ইউটিউব SEO কি ? নিজের চ্যানেলে আপলোড করা ইউটিউব ভিডিও গুলিতে এস ই ও (SEO) কিভাবে করবেন ? এবং, YouTube ভিডিওতে seo করে কি লাভ হবে ? আজ, এই সব বেপারে আমি আপনাদের ভেঙে বলবো। (YouTube seo tutorial bangla).

ইউটিউব SEO কি
What is video seo ? Tutorial in Bangla.

হে, আমরা যখন একটি ইউটিউব চ্যানেল তৈরী করে তাতে ভিডিও আপলোড করা শুরু করি তখন থেকেই আমাদের ভিডিওতে এই seo র ব্যবহার করাটা অনেক অনেক জরুরি হয়েপড়ে। তাই, যদি আপনি নিজের ভিডিওতে seo র ব্যবহার করছেননা তাহলে আমি ১০০% জানি যে আপনাদের আপলোড করা ভিডিও গুলিতে ভিসিটর্স খুবি কম আসছে বা একদম আসছেনা।

আমার অনেক বন্ধুরা এবং আমাকে অনেকেই কমেন্ট করে জিগিয়েছে যে, আমার ইউটিউব চ্যানেলে ভিসিটর্স আসছেনা , কি করবো ? আমার আপলোড করা ভিডিও গুলি লোকেরা কেন দেখছেননা ? বা, আমার আপলোড করা ভিডিও গুলি Google সার্চ বা ইউটিউবের সার্চ রেজাল্টে কেন দেখাচ্ছেনা ?

আর তাই আমি তাদেরকে এবং যারা যারা এই প্রশ্নগুলির উত্তর চান বলেদিতে চাই যে, আপনারা নিজের ইউটিউবের ভিডিও গুলিতে এস ই ও (seo)র ব্যবহার করছেননা বা যদিও করছেন তা সঠিক ভাবে করছেননা। এবং, এটাই কারণ যে আপনাদের ইউটিউব চ্যানেলে আপলোড করা ভিডিও গুলিতে ভিসিটর্স আসছেনা। বা, ভিডিও গুলি গুগল সার্চ বা ইউটিউবের সার্চ রেজাল্ট পেজ গুলিতে দেখানো হয়না।

তাহলে, এখন আপনারা কি করবেন ? কি করলে আপনাদের আপলোড করা ভিডিওতে ভিসিটর্স বা ট্রাফিক আসবে ? এটাই যদি আপনার প্রশ্ন তাহলে উত্তর হলো SEO বা Search engine optimization এর সঠিক ব্যবহার করলে।

Also read

তাহলে চলুন আমরা এক এক করে  এই ব্যাপারে জেনেনেই –

  • ইউটিউব seo কি ?
  • ইউটিউবের ভিডিও গুলিতে SEO কেন জরুরি ?
  • নিজের ভিডিও গুলিতে এস ই ও (SEO) কিভাবে করবেন ?

 

ইউটিউব ভিডিও SEO কি ?

ইউটিউব seo র বিষয়ে জানার আগে আপনাদের seo র ব্যাপারে জানতে হবে। SEO মানে হলো “সার্চ ইঞ্জিন optimization” যার কাম হলো আপনার অনলাইন কনটেন্ট যেমন “ওয়েবসাইট”, “ভিডিও”, বা যেকোনো ফাইল সার্চ ইঞ্জিন গুলিতে টপ ১০ (প্রথম ১০) টি রেজাল্টের ভেতরে দেখানো। সার্চ ইঞ্জিন বলতে আমরা বিশেষকরে “গুগল সার্চ”, ইয়াহু সার্চ এবং ইউটিউবের ভিডিও সার্চ বুঝি।

এখন যেরকম আপনি হয়তো গুগলে “ইউটিউবের SEO” র ব্যাপারে কিছু সার্চ করতে আমার এই ব্লগের আর্টিকেল খুঁজে পেয়েছেন। তাই তো ?

কিন্তু কেন ? আজ গুগল বা যেকোনো সার্চ ইঞ্জিনে হাজার হাজার ব্লগ বা ওয়েবসাইট রয়েছে এবং তারা এক রকমের বা একি বিষয়ে আর্টিকেল লিখেন। তাহলে তাদের বাদ দিয়ে আপনারা কেবল আমার ব্লগের আর্টিকেল কেন প্রথমে খুঁজে পেলেন ? কেন আপনাদের বাকি লোকেরা একি বিষয়ে লেখা আর্টিকেল সার্চ রেজাল্টে প্রথম ১০ রেজাল্ট এর ভেতরে দেখানো হয়নি ?

