ব্লগিং করে কত টাকা আয় করা যায়? আমি কত ইনকাম করেছি?

Last updated on June 13th, 2024 at 01:18 pm

ব্লগিং করে কত টাকা আয় করা যায়? একটি ব্লগ থেকে প্রতি মাসে কি ধরণের আয় হয়? এই প্রশ্নের উত্তর আলাদা আলাদা ব্লগ, পরিস্থিতির বা উপাদান গুলির উপর নির্ভর করে আলাদা আলাদা হতে পারে। কেননা, এমন অনেকেই আছেন যারা ব্লগিং করে প্রতি মাসে ৫০ হাজার থেকে ১ লক্ষ বা তার থেকেও অধিক টাকা আয় করছেন আবার অনেকেই আছেন যাদের ৫০০০ টাকা ও ইনকাম হচ্ছেনা।

বর্তমান সময়ে বেশিরভাগ লোকেরাই ফুল-টাইম চাকরি করার তুলনায় ঘরে বসে নিজের পছন্দের সময় মতো অনলাইনে কাজ করে টাকা ইনকাম করতে অধিক আগ্রহী।

এছাড়া, ছাত্রছাত্রীরা বা মহিলারা নিজের পড়াশোনা এবং কাজ-কর্ম গুলি করার পাশাপাশি নিজের এক্সট্রা সময়কে কাজে লাগিয়ে অনলাইনে পার্ট-টাইম ইনকাম করার নানান উপায় গুলি খোঁজেন।

এক্ষেত্রে, ইন্টারনেট থেকে ইনকাম করার যেই বিশ্বস্ত, কার্যকর এবং সুবিধাজনক অনলাইন কাজ বা উপায়টি প্রত্যেকের নজর আকর্ষণ করে সেটি হলো, “Blogging”।

Blogging করে বিশ্বজুড়ে লক্ষ লক্ষ লোকেরা নিজের ঘরে বসে কেবল ইন্টারনেট এবং কম্পিউটারের দ্বারা খুব কমেও, আরামে দৈনিক ৪০০-৫০০ টাকা ইনকাম করে নিতে পারছেন। তবে এটা একেবারে মিনিমাম ইনকামটি আমি বললাম।

Blogger-রা চাইলে শুধুমাত্র একটি ব্লগ থেকেই প্রতিমহসে লক্ষ টাকাও আরামে ইনকাম করতে পারেন। আপনি ইন্টারনেটে খানিকটা সার্চ করে দেখলেই বিষয়টা ভালো ভাবে বুঝতে পারবেন।

এমনিতে, সঠিক ভাবে কাজ করলে যে ব্লগিং করে প্রচুর টাকা ইনকাম করা যায়, এই বিষয়টি বর্তমানে প্রায় প্রত্যেকেই জানেন। আর তাই, বর্তমান সময়ে বেশিরভাগ লোকেরা নিজের খালি সময়কে কাজে লাগিয়ে অনলাইনে টাকা আয় করার ক্ষেত্রে Blogging-কেই বেছে নিচ্ছেন।

তবে ব্লগিং শুরু করার আগে, প্রায় প্রত্যেকেরই মনে একটি প্রশ্ন অবশই চলে আসে, আর সেটি হলো, ব্লগ থেকে কত টাকা আয় করা যায় বা ব্লগিং করে মাসে কত টাকা ইনকাম হবে?

আর আপনার মনের মধ্যে থাকা এই প্রশ্নের উত্তর দিতেই আজকের এই আর্টিকেলটি লেখা হয়েছে।

আমি নিজে একজন ফুল-টাইম ব্লগার এবং প্রায় ৭ থেকে ৮ বছর থেকে ব্লগিং করছি। এছাড়া, আমার সম্পূর্ণ মাসের ইনকাম আমি শুধুমাত্র আমার ব্লগ গুলির থেকে করে থাকি।

অবশই পড়ুন: মাসে ৩০ হাজার টাকা আয় করুন: অনলাইন/অফলাইন

ব্লগিং কি – What is Blogging in Bengali

যখন আপনি নিজের ব্লগ সাইট তৈরি করে সেটিকে ম্যানেজ করা, ব্লগে কনটেন্ট পাবলিশ করা, এডিট, কমেন্ট করা, রিপ্লাই দেওয়া, পোস্ট আপডেট, SEO করা, ইত্যাদি এই ধরণের নানান কাজ গুলি করে থাকেন, তখন এই সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া গুলিকে এক সাথে ব্লগিং করা বলা হয়।

