উদ্যোক্তা কাকে বলে | সফল উদ্যোক্তা হতে করণীয় গুলো

উদ্যোক্তা কাকে বলে (entrepreneur meaning in Bengali) ? সফল উদ্যোক্তা হতে করণীয় কি বা কি কি করতে হবে ? আজকের আর্টিকেলের মাধ্যমে আমরা এই বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করতে চলেছি। এছাড়া, একজন সফল উদ্যোক্তার বৈশিষ্ট্য গুলো নিয়েও আমরা এই আর্টিকেলে আলোচনা করবো। 

উদ্যোক্তা কাকে বলে
উদ্যোক্তা বলতে কি বুঝায় ?

বর্তমানে স্টার্টআপ কিংবা নতুন স্মল বা মিডিয়াম০স্কেল ব্যবসার রমরমা উত্তরোত্তর বাড়ছে। 

মানুষ ৯-৫ চাকরির পরিবর্তে নিজের ব্যবসার সেটআপ করার ঝুঁকি নিতে শিখছে। 

আর, এই সময়ে অন্ত্রপ্রেনিউয়র কিংবা উদ্যোক্তা শব্দটি মানুষের মাঝে খুবই জনপ্রিয় হচ্ছে।

আজকে আমাদের এই আর্টিকেলে আমরা আলোচনা করবো, উদ্যোক্তা কি, এর বৈশিষ্ট্য বা গুণাবলী সম্পর্কে।

প্রথমে আমরা জানি, অন্ত্রপ্রেনিউর বা উদ্যোক্তা বলতে কি বুঝায় ?

উদ্যোক্তা কাকে বলে (What is entrepreneur in Bengali) ?

উদ্যোক্তা হলেন এমন একজন ব্যক্তি, যিনি কোনো নতুন ব্যবসা তৈরি করে, অত্যন্ত ঝুঁকি বহন করে, নিজের ব্যবসা থেকে মুনাফা লাভ করতে চান। 

আর, এই ব্যবসা স্থাপনের প্রক্রিয়াকেই বলা হয়ে থাকে অন্ত্রপ্রোনিউরশিপ বা শিল্পোদ্যোগ 

যেকোনো উদ্যোক্তাকেই প্রধানত একজন উদ্ভাবক, নতুন ধারণার জনক কিংবা নতুন পণ্য, পরিষেবা ও ব্যবসা/পদ্ধতির সৃষ্টিকারী হিসেবে গণ্য করা হয়।  

যেকোনো দেশের অর্থনীতিতেই এই উদ্যোক্তারা যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়ে থাকে।

এরা নিজেদের প্রয়োজনীয় দক্ষতা ও উদ্যোগের সাহায্যে নিজস্ব পণ্য বা পরিষেবার প্রয়োজনীয়তা সঠিকভাবে অনুমান করে- মার্কেটে ভালো, কার্যকরী ও নতুন ধারণা নিয়ে আসে। 

যেসব উদ্যোক্তারা নিজেদের স্টার্টআপ তৈরির ঝুঁকি নিতে সফল হয়, তাদের প্রাপ্য লাভ, খ্যাতি ও নিশ্চিত বৃদ্ধির সুযোগ দিয়ে পুরস্কৃত করা হয়।

আর, অন্যদিকে যেসব উদ্যোক্তারা ব্যর্থ হয়, তাদের ক্ষতি হতে হতে ধীরে ধীরে তাদের প্রসার মার্কেটে ক্রমশ কমতে থাকে।

তাহলে আশা করছি, উদ্যোক্তা মানে কি বা উদ্যোক্তা কাকে বলে বিষয়টা বুঝতেই পেরেছেন হয়তো।

উদ্যোক্তাদের মূল চরিত্র:

– যখন কোনো ব্যক্তি, কোনো নতুন ব্যবসার উদ্যোগ নিয়ে ঝুঁকি নেয়, সেই ব্যক্তিই হল উদ্যোগপতি।

– ফরাসি শব্দ ‘entendre’ যার অর্থ ‘to undertake’ বা গ্রহণ করা থেকে এসছে ‘entrepreneur‘ কথাটি।