এর কারণ হলো SEO . এস ই ও র ব্যবহারের জন্য গুগল এটা সহজে বুজেগেছে যে আপনি যেই প্রশ্ন সার্চ করেছেন সেটার উত্তর আমার আর্টিকেলে ভালো ভাবে দেয়া আছে। এবং তাই, গুগল আমার আর্টিকেল পেজ প্রথম ১০ টি সার্চ রেজাল্টের ভেতরে রেখেছে। আর তাই, আপনারা ছট করে আমার আর্টিকেল গুগলে পেয়েছেন।

ঠিক সেরকম, আপনি নিজের ইউটিউবের চ্যানেল বা ভিডিওতে সঠিক ভাবে এস ই ও ব্যবহার করলে গুগল সার্চ বা ইউটিউবের ভিডিও সার্চ আপনার আপলোড করা ভিডিওর ব্যাপারে বেশি ভালো করে বুঝতে পারবে এবং আপনার ভিডিওর সাথে জড়িত কোনো শব্দ কেও সার্চ করলে “YouTube ভিডিও সার্চে” আপনার ভিডিও সবচে প্রথমেই দেখানো হবে।

এতে আপনি ফ্রীতে নিজের ভিডিওতে অনেক ট্রাফিক বা ভিসিটর্স পেয়েযাবেন।

তাহলে, ইউটিউব ভিডিও SEO হলো এমন একটি নিয়ম বা প্রক্রিয়া যার সঠিক ব্যবহার করে আপনারা নিজের ভিডিওকে Google সার্চ এবং YouTube ভিডিও সার্চে দেখানো সবচেয়ে প্রথম ১০ টি ভিডিও রেজাল্টে দেখতে পারবেন।

এতে আপনারা নিজের ভিডিওতে অসংখক ট্রাফিক বা ভিসিটর্স পেয়েযাবেন। এবং, এই প্রক্রিয়া ব্যবহার করেই YouTuber রা নিজেদের ভিডিওতে হাজার হাজার ভিউস পেয়েযান।

Also read – 

 

ইউটিউবের ভিডিও গুলিতে SEO কেন জরুরি ?

ইউটিউবে ভিডিও আপলোড করার আগে আপনি অবশই কোনো টপিক বা বিষয় নিয়ে আগে নিজের ভিডিওটি বানিয়ে নেন। তাই তো ?

কিন্তু, যে বিষয়ে আপনি ভিডিও বানাবেন সেই বিষয় বা টপিক আপনি একবার ইউটিউবে সার্চ করে দেখবেন। আপনাকে ইউটিউব আগের থেকেই সেই বিষয়ে অনেক ভিডিও দেখিয়ে দিবে।

এখন, যদি আপনি বানানো ভিডিওর বিষয়ে আগের থেকেই অনেক ভিডিও ইউটিউবে রয়েছে তাহলে আপনার ভিডিও বানানোর মানে কি ? আপনার ভিডিওকে কি ইউটিউব তার সার্চ রেজাল্টে প্রথমেই লোকেদের দেখাবে যদিও তার কাছে আগেথেকেই আপনার ভিডিওর মতোই হাজার হাজার ভিডিও রয়েছে ?

না ইউটিউব দেখাবেনা।

এটাকেই বলা হয় “competition বা প্রতিজোগিতা”। যার ফলে, আপনি যদি কেবল ভিডিও বানিয়ে ইউটিউবে আপলোড দেন তাহলে আপনি কোনোদিন সেই ভিডিওতে ট্রাফিক বা ভিসিটর্স পাবেননা।

কেনোকি, আগের থেকেই যেকোনো বিষয় বা টপিকে ইউটিউবের কাছে অনেক ভিডিও রয়েছে এবং YouTube সেই ভিডিও গুলোকেই তার সার্চ ইউসার দেড় দেখাবে।

