বারকোড কি – Barcode meaning in Bengali

বারকোড কি (what is barcode in Bengali), বার কোড বলতে কি বুঝায় (barcode meaning in Bengali), আজকের আর্টিকেলের মাধ্যমে আমরা এই বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য গ্রহণ করতে চলেছি।

বারকোড কি
বারকোড কাকে বলে ? মানে কি ?

এই ডিজিটাল যুগে বারকোডের ব্যবহার ব্যাপকভাবে জনপ্রিয়। ব্যবসার ক্ষেত্রেও বারকোডের ব্যবহার বহুলভাবে প্রচলিতও বটে।

বারকোডকে দেখতে অনেকটা কালো-সাদা সমান্তরাল রেখার সমষ্টির মতো লাগে। 

আর, সেই সরলরেখাগুলোর মাঝে থাকে নির্দিষ্ট ফাঁকা অংশ।

আসলে, এখন প্রশ্ন হল, কি এই বারকোড জিনিসটা আর এর কাজই বা কি। 

তাই, আমাদের এই আর্টিকেলের চর্চার মূল বিষয়ই হল আসলে বার কোড কি ?

বারকোড কি – (What Is Barcode In Bengali) 

প্রকৃত অর্থে এই বারকোড হল মেশিনের দ্বারা পাঠযোগ্য নিউমেরিক ক্যারেক্টার দিয়ে তৈরী তথ্য সঞ্চয়ের ভিসুয়াল পদ্ধতি। 

বারকোড তৈরী হয় সরলরেখা ও ফাঁকা জায়গা বা স্পেসের সমন্বয়ে। 

বারকোডে সংখ্যা ও বর্ণের (alphabet) সংযোগে কোনো পণ্যের বর্ণনা ও মূল্য তথ্যের আকারে প্রকাশ করা হয়ে থাকে।

যেহেতু, এই বারকোড কেবলমাত্র লাইন ও স্পেসের সংযোগে তৈরি হয়, তাই আমরা একে দ্বিমাত্রিক কোডও বলে থাকি।

মূলত, এই কোডগুলো বর্গাকার বা আয়তক্ষেত্রাকার হয়ে থাকে। কোডগুলোর কাজ হল কোনো বস্তুর সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য কোডের মাধ্যমে রেখে দেওয়া। 

কোড গুলোতে কোনো পণ্য বা বস্তুর বিষয়ে কিছু তথ্য স্টোর করে রাখা হয় এবং সেই তথ্য গুলো একটি কম্পিউটার সহজেই পড়তে পারে।

এই ধরণের কোডগুলো হল মূলত মোর্স কোডের উন্নততর সংস্করণ। 

দ্বিমাত্রিক বারকোডগুলো আমরা শ্যাম্পুর কৌটো থেকে শুরু করে জামাকাপড়, বিস্কুটের প্যাকেট ও আরও অন্যান্য জায়গাতে দেখে থাকি। 

বর্তমানে আমাদের জীবনের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে রয়েছে এই বার কোডগুলো।

ইতিহাসে বারকোড: (History Of Barcode)

মোর্স কোডের দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়ে বার্নার্ড সিলভার ও নরম্যান জোসেফ ১৯৪৮ সালে বারকোডের আবিষ্কার করেন। 

মোর্স কোডের লাইনগুলোকে সরু ও মোটা লাইনের সংমিশ্রণে তৈরী করে বারকোডের রূপ দেওয়া হয়। 

এই দ্বিমাত্রিক কোডের ব্যবহার শিল্প ক্ষেত্রে প্রথম দেখা যায় মার্কিন রেলপথ সংগঠনে ১৯৬০ সালে।

রেলগাড়িগুলোর সামনে ও পিছনে  বারকোড প্লেটগুলো লাগিয়ে দেওয়া হতো। 

সেখান থেকে সেই গাড়ির ধরণ, মালিকানা ও সহজ শনাক্তকরণের জন্যে তথ্য দেওয়া থাকতো বারকোডের আকারে। 

আর এই প্লেটগুলোর কোড পড়ার জন্যে রাখা থাকতো একটা করে ট্রাকসাইড স্ক্যানার যন্ত্র। 

যদিও, বাণিজ্যিকভাবে বারকোডের ব্যবহার শুরু হতে অনেক বছর লেগে গেছিলো। 

১৯৭৪ সালে সর্বপ্রথম রাইগলি চিউইংগামের প্যাকেটে বাণিজ্যিকভাবে বারকোডের ব্যবহার প্রচলিত হয়। 