এবার, যখন আপনি ব্লগ তৈরি করার থেকে শুরু করে, ব্লগে ট্রাফিক নিয়ে আসা এবং সেই ট্রাফিক গুলিকে মনেটাইজ করে নানান মাধ্যমে ব্লগ থেকে ইনকাম করে থাকেন, তখন এই প্রক্রিয়াটিকে প্রফেশনাল ব্লগিং বলেও বলা যেতে পারে।

একটি ব্লগ সাইট যেকোনো অন্য ডিজিটাল পণ্যের মতোই এক ধরণের পণ্য বলে ধরা যেতে পারে। আর এখানে যেকোনো ধরণের কাজ করাকেই ব্লগিং করা বলা যেতে পারে।

তাই বর্তমান সময়ে, হাজার হাজার লোকেরা নিজের একটি ব্লগ সাইট তৈরি করে ব্লগিংই করছেন এবং প্রতিমাসে লক্ষ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ইনকাম করে নিতে পারছেন।

তবে নতুন ব্লগারদের মধ্যে ব্লগিং ইনকাম নিয়ে নানান প্রশ্নগুলি থেকে থাকে।

যেমন, একটি ব্লগ থেকে আমরা কত টাকা আয় করতে পারব? ব্লগ থেকে কি সত্যি অর্থ উপার্জন করা যায়? ব্লগ থেকে টাকা ইনকাম করার সেরা উপায় গুলি কি কি ? এবং আরো।

চিন্তা করতে হবেনা, আজকের এই আর্টিকেলের মধ্যে, ব্লগিং ইনকাম রিলেটেড আপনার প্রত্যেকটি প্রশ্নের উত্তর পেয়ে যাবেন।

অবশই পড়ুন: ছাএ ছাএীদের জন্য অনলাইনে ইনকাম করার ৯টি উপায়

বর্তমানে ব্লগিং করে কত টাকা আয় করা যায়? সোজা উত্তর

ব্লগিং করে কত টাকা আয় করা যায়
How Much You Can Earn From Blogging?

আপনি আপনার ব্লগ থেকে কত টাকা উপার্জন করতে পারবেন, বিষয়টা কিন্তু কেবল একটি বা দুটি উপাদানের উপর নির্ভর করেনা।

  • আপনার ব্লগে কতটা ট্রাফিক আছে,
  • কোন দেশ থেকে ট্রাফিক আসছে,
  • কি উপায়ে ইনকাম করছেন,
  • ব্লগের বিষয় এবং কনটেন্ট,

উপরে বলে দেওয়া এই ধরণের বিষয় গুলির উপর নির্ভর করেই একটি ব্লগ সাইট থেকে কম বেশি ইনকাম হয়ে থাকে। এমনিতে এই বিষয় গুলি নিয়ে আমরা নিচে অবশই আলোচনা করবো।

চলুন, এখন সরাসরি একটি সাধারণ ধারণা নিয়ে নেওয়া যাক যে একটি ব্লগ সাইট থেকে আমরা মোটামোটি কত টাকা ইনকাম করতে পারবো।

ইনকাম করার উপায়:কিভাবে/কত টাকা আয় হয়:
Google AdSense বিজ্ঞাপন দেখিয়ে,বিজ্ঞাপন ক্লিক দ্বারা, ১০০০ পেজভিউতে ২ থেকে ৫ ডলার
Affiliate marketing করে ইনকাম,১০০০ পেজভিউতে ৫ থেকে ১০ ডলার, কমিশন ইনকাম
স্পন্সরড পোস্ট লিখে ইনকাম,ব্লগে যত বেশি ট্রাফিক টোটো ইনকাম, ৩০ হাজার ট্রাফিকে ১০০-২০০ ডলার
URL Shortener করে টাকা আয়,URL লিংক গুলিতে ক্লিক করিয়ে প্রতি হাজার ক্লিকে ১ থেকে ৫ ডলার
ব্লগের ব্যাকলিংক বিক্রি করে,প্রতিটি ব্যাকলিংক এর জন্য ৫ থেকে ৫০ ডলার নিতে পারেন।
নিজের পেইড কোর্স বিক্রি করে ইনকাম,প্রতিটি কোর্স বিক্রি করে ৫০ থেকে ১০০ ডলার, অধিক ট্রাফিকে অধিক ইনকাম
ব্লগ বিক্রি করে আয় করুন,হাই ট্রাফিক থাকা ব্লগ আরামে ৫০০ থেকে ১০০০ ডলারে বিক্রি করা যায়।