এখন, এখানেই SEO র জ্ঞান বা কাজ আপনার কাজে আসবে। আপনি নিজের আপলোড দেয়া ভিডিওতে SEO করে ইউটুব এলগোরিদম (YouTube algorithm) কে এইটা ভালো করে বোঝাতে পারবেন যে আপনি যে বিষয়ে ভিডিও বানিয়েছেন সেটা অন্যদের থেকে অনেক ভালো বা সেই বিষয়ে আপনার ভিডিওতে সব কিছু আছে। সোজাসোজি, আপনি আপনার ভিডিওর বিষয়টি ইউটিউবকে ভালো করে বুঝিয়ে দিতে পারবেন SEO র মাধ্যমে।

এতে, যখনি কেও ইউটুবে কিছু সার্চ করবে এবং সেই সার্চের বিষয় বা টপিক যদি আপনার ভিডিওর সাথে ম্যাচ করে বা জড়িত থাকে তাহলে ইউটিউব আপনার ভিডিও তার সার্চ রেজাল্টে প্রথমেই লোকেদের দেখাবে। মানে, আপনার ভিডিওর রেঙ্কিং (ranking) ভালো হবে। কারণ আপনি SEO র মাধ্যমে আগেই ইউটিউব কে ভালোকরে বুঝিয়ে দিয়েছেন যে আপনার ভিডিও কিসের বিষয়ে।

এবং, আপনি যদি ইউটিউব ভিডিও SEO না করে থাকেন, তাহলে YouTube কোনোদিনেই এইটা বুঝতে পারবেনা যে আপনার ভিডিওর বিষয় কি বা কখন আপনার ভিডিও লোকেদের দেখানো উচিত। এতে আপনি কোনোদিন নিজের ভিডিওতে ট্রাফিক বা ভিসিটর্স পাবেননা।

তাহলে, এখন হয়তো আপনি ভালোকরে বুঝেগেছেন যে YouTube SEO কেন জরুরি। বা, ইউটিউবের ভিডিওতে SEO করাটা কেন জরুরি।

 

নিজের YouTube ভিডিও গুলিতে এস ই ও (SEO) কিভাবে করবেন ?

আমি আপনাদের পুরো ডিটেলস এ বলবো যে কিভাবে ভিডিও তে SEO করবেন,ভিডিও কে রাংক (rank) কিভাবে করবেন। খালি আপনারা, পুরো শুরু থেকে শেষ অব্দি আর্টিকেল পড়তে থাকুন।  তা নাহলে, আপনারা ভালো করে বুঝতে পারবেননা।

ভিডিও SEO কিভাবে করবেন এর ব্যাপারে জানার আগে আমি আগেই এটা বলে দেই যে, ভিডিও যে বিষয়ে বানাবেন সেই বিষয়ের চাহিদা ইন্টারনেটে বা ইউটুবে আছে কি না তা অবশই জেনেনিবেন।

নাহলে, হবে এইটা যে, আপনি কষ্ট করে ভিডিও বানাবেন এবং তাকে দেখার কেও থাকবেনা। এতে SEO করেও আপনার কোনো লাভ হবেনা।

তাই, ভিডিও সব সময় এমন topic বা বিষয়ে বানাবেন যে বিষয়ে ইউটিউবে অনেক সার্চ লোকেদের দ্বারা হয়।

কোন টপিক, কীওয়ার্ড (keyword) বা বিষয়ে ইউটিউবে বেশি সার্চ হয় ?

ইউটিউবে লোকেরা কোন ভিডিও সার্চ করছেন বা আপনি যে বিষয়ে ভিডিও বানাবেন ভাবছেন সে বিষয়ে লোকেরা সার্চ করে কি না তা আপনি অনেক সহজে জানতে পারবেন কিছু অনলাইন tools ব্যবহার করে।

এই টুল গুলির মধ্যে আমি যেটা ব্যবহার করি সেটা হলো “Keyword everywhere extension” . এই extension আপনি নিজের chrome browser বা Firefox browser এ ইনস্টল করেনিতে হবে।

এর পর আপনি ইউটিউবে গিয়ে আপনার ভিডিওর বিষয় বা কীওয়ার্ড (keyword) সার্চ বক্সে লিখতে হবে। এতে আপনার দুটো লাভ হবে।

YouTube seo technique.