বর্তমানে, প্রায় সমস্ত সুপারমার্কেট গুলোতে বা শপিং মলে এই বারকোড ব্যবহার করেই স্বয়ংক্রিয় চেকআউটের ব্যবস্থা করা হয়ে থাকে।

অটোমেটিক তথ্য সংগ্রহ ও শনাক্তকরণের ক্ষেত্রে এই কোডগুলোর মতো সোজা, সার্বজনীন ও অল্প খরচের কোড আর কোনো কিছুই হতে পারে না। 

এই কারণেই বারকোড সিস্টেম ব্যবসার জগতে অত্যন্ত জনপ্রিয় ও বহুল প্রচলিত। 

বারকোড স্ক্যানার বা বারকোড রিডার কি ?

যেহেতু, বারকোড হল সমান্তরাল রেখার সমষ্টি। আর এই রেখার সমষ্টিগুলো সাধারণভাবে চোখে দেখে অর্থ বোঝার ক্ষমতা মানুষের নেই। 

সেই কারণেই, এই বারকোডগুলো পড়তে বা বুঝতে যে যন্ত্রগুলো ব্যবহার করা হয়, সেগুলোই হল বারকোড রিডার বা স্ক্যানার। 

এই যন্ত্রগুলো আবার প্রাইস স্ক্যানার বা পয়েন্ট-অফ-সেল স্ক্যানার নামেও পরিচিত।

আর, এই যন্ত্রগুলিতে থাকে অপটিক্যাল স্ক্যানার। 

এই স্ক্যানার অপটিক্যাল কম্পনগুলোকে লেন্স ও আলোর উৎসের সাহায্যে ইলেকট্রিক সিগনালে পরিণত করে। 

এই কোডগুলোর কালো অংশগুলোতে স্বাভাবিক নিয়মেই কম আলো প্রতিফলিত হয় এবং সাদা অংশগুলো থেকে বেশি আলো প্রতিফলিত হয়। 

এর ফলে স্ক্যানারগুলো বারকোডের উপরে পড়া আলোক শক্তিগুলোকে আলোর কম-বেশি প্রতিফলনের মাত্রা অনুযায়ী ইলেকট্রিক শক্তিতে পরিণত করে কম্পিউটার যন্ত্রে পাঠিয়ে দেয়। 

আর ঠিক এইভাবেই স্ক্যানারের সাহায্যে আমরা বারকোডের তথ্যগুলো পড়ে থাকি। 

ব্যবসার ক্ষেত্রে চাহিদা অনুযায়ী নানান ধরণের বারকোড স্ক্যানার যন্ত্র পাওয়া যায়। 

এই যন্ত্রগুলোর মধ্যে জনপ্রিয় কতগুলো স্ক্যানার হল পেন ওয়ান্ডস, স্লট স্ক্যানার, চার্জড কাপল ডিভাইস স্ক্যানার, ইমেজ স্ক্যানার এবং লেসার স্ক্যানার। 

এই সময়ে দাঁড়িয়ে আপনি আমরা স্মার্টফোন থেকেই বারকোড রিডিং করতে পারবেন। 

এছাড়াও, বিভিন্ন বারকোড রিডার এপ্লিকেশন রয়েছে, যাতে করে আপনি আপনার মোবাইল থেকেই বারকোড পড়তে পারবেন। 

বারকোড কিভাবে কাজ করে ? (How Does Barcode Work?)

বারকোড হিসেবে আমরা যে লাইন ও স্পেসের প্যাটার্নগুলো দেখি, সেগুলো আসলে হল কোনো তথ্য সমষ্টির উপস্থাপনা, যা পূর্ব-প্রতিষ্ঠিত গাণিতিক পরিভাষা বা আলগোরিদম বা কম্পিউটার দ্বারা বোধগম্য ল্যাঙ্গুয়েজ বা ভাষাতে তৈরী করা হয়ে থাকে। 

যখনই আমরা ওই লাইন আর স্পেসগুলোকে স্ক্যানারের সাহায্যে স্ক্যান করি, তখনই আমরা আমাদের নিজেদের বোধগম্য ভাষায় ওই বারকোডগুলোর তথ্