ন্যাটো (NATO) কি ? ন্যাটোর সদস্য দেশ কয়টি ও কি কি

NATO কি/ন্যাটো কি (What is NATO in Bengali) ? এবং ন্যাটোর সদস্য দেশ কয়টি ও কি কি ? আজকে আমরা এই আর্টিকেলে এই বিষয়েই বিস্তারিত আলোচনা করতে চলেছি। 

ন্যাটো কি ?

ন্যাটো কি
ন্যাটো বলতে কি বুঝায় ?

প্রথম দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ভয়াবহতা মানুষ সভ্যতার ইতিহাসে সর্বাপেক্ষা বেশি কলঙ্কময় ঘটনাবলী। 

মানব সভ্যতাকে পুনরায় যাতে এই ঘৃণ্য পরিস্থিতির মুখোমুখি না হতে হয়, এই কারণেই প্রতিষ্ঠা করা হয় ন্যাটো বা NATO-এর।

আর, আজকে আমাদের এই আর্টিকেল থেকে আপনি ন্যাটো মানে কি তার ব্যাপারে বিস্তারিত তথ্যগুলো সম্পর্কে।

বর্তমানে পৃথিবীর যেকোনো দেশের শক্তির মাপকাঠি হল তার সামরিক কূটনৈতিক ক্ষমতা। 

আর, এই ক্ষমতার যথেচ্ছ ব্যবহার কিংবা অপব্যবহার করে অন্য দেশের ক্ষতিসাধন বা অনাকাঙ্খিত স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ আটকাতেই কিন্তু ন্যাটো নামক এই প্রতিষ্ঠানের পরিকল্পনা নেওয়া হয়। 

প্রথমেই জেনে নেওয়া যাক, এই NATO-এর সম্পূর্ণ নাম কি ?

ন্যাটোর সম্পূর্ণ নাম/NATO-এর পুরো নাম কী ?

NATO- নর্থ আটলান্টিক ট্রিটি অর্গানিজশন (North Atlantic Treaty Organization) 

এটি আবার নর্থ আটলান্টিক এলায়েন্স নামেও পরিচিত।

ন্যাটোর স্থাপনাকাল ও ইতিহাস:

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরবর্তী সময়ে এই ন্যাটো প্রতিষ্ঠিত হয়। 

১৯৪৯ সালের ৪ঠা এপ্রিল ইউনাইটেড স্টেটসের ওয়াশিংটনে উত্তর আটলান্টিক চুক্তি বাস্তবায়িত করা হয়। 

এই প্রতিষ্ঠানটি মূলত হল উত্তর আমেরিকা ইউরোপের বেশ কিছু দেশ নিয়ে গঠিত আন্তঃসরকারি সামরিক জোট। 

প্রথমদিকে ন্যাটোর স্থাপনা হয়েছিল ঠান্ডা লড়াই বা কোল্ড ওয়ার চলাকালীন, সোভিয়েত রাশিয়ার বিরুদ্ধে ইউনাইটেড স্টেটস, ক্যানাডা এবং অন্যান্য পশ্চিম ইউরোপীয় দেশগুলোকে যৌথ নিরাপত্তা প্রদানের উদ্দেশ্যে। 

ন্যাটোই হল মার্কিন যুক্তরাষ্টের তৈরী প্রথম শান্তিকালীন সামরিক জোট, যা যুক্তরাষ্ট্রকে পশ্চিম গোলার্ধের বাইরে কূটনৈতিক প্রবেশাধিকার দিয়েছিল। 

ন্যাটো কেন গঠিত হয় ?

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ফলস্বরূপ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সোভিয়েত রাশিয়ার মতো দুটি সামরিক দিক থেকে শক্তিশালী দেশের সৃষ্টি হয় এবং তাদের মধ্যে চলতে থাকা ঠান্ডা লড়াইয়ের ফলে রাশিয়ার শক্তি বিপজ্জনক অবস্থায় বৃদ্ধি পেতে থাকে। 

এর ফলে, সারা বিশ্বে যুদ্ধকালীন পরিস্থিতি সামলানোর জন্যেই এই প্রতিষ্ঠান তৈরির পরিকল্পনা নেওয়া হয়ে থাকে। 

এই সময় মার্কিনসহ নানান পশ্চিমী দেশ গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক মতাদর্শে দেশ শাসন করছিল। 

অপরদিকে, সোভিয়েত ইউনিয়ন বলপূর্বক সারা বিশ্বে তাদের কমুনিজম রাজনৈতিক মতাদর্শ বিস্তারে সচেষ্ট হয়েছিল। 