– উদ্যোক্তারা তাদের ধারণা সম্পাদন করার জন্য একটা ফার্ম নির্মাণ করে। যেটা তাদেরকে উদ্যোগপতি হিসাবে পরিচিত দেয়, যারা মুনাফার জন্য পণ্য বা পরিষেবা উৎপাদনের উদ্দেশ্যে মূলধন ও শ্রমকে সম্পূর্ণভাবে একত্রিত করে।

– শিল্পোদ্যোগ আসলেই অনেক ঝুঁকিপূর্ণ। তবে, ঝুঁকি নেওয়ার ক্ষমতা থাকলে, এই উদ্যোগ অত্যন্ত ফলপ্রসূও হতে পারে। কারণ, এই অনন্য ব্যবসায়ী উদ্যোগগুলো উদ্যোক্তাদের অর্থনৈতিক সম্পদ বৃদ্ধি ও উদ্ভাবনের ব্যাপক সুযোগ দেয়।

– মূলধনের উৎস নিশ্চিত করা উদ্যোক্তাদের জন্য অত্যন্তই জরুরি; যথা- বিভিন্ন অর্থায়নের সংস্থান যেমন- স্মল বিসনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (SBA) কিংবা ক্রাউডফান্ডিং দ্বারা তারা ঋণ সংগ্রহ করে থাকে।

– উদ্যোক্তারা যেভাবে কর দাখিল ও পে করেন, তার উপর নির্ভর করে তাদের ব্যবসার সেটআপের ধরণ ও কাঠামো নির্মিত হয়।

সফল উদ্যোক্তার বৈশিষ্ট্য:

উদ্যোগপতিদের উদ্ভাবনী ব্যবসার সুযোগ তৈরী ও পরিবর্তন আনার প্রতি প্রবল ইচ্ছা থাকে। 

তবে, এদের কোনো নির্দিষ্ট চারিত্রিক ব্যক্তিত্বও থাকতে পারে, আর তা সব ধরনের পটভূমি থেকেও আসতে পারে। 

একজন ছোট ব্যবসার মালিককে সফল উদ্যোগপতি হওয়ার জন্য যেসব চরিত্রের অধিকারী হতে হয়,

সেগুলো হল-

১. প্রেরণা:

সবচেয়ে সফল স্টার্টআপ উদ্যোক্তা সব সময়েই প্রেরণা দ্বারা চালিত হয়। 

এই প্রেরণা তাদের সর্বদা নতুন কিছু করতে, বেশি করে পরিশ্রম করতে ও কার্যতভাবে একটানা কাজ করে যেতে উদ্বুদ্ধ করে।

এর ফলে, তারা অবিরামভাবে ভালো পারফর্ম করতে অনুপ্রাণিত হতে থাকে। 

নিজস্বভাবে অনুপ্রাণিত হওয়ার সাথে-সাথে, তাদের উচ্চাশাগুলো পূরণ করতে ও নতুন সুযোগগুলো বের করতে কীভাবে অন্যদের উদ্বুদ্ধ করলে তার থেকে আশানুরূপ ফল পাওয়া যায় তারা সেটাও জানে। 

অনুপ্রাণিত থাকার জন্য দরকার, বিরামহীন চালিকা শক্তি ও যথেষ্ট পুরষ্কারের প্রতিশ্রুতি- যা মহান উদ্যোক্তাদের কঠোর পরিশ্রমের মূল্য হিসেবে পরিচিত হয়।

২. স্থিরমতিসম্পন্ন:

অনেক সফল উদ্যোক্তারাই ব্যর্থ হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে।

তবে, তার মানে এই নয় যে, অল্পতেই তারা হাল ছেড়ে দেয়। 

বরং, তারা ব্যর্থতাকে শেখার ও বৃদ্ধির সুযোগ হিসেবে দেখে থাকে।

সম্পূর্ণ শিল্পোদ্যোগের প্রক্রিয়ায়, অনেক অনুমান ভুল হয়েই থাকে আর তখন অনেক উদ্যোগই সম্পূর্ণরূপে ব্যর্থও হতে পারে। 

