ছাত্রজীবনে পার্ট টাইম চাকরি করার ১২ টি গুরুত্বপূর্ণ লাভ

আপনি কি একজন ছাত্র (student) ? এবং আপনি কি একটি পার্ট টাইম চাকরি করার কথা ভাবছেন ?

যদি হে, তাহলে আপনি নিজের ভবিষ্যতের জন্য একটি অনেক ভালো সিদ্ধান্ত নিতে চলেছেন।

কারণ, ছাত্রজীবনে পার্ট টাইম চাকরি করার বিনিময়ে আপনি টাকা আয় করার সাথে সাথে অন্যান্য বিভিন্ন ক্ষেত্রে লাভ পাবেন।

মানে, স্টুডেন্ট হিসেবে যখন আপনি একটি পার্ট টাইম চাকরি করবেন,

তখন আপনার মধ্যে এমন কিছু নতুন নতুন দক্ষতার জ্ঞান চলে আসবে যেগুলো অন্যদের মধ্যে থাকবেনা।

তাই, আপনার শিক্ষা জীবন (academic career) শেষ হতে হতে আপনি প্রায় অনেকের থেকেই এগিয়ে থাকছেন।

হে আমি জানি, পড়াশোনার সাথে সাথে চাকরি করাটা তেমন একটি সোজা বা সহজ কাজ না।

তবে বিশ্বাস করুন, যদি আপনি কষ্ট করে দুটোই করতে পারছেন, তাহলে আপনার ভবিষ্যৎ অবশই উজ্জ্বল।

কারণ, ছাত্রজীবনে পার্ট টাইম জব করার প্রচুর লাভ রয়েছে যেগুলো ভবিষ্যতে একটি সফল ব্যক্তি হওয়ার ক্ষেত্রে আপনাকে সাহায্য করবে।

বিশ্বাস হচ্ছেনা ?

তাহলে চলুন, নিচে আমরা জেনেনেই ছাত্র হিসেবে পার্ট টাইম চাকরি শুরু করলে আপনার কি কি লাভ হতে পারে।

ছাত্রজীবনে পার্ট টাইম চাকরি করাটা কেন জরুরি ?

ছাত্রজীবনে পার্ট টাইম চাকরি
Why you should work part-time while studying in college 

দেখুন বন্ধুরা, আমাদের মাইন্ড (mind) হলো এমন একটি যন্ত্রের মতোই যেটাকে আপনি যেভাবে function করবেন সেটা সেভাবেই কাজ করবে।

তাই, যদি আপনি স্টুডেন্ট থাকতেই একটি পার্ট টাইম চাকরিতে নিজেকে ব্যস্ত রাখতে পারেন,

তাহলে, অনেক আগের থেকেই আপনি আপনার মাইন্ড কে কিছু ভালো দক্ষতা, অভ্যাস, গুন্, ব্যবহার এবং উপলব্ধির সাথে পরিচিত করিয়ে দিতে পারবেন।

যার ফলে, আপনার মাইন্ড চির কাল সেই ভালো দক্ষতা বা অভ্যেস গুলোর হিসেবেই কাজ করবে এবং পজিটিভ (positive) ভাবে আপনি জীবনে এগিয়ে যেতে পারবেন।

আমাদের জীবনে কেবল একটাই জিনিস আমাদের সাথে সব সময় থাকে যার ফলে আমরা নিজের একটি ভালো ক্যারিয়ার তৈরি করতে পারবেন।

এবং সেটা হলো “আমাদের কাজের অভিজ্ঞতা” (Work experience).

আর তাই, যতটা তাড়াতাড়ি আপনি চাকরি জীবনের সাথে সংযুক্ত হবেন, ততটাই বেশি আপনার কাজের অভিজ্ঞতা হবে।

তবে এখন প্রশ্ন হচ্ছে, স্টুডেন্ট থাকতে একটি পার্ট টাইম চাকরিতে যোগদান করার কি কি লাভ আমাদের হবে ?

