ছবি এডিট করার সেরা ১০টি মোবাইলে সফটওয়্যার – (ফ্রি ডাউনলোড)

আপনিও কি ফ্রীতে ছবি এডিট করার সফটওয়্যার ডাউনলোড করার কথা ভাবছেন ? যদি হে, তাহলে চিন্তার কোনো বিষয় নেই। 

কারণ, আজকের আর্টিকেলের মাধ্যমে আপনারা এমন কিছু সেরা পিক এডিট করার সফটওয়্যার গুলোর বিষয়ে জানতে পারবেন যেগুলো সত্যি দারুন।

আপনার কাছে যদি সেরা ক্যামেরাযুক্ত স্মার্টফোন থাকে,

তবে আপনি চাইবেনই যে আপনার মোবাইলে কয়েকটা সেরা ফটো এডিট করার সফটওয়্যার থাকুক।

যদিও বর্তমানের স্মার্টফোন গুলোর ক্যামেরা অবিশ্বাস্য মানের ছবি তুলতে সক্ষম,

তবে, আপনি যদি আরও দুর্দান্ত পেশাদার মানের ফটোগ্রাফ তুলতে চান, তাহলে কোনো বিশেষ ফটো এডিট করার সফ্টওয়্যার আপনাকে ব্যবহার করতেই হবে।

মোবাইলের সেরা ১০টি ছবি এডিট করার সফটওয়্যার – (Free Download)

ছবি এডিট করার সফটওয়্যার ডাউনলোড
Best image editing software download for smartphones.

আমরা আমাদের আজকের এই আর্টিকেলে আলোচনা করবো, ছবি এডিট করার সেরা ১০টি মোবাইলে সফটওয়্যার সম্পর্কে।

এই সফটওয়্যারগুলো বেশির ভাগই RAW ফাইলগুলো ম্যানেজ করতে পারে, কোনো ইমেজের ব্যাকগ্রাউন্ড থেকে অবাঞ্ছিত বিষয়গুলোকে মুছে দিতে পারে, কিংবা হাইলি ইন্টেলিজেন্ট AI-বেসড ফিল্টারগুলো আপনার চেহারাও আমূল বদলে দিতে পারে।

এছাড়াও, আপনি হোয়াইট ব্যালান্স, এক্সপোজার, লেয়ার্স ও আরও অনেক এডিটিংয়ের অপশন পাবেন।

এমনকি, এই ধরণের সফটওয়্যারের মধ্যে আপনি পেয়ে যাবেন নানান মজাদার ফিচার, যেমন – স্টিকার, অ্যানিমেশন ও ইত্যাদি।

এই পিক এডিট করার মোবাইল সফটওয়্যার গুলো আপনাকে চট করে সোশ্যাল মিডিয়াতেও এডিট করা ছবিগুলো শেয়ার করার অপশন দিয়ে থাকে।

১. YouCam Perfect

YouCam Perfect হল সবার জন্যই সেরা বিনামূল্যের একটি দারুন ফটো এডিটিং অ্যাপ / সফটওয়্যার।

এই অ্যাপটি আপনাকে ফটো এডিট করতে ও আরও নানান ক্রিয়েটিভ ফিচারের সাহাহ্যে ফটো কোলাজ তৈরি করতে সাহায্য করে।

তা আইফোন হোক কিংবা অ্যান্ড্রয়েড ফোন,

এই মোবাইল সফটওয়্যারের সাহায্যে আপনি আপনার ছবিতে বিভিন্ন ধরণের এফেক্ট, ফ্রেম, অ্যানিমেশন ও আরও অনেক অ্যাডভান্সড এডিটিংও করতে পারবেন।

সুবিধা-

  • ওয়ান-ট্যাপ AI অবজেক্ট রিমুভাল,
  • ইন্টিউটিভ মাল্টি-লেয়ার ফটো এডিটিং,
  • মজাদার এডিটিংয়ের জন্যে কাটআউট টুল রয়েছে,
  • ফটো এডিটিং ও কোলাজ মেকার একসাথে উপলব্ধ,
  • সাধারণ ফটোকে অ্যানিমেটেড ফটোতে রূপান্তরিত করা যায়,
  • সেল্ফি বিউটিফাই করার অত্যাধুনিক ফটো রিটাচ ফিচার আছে,
  • প্রচুর রেডি-টু-ইউস এডিটিং কনটেন্ট রয়েছে।

অসুবিধা-

  • স্প্লিট টোন এডিটিং সাপোর্ট করে না,
  • প্রফেশনাল ফটোগ্রাফির জন্য এখনও LUTs ফিল্টার নেই।

২. PhotoDirector

PhotoDirector নামের এই ছবি এডিট করার সফ্টওয়্যারটি প্রচুর উন্নত এবং এখানে রয়েছে দারুন রকমের টুলস।

