে হবে। আর, ব্যাঙ্কের দেওয়া NOC ফর্মেও সই করতে হবে।

৭. ফ্র্যাঞ্চাইজি বিজনেস:

ATM ফ্র্যাঞ্চাইজির বদলে, আপনি ফুড কোম্পানি কিংবা অন্যান্য নানা কোম্পানির ফ্র্যাঞ্চাইজিও নিতে পারেন। এখানে আপনার একটা কমার্শিয়াল স্পেস, বিসনেস লেয়াউট এবং কোম্পানির তরফ থেকে NOC পেতে লাগবে।

৮. ক্যাফে/রেস্তোরাঁ/ক্লাউড কিচেন:

নিজস্ব বাড়িকে কমার্শিয়াল স্পেসে কনভার্ট করে নিয়ে, কোনো ভালো ক্যাফে, রেস্তোরা কিংবা ক্লাউড কিচেন বানিয়েও মাসে ৩০ হাজারেরও বেশি আয় করা সম্ভব।

৯. গ্রোসারি/চায়ের দোকান:

সবথেকে কম খরচে বেশি মুনাফা করার জায়গা হল চা বা গ্রোসারির দোকান। একটা ছোট সেটআপে, খুব কম টাকা খরচ করলেই, এই ধরণের ব্যবসা থেকে অনেক টাকা রোজগার করা যাবে।

অবশই পড়ুন: অনলাইনে ছবি বিক্রি করে টাকা আয় করুন

FAQ: মাসে ৩০ হাজার আয়:

প্রশ্ন: মান্থলি ৩০,০০০ টাকা ইনকাম করাটা কি সহজ?

এটা কোনো ভাবেও একটি সহজ কাজ কখনোই নয়। তবে এই পরিমানের ইনকাম করাটা অসম্ভব বলেও বলা যেতে পারেনা। বিশ্বজুড়ে হাজার হাজার লোকেরা নিয়মিত কাজ করে অনেক সহজেই হাজার হাজার টাকা রোজগার করছেন। তবে এর জন্যে প্রয়োজন একটি সঠিক পরিকল্পনা, প্লাটফর্ম, এবং কৌশল এর। Blogging, affiliate marketing, online course বিক্রি, ইত্যাদি এই ধরণের অনলাইন কাজ গুলির মাধ্যমে মাসে ৩০ থেকে ৪০ হাজার আয় করাটা সহজ ও সুবিধাজনক হয়ে দাঁড়িয়েছে।

প্রশ্ন: অনলাইনে সত্যি টাকা ইনকাম করা যায়?

অবশই যাবে, আমি নিজেই ব্লগিং করে গত ৪ থেকে ৫ বছর ধরে নিয়মিত অনলাইনে টাকা ইনকাম করে চলেছি। তবে এক্ষেত্রে আপনি অনলাইনে কোন কাজটি করছেন, সেটা কিন্তু একটি অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

প্রশ্ন: অনলাইনে কাজ করে ইনকাম করার সুবিধা কি?

যদি আপনি টাকা বিনিয়োগ না করে প্রতি মাসে অন্তত ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা করে নিয়মিত ইনকাম করতে চান, তাহলে আমি আপনাকে অনলাইন কাজ গুলি করার উপদেশ দিবো। কেননা, এমন প্রচুর অনলাইন ইনকামের রাস্তা বা প্লাটফর গুলি রয়েছে যেগুলি শুরু করার জন্য বিশেষ কোনো বিনিয়োগের প্রয়োজন হয়না।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error:
Scroll to Top