আমার হিসেবে একটি ব্লগ থেকে আমরা উপরে বলে দেওয়া এই উপায় গুলির থেকে টাকা আয় করতে পারি।

তবে মনে রাখা দরকার যে, একটি ব্লগ থেকে অধিক পরিমানে অর্থ উপার্জন করার ক্ষেত্রে সেই ব্লগে প্রচুর পরিমানে ট্রাফিক থাকতে হয়। যদি বেশি ট্রাফিক থাকবে ততটাই অধিক সুযোগ পাবেন টাকা ইনকামের।

এমনিতে, একটি ব্লগ থেকে ইনকামের সবচেয়ে জনপ্রিয়, সুবিধাজনক এবং লাভজনক উপায়টি হলো, “গুগল এডসেন্স বিজ্ঞাপন”। এক্ষেত্রে আপনাকে নিজের ব্লগে কিছু ডিসপ্লে বিজ্ঞাপন দেখাতে হয়।

এবার, প্রতিবার যখনই ব্লগে চলে আসা ইউজাররা সেই বিজ্ঞাপন গুলি দেখেন এবং সেগুলিতে ক্লিক করেন, আপনি ছোট ছোট অংশে ডলার/টাকা ইনকাম করতে থাকেন।

আর এভাবেই, যখন আপনার ব্লগে প্রতিদিন হাজার হাজার লোকেরা/ট্রাফিক প্রবেশ করবেন আপনার আর্টিকেল পড়বেন, তখন অধিক লোকেরা আপনার ব্লগে থাকা বিজ্ঞাপন গুলি দেখবেন এবং ক্লিক করবেন এবং এভাবে আপনিও প্রতিদিন অধিক টাকা ইনকাম করতে শুরু করবেন।

এমনিতে, যদি আপনার ব্লগে নিয়মিত/প্রতিদিন ২০০০ থেকে ৩০০০ ইউনিক ভিসিটর আসছে, সেক্ষেত্রে গুগল এডসেন্স বিজ্ঞাপন দেখিয়ে নিজের ব্লগ থেকে প্রতিদিন ১৫ থেকে ২০ ডলার আরামে ইনকাম করতে পারবেন।

রিলেটেড: তাড়াতাড়ি ইনকাম করার জন্য ১১ টি জনপ্রিয় ব্লগিং টপিক

আমি আমার বাংলা ব্লগ থেকে কত টাকা আয় করছি? (Blogging Income Proof)

আমি গত ৭ থেকে ৮ থেকেই ব্লগিং করছি এবং এখানে কত টাকা আয় করার যাবে এবং আয়ের সেরা উপায়টি কি, এই সব বিষয়ে আমি অনেক ভালো করেই জানি।

তাহলে আমি আমার ব্লগ থেকে কত টাকা ইনকাম করছি?

আমার ব্লগিং থেকে হওয়া ইনকাম প্রমান।
  • আমি মূলত বাংলা ভাষায় ব্লগিং করি।
  • আমার ব্লগের মূল বিষয় গুলি হলো, প্রযুক্তি এবং ইন্টারনেট।
  • প্রতিদিন আমার ব্লগে ৩০০০ থেকে ৩৫০০ এর মধ্যে ইউনিক ভিসিটর্স আসেন।
  • ব্লগের বেশিরভাগ ভিসিটর্স অর্গানিক সার্চের মাধ্যমে আসেন।
  • ব্লগ থেকে ইনকাম করার জন্য শুধুমাত্র Google AdSense বিজ্ঞাপন ব্যবহার করি।
  • ৩০০০-৩৫০০ ভিসিটর্স এর জন্য আমি প্রতিদিন ১৫-২০ ডলার ইনকাম করি। (১২০০ থেকে ১৫০০ টাকা প্রতিদিন)
  • বিজ্ঞাপন গুলিতে ১০% CTR সহ ০.৭-০.৮ এর CPC পেয়ে থাকি।