এই ইউসার-ফ্রেন্ডলি অ্যাপটিতে আপনি শাটারস্টক ও আইস্টক দ্বারা সরবরাহিত বিল্ট-ইন রয়্যালটি-ফ্রি স্টক লাইব্রেরি পাবেন।

আপনার কোনো রকমের ফটোগ্রাফির অভিজ্ঞতা না থাকলেও, এর পেশাদার মানের টুলগুলো ব্যবহার করতে পারবেন।

টুলগুলো খুব দ্রুত ভাবে আপনার ফটোকে আকর্ষণীয় করে তুলতে পারে।

সুবিধা-

  • AI টেকনোলজি,
  • ইনবিল্ট স্টক লাইব্রেরি,
  • ফটো ও বিউটি রিটাচ টুল,
  • কুইক অ্যাপ্লাই ফিল্টার ও এফেক্ট,
  • AI স্কাই রিপ্লেসমেন্ট ও লাইট রে টুলস,
  • লাইট এন্ড কালার অ্যাডজাস্টমেন্ট টুলস,
  • অ্যানিমেশন টুল ও অ্যানিমেটেড ওভারলে।

অসুবিধা-

  • LUTs ফিল্টার সাপোর্ট করে না,
  • টিথ হোয়াইটেনিং ফিচার অনুপস্থিত।

৩. VSCO

VSCO অ্যাপটি “VSCO গার্ল” ভাইবের জন্য খুবই লোকপ্রিয় হয়ে উঠেছে।

এডিটিং এর সমস্ত কাজ গুলো করার জন্যে ও ট্রেন্ডি ফটো এডিটিং অপশন গুলো অফার করার জন্যে, এই ফটো এডিটর সফটওয়্যারটির যথেষ্ট সফল হয়েছে।

এই বিনামূল্যের ফটো এডিটিং অ্যাপটি আইফোন ও অ্যান্ড্রয়েড ইউসার সবার জন্যই সেরা একটা বিকল্প।

সুবিধা-

  • ভালো স্প্লিট টোন টুল,
  • দারুণ LUT ফিল্টার সাপোর্ট করে,
  • বেসিক ভিডিও এডিটিং ফিচার উপলব্ধ (পেইড ভার্শনে উপলব্ধ),
  • ফটো ও ভিডিওর জন্যে চমৎকার কালার ফিল্টার সিলেকশন আছে।

অসুবিধা-

  • কালার ফিল্টার বাদে অনেক বেসিক ফটো এডিটিং ফিচার নেই।

৪. Picsart 

যেসব আইফোন কিংবা অ্যান্ড্রয়েড ইউসাররা একটা আকর্ষণীয় ফটো এডিটিং অ্যাপ্লিকেশনের সন্ধান করছেন,

তাদের জন্য Picsart হল একটা ভালো বিকল্প।

এখানে আপনি ১০০-টিরও বেশি টেমপ্লেট, ফন্ট ও স্টিকার বিনামূল্যে পাওয়া পেতে পারেন।

এছাড়াও, এর ১০০০-এরও বেশি পেইড সাবস্ক্রিপশন রয়েছে।

আর, আপনি আপনার ছবিগুলো অসংখ্য উপায়ে কাস্টমাইজ করতে পারবেন।

সুবিধা-

  • সহজে ব্যবহার্য প্রি-মেড টেমপ্লেট উপলব্ধ,
  • ফটো এডিটিং-এর জন্য অনেক ডাউনলোডেবল কনটেন্ট উপলব্ধ,
  • ফটো এডিটিং ও পোর্টেটিং রিটাচের জন্য চমৎকার নির্বাচিত টুল রয়েছে।

অসুবিধা-

  • ক্যামেরা মোডে লাইভ রিটাচ ফিচার নেই,
  • বেশিরভাগ বিনামূল্যের ডাউনলোডেবল কনটেন্ট প্রফেশনালি তৈরি করা হয়নি।

৫. Instasize 

যারা যারা ইনস্টাগ্রামে কোনো পূর্ণ আকারের ছবি ক্রপ না করেই পোস্ট করার চেষ্টা করেছেন,

তারাই এই Instasize ফটো এডিটর অ্যাপটি অবশই ব্যবহার করে দেখুন।

রিসাইজ করার অপশন ছাড়াও আপনি এখানে বিভিন্ন রকমের ফিল্টার, বিউটিফাইয়িং টুলস, টেক্সট ফিচার, কোলাজ, বেসিক ফ্রেম ও কমন অ্যাডজাস্টমেন্ট-এর মতো এডিটিং ফাঙ্কশনগুলো পেয়ে যাবেন।