১. পার্ট টাইম ইনকাম 

অবশই, যদি আপনি কোনোখানে পার্ট-টাইম বা ফুল-টাইম চাকরি করছেন, তাহলে সেখান থেকে কিছু টাকা আপনি মাইনে (salary) হিসেবে পাবেন।

এমনিতে, ছাত্রজীবনে টাকা পয়সা নিয়ে কতটা সমস্যা আমাদের হয়ে থাকে, সেটা আমিও জানি।

বেশির ভাগ ক্ষেত্রে দেখা গেছে যে, ছাত্রদের কাছে টাকা পয়সা একেবারেই থাকেনা।

আবার কিছু কিছু ছাত্রদের আবার পড়াশোনা করার জন্যেও টাকার অভাব হয়ে থাকে।

তাই, এক্ষেত্রে আপনি নিজেকে ছাত্রজীবনের থেকেই আর্থিক ভাবে কিছুটা শক্তিশালী বানিয়ে নিতে পারবেন।

এছাড়া, tution, books, এখানে সেখানে যাওয়া, ঘুরতে যাওয়া ইত্যাদি প্রত্যেক ক্ষেত্রে ঘর থেকে টাকা চাওয়াটা ছাত্র জীবনের একটি সাধারণ ব্যাপার।

আর এক্ষেত্রেও আপনি নিজের প্রয়োজন নিজেই সম্পূর্ণ করতে পারবেন যদি পড়াশোনা করাকালীন আপনার কাছে একটি পার্ট-টাইম চাকরি আছে।

২. কাজের অভিজ্ঞতা 

বর্তমান সময়ে আপনি একটি চাকরির ক্ষেত্রে ইন্টারভিউ দিতে গেলে, সব থেকে আগেই দেখা হয় যে, “কাজের অভিজ্ঞতা আছে কি না“.

মানে, আপনি আগে কোনোখানে কাজ করেছেন কি না।

আজ যেকোনো কোম্পানি ফ্রেশার্স (freshers) দের চাকরি দিতে চাননা।

কারণ, যখন আপনি চাকরি জীবনে নতুন থাকছেন, তখন আপনার মধ্যে কাজের কোনো ধরণের অভিজ্ঞতা থাকছেনা।

আর তাই, কোম্পানি গুলো কিছুই না জানা ক্যান্ডিডেট দের সিলেক্ট করার তুলনায় যাদের আগের থেকেই কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে, তাদেরকে পছন্দ করেন।

আর এজন্যেই, যদি আপনি আগের থেকেই একটি চাকরির সাথে সংযুক্ত ছিলেন,

তাহলে, পড়াশোনা শেষ করার পর আপনি ভালো ভালো কোম্পানি গুলোতে নিজের অভিজ্ঞতার ফলে সহজেই চাকরি পাওয়ার প্রচুর সুযোগ পাবেন।

মনে রাখবেন, এখনের সময়ে চাকরিজীবী হিসেবে নিজের ক্যারিয়ার শুরু করার ক্ষেত্রে ওয়ার্ক এক্সপেরিয়েন্স কিন্তু অনেক জরুরি।

আপনি একবার নিজেই ভেবে দেখুন,

যদি আপনি একজন এমপ্লয়ার (employer) হতেন তাহলে আপনি কাকে সিলেক্ট করবেন ?

  • সেই ব্যক্তিকে যে নিজের জীবনে কখনোই কোনো কাজ করেনি,
  • সেই ব্যক্তিকে যার কাছে কাজের অভিজ্ঞতা আগের থেকেই রয়েছে,

অবশই একজন ফ্রেশ / নতুন ব্যক্তিকে চাকরি দেওয়ার থেকে ভালো হবে যে আগের থেকেই চাকরিজীবনের সাথে সংযুক্ত ছিল তাকেই চাকরি দিবেন।

তাই তো ?

৩. সময়ের গুরুত্ব বুঝতে পারবেন 

একজন অনেক বিখ্যাত লোক যার নাম হলো “Benjamin Franklin“, বলেছিলেন যে, “Time is money“.

মানে তিনি বলতে চাইছেন যে, “সময় মানেই হলো টাকা“।

আর এই কথার গভীরতা যেই ব্যক্তি বুঝতে পেরেছেন সে আজ অবশই সফল।

মনে রাখবেন, যেভাবে টাকাকে ভালো করে ম্যানেজ করতে না জানলে সে কখন আপনার হাত থেকে সরে যাবে আপনি বুঝতেও পারবেননা,

ঠিক সেভাবেই, সময়কে ভালো করে পরিচালনা (manage) করতে না জানলে, অজান্তে চলে যাওয়া সুযোগ কখনোই ঘুরে পাবেননা।