প্রথম,

আপনি যে keyword (কীওয়ার্ড) বা বিষয়ে সার্চ করবেন সেই বিষয়ে বা কীওয়ার্ড এর সাথে জড়িত আরো অনেক শব্দ বা keyword পেয়েযাবেন যেগুলি লোকেরা ইউটিউবে সার্চ করেন। এবং, সেই শব্দ বা কীওয়ার্ড গুলি ভিডিওতে ব্যবহার করে আপনি ভালো SEO র প্রয়োগ করতে পারবেন।

ভালো ভাবে বোঝার জন্য আপনি ওপরে ছবিটি দেখুন, আমি ওপরে সার্চ বক্সে কেবল “YouTube SEO” লিখেছি এবং আমাকে ইউটিউব আমার শব্দৰ সাথে জড়িত আরো অনেক লাভজনক keyword যেমন YouTube SEO Hindi, SEO ২০১৮ বা SEO tutorial দেখিয়ে দিয়েছে যেগুলি লোকেরা অনেক সার্চ করেন ইউটিউবে।

দ্বিতীয়,

দ্বিতীয়তে আপনি হয়তো ওপরে দেখছেন যে, সার্চ রেজাল্টে যা যা শব্দ বা কীওয়ার্ড দেখানো হচ্ছে তার সামনেই তার টোটাল সার্চের সংখ্যা দেখানো হচ্ছে। যেমন  ২০০০/mo মানে সেই শব্দ বা কীওয়ার্ডটি ইউটিউবে মাসে ২০০০ বার লোকেরা সার্চ করেন। তাই এই টপিক এ ভিডিও বানিয়ে আপনার অবশই লাভ হবে।

শেষে সেটাই বলবো যে, ভিডিওতে SEO করার আগেই বা ভিডিওর বিষয় ঠিক করার আগে এটা জেনেনিন যে আপনি যে বিষয়ে ভিডিও বানাচ্ছেন সেই বিষয়ে লোকেরা ইউটিউবে মাসে কতবার সার্চ করেন। যদি সেই কীওয়ার্ড এ মাসে ১০০০ মিনিমাম সার্চেস থাকে তাহলে সেই বিষয় আপনার জন্য লাভজনক হবে।

 

YouTube ভিডিওতে SEO করুন এবং ভিডিও দারুণভাবে রাংক (rank) করান

যা আমি ওপরেই বলেছি, নিজের আপলোড করা ভিডিও গুলিতে ভিসিটর্স পেতে হলে আপনার ভিডিও ইউটিউবের সার্চ রেজাল্টে সবচে ওপরে থাকতে হবে। এতে, যখন কেও কোনো ভিডিও সার্চ করবে তখন আপনার ভিডিও তারা সহজে পেয়ে যাবে এবং এতে আপনার ভিজিটর্স বাড়বে।

কিন্তু, আমি ওপরে এটাও বলেছি  হে, আজকাল যেকোনো বিষয়ে আপনি ভিডিও বানান তাতে কম্পেটিশন বা প্রতিযোগিতা থাকবেই। এতে আপনার ভিডিও লোকেরা খুঁজেই পাবেনা কেননা ইউটিউবের কাছে আগের থেকেই অনেক ভিডিও রয়েছে।

তাই, আপনার যদি নিজের ভিডিওতে ভিসিটর্স চাই, তাহলে তার একটাই উপায় আছে। সেটা হলো YouTube video SEO এবং তার প্রয়োগ।

আমি নিচে যা যা SEO র প্রয়োগ বলবো সেগুলি আপনারা ভালোকরে বুঝে নিন এবং নিজের YouTube ভিডিওতে প্রয়োগ করুন। এতে, আপনার ভিডিওতে অবশই ভিসিটর্স বা ট্রাফিক বাড়বে।

১. ভিডিও টপিক বা keyword ভালোকরে বেছেনিন

Video SEO Optimization tips

সবচেয়ে আগে আমি বলবো ভিডিও টপিক, বিষয় বা কীওয়ার্ড রিসার্চ এর ব্যাপারে। আমাদের সবচে বোরো ভুল এটাই যে আমরা keyword রিসার্চ না করেই ভিডিও বানিয়ে নেই। এবং, এতে এটাই হয় যে আমাদের ভিডিও দেখতে কেও আসেনা।

কীওয়ার্ড রিসার্চের মানে হলো, আপনি যে বিষয়ে বা টপিকে ভিডিও বানাচ্ছেন সেই বিষয়ের বা টপিকের ওপরে ভালো করে জ্ঞান নিয়ে নেয়া।