তাই, এই ব্যাপারে ন্যাটোর উদ্দেশ্য ছিল আগ্রাসী কমুনিজম বিস্তার থেকে ইউরোপ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক দেশগুলোকে রক্ষা করা। 

সূচনাকালে, লুক্সেমবার্গ, ইউনাইটেড স্টেটস, ইউনাইটেড কিংডম, নরওয়ে, পর্তুগাল, ইতালি, নেদারল্যান্ডস, বেলজিয়াম, কানাডা, ডেনমার্ক, ফ্রান্সসহ সর্বমোট ১২টি দেশ মিলে ন্যাটোর চুক্তি স্বাক্ষর করে এই জোটের সূচনা করে। 

নাটোর মূল দপ্তরটি বেলজিয়ামের ব্রুসেলসে অবস্থিত। 

ন্যাটোর উদ্দেশ্য:

NATO-এর প্রাথমিক লক্ষ্য হল রাজনৈতিক সামরিক দিক থেকে চুক্তিতে স্বাক্ষরিত দেশগুলোর স্বাধীনতা রক্ষা করা যথাযথ নিরাপত্তা প্রদান করা। 

মূলত, ট্রান্সআটলান্টিক সম্প্রদায়গুলোর গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ পালনে এবং নিরাপত্তা প্রদানের ক্ষেত্রে এই সংস্থা দায়বদ্ধ। 

এই প্রতিষ্ঠানটি এমনভাবেই তৈরী করা হয়েছে, যেটা স্থায়ীভাবে উত্তর আমেরিকা এবং ইউরোপের নিরাপত্তা প্রদানের ক্ষেত্রে পরস্পরের উপর নির্ভরশীল এবং একে অপরের প্রতি দায়বদ্ধ। 

ন্যাটোর বিস্তার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ব শান্তি বিস্তারের লক্ষ্যকে প্রসারিত করার পাশাপাশি একটি মুক্ত, ঐক্যবদ্ধ ইউরোপ দেশ গঠনের স্বপ্নকেও বাস্তবায়িত করতে সাহায্য করছে। 

ন্যাটোর সদস্য দেশ কয়টি ও কি কি ?

বর্তমান পরিস্থিতি অনুযায়ী ন্যাটোতে মোট ৩০টি সদস্য দেশ রয়েছে। 

উত্তর আমেরিকার ২টি দেশ, ইউরোপে মোট ২৭টি দেশ, এবং ইউরেশিয়ার ১টি দেশ হল ন্যাটোর বর্তমান সদস্য। 

সূচনাতে ন্যাটোর সদস্য সংখ্যা ছিল মোট ১২টি। 

  • ১৯৪৯ সালে যেই দেশগুলো মিলে NATO তৈরী করেছিল, সেগুলো হল বেলজিয়াম, কানাডা, ডেনমার্ক, ফ্রান্স, আইসল্যান্ড, ইতালি, লুক্সেমবার্গ, নেদারল্যান্ডস, নরওয়ে, পর্তুগাল, ইউনাইটেড কিংডম এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। 
  • ১৯৫২ সালে গ্রীস টার্কি নাটোতে যোগদান করে। 
  • জার্মানি ১৯৫৫ সালে এই জোটের সাথে যুক্ত হয়। 
  • পরবর্তীতে ১৯৮২ সালে স্পেন এই প্রতিষ্ঠানের সদস্যপদ গ্রহণ করে। 
  • ১৯৯৯ সালে হাঙ্গেরি, পোল্যান্ড, এবং চেক রিপাবলিক NATO-এর সদস্য হয়। 
  • এস্টোনিয়া, ল্যাটভিয়া, বুলগেরিয়া, রোমানিয়া, লিথুয়ানিয়া, স্লোভেনিয়া, স্লোভাকিয়া ২০০৪ সালে এই জোটের চুক্তি স্বাক্ষর করে। 
  • ক্রোয়েশিয়া এবং আলবেনিয়া ২০০৯ সালে ন্যাটোর সাথে যোগদান করে। 
  • পরবর্তীতে ২০১৭ সালে মন্টেনেগ্রো এবং সম্প্রতি নর্থ ম্যাসেডোনিয়া ২০২০ সালে এই জোটের সাথে চুক্তিবদ্ধ হয়। 

ন্যাটোর গঠন:

এই ন্যাটোর প্রধান দুটি শাখা রয়েছে, এই দুটি হল

. রাজনৈতিক শাখা

. সামরিক শাখা।  

ন্যাটো সদর দপ্তরে সকল সদস্য দেশের প্রতিনিধিরা একত্রিত হয়ে ঐক্যমত অনুসারে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্যে একত্রিত হন। 