যখন একসাথেই আপনি নিজের classes, studies এবং job করবেন, তখন আপনি অনেক ব্যস্ততা ভরা জীবনের সাথে পরিচিত হতে পারবেন।

তাই, সেক্ষেত্রে আপনার কাছে দুটোই অপসন থাকবে,

  • সময়ের গুরুত্ব বুঝে নিজের কাজ গুলো সঠিক সময়ে শেষ করা।
  • সময়ের চিন্তা না করে কাজ গুলোকে সময়ে সম্পূর্ণ না করা।

তবে, যদি আপনি classes, studies এবং job একসাথেই করছেন, তাহলে অবশই আপনি সময়ের গুরুত্ব বুঝতে পেরেছেন।

এভাবেই যখন আপনি সময়ের মূল্য বুঝে time management করাটা শিখে যাবেন তখন ভবিষ্যতে এই দক্ষতা আপনার চিরকাল কাজে আসবে।

মনে রাখেন, একজন সফল ব্যক্তির সব থেকে প্রথম গুন্ হলো “সে সময়ের মূল্য অনেক ভালো করেই জানে“.

৪. Improved communication skills 

যখন আপনি চাকরির সাথে নিজেকে সংযুক্ত করবেন, তখন আপনি প্রচুর লোকেদের সাথে সংযুক্ত হতে পারবেন।

নিজের কাজের সাথে জড়িত আলাদা আলাদা ধরণের লোকেদের সাথে কথা বার্তা বলার সাথে সাথে আপনার যোগাযোগ দক্ষতা (communication skills) ভালো হতে থাকবে।

আর মনে রাখবেন, যত ভালো করে আপনি নতুন লোকেদের সাথে সহজেই যোগাযোগ করতে পারবেন, সেটা আপনার ক্যারিয়ার এর জন্য ততটাই ভালো।

বর্তমান সময়ে, এমপ্লয়াররা ভালো কাজের অভিজ্ঞতার সাথে সাথে যোগাযোগ এর দক্ষতার ওপরেও নজর দেন।

কেননা, চাকরি জীবনে আপনি চুপ চাপ একা একা বসে থাকলে কাজ চলবেনা।

ক্লায়েন্ট হ্যান্ডেল, সেলস (sales), মার্কেটিং, প্রেসেন্টেশন ইত্যাদি বিভিন্ন ধরণের কাজ আপনার করতে হবে।

আর এসব ভালো করে করার জন্যে যোগাযোগ দক্ষতা (communication skills) এর প্রয়োজন।

৫. নতুন নতুন বিষয়ে জ্ঞান অর্জন 

স্কুল বা কলেজে আপনারা পড়াশোনা বা সাধারণ জ্ঞান অবশই শিখতে পারবেন।

তবে, একটি উজ্জ্বল ক্যারিয়ার তৈরি করার জন্যে এর থেকেও অধিক বিষয় গুলো আপনার শিখতেই হবে।

আর মনে রাখবেন, যখন আপনি ছাত্রজীবনে চাকরি করা শুরু করবেন,

তখন, পড়াশোনার সাথে সাথে চাকরি জীবনের কিছু প্রাকটিক্যাল নলেজ এর সাথে মুখোমুখি হতে পারবেন।

কিভাবে লোকেদের সাথে প্রফেশনালি কথা বলতে হয়, কম্পিউটার অপারেটিং, মার্কেটিং, সেলস ইত্যাদি বিভিন্ন ধরণের নতুন নতুন স্কিলস (skills) আপনি শিখতে পারবেন।

আপনি যেই বিষয়ে রুচি রেখে পার্ট টাইম টাইম চাকরি করছেন, সেই বিষয়ে সম্পূর্ণ জ্ঞান অর্জন করে একজন এক্সপার্ট হিসেবে নিজেকে তৈরি করতে পারবেন।

উদাহরণ স্বরূপে,

যদি আপনি একাউন্টস (accounts) এর লাইনে পার্ট-টাইম চাকরি শুরু করেছেন,

তাহলে কলেজে থাকতেই আপনি প্রায় ২ থেকে ৩ বছরে একাউন্টিং এর কাজ শিখে নিজেকে এক্সপার্ট বানিয়ে নিতে পারবেন।

এবার, যখন আপনি ছাত্রজীবন শেষ করে একাউন্টস এর সাথে জড়িত একটি ফুল-টাইম চাকরি শুরু করার দিকে এগিয়ে যাবেন,

তখন, আগের থেকেই আপনার কাছে প্রচুর অভিজ্ঞতা থাকবে যার ফলে শুরু থেকেই অধিক স্যালারি (salary) নিয়ে কাজ করতে পারবেন।

আর, আগের থেকে অনেক বিষয়ে জ্ঞান থাকার ফলে অনেক সহজেই চাকরি আপনি পাবেন।

৬. Start networking 

স্টুডেন্টদের জন্য পার্ট টাইম জব করার আরো একটি গুরুত্বপূর্ণ লাভ রয়েছে যেটা হলো “Networking“.