আপনার বেঁচে নেয়া বিষয়ে (keyword) এ লোকেদের রুচি আছে কি না। আপনি যে বিষয়ে ভিডিও বানাচ্ছেন সেই বিষয় ইউটিউবে সার্চ হয় কি না সেটা জেনে নেয়া আপনার অবশই প্রয়োজন।

কোন টপিক বা বিষয়ে ইউটিউবে বেশি সার্চ হয় এবং সে keyword (বিষয়ে) এ মাসে কতটা সার্চ হয় সেটা আপনি আমি ওপরে বলা নিয়ম দিয়ে খুঁজতে পারবেন।এর বাইরেও,

  1. গুগল সার্চ সাজেশন
  2. Keywordtool.io
  3. keyword planner

এই অনলাইন ফ্রী টুল গুলি ব্যবহার করে আপনারা নিজের ভিডিওর জন্য অনেক লাভজনক টপিক বা কীওয়ার্ড (keyword) খুঁজে পেয়েযাবেন।

এভাবেই, লাভজনক টপিক, বিষয় বা keyword খুঁজে ভিডিও বানালেহে আপনার ভিডিও গুলিতে ট্রাফিক বা ভিসিটর্স আশা শুরু হবে YouTube সার্চের মাধ্যমে।

এ নাহলে, আপনি ভিডিও বানাতে থাকবেন কিন্তু সেগুলি কেও খুঁজে পাবেন।

তাহলে ইউটিউব ভিডিও SEO র প্রথম সিঁড়ি (step) হলো লাভজনক ভিডিও keyword বা ভিডিও টপিক খুঁজে বের করা।

২. ভিডিও description এবং title এ keyword এর ব্যবহার করুন

ভিডিও description টাইটেল
Rank YouTube Video in Top 5

SEO র জন্য ভিডিও optimization করাটা অনেক জরুরি। এবং, Video optimization এর সবথেকে জরুরি এবং লাভ জনক নিয়ম হলো নিজের ভিডিওর description এবং title এ focused keyword এর ব্যবহার।

Google বা YouTube আপনার ভিডিও কিসের ওপরে বা ভিডিওর টপিক কি সেটা একমাত্র আপনার video title এবং video description পরেই বুঝতে পারে। এবং, ডেসক্রিপশন বা টাইটেল পরেই আপনার ভিডিওকে গুগল বা ইউটিউব সার্চ রেজাল্টে রাংক (ranking) করে।

তাহলে, যদি আপনি চান যে আপনার ভিডিও YouTube বা Google তাদের সার্চে সব থেকে ওপরে rank করুক তাহলে আপনার প্রথমেই নিজের আপলোড করা ভিডিওর টাইটেল এবং ডেসক্রিপশনে ভিডিওর সবথেকে জরুরি keyword বা বিষয় গুলি লিখে দিতে হবে। এবং, এমন ভাবে লিখতে হবে যাতে জেকেও (লোকেরা) বা Google / YouTube সহজে পড়ে বুঝতে পারে আপনার ভিডিওর বিষয়।

  • নিজের ভিডিও ডেসক্রিপশনে মিনিমাম ২৫০ থেকে ৩০০ টি শব্দৰ ব্যবহার করবেন।
  • ভিডিওর টাইটেল ২৫ টি শব্দৰ ভিতরে রাখবেন।
  • নিজের focus keyword ২ থেকে ৩ বার ব্যবহার করবেন।

Note – Focus keyword মানে যে বিষয়ে বিশেষকরে বা focus করে আপনি ভিডিও বানাচ্ছেন। উদাহরণ স্বরূপে, আমি যদি একটি ভিডিও বানাই YouTube SEO র ওপরে তাহলে আমার ফোকাস কীওয়ার্ড হতে পারে –

  • YouTube SEO bangla tutorial 
  • ইউটিউবে SEO কিভাবে করবেন ?
  • ইউটিউব এস এ ও টিপস 
  • YouTube video SEO tips Bangla

এবং, এমন অনেক keyword যেগুলি আমার ভিডিওর সাথে জড়িত এবং যেগুলি লোকেরা গুগল বা ইউটিউবে সার্চ করলে আমি চাবো যে আমার SEO টিউটোরিয়াল ভিডিও তারা রেজাল্টে পেয়েযান।

কিন্তু keyword এর বেশি ব্যবহার করবেননা। সাধারণ ভাবে ২ বা ৩ টি কীওয়ার্ড ব্যবহার করে টাইটেল বা ডেসক্রিপশন লিখবেন।

৩.নিজের ভিডিওতে SEO TAGS (ট্যাগ্) এর ব্যবহার

Use SEO tags in your video

যখন আপনারা ইউটিউবে ভিডিও আপলোড করবেন তখন টাইটেল এবং ডেসক্রিপশন লেখার সাথে সাথে আপনাকে আরো একটি option দেয়া হয়। সেই অপশনটি হলো video tags.