তাহলে আশা করছি, এখন আপনারা অনেক ভালো ভাবেই বুঝতে পেরেছেন যে একটি বাংলা ব্লগ থেকে কত ভিসিটরে কত টাকা ইনকাম করা যায়।

ব্লগিং করে টাকা ইনকাম

তবে এডসেন্স বিজ্ঞাপন দেখিয়ে একটি ব্লগ থেকে হওয়া ইনকামের পরিমান সময়ে সময়ে কম বেশি হতেই পারে। এক্ষেত্রে ইনকামের পরিমান CPC, CPM এবং CTR-এর মতো নানান উপাদান গুলির উপর নির্ভর করে।

উপরে ২০২৩ সালের মে মাসে হওয়া আমার ইনকাম রিপোর্টটি দেখুন। প্রতিদিন সেই একই ট্রাফিক এবং ইম্প্রেশন সংখ্যা থাকা সত্ত্বেও ব্লগ থেকে হওয়া আমার ইনকাম এর পরিমান কম বেশি হওয়া দেখা যাচ্ছে।

মনে রাখবেন, আমি উপরে আগেই বলেছি যে একটি ব্লগ থেকে কত টাকা আয় করা যাবে সেটা সম্পূর্ণ ভাবে শুধুমাত্র একটি বা দুটি বিষয়ের উপর নির্ভর করেনা।

নানান উপাদান গুলি রয়েছে যেগুলির উপরে ভিত্তি করে একটি ব্লগে বিজ্ঞাপন দেখিয়ে হওয়া ইনকামের পরিমান নির্ভর করে। তাহলে কি এই উপাদান বা কারণ গুলি? চলুন জেনেনেই।

অবশই পড়ুন: মাসে ৫০ হাজার টাকা আয় করার উপায়

ব্লগিং এর ইনকাম কে প্রভাবিত করা নানান উপাদান গুলি কি?

আপনি একটি ব্লগ থেকে কি পরিমানে টাকা আয় করতে পারবেন সেটা নানান কারণ বা ফ্যাকটর গুলির উপর নির্ভর করে। নিচে আমি সেই প্রত্যেকটি ফ্যাকটর বা কারণ গুলি বলে দিয়েছি।

ব্লগ ট্রাফিক (Blog Traffic):

বর্তমান সময়ে ব্লগিং করে আপনি কত টাকা আয় করতে পারবেন? বিষয়টা কিন্তু সব থেকে অধিক এটার উপরেই নির্ভর করে থাকে যে আপনার ব্লগে প্রতিদিন কি পরিমানে ভিসিটর্স আসে বা প্রবেশ করে।

ব্লগে প্রবেশ করা ভিসিটর্সদের আমরা ট্রাফিক বলেও বলে থাকি।

যখন আপনি একটি ব্লগ তৈরি করে সেখানে নানান তথ্য এবং নিজের অভিজ্ঞতা গুলি কন্টেন্টের মাধ্যমে শেয়ার করেন, তখন ইন্টারনেট এবং সার্চ ইঞ্জিনের মাধ্যমে যেই ব্যক্তিরা আপনার শেয়ার করা কনটেন্ট গুলি পড়তে আসেন, তাদেরকেই বলা হয় ভিসিটর্স বা ট্রাফিক।

সোজা ভাবে বললে, আপনার ব্লগে যত অধিক পরিমানে ভিসিটর্স আসবে ততটাই অধিক ইনকাম আপনার হবে।

ব্লগের বিষয় (Blog Niche):

আপনার ব্লগের বিষয়টি (niche), ব্লগ থেকে হওয়া ইনকামের পরিমানটিকে সব থেকে অধিক পরিমানে প্রভাবিত করে থাকে।

একটি ব্লগ এর নিশ (niche), সেই ব্লগের মূল বিষয়টি বা টপিক হয়ে থাকে যার সাথে রিলেটেড ছোট-বড় নানান টপিক গুলি নিয়ে আমরা আর্টিকেল লিখে ব্লগে পাবলিশ করে থাকি।