এই কারণেই, একজন উদ্যোক্তার সফলতার পিছনে থাকে- তাদের ভুলগুলো থেকে শিখে, শান্ত মাথায় অভীষ্ট লক্ষ্যে না পৌঁছনো পর্যন্ত তাদের ধরে রাখা অবিরাম মানসিক জোর।

৩. কৌতূহল:

সফল উদ্যোক্তাদের স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যের মধ্যে অন্যতম হল তাদের কৌতূহলের অনুভূতি।

উদ্যোক্তার মধ্যে থাকা কৌতূহলী চিন্তাভাবনা তাদের ক্রমাগত নতুন সুযোগ খোঁজার জন্যে প্রেরণা দেয়। 

যতই অভিজ্ঞ হোক না কেন, তারা নিজেদেরকে সবসময় চ্যালেঞ্জিং প্রশ্ন করতে ও  নানান উপায় খুঁজে বের করতে পছন্দ করে।

বলা হয়ে থাকে যে, উদ্যোক্তাদের কৌতূহলকে তাদের নতুন নতুন উদ্ভাবনের প্রক্রিয়া হিসাবে বর্ণনা করা হয়৷ 

কৌতূহল ছাড়া কোনো উদ্যোক্তাই তার অভীষ্ট লক্ষ্য অর্জন করতে পারে না৷

৪. দূরদর্শিতা:

যে সকল উদ্যোক্তারা আসলেই নতুন ব্যবসার জন্ম দিচ্ছে, তাদের নিজেদের থেকেই একটা দূরদর্শিতা বোধ থাকে।

কিভাবে তারা কোম্পানির শিল্প পরিবর্তন করবে, কিভাবে তাদের গ্রাহকদের সাথে সম্পর্ক উন্নত করবে, কিংবা তাদের পণ্য-পরিষেবার মাধ্যমে কিভাবে গ্রাহকদের জীবনে উন্নতি আনতে পারবে- সমস্ত বিষয়েই তারা দূরদর্শিতা দেখিয়ে থাকেন।

অর্থাৎ, আপনি যে পণ্য-পরিষেবাই বাজারে নিয়ে আসুন না কেন, একজন উদ্যোক্তা হিসেবে আপনার পরিষেবা সম্পর্কে দূরদর্শিতা থাকাটা একান্তই গুরুত্বপূর্ণ।

৫. সৃজনশীলতা:

যেসব শিল্পোদ্যোগ সফল হয়, সেসব উদ্যোগের পিছনে থাকে উদ্যোক্তাদের অনন্য সৃজনশীলতা। 

এখনকার চরম প্রতিযোগিতামূলক বাজারে, উদ্যোক্তাদের সৃজনশীলতা নিয়ে যথেষ্ট মাথা ঘামাতেই হয়; যাতে তাদের কোম্পানী অন্যদের তুলনায় আলাদাভাবে উপস্থাপিত হতে পারে।

সৃজনশীলতার অর্থ অনন্য ব্যবসায়িক ধারনা নিয়ে চিন্তা করা।

একটি সমস্যা সমাধানের জন্য সম্পর্কহীন ধারণার মধ্যেও সম্পর্ক খুঁজে বের করে সমাধান বার করাই তাদের মূল লক্ষ্য থাকে। 

এইসব  উদ্যোক্তারা সম্ভাবনা বিবেচনা করে নিত্যনতুন সমাধান বার করাতে বিশ্বাসী।

৬. নেতৃত্বদানের ক্ষমতা:

যেকোনো উদ্যোক্তার মধ্যে যে বৈশিষ্ট্যগুলো থাকা একান্তই জরুরি তার মধ্যে অন্যতম হল নেতৃত্বদানের ক্ষমতা থাকা। 

এখানে উদ্যোক্তাই তার ব্যবসার উদ্ভাবক, প্রধান, ও টিমের ম্যানেজার হিসেবে কাজ করে।

এখানে অন্ত্রপ্রনিউরদেরকেই তাদের দলকে অসামান্য নেতৃত্বদানের ক্ষমতা দিয়ে এগিয়ে নিয়ে যেতে হয়। 

বিনিয়োগকারীদের সন্তুষ্ট করা থেকে শুরু করে প্রেসের সাথে কথা বলার সময়েও, যথেষ্ট নেতৃত্বমূলক মনোভাব রাখতে হয়।