চাকরি হলো একটি অনেক ভালো মাধ্যম যার ফলে professional relationships তৈরি করা যেতে পারে।

আপনার অনেক লোকেদের সাথে সাক্ষাৎ বা চেনা পরিচিত হতে থাকবে।

ফলে, personal life থেকে শুরু করে professional life এর মধ্যে বিভিন্ন সাহায্য আপনি পাবেন।

যত বেশি professional relationships আপনি তৈরি করতে পারবেন ততটাই বেশি লোকেরাও আপনাকে চিনবেন।

আর অবশই, নিজের ক্যারিয়ারটিকে প্রচুর সফল করার ক্ষেত্রে এই সম্পর্ক গুলো আপনার অনেক কাজে আসতে পারে।

আপনি বা আমি কেও জানিনা যে কখন কোন ব্যক্তি আমাদের স্বপ্নের চাকরির রাস্তা বা সুযোগ দেখিয়ে দিতে পারে।

৭. টাকার গুরুত্ব বুঝতে পারবেন 

যখন আপনি কলেজ জীবনেই চাকরি করা শুরু করবেন, তখন আপনি টাকার গুরুত্ব অনেক ভালো করেই বুঝতে পারবেন।

টাকা কামানোটা কতটা কষ্টের বিষয়ে, কতটা পরিশ্রম করার পর এক এক টাকা কামানো সম্ভব সেটা আমরা অনেক ভালো করে বুঝতে পারি।

ফলে, সেই সময় থেকেই আপনি অপ্রয়োজনীয় জায়গায় টাকার খরচ করতে অনেক বার ভাববেন এবং টাকার সঠিক ব্যবহারের ওপরে আপনার ভালো জ্ঞান হতে থাকবে।

বাজেট তৈরি করা এবং অর্থ ব্যবস্থাপনা দুটো দক্ষতার বিষয়ে আপনি ছাত্রকালীন জীবন থেকেই জানবেন।

৮. নতুন নতুন সুযোগ হয়ে উঠবে 

ছাত্রজীবনে পার্ট টাইম জব করার ফলে আপনি অন্যান্য ছাত্র দের তুলনায় অনেক অ্যাডভান্সড হয়ে থাকবেন।

আর তাই, অন্যান্য ছাত্রদের তুলনায় আপনার গুরুত্ব অধিক বেশি থাকছে।

চাকরি জীবনের আপনার অনুভব, অভিজ্ঞতা, জ্ঞান এবং professional relationships গুলোর কারণে,

আপনার কাছে সব সময় কিছু নতুন করার সুযোগ থেকেই যাবে।

হতে পারে আপনি ভালো ভালো multinational company গুলোতে job করার সুযোগ পাচ্ছেন,

বা, হতে পারে চাকরির বাইরে কিছু ভালো ব্যবসা করার সুযোগ আপনার হয়ে উঠলো।

এভাবেই, বিভিন্ন নতুন নতুন সুযোগ হয়ে উঠার সম্ভাবনা থাকে যদি আপনি আগের থেকেই একটি পার্ট-টাইম চাকরি করছেন।

৯. নিজেকে ব্যস্ত রাখতে পারবেন 

আমরা প্রত্যেকেই জানি যে ছাত্রজীবনেই আমরা অনেক ধরণের ভুল গুলো করে থাকি যেগুলো চির কাল আমাদের কষ্ট দিয়ে থাকে।

তাই, যখন আপনি পড়াশোনার সাথে সাথে একটি চাকরিতে সংযুক্ত থাকবেন,

তখন অবশই অন্যান্য বিষয় গুলো নিয়ে ভাবার সময় আপনার কাছে থাকবেনা।

আপনি অনেক ব্যস্ত থাকার ফলে, কেবল পড়াশোনা এবং কাজ নিয়েই আপনার দিন শেষ হয়ে যাবে।

এভাবে নিজের ছাত্রজীবনে, আপনি নিজের জন্যে একটি ভালো পরিবেশ তৈরি করে রাখতে পারবেন যেখানে অপ্রয়োজনীয় বিষয় গুলো নিয়ে ভাবার সময় আপনার থাকবেনা।

১০. নিজের পরিচয় তৈরি 

যখন আপনাকে কেও জিগেশ করবেন যে, “তুমি কি করো ?