Google AdSense-এর বিজ্ঞাপন গুলি আলাদা বিষয়ে তৈরি করা ব্লগ গুলিতে আলাদা আলাদা পরিমানের CPC (cost per click) দিয়ে থাকে।

CPC মানে হলো, দেখানো বিজ্ঞাপন গুলিতে হওয়া প্রতিটি click এর জন্য আপনাকে কত টাকা দেওয়া হয়েছে।

যদি আপনি, স্টেটাস, কবিতা, গল্প, বিনোদন, নিউজ, ইত্যাদি এই ধরণের বিষয় গুলি নিয়ে ব্লগ তৈরি করেন এবং এই ধরণের বিষয়ে কনটেন্ট লিখে পাবলিশ করেন, এক্ষেত্রে গুগল এডসেন্স আপনাকে $০.০১ থেকে সর্বোচ্চ প্রায় $০.০৩ পর্যন্ত CPC দিবে।

এতে, এই ধরণের বিষয় নিয়ে তৈরি করা ব্লগ থেকে অধিক ইনকাম করতে হলে প্রচুর ভিসিটর্স/ট্রাফিক এর প্রয়োজন হবে।

কিন্তু, যদি আপনি ফিনান্স, অনলাইন ইনকাম, প্রযুক্তি, লোন, ব্যাংকিং, গেমিং, ক্রিপ্টো, ইত্যাদি এই ধরণের বিষয় নিয়ে ব্লগ তৈরি করেন ও আর্টিকেল লিখে থাকেন, সেক্ষেত্রে গুগল এডসেন্স থেকে কমেও $০.১০ থেকে সর্বোচ্চ প্রায় $০.২০ বা এর থেকেও অধিক CPC পেতে পারবেন।

এতে, এই ধরণের বিষয় নিয়ে তৈরি করা ব্লগ থেকে অনেক কম ট্রাফিক/ভিসিটর্স দিয়েও অধিক পরিমানে ইনকাম করা যায়।

রিলেটেড: অনলাইনে কাজ করে প্রতিদিন 200 টাকা ইনকাম

ব্লগের ভাষা (Blog language):

ব্লগ থেকে টাকা আয় করার ক্ষেত্রে একটি ব্লগ কোন ভাষায় তৈরি করা হয়েছে, সেটিও কিন্তু প্রচুর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে।

যদি আপনি, মূলত গুগল এডসেন্স বিজ্ঞাপন দেখিয়ে ব্লগ থেকে ইনকাম করছেন, সেক্ষেত্রে একটি ইংলিশ ভাষায় তৈরি ব্লগের তুলনায় হিন্দি বা বাংলা ভাষায় তৈরি ব্লগ থেকে কম ইনকাম হয়। এর কারণ হলো, লো CPC রেট।

ইংরেজি ব্লগে অনেক হাই CPC রেট পাওয়া যায়, যেখানে হিন্দি এবং বাংলা ব্লগ গুলিতে তুলনামূলক ভাবে অনেক কম CPC পাওয়া যায়।

যতটা আমি পেয়েছি, একটি বাংলা ব্লগে প্রায় $0.04 থেকে সর্বোচ্চ $0.13 CPC পাওয়া যায়। তবে একটি ইংরেজি ব্লগের ক্ষেত্রে CPC অনেক বেশি পাওয়া যায়।

ধরুন, আপনার বাংলা ব্লগে প্রতিদিন ১০০০ ভিসিটর্স আসছেন এবং ব্লগে থাকা বিজ্ঞাপন গুলিতে টোটাল ৪০টি ক্লিক হচ্ছে।

এক্ষেত্রে, যদি আপনি প্রতি ক্লিক এর জন্য $0.07 করে CPC পেয়ে থাকেন, তাহলে ১০০০ ভিউতে আপনি প্রতিদিন নিজের ব্লগ থেকে ইনকাম করবেন, 40*$0.07=$2.8 (প্রায় ২০০থেকে ২৫০ টাকা)।

এবার ধরুন আপনি ইংরেজি ভাষাতে ব্লগিং করছেন, প্রতিদিন ১০০০-টি ভিসিটর আপনার ব্লগে আসছে, এক্ষেত্রেও ধরে নিন ১০০০ ভিউ এর জন্য প্রতিদিন ৪০টি করে ক্লিক ব্লগের বিজ্ঞাপন গুলিতে হচ্ছে।