নতুন ব্যবসায়িক সম্ভাবনা তৈরি করতে ও ব্যবসার মুখ হিসাবে অনুগামীদের একটা দল তৈরি করাও জরুরি।

৭. শিক্ষা গ্রহণের ক্ষমতা:

উদ্যোক্তারা নতুন জিনিস জানতে বা শিখতে সবসময়েই আগ্রহী থাকে।

কারণ, তারা জানেন যে, পরিস্থিতিকে সম্পূর্ণভাবে না জানলে ব্যবসা তৈরি করা ও ধরে রাখা মুশকিল। 

কিংবা, নতুন পদ্ধতি ব্যবহার করে পণ্য ও পরিষেবাগুলোকে উন্নত করতে না পারলে, তাদের ব্যবসার ক্ষতি হতে পারে।

তাই, উদ্যোক্তারা সর্বদাই কিছু-না-কিছু শিখতেই থাকে।

৮. ঝুঁকি সম্পর্কে ধৈর্যবান:

ঝুঁকি নিতে না জানলে, কেউই উদ্যোগপতি হয়ে উঠতেই পারে না।

তাই, কোনো ব্যবসার সফলতা লাভের আগে ব্যর্থ হতেই পারে। 

আর, একজন সফল উদ্যোক্তা নিজের ঝুঁকির ব্যাপারে সবসময় জেনেই ব্যবসাতে এগোয়।

যদিও অগণিত ঝুঁকি ভয়ানক ক্ষতির কারণ হতে পারে, কিন্তু ক্যাল্কুলেটেড ঝুঁকি, একটা নতুন ব্যবসায়িক উদ্যোগের ক্ষেত্রে ভালো ফল দিতে পারে।

৯. মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা:

ব্যবসার প্রকৃতি সবসময়েই পরিবর্তনসাপেক্ষ।

শিল্পোদ্যোগ হল এক ধরণের পুনরাবৃত্তিমূলক প্রক্রিয়া, যেখানে নিত্যনতুন চ্যালেঞ্জ ও সুযোগ আসতেই থাকে। 

এই নতুন পরিবর্তনগুলোর জন্যে সবসময়েই প্রস্তুত থাকা প্রায়শই অসম্ভব হয়ে পড়ে। 

কিন্তু, একজন সফল উদ্যোগপতি হতে চাইলে, আপনাকে এই পরিস্থিতিগুলো মানিয়ে নিয়েই চলতে হবে।

উদ্যোক্তাদের যেকোনো পরিস্থিতির মূল্যায়ন করতে হয় ও ব্যবসার উন্নতির কথা মাথায় রেখেই সর্বদা নমনীয় থাকতে হয়।

১০. সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা:

প্রতিটি সিদ্ধান্তেরই একটা ভালো বা খারাপ পরিণতি থাকে। 

আর, সময়ের সঙ্গে সেই পরিণতিগুলো বাস্তবতার রূপ নেয়। 

সফল উদ্যোক্তারা সমস্ত পরিস্থিতির ব্যাপারে ভেবে-চিন্তে সম্ভাব্য দীর্ঘ ও স্বল্পমেয়াদী প্রভাবগুলোকে শনাক্ত করেই কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। 

এমনকি, তারা পরামর্শ নিতেও ভোলে না।

১১. নেটওয়ার্ক নির্মাণের ক্ষমতা:

কোনো গ্রাহকই নতুন পণ্য বা পরিষেবা ব্যবহার করতে এক চান্সেই রাজি হয়ে যাবে না। 

এমনকি, অনেকেই আছে, যারা অনেক ভালো-ভালো তথ্যের পরেও, সেই পণ্য বা পরিষেবা গ্রহণ করে না। 

তখনই উদ্যোক্তাদের নেটওয়ার্ক কাজে লাগে। 

কেবলমাত্র, ক্লায়েন্টদের খুঁজতেই নয়, বরং অন্যদের সাথে দেখা ও কথোপকথনের মাধ্যমে, তাদের আবেগ ও আকাঙ্ক্ষার ব্যাপারে জেনে নিয়ে উদ্যোগপতিরা নিজের ব্যবসার নেটওয়ার্ক বাড়াতে থাকে।