এই সদর দপ্তরেই অংশগ্রহণকারী দেশ এবং ন্যাটো সদস্য দেশগুলোর মধ্যে আলোচনা এবং সহযোগিতার বিষয়ে কথোপকথন সারা হয়। 

তাঁদের কাজ থাকে আলোচনার মাধ্যমে শান্তি স্থিতিশীলতা এনে বিভিন্ন দেশের মধ্যে শান্তিপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখা। 

অন্যদিকে, ন্যাটোর সামরিক সংস্থার মূল প্রশাখা হল সামরিক কমিটি, যা প্রতিরক্ষা প্রধানদের সমন্বয়ে গঠিত ৷ 

এই সামরিক কমিটির অধীনে অসংখ্য ছোটবড়ো সামরিক নির্বাহী সংস্থা আছে। 

এছাড়াও, ইন্টারন্যাশনাল সামরিক স্টাফ এবং ভিন্ন মিলিটারি কম্যান্ড স্ট্রাকচারও রয়েছে ন্যাটোর। 

তাছাড়াও, সিভিল ইমার্জেন্সি প্ল্যানিং, সাইন্স এন্ড টেকনোলজি, কমিউনিকেশন ইনফরমেশন, সাপোর্ট দল এবং অন্যান্য প্রোগ্রাম অফিস বিভাগও রয়েছে। 

আসলেই, NATO-এর গঠন অনেকটা জটিল বহু সংস্থার সহযোগিতায় এই প্রতিষ্ঠান সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত হয়ে চলেছে। 

ন্যাটোর কাজ কি ?

নাটোর প্রধান কাজ হল যেকোনো দেশের দৈনন্দিন জীবনে নিরাপত্তা প্রদান করা। 

এই জোটের উদ্দেশ্য হল রাজনৈতিক সামরিক উপায়ে এই প্রতিষ্ঠানের চুক্তিবদ্ধ সদস্য দেশগুলোর স্বাধীনতা নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। 

রাজনৈতিক নিরাপত্তা:

ন্যাটো গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে সমর্থন করে। 

এই জোট তার সদস্যদের রাজনৈতিক প্রতিরক্ষা নিরাপত্তাসম্পর্কিত সমস্যা সমাধানে পরামর্শ সহযোগিতা করে, তাদের সমর্থন করে আস্থা তৈরি করে এবং দীর্ঘমেয়াদে সংঘাত প্রতিরোধ করতে চেষ্টা করে। 

যখনই তাদের কোনো একটি দেশের মতে, অন্য কোনো দেশের আঞ্চলিক অখণ্ডতা, রাজনৈতিক স্বাধীনতা বা নিরাপত্তায় সংকটের সৃষ্টি হবে, তখনই সমস্ত সদস্য দলগুলো একসঙ্গে বসে আলোচনা করে সেই সমস্যা শান্তিপূর্ণভাবে মেটানোর চেষ্টা করবে।

সামরিক নিরাপত্তা:

NATO যেকোনো দেশের মধ্যে বিরোধের শান্তিপূর্ণ সমাধানের জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। 

তবে, কূটনৈতিক প্রচেষ্টা সফল না হলে, সংকটব্যবস্থাপনা সুষ্ঠূ কার্যক্রম পরিচালনা করার সামরিক ক্ষমতা এই জোটের রয়েছে। 

এই চুক্তি অনুযায়ী, যেকোনো মিত্র দেশ বা সদস্য দেশের বিরুদ্ধে আক্রমণ করা হলে সেটা সকল সদস্য দেশেরই বিরুদ্ধে আক্রমণ হিসেবে গণ্য করা হবে। 

আর, সেক্ষেত্রে ন্যাটো সম্মিলিত প্রতিরক্ষা প্রদানে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। 

ন্যাটো কেন প্রয়োজনীয় ?

একটা  রাজনৈতিক এবং সামরিক জোট হিসাবে ন্যাটো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ প্রতিটা সদস্য দেশের জনগণের নিরাপত্তা, সমৃদ্ধি এবং স্বাধীনতায় রক্ষায় সরাসরি অবদান রাখে। 

এই প্রতিষ্ঠান গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রচার করে এবং গণতান্ত্রিক দেশগুলোর অধিকার রক্ষায় সর্বদা সজাগ থাকে। 