এবার, প্রতিটি বিজ্ঞাপন ক্লিক এর জন্য যদি আপনি $0.20 এর CPC পাচ্ছেন তাহলে এক্ষেত্রে ১০০০ ভিউ এর জন্যে আপনার ব্লগ থেকে প্রতিদিন ইনকাম হবে, 40*$0.20=$8 (প্রায় ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা)

কি? দেখলেন তো, সামান্য CPC পরিমান কমলে ও বাড়লে আপনার ইনকাম কতটা কমতে ও বাড়তে পারে। আর এটাই কারণ যার জন্য, বেশিরভাগ লোকেরা হিন্দি মা বাংলা ভাষার বিপরীতে ইংরেজি ভাষায় ব্লগ তৈরি করে থাকেন।

ট্রাফিক কান্ট্রি (Traffic country):

ব্লগিং থেকে হওয়া ইনকামের ক্ষেত্রে আরেকটি অনেক গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর হলো, “আপনার ব্লগে কোন দেশ থেকে ট্রাফিক আসছে”।

মনে রাখা দরকার যে, যদি আপনার ব্লগে Tier 1 country গুলির থেকে ট্রাফিক এসে থাকে, সেক্ষেত্রে ব্লগে অনেক কম ট্রাফিক আসলেও বিজ্ঞাপন থেকে প্রচুর টাকা আয় করা সম্ভব।

এর কারণ হলো, Google AdSense এবং অন্যান্য advertisement company গুলি tier 1 দেশ গুলির থেকে চলে আসা ট্রাফিক এর জন্য অনেক হাই CPC এবং CPM দিয়ে থাকে। অনেক সময় আবার $1-$5 এর CPC পাওয়ার সুযোগ দেখা গেছে।

এই হাই পেয়িং Tier ১ দেশ গুলির মধ্যে কিছু হলো, USA, Australia, United Kingdom, এবং আরো আছে।

এভাবেই, Tier 2 দেশ গুলির থেকে চলে আসা ট্রাফিক/ভিসিটর্স এর জন্য Tier 1 country-র তুলনায় কম CPC এবং CPM পাওয়া যায়।

ঠিক সেভাবেই, যদি আপনার ব্লগে Tier 3 countries থেকে ট্রাফিক আসে, তাহলে আপনি সব থেকে কম CPC এবং CPM পাবেন। Tier 3 দেশ গুলির মধ্যে কিছু হলো, Shi Lanka, India, Uganda, এবং আরো আছে।

তাই, যদি আপনি Tier 3 দেশ গুলিকে টার্গেট করে ব্লগিং করে থাকেন, তাহলে আপনার ব্লগ থেকে ভালো মানের টাকা আয় করার ক্ষেত্রে ব্লগে প্রচুর ট্রাফিক/ভিসিটর্সদের প্রয়োজন হবে।

সেভাবেই, যদি আপনি USA এবং UK র মতো Tier 3 Countries গুলিকে টার্গেট করে ব্লগিং করছেন, সেক্ষেত্রে শুধুমাত্র ১০০০-২০০০ ভিউজ দিয়েও অনেক টাকা ইনকাম করা যাবে।

ট্রাফিক এর উৎস (traffic source):

আপনার ব্লগে কোন কোন উৎস বা মাধ্যমে ট্রাফিক আসছে, সেটাও কিন্তু ব্লগিং ইনকামের ক্ষেত্রে একটি অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় গুলির মধ্যে একটি। এমনিতে, একটি ব্লগে নানান উৎস গুলির থেকে ট্রাফিক আসতে পারে।

যেমন ধরুন, অর্গানিক সার্চ ইঞ্জিন ট্রাফিক, ডাইরেক্ট ট্রাফিক, সোশ্যাল মিডিয়া ট্রাফিক, পেইড বিজ্ঞাপন দ্বারা ট্রাফিক এবং আরো নানান ট্রাফিক সোর্স রয়েছে।

এক্ষেত্রে মনে রাখতে হবে যে, গুগল এর মতো সার্চ ইংলিন গুলির থেকে চলে আসা অর্গানিক ট্রাফিক থেকে সর্বাধিক পরিমানে ইনকাম করা যায়।

অন্যান্য ট্রাফিক সোর্স গুলির থেকেও ইনকাম হবে যদিও, সার্চ ইঞ্জিন ট্রাফিক এর তুলনায় অনেক কম CPC, CTR এবং CPM পাওয়া যাবে।

একটি ব্লগ থেকে কত টাকা পাওয়া যাবে?