১২. ব্যর্থতা মেনে নেওয়ার ক্ষমতা:

এমন উদ্যোক্তা খুঁজে পাওয়াই দুষ্কর, যারা বড় বা ছোট কোনো ব্যর্থতার মধ্যে দিয়েই যায়নি। 

আসলে, তারা জানে যে, ব্যর্থতা হল শুধুমাত্র ব্যবসার শেষ নয়, বরং সফলতার দিকে এগিয়ে যাওয়ার সিঁড়ি।

তাই, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তারা ব্যর্থতার ফলে, হাল ছেড়ে দেওয়ার পরিবর্তে দীর্ঘকাল ধরে চেষ্টা করতে থাকে সফলতা পাওয়ার জন্যে।

সফল উদ্যোক্তার গুনাবলী । সফল উদ্যোক্তা হতে করণীয়

একজন সফল উদ্যোক্তার মধ্যে এইসব গুণাবলী বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই থাকা দরকার।

এছাড়া, যদি আপনি একজন সফল উদ্যোক্তা হতে চাইছেন, তাহলে আপনার মধ্যে এই গুন গুলো থাকাটা অত্যন্ত জরুরি।

১. পেশাদারিত্ব:

পেশাদারিত্ব তৈরি হয় ভরসা, নিয়মশৃঙ্খলা ও সুসম্পর্ক তৈরির মাধ্যমে।

একজন সফল উদ্যোক্তা স্বভাবিকভাবেই পেশাদারি স্বভাবের অধিকারী হয়ে থাকে। 

তারা ভোক্তা, কর্মচারী ও বিনিয়োগকারীদের সাথে পেশাগত সুসম্পর্ক রেখে চলতে বিশ্বাসী।

২. যোগাযোগের ক্ষমতা:

যেকোনো উদ্যোগপতির চরিত্রের বড় গুণ হল তার সামাজিক ও যোগাযোগ নির্মাণের চরম দক্ষতা।

তা নেতৃত্ব দেওয়া, বক্তৃতা দেওয়া হোক কিংবা জনমত গঠন হোক- সব কিছুতেই একজন ভালো ব্যবসায়ী উন্নত কমুনিকেশন স্কিলের অধিকারী হয়। 

তারা যথযথভাবে সম্পর্ক গঠন, টীম স্ট্র্যাটিজি তৈরী ও কর্মী নিয়োগে অতিমাত্রায় পারদর্শী হয়ে থাকে।

৩. প্যাশন:

ব্যবসাই একজন উদ্যোগপতির কাছে সবথেকে বড় প্যাশন বা নেশা।

আর, আমাদের নেশাই আমাদেরকে কোনো কিছু অর্জন করার পথে চালিত করে। 

তাই, উদ্যোগপতিদের সফলতার পিছনে ব্যাপকভাবে কাজ করে তাদের প্যাশন।

যা তাদের অক্লান্ত পরিশ্রম করার অনুপ্রেরণা যোগায়।

৪. জ্ঞান:

জ্ঞানই হল একজন উদ্যোক্তার সাফল্যের চাবিকাঠি।

তাকে তার নিশ বা শিল্প সম্পর্কে সম্পূর্ণ জ্ঞান রাখা বাধ্যতমূলক। 

কারণ, একমাত্র জ্ঞানই কোনো সমস্যার সমাধানের মোকাবিলা করার হাতিয়ার হয়ে উঠতে পারে।

আর, একজন সফল উদ্যোক্তা সর্বদাই তার জ্ঞান বৃদ্ধি প্রচেষ্টা চালিয়ে যায়, ঠিক একজন যোগ্য শিক্ষার্থীর মতো। 

তাই, যত জ্ঞান বাড়তে থাকে, ততই উদ্যোক্তারা তাদের ব্যবসাকে সাফল্যতার সাথে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে।

৫. উদারতা:

একজন উদ্যোগপতির অন্যতম সেরা গুণগুলোর মধ্যে একটি হল সর্বদা উদার মন রাখা।

মন উদার না থাকলে সমালোচনা বা নতুন তথ্য থেকে শেখার ক্ষমতা হারিয়ে যায়।

তাই, শিক্ষা গ্রহণ ও জ্ঞান বৃদ্ধির মাধ্যমে যাতে ব্যবসায়ে আরও উন্নতি ঘটে, এই কারণেই তারা সবসময় উদার মন নিয়ে মেশে, কথা বলে ও শোনে।