Video tags, “একটি ভিডিও” ইউটিউবের সার্চে rank করানোর জন্য অনেক জরুরি। এতে সার্চ ইঞ্জিন যেমন Google সার্চ বা ইউটিউবের ভিডিও সার্চ আপনার ভিডিওর বিষয়ে অনেক ভালো করে জানতে পারেন। এবং, এতে যখন কেও আপনার ভিডিওর ট্যাগের (tag) সাথে জড়িত কিছু সার্চ করেন তখন YouTube আপনার ভিডিওটি চট করে তার রেজাল্ট পেজে দেখিয়ে দেয়।

তাই সব সময় নিজের আপলোড করা ভিডিওতে SEO tag ব্যবহার করবেন।

উদাহরণ স্বরূপে, 

যদি আপনার ভিডিওর টপিক, বিষয় বা কীওয়ার্ড YouTube SEO Tips এর সাথে জড়িত (related) তাহলে আপনারা এরকম কিছু tags ব্যবহার করতে পারবেন।

YouTube seo optimization, seo YouTube video, YouTube search engine, youtube video seo, video search engine.

Targeted tags কেবল আপনার ভিডিও ইউটিউবে রাংক (rank) করতে সাহায্য করা ছাড়াও tags এর মাধ্যমে আপনার ভিডিও রিলেটেড ভিডিও লিস্টে লোকেদের দেখাবে। এতে আপনার ভিডিওতে আরো বেশি ভিসিটর্স আসার সুযোগ বেড়ে যায়।

৪. আপলোড করার আগেই Video file name change করুন

উপরে আমি যে ছবিটি দিয়েছি সেটাতে আপনারা দেখতে পাবেন আপনি video file দুটির নাম change করে সেখানে ভিডিওর সাথে জড়িত SEO friendly নাম ব্যবহার করেছি।

আমরা যখন একটি ভিডিও রেকর্ড করি বা বানাই সেই ভিডিও ফাইলের নাম বেশিভাগ m00000.avi, video.232.mp4 বা এরকম default ফাইল নামে থাকে।

এবং, যদি আপনারা নিজের ভিডিও ইউটিউবে এই ডিফল্ট ফাইল নামের সাথেই আপলোড করে দেন তাহলে সেটা SEO জন্য অনেক খারাপ এবং এতে আপনার ভিডিওতে খারাপ SEO র প্রভাব (negative seo) পড়তে পাবে।

তাহোলে, আপনাদের কেবল এতটুকু করতে হবে যে, যখনই কোনো video আপলোড করবেন তার আগেই ভিডিওর default ফাইল নাম বদলিয়ে তাতে SEO friendly নাম দিয়ে দিবেন। এবং, ফাইল নামে নিজের টার্গেট করা কীওয়ার্ড অবশই ব্যবহার করবেন।

উদাহরণ স্বরূপে,

যদি আপনার ভিডিও ফাইলের নাম “m00000.avi” তাহলে তাকে চেঞ্জ করে আপনার দিতে হবে –

আপনার-ভিডিও-কীওয়ার্ড.avi 

YouTube-SEO-tutorial.avi

এতে আপনার ভিডিও এস এ ও র দিক দিয়ে সক্ষম হয়ে দাঁড়াবে।

৫. লম্বা এবং ডিটেল্স (details) সহ ভিডিও বানান

YouTube seo optimization
Make long YouTube videos

এখন ওপরে আমি যেই ছবিটি দিয়েছি সেখানে দেখে আপনারা এইটা সহজে বুঝতে পারবেন যে কেন লম্বা বা বেশি সময়ের ভিডিও YouTube এ আপলোড দেয়াটা জরুরি।