যদি আপনি আমাদের এই আর্টিকেলটি সম্পূর্ণ ভালো করে পড়েছেন, তাহলে এখন আপনি হয়তো অনেক ভালো করেই বুঝে গিয়েছেন যে একটি ব্লগ থেকে সাধারণত কত টাকা ইনকাম করা যেতে পারে এবং ব্লগিং থেকে হওয়া ইনকাম কোন কোন বিষয় গুলির উপর নির্ভর করে।

দেখুন, আমি যতটুকু জানি, এমন অনেক ব্লগার আছেন যারা ঘরে বসে ব্লগিং করে প্রতিদিন ৩০০ থেকে ৭০০ ডলার আরামে ইনকাম করে নিচ্ছেন।

সেভাবেই আবার এমন অনেক ব্লগার আছেন যারা ব্লগিং করে অনেক কষ্টে শুধু মাত্র ৫০ থেকে ১০০ ডলার ইনকাম করতে পারছেন। অনেকেই আবার তাদের ব্লগ থেকে প্রথম ১০০ ডলার ইনকাম করার অপেক্ষায় রয়েছেন।

এমনিতে, ব্লগিং করে টাকা ইনকাম করাটা তেমন একটা সোজা ব্যাপার না, তবে চেষ্টা করলে কিন্তু ইনকাম সম্ভব।

ব্লগিং, অনেকের জীবন পাল্টে দিয়েছে এবং আমিও এমনই একজন ব্যক্তি যে ব্লগিং করে নিজের জীবনটিকে পাল্টানোর সুযোগ পেয়েছি।

এখন আমরা আমাদের আর্টিকেলের একেবারে শেষ ভাবে চলে এসেছি, আর তাই, আমি আপনাদের আরেকবার একটি সোজা উদাহরণ সহ বুঝিয়ে বলতে চাই যে, আসলে একটি ব্লগ থেকে কত টাকা আয় করা যাবে।

ধরুন আপনি বাংলা ভাষাতে ব্লগিং শুরু করলেন এবং আপনার ব্লগে প্রতিদিন ১০০০ ইউনিক ভিসিটর্স আসছে। এবং, ব্লগ থেকে ইনকাম করার জন্য আপনি নিজের ব্লগে গুগল এডসেন্স বিজ্ঞাপন প্লেস করেছেন।

এখন, ১০০০ ইউনিক ভিসিটর্স এর জন্য আপনার এডসেন্স একাউন্টে প্রায় ১৫০০ থেকে ১৮০০ মতো পেজভিউ হবে। যদি আপনার CTR প্রায় 4% মতো ধরা হয়, সেক্ষেত্রে ১৮০০ পেজভিউ এর জন্যে প্রায় ৭২ বিজ্ঞাপন ক্লিক আসবে।

সাধারণত, বাংলা ভাষায় লেখা ব্লগ গুলিতে গুগল এডসেন্স থেকে $0.06-$0.07 এর CPC পাওয়া যায়।

তাহলে এই হিসাবে আপনি প্রতিদিন নিজের ব্লগ থেকে প্রায় ৫ ডলার ইনকাম করতে পারছেন। এক্ষেত্রে মাসে প্রায়, ১৫০ থেকে ২০০ ডলার ইনকাম হবে।

২০০ ডলার যদি ভারতীয় তাকে কনভার্ট করা হয় তাহলে হচ্ছে, ১৬,৬০০ হাজার টাকা। আর যদি ২০০ ডলার কে বাংলাদেশী টাকায় কনভার্ট করা হয়, তাহলে হচ্ছে প্রায় ২১,০০০ টাকা।

এভাবেই, আপনার ব্লগে ট্রাফিক বা ভিসিটর্স সংখ্যা যত অধিক বাড়তে থাকবে ততটাই ব্লগ থেকে ইনকামও বাড়বে।