তবে, এই অ্যাপের সেরা কিছু ফিচার অ্যাক্সেস করার জন্য, আপনাকে এর প্রিমিয়াম সাবস্ক্রিপশন নিতে হবে।

তাছাড়াও, এটা আপনাকে ভিডিও এডিটও করতে দেয়।

সুবিধা-

  • সোজা ও ইউসার-ফ্রেন্ডলি ইন্টারফেস,
  • সহজে সোশ্যাল কনটেন্ট তৈরি করা সম্ভব,
  • ফটো ও ভিডিও এডিটিংয়ে সমানভাবে পারদর্শী।

অসুবিধা-

  • অনেক ফিচারের জন্য প্রিমিয়াম সাবস্ক্রিপশন করাটা জরুরি,
  • স্টিকার, অবজেক্ট রিমুভাল ও অ্যানিমেশন ফিচার অনুপস্থিত।

৬. Snapseed 

ছবি এডিট করার সফ্টওয়্যার ডাউনলোড করতে চাইলে Snapseed আপনার কাছে একটা সেরা অপশন হতে পারে।

এই অ্যাপটি iPhone ও Android ব্যবহারকারীদের জন্যও উপলব্ধ রয়েছে।

কোনো ইন-অ্যাপ পারচেজ ছাড়াই, এই ফ্রি ফটো এডিটর মোবাইল সফটওয়্যারটি গুগলের কোনো প্রোডাক্ট, এমনকি ইউসারদের “প্রিসেটস” তৈরি করতে দেয়।

অর্থাৎ, আপনি আপনার ভবিষ্যতের কোনো ছবি এডিট করতে চাইলে, ওই প্রিসেটে থাকা এডিটিং সিলেক্ট করলেই, আপনার ছবি নিজে থেকে আপনার ইচ্ছেমতো এডিট হয়ে যাবে।

সুবিধা-

  • ফটোর জন্য সেরা কালার ফিল্টার সিলেকশন রয়েছে,
  • RAW এডিটিং, কালার কার্ভ, ডি-নয়েজ ও আরও অনেক প্রো-লেভেল এডিটিং টুল আছে।

অসুবিধা-

  • ফটো কোলাজ, স্টিকার ও টেমপ্লেট নেই,
  • প্রচুর  ডেকোরেটিভ এলিমেন্টস অনুপস্থিত,
  • খুব সাধারণ এডিটিং এলিমেন্টস (যথা- ফটো ফ্রেম) উপলব্ধ।

৭. Adobe Lightroom Mobile

প্রফেশনাল ফটোগ্রাফারদের মধ্যে Adobe সফটওয়্যারের জনপ্রিয়তা বরাবরই রয়েছে।

এর ফটোশপ, লাইটরুম ও আরও অনেক সফটওয়্যার রয়েছে।

তবে, Adobe Lightroom অ্যাপ ব্যবহার করার জন্যে সেরকমভাবে কোনো পেশাদার ফটোগ্রাফির জ্ঞান রাখার দরকার পড়ে না।

আপনি যদি ইতিমধ্যেই অ্যাডোবি প্রোডাক্টগুলোর সাথে পরিচিত হয়ে থাকেন, তাহলে এই ফটো এডিটর সফটওয়্যারটা আপনার জন্য ভালো হতে পারে।

সুবিধা-

  • প্রো-লেভেল ক্যামেরা (আইএসও, এক্সপোজার ও আরও অনেক ম্যানুয়াল অ্যাডজাস্টমেন্ট উপলব্ধ),
  • প্রো-লেভেল ফটো এডিটিং ফিচার (ভালো ফটোগ্রাফি জ্ঞান থাকলে তবেই ব্যবহার করা সম্ভব).

অসুবিধা-

  • বিউটিফাই ও রিটাচ ফিচার নেই,
  • ফটো কোলাজ, স্টিকার, টেমপ্লেট ও ব্যাকগ্রাউন্ড নেই।

৮. Photoshop Express Photo Editor 

Photoshop Express Photo Editor, নামের এই জনপ্রিয় ফটো এডিটিং সফ্টওয়্যারটির মোবাইল ভার্শনে প্রচুর ফিচার রয়েছে।

আর, ফটোশপ ব্যবহারকারীরা বেশির ভাগ সময়েই এই সফটওয়্যারটি ব্যবহার করা পছন্দ করে থাকেন, স্মার্টফোনে ফটোশপের বিকল্প হিসেবে।

তবে, এর সমস্ত ফিচারগুলোতে অ্যাক্সেস পেতে, আপনাকে একটা PS Express-এর প্রিমিয়াম সাবস্ক্রিপশন নিতে হয়।