আমি ইউটিউবে সার্চ করেছি “YouTube video SEO” কীওয়ার্ডটি বা বিষয়টি। এখন, আপনারা অবশই ওপরে দেখছেন বা আপনারা যখন সার্চ করবেন নিজেই দেখবেন যে, YouTube সার্চ রেজাল্টে সবথেকে ওপরের ভিডিওগুলি কমেও ১০ মিনিটের হবে। সোজা সহজেই বললে এটাই বুঝা যায় যে, ইউটিউব সব সময় লম্বা এবং বেশি সময়ের ভিডিওগুলি তার সার্চ রেজাল্টে সবথেকে ওপরে রাখেন।

এতে, লোকেরা কিছু সার্চ করলেই আপনার ভিডিও সবথেকে ওপরে পেয়ে যায় এবং আপনি ফ্রীতে ভিসিটর্স পেয়ে যান।

লম্বা, হাই কোয়ালিটি এবং ডিটেল সহ ভিডিও বানানো ইউটিউব এস এ ও optimization এর সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ অংশ যেটা অনেকেই অনুসরণ (follow) করেননা যেটা আপনার ভিডিও ইউটিউবে rank না করতে পাড়ার সবথেকে বড়ো কারণ।

মনে রাখবেন,

কেবল বেশি সময়ের লম্বা ভিডিও বানালেই youtube আপনার ভিডিও সব সময় rank করবেন। আপনি যে বিষয়ে ভিডিও বানাবেন সেই বিষয়ে সব কিছু ভালো ভাবে এবং এমন ভাবে বলতে বা দেখতে হবে যাতে লোকেরা আপনার ভিডিও দেখে ভালো পান এবং বেশি সময় আপনার ভিডিও দেখেন।

লোকেরা যত বেশি সময় আপনার ভিডিও দেখে ইউটিউব সেই ভিডিওর সার্চ ranking ততটাই ভালো কোরে রাখে বা ওপরে রাখে। কারণ ইউটিউব সেই ভিডিওকে high quality র বলে মনে করে।

এবং, কোনো ভিডিও যদি লোকেরা ভালো পাচ্ছেননা বা ভিডিও অনেক কম সময় দেখে তারা চলে যাচ্ছেন সেই ভিডিওকে ইউটিউব তার সার্চ রেজাল্টে অনেক নিচে নিয়ে যায় বা সময়ে একেবারেই নাও দেখতে পারে। কারণ, তখন YouTube সেই ভিডিওকে low quality র বলে মনে করে।

তাহলে, আপনি যদি নিজের ভিডিও সার্চে সবথেকে ওপরে rank করতে চান বা ভিডিওকে ভালো ভাবে video SEO optimization করতে চান তাহলে, তার সবথেকে জরুরি নিয়ম হলো বেশি সময়ের মিনিমাম ১০ মিনিটের ভিডিও বানানো এবং তাতে আপনার বিষয়ের সম্পূর্ণ ডিটেলস দিয়ে দেয়া।

এই নিয়মে ভিডিও বানালে আমি ভালো করে বলতে পারবো যে আপনারা YouTube search এবং Google search থেকে নিজের ভিডিও গুলিতে এখন থেকে অনেক বেশি ট্রাফিক বা ভিসিটর্স পাবেন।

 

আমাদের শেষ কথা,

আমি আশা করি যে আপনাদের, ইউটিউব SEO কি এবং ইউটিউব ভিডিওতে এস এ ও (SEO) কিভাবে করবো সেটা ভালো করে বুঝিয়ে বলতে পেরেছি। যদি আপনাদের কোনো প্রশ্ন থাকে তাহলে আমায় নিচে কমেন্ট করুন আমি অবশই আপনাদের জবাব দিবো। শেষে এইটা মনে রাখবেন, ইউটিউবের ভিডিও গুলি এস ই ও (search engine optimization) করাটা অনেক সোজা। কেবল আপনারা আমি ওপরে বলা মোতে জিন্স গুলি একবার করে দেখুন। কষ্টের ফল অবশই পাবেন। এবং, নিজের ভিডিওর কোয়ালিটি ভালো রাখবেন এবং যে টপিক নিয়ে ভিডিও বানাবেন তার সম্পূর্ণ ডিটেলস আপনার ভিডিওতে রাখবেন। যাতে লোকেরা আপনার ভিডিও দেখে সন্তুষ্ট হন বা তাদের আপনার ভিডিওতে রুচি থাকে।