FAQ’s On How Much Money You Can Earn From Blogging

১. Blogger-রা কি কি উপায়ে টাকা ইনকাম করেন?

একজন ব্লগার হিসেবে আপনি নানান মাধ্যমে নিজের ব্লগ থেকে ইনকাম করতে পারবেন। যেমন, ব্লগে বিজ্ঞাপন দেখিয়ে, এফিলিয়েট মার্কেটিং, স্পন্সরড কনটেন্ট, পেইড গেস্ট পোস্ট, মেম্বারশিপ, ডিজিটাল কনটেন্ট বিক্রি করে, ইত্যাদি।

২. ব্লগিং করে আপনি মাসে কত টাকা উপার্জন করতে পারবেন?

ব্লগ থেকে আপনি প্রতি মাসে কত টাকা উপার্জন করতে পারবেন সেটা আলাদা আলাদা বিষয় গুলির উপর নির্ভর করবে। যেমন, আপনার ব্লগের বিষয় (niche), ব্লগে কত ট্রাফিক আছে, কি হিসেবে এবং কতটা কাজ করছেন, এবং ইনকামের কোন উপায় গুলিকে কাজে লাগিয়েছেন।

৩. একটি ব্লগ থেকে আয় করার জন্য কতটা ট্রাফিক লাগবে?

ব্লগিং থেকে অর্থ উপার্জন করার জন্য কোন নির্দিষ্ট পরিমাণ ট্রাফিকের প্রয়োজন হয়না। এমন অনেক ব্লগাররা আছেন যারা শুধুমাত্র কিছু সংখ্যক টার্গেটেড ট্রাফিক এর সাহায্যে হাজার হাজার ডলার ইনকাম করে নিচ্ছেন। আবার, অনেক ব্লগার এমনও আছেন যারা নিজের ব্লগে প্রচুর ট্রাফিক নিয়ে আসতে পারলেও, ভালো পরিমান ইনকাম তারা করতে পারছেননা।

৪. একটি ব্লগ থেকে ইনকাম হতে কত সময় লাগে?

এই প্রশ্নের উত্তর আলাদা আলাদা ব্লগ এর ক্ষেত্রে আলাদা আলাদা হতে পারে। কিছু কিছু ব্লগ থেকে অনেক সময় শুধুমাত্র ২ থেকে ৩ মাস কাজ করার পর থেকেই ইনকাম শুরু হয়ে যায়। আবার অনেক ব্লগ এর ক্ষেত্রে ইনকাম হতে হতে ১ থেকে ১.৫ বছরের সময় লাগতে পারে। এটা মূলত, আপনার ব্লগের বিষয় (niche), কনটেন্ট কোয়ালিটি, নিয়মিত কাজের পরিমান, ইনকামের উপায়, ইত্যাদি নানান কারণের উপর নির্ভর করছে।

উপসংহার:

তাহলে বন্ধুরা, এখন হয়তো ব্লগ থেকে ইনকাম করা নিয়ে আপনার মাথায় থাকা নানান প্রশ্নের উত্তর আপনারা পেয়ে গিয়েছেন।

এখন আপনারা অবশই বুঝতে পেরেছেন হয়তো যে, একটি ব্লগ বানিয়ে কত টাকা আয় করা যাবে এবং টাকা ইনকামের মূল উপাদান গুলি কি কি।

আশা করছি আমাদের আজকের আর্টিকেলটি আপনাদের ভালো লেগেছে এবং কিছুটা হলেও কাজে লাগবে। বর্তমান সময়ে ব্লগিং হলো একটি প্রফেশনাল ব্যবসা।

এবং এই ব্যবসা করার জন্য এর সাথে জড়িত নানান গুরুত্বপূর্ণ বিষয় গুলি আপনার জানা দরকার।

আমাদের এই ব্লগে আমরা ব্লগিং ও ওয়েবসাইট এর সাথে রিলেটেড নানান গুরুত্বপূর্ণ টপিক গুলি নিয়ে আলোচনা করেছি।

যদি আপনি ব্লগিং শুরু করবেন বলে ভাবছেন, তাহলে এই আর্টিকেল গুলি অবশই পড়ুন। অনেক কিছু জানতে ও শিখতে পারবেন।

অবশই পড়ুন:

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error:
Scroll to Top