এই মোবাইল এডিটিং অ্যাপটি ব্যাকগ্রাউন্ড রিপ্লেসমেন্ট, সিলেক্টিভ এডিটিং, ফটো ও কোলাজের থিম, কোলাজের স্ক্র্যাপবুক, রিটাচ ও আরও অনেক কার্যকরী এডিটিং টুল নিয়ে আসে।

সুবিধা-

  • RAW ফাইল এডিট করা সম্ভব,
  • ইউসার-ফ্রেন্ডলি ইন্টারফেস রয়েছে,
  • প্রফেশনাল ফটো এডিটিং টুল সহজেই ছবিগুলোকে উন্নত করে তোলে।

অসুবিধা-

  • লিমিটেড রিটাচ অপশন,
  • অনেক ফিচার অ্যাক্সেস করার জন্যে পে করতে হয়।

৯. Cavna

Cavna হল একটা ফ্রি ফটো ও ভিডিও এডিটর অ্যাপ।

এটা মূলত গ্রাফিক ডিজাইনের জন্যে ডিসাইন করা হলেও, এখানে আপনি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট, ফ্লায়ার, ভিডিও, ফটো কোলাজের মতো নানান ধরণের এডিটিংয়ের কাজ করতে পারবেন৷

এই অ্যাপটি আপনাকে আপনার ছবি এডিট করার জন্য অসংখ্যক টেমপ্লেটের অপশন দেয়।

ফটো এডিটিং ফিচারগুলো আপনাকে নিমেষেই ছবি ক্রপ, ফ্লিপ ও অ্যাডজাস্ট করতে দিয়ে থাকে।

গ্রাফিক্স ডিজাইন-এর টুকিটাকি কাজ সেরে নেওয়ার জন্যেই এই অ্যাপটি সাধারণের জন্যে তৈরী করা হয়েছে।

তাই, এখানে খুব বেশি প্রফেসিনাল ফটো এডিটিং ফিচারের আশা করবেন না।

সুবিধা-

  • অনেকগুলো টেমপ্লেট অপশন আছে,
  • বিনামূল্যে টেক্সট, গ্রাফিক, ফটোর অপশন রয়েছে।

অসুবিধা-

  • লিমিটেড ফটো এডিটিং অপশন,
  • অনেকগুলো প্রিমিয়াম-অনলি ফিচার আছে,
  • মোবাইলে অ্যাপটি ব্যবহার করাটা বেশ চ্যালেঞ্জিং।

১০. Airbrush

সেলফি ও পোর্ট্রেট ছবি তোলার জন্য একটা বহুমুখী ফটো এডিটিং অ্যাপ হল এই AirBrush।

এই অ্যাপের মধ্যে আপনি পেয়ে যাবেন ফটো এডিটিং ও বিউটিফায়ি টুলসের একটা দারুণ কালেকশন।

যেখানে আপনি আরামসে যতখুশি এস্থেটিক সেলফি নিতে পারবেন।

এর বেশ কিছু ইউনিক ফিচার রয়েছে, যথা- রিলাইট ও প্রিজম।

এছাড়াও, এর ক্লাসিক রিটাচ টুল ও ভার্চুয়াল মেকআপ ও হেয়ার অপশন আপনাকে একদম ইন্সটা-রেডি ছবি তুলতে সাহায্য করবে।

আপনি আপনার ফটো থেকে অবজেক্ট রিমুভ করতে পারবেন ও নিজের মতো ব্যাকগ্রাউন্ড পরিবর্তনও করতে পারবেন৷

তবে, এখানে এই ধরণের ফিচার পেতে প্রিমিয়াম সাবস্ক্রিপশন লাগবে।

সুবিধা-

  • ইউসার-ফ্রেন্ডলি ইন্টারফেস রয়েছে,
  • ‘My Kit Option’ থেকে এডিটিং টুলস সহজে অ্যাক্সেস করা যায়,
  • রিটাচ ও মেকআপ টুলসের সাথে দ্রুত ও সহজ সেলফি ফটো এডিট করা যায়।

অসুবিধা-

  • উন্নত ফিচারের জন্যে প্রিমিয়াম সাবস্ক্রিপশন লাগে,
  • পোর্ট্রেট ও সেলফির জন্য সেরা কাজ করলেও সাধারণ ফটো এডিটিং টুলস বেশ কম।

 

আমাদের শেষ কথা,,

আমাদের আজকের ফটো এডিট করার সেরা ১০টি মোবাইলে সফটওয়্যার নিয়ে লেখা আর্টিকেলটি এখানেই শেষ হল।

লেখাটি পছন্দ হলে অবশ্যই তা কমেন্টে জানাতে ভুলবেন না।

এছাড়া, আর্টিকেলের সাথে জড়িত কোনো ধরণের প্রশ্ন বা পরামর্শ থাকলে, সেটাও নিচে কমেন্টের মাধ্যমে অবশই জানিয়ে দিবেন।

 

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top