এছাড়াও, গত দুই দশকে, ন্যাটো ইউরোআটলান্টিক অঞ্চল থেকে শুরু করে, ভূমধ্যসাগর এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর সাথে বিশ্বজুড়ে অন্যান্য অংশীদারী দেশদের সাথে ব্যক্তিগত সম্পর্কের পাশাপাশি একটা কাঠামোগত অংশীদারিত্বের সংযোগ স্থাপন করেছে৷ 

এই জোট বিভিন্ন দেশের মধ্যে আস্থা তৈরি করতে এবং দীর্ঘমেয়াদে সংঘাত প্রতিরোধ করতে প্রতিরক্ষা নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়ে পরামর্শ সহযোগিতা প্রদান করে থাকে। 

যা পৃথিবীকে অনেকবার যুদ্ধকালীন পরিস্থিতি থেকে উদ্ধার করতে সাহায্য করেছে। 

ন্যাটো কতটা শক্তিশালী ?

ন্যাটোর জোটকে পৃথিবীর সবচেয়ে শক্তিশালী জোট হিসেবে মনে করা হয়। 

তবে, এই জোট কোনো পরিকল্পনাকে বাস্তবায়িত করতে তার ৩০টি সদস্য দেশগুলোর মতামতের উপর নির্ভর করতে হয়। 

এই জোটের মাধ্যমে সমস্ত কর্মচারীরা যেকোনো একটি বিশেষ উদ্দেশ্য পূরণের জন্য ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করে। 

তবে, এই জোটের নিজস্ব সশস্ত্র বাহিনী নেই। 

তা সত্ত্বেও, ন্যাটোর একটা স্থায়ী একীভূত সামরিক কমান্ড কাঠামোর ব্যবস্থা রয়েছে। 

এই কাঠামোর পরিচালনা অনুসারেই বেসামরিক এবং সমস্ত সদস্য রাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী একসাথে কাজ করে থাকে যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে।

তবে কোনো ক্ষেত্রেই ন্যাটোর তরফ থেকে কোনো সেনাবাহিনী থাকতে পারে না। 

যেহেতু, প্রতিটা সদস্য দেশের সামরিক সক্ষমতা অন্তর্ভুক্ত থাকায় ন্যাটো প্রয়োজনে এই সমস্ত দেশের সামরিক ক্ষমতার অধিকার পেতে পারে। 

কারণ কমবেশি সমস্ত দেশেরই নিজস্ব সামরিক ক্ষমতা রয়েছে। যেগুলো জরুরি অবস্থায় ন্যাটোর ব্যবহার করার অধিকার রয়েছে।

১৯৪৯ সাল থেকেই ন্যাটো তার সামরিক শক্তি দ্বারা আবদ্ধ। 

এই কারণেই বর্তমানে প্রায় কোটি কোটি সৈন্য, কর্মী এবং বেসামরিক নাগরিক এই ন্যাটোর সাথে পরোক্ষভাবে যুক্ত রয়েছে। 

জোটবদ্ধ হওয়ার কারণে সমস্ত সদস্য দেশ অবশ্যই কোন না কোন উপায়ে কূটনৈতিক বা সামরিক ক্ষেত্রে কোনো না কোনো অবদান রাখে। 

আর, ন্যাটোর সমস্ত মিশন SACEUR-এর নেতৃত্বে ACO দ্বারা পরিচালিত হয়। 

সুপ্রিম অ্যালাইড কমান্ডার ইউরোপ (SACEUR) সমস্ত দেশের বাহিনীকে সমন্বয় করে তাদের পরিচালিত করে থাকে। 

যে কোন মিশন বা অপারেশন শেষ হলে এই সমস্ত বাহিনী নিজেদের দেশে ফিরে যায়।

তাই, সমস্ত বিষয় পর্যালোচনা করলে দেখা যায় যে,

ইউরোপ, আমেরিকা ইউরেশিয়ার বিভিন্ন দেশের সাথে মিত্রতা বজায় রাখার দরুন ন্যাটো প্রত্যক্ষভাবে সামরিক রাজনৈতিক ক্ষমতার অধিকারী না হলেও, কোনো না কোনোভাবে যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে ন্যাটো যথেষ্ট ক্ষমতা বজায় রেখে চলে। 

ন্যাটো কি (what is NATO in Bangla), NATO এর পুরো নাম কী ইত্যাদি ন্যাটো নিয়ে লেখা আমাদের আজকের এই আর্টিকেলটি এখানেই শেষ হল। 

লেখাটি পড়ে ভালোলাগলে অবশ্যই তা কমেন্টের মাধ্যমে জানাবেন।

এছাড়া, আর্টিকেলটি ভালো লেগে থাকলে, অবশই সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করবেন।

 

Leave a Comment

Your email address will not be published.

Scroll to Top