৬. সহানুভূতি:

সহানুভূতির অর্থ হল অন্যের মনের হদিশ রাখা- যেটাকে একজন উদ্যোগপতির বিশেষ দক্ষতা হিসেবে ধরা হয়।

আর, একজন বুদ্ধিমান উদ্যোক্তা তার অধীনস্থ সমস্ত কর্মচারীর শক্তি ও দুর্বলতার কথা জানে। 

তাদের এই শক্তি ও দুর্বলতার কথা জানা থাকলে, তাদের সন্তুষ্ট করা যেমন সহজ হয়, তেমনই তাদের খুশি রাখলে, ব্যবসার ক্ষেত্রেও তাদের উৎপাদন ক্ষমতাও বেড়ে যায়, যার ফলে সামগ্রিকভাবে ব্যবসারই উন্নতি ঘটে।

৭. ভোক্তার প্রতি সম্মান:

একজন ভালো উদ্যোক্তা সবসময়েই তার গ্রাহকদের প্রতি সম্মান দেয় ও তাদের দৃষ্টি আকর্ষণের কৌশল জানে।

এই দৃষ্টি আকর্ষণের কাজটি করা হয়, বিপণন ও বিজ্ঞাপনের মতো মাধ্যম ব্যবহার করে। 

আর, গ্রাহকদের চাহিদার প্রতি আগ্রহী থাকাও একজন উদ্যোগপতির প্রধান গুণের মধ্যে পড়ে।

৮. সুযোগ বোঝার ক্ষমতা:

ব্যবসার ক্ষেত্রে সুযোগই কিন্তু এনে দিতে পারে সাফল্য, আর একজন উদ্যোক্তা সঠিকভাবে সেই সুযোগগুলো চিনে নিতে পারার ক্ষমতা রাখে।

আমাদের জীবনে প্রতিনিয়তই নানান সুযোগ আসতে থাকে, তবে বেশিরভাগই সময়েই আমরা সেই সুযোগগুলোকে চিনতে বিভ্রান্ত বোধ করি। 

উল্টে, আমাদের চোখে সেগুলো সমস্যা হিসেবে দেখা দিলেও, একজন সফল উদ্যোক্তা সেই সমস্যাগুলোকেই সুযোগে পরিণত করে ব্যবসার অগ্রগতি ঘটায়।

৯. উদ্যোগ:

সফল উদ্যোক্তার অন্যতম গুণের মধ্যে রয়েছে তার আত্মবিশ্বাস।

সে জানে যে, কেবলমাত্র সুযোগ এলেই তো হল না, বরং সেই সুযোগকে উদ্যোগে পরিণত না করা পর্যন্ত তারা নিরন্তর চেষ্টা করতে থাকে। 

আর, তারা সক্রিয় ও স্বাধীনভাবে যেকোনো সমস্যা সমাধান করে থাকে, অন্যদের কোনোরকম সাহায্য ছাড়াই।

আমাদের শেষ কথা,,

আমাদের আজকের উদ্যোক্তা নিয়ে লেখা আর্টিকেলটি এখানেই শেষ হল। 

উদ্যোক্তা কাকে বলে (what is entrepreneurship in Bengali) নিয়ে লিখা আর্টিকেলটি পছন্দ হলে অবশ্যই তা কমেন্টের মাধ্যমে জানাবেন।

এছাড়া, সফল উদ্যোক্তা হতে করণীয়, সফল উদ্যোক্তার বৈশিষ্ট্য এবং গুনাবলী নিয়ে আমরা আজ অনেক কিছুই আলোচনা করলাম। 

তাই, আর্টিকেলের সাথে জড়িত কোনো ধরণের প্রশ্ন বা পরামর্শ থাকলে নিচে কমেন্ট করে অবশই জানিয়ে দিতে পারবেন।

 

Leave a Comment

Your email address will not be published.

Scroll to Top
Copy link
Powered by Social Snap