তখন আপনার অনেক প্রাউড (proud) অনুভব হবে এটা বলে যে, আমি একজন স্টুডেন্ট এবং এর বাইরেও আমি একটি পার্ট-টাইম জব করছি।

এতে, আপনার নিজের একটি আলাদা পরিচয় তৈরি হবে এবং লোকেরা আপনাকে অধিক বেশি সন্মান করবেন।

নিজেকে আর্থিক ভাবে স্বাধীন রাখাটা সত্যি অনেক সন্মান এর ব্যাপার।

এই বিষয়ে আপনি কেবল তখন বুঝতে পারবেন, যখন আপনি নিজেকে আর্থিক ভাবে স্বাধীন রাখতে পারবেন।

১১. আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি হওয়া 

নিজের ওপরে বিশ্বাস কম থাকলে সাধারণ হওয়া কাজটাও কিন্তু হয়না। আবার, নিজের ওপরে বিশ্বাস থাকার ফলে অনেক সময় না হওয়া কাজ কিন্তু হয়ে যায়।

তাই, জীবনে যেকোনো ক্ষেত্রে সবচে আগে নিজের ওপরে বিশ্বাস করতে পারাটা অনেক জরুরি।

আর, যখন আপনি একটি পার্ট-টাইম জব করবেন, তখন বিভিন্ন কাজ গুলোকে সঠিক ভাবে করার ফলে, নতুন নতুন দক্ষতা গুলো শেখার ফলে,

আপনার আত্মবিশ্বাস অবশই বেড়ে যাবে।

আপনার মধ্যে থাকা লজ্জা ভাব, লুকিয়ে লুকিয়ে থাকার স্বভাব বা ভয় ভাব গুলো প্রায় নাই হয়ে আসবে।

ফলে, জীবনে আপনি নিজের ওপরে বিশ্বাস রেখে মনের জোরে কঠিন থেকে কঠিন কাজ গুলোকে করার ক্ষমতা রাখতে পারবেন।

১২. নতুন নতুন বন্ধু তৈরি হবে 

অবশই, ছাত্রজীবনে নতুন নতুন বন্ধু বান্ধব নিজে নিজেই তৈরি হতে থাকবে।

তবে, যখন আপনি একটি চাকরি করবেন তখন আপনার কিছু এমন বন্ধু তৈরি হবে যারা আপনার কলেজের সাথে কোনো সম্পর্ক রাখেনা।

নিজের কর্মস্থানের থেকে তৈরি হওয়া বন্ধুদের গুরুত্ব কিন্তু সম্পূর্ণ আলাদা।

তবে, আপনার ক্যারিয়ার এর ক্ষেত্রেও এই ধরণের বন্ধুরা অনেক সাহায্য অবশই করতে পারেন।

স্টুডেন্টদের জন্য সেরা কিছু পার্ট টাইম জব গুলো

দেখুন, যদি আপনিও ভাবছেন যে পড়াশোনা করতে করতে একটি পার্ট-টাইম জব বা চাকরি করাটা আপনার জন্যে ভালো হবে,

তাহলে, আপনি যেকোনো একটি চাকরিতে যোগ হতে পারবেন।

কারণ, যেকোনো ধরনেরি চাকরিতে আপনি কিছু নতুন অবশই শিখতে পারবেন।

তাছাড়া, আপনার যদি ভবিষ্যতে কোনো বিশেষ লাইন নিয়ে চাকরি করার মন রয়েছে,

তাহলে সেই লাইন এর সাথে জড়িত ইন্টার্নশীপ (internship) করতে পারবেন।

মনে রাখবেন, ইন্টার্নশীপ করলে কোম্পানি গুলো আপনাকে অনেক কম স্যালারি দিয়ে কাজে রাখবে।

তবে, ৫ থেকে ৬ মাসের মধ্যে আপনি ভালো মানের কাজ সেই কোম্পানি থেকে শিখতে পারবেন।

আপনাকে কোম্পানির থেকে একটি এক্সপেরিয়েন্স সার্টিফিকেট অবশই দিয়ে দেওয়া হবে।

পেয়ে যাওয়া experience certificate দেখিয়ে আপনি অন্যান্য ভালো ভালো কোম্পানি গুলোতে চাকরির আবেদন করতে পারবেন।

এখন আপনি যদি কেবল ছাত্রজীবনে টাকা আয় করার কথা ভাবছেন,

তাহলে বিভিন্ন ধরণের পার্ট-টাইম কাজ আপনি করতে পারবেন।

Best part-time jobs for students

  1. Blogging – সেরা উপায় অনলাইনে পার্ট-টাইম ইনকাম করার। একটি ব্লগ সাইট তৈরি করে তাতে বিজ্ঞাপন দেখিয়ে ইনকাম করতে পারবেন।
  2. YouTube channel – দ্বিতীয় সেরা অনলাইন ইনকাম এর উপায়।
  3. Tuition – ঘরে বসে বাচ্ছাদের পড়িয়ে ইনকাম করুন।
  4. Content writing job – বর্তমানে বিভিন্ন ওয়েবসাইট / ব্লগ গুলোর জন্যে আর্টিকেল লিখার বিভিন্ন কাজ আপনি পাবেন।
  5. Online survey jobs – অনলাইন বিভিন্ন পেইড সার্ভে ওয়েবসাইট রয়েছে যেগুলোতে কাজ করে ইনকাম করা যাবে।
  6. Part-time sales & marketing work – পার্ট-টাইম যেকোনো কোম্পানিতে তাদের প্রোডাক্ট গুলো বিক্রি করানোর কাজ করতে পারবেন।
  7. Digital marketing – আপনি ঘরে বসেই ডিজিটাল মার্কেটিং এর কাজ শিখে এই কাজ করে পার্ট-টাইম বা ফুল-টাইম ইনকাম করতে পারবেন।
  8. Food delivery – পার্ট-টাইম ফুড ডেলিভারির কাজ অবশই করতে পারবেন নিজের ছাত্রজীবনে। এই ধরণের কাজ অনেকেই করে থাকেন।
  9. Accounts – পার্ট-টাইম বিভিন্ন ছোট ছোট ফার্ম (firm) গুলোর একাউন্ট (accounts) দেখার কাজ আপনি করতে পারবেন।

তাহলে আমার হিসেবে স্টুডেন্টদের জন্য পার্ট টাইম জব হিসেবে ওপরে বলা জব গুলোই সেরা।

 

আমাদের শেষ কথা,,

তাহলে বন্ধুরা, আজকে আমরা জানলাম কেন ছাত্রজীবনে একটি পার্ট-টাইম চাকরি করাটা লাভজনক এবং কিভাবে এই সিদ্ধান্ত আপনার ক্যারিয়ার এর জন্য কাজে আসবে।

পড়াশোনা অবশই অনেক জরুরি এবং শিক্ষিত হওয়াটা প্রত্যেকেরি অধিকার।

কিন্তু, বর্তমান সময়ে কেবল শিক্ষিত হওয়াটাই ভালো ক্যারিয়ার তৈরি করার জন্য যথেষ্ট না।

শিক্ষার সাথে সাথে প্রাকটিক্যাল নলেজ (practical knowledge) কিন্তু অনেক জরুরি এবং যেটা কেবল প্রাক্টিক্যালি কাজ করে অভিজ্ঞতা নিয়ে পেতে পারবেন।

তাই, যতটা তাড়াতাড়ি একটি চাকরির সাথে নিজেকে সংযুক্ত করতে পারবেন ততটাই নতুন নতুন বিষয়ে আপনার জ্ঞান হতে থাকবে।

অবশই, আপনি চাইলে নিজের একটি ব্যবসা শুরু করতে পারবেন।

তবে, কমেও ২ বছর চাকরি করার পরামর্শ আমি অবশই দিবো।

কারণ, আমি আমার নিজের অভিজ্ঞতার থেকেই বলছি যে, চাকরি জীবনে আপনি অনেক কিছুই শিখতে পারবেন যেটা অন্য কোথাও শিখতে পারবেননা।

 

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error:
Scroll to Top
Copy link
Powered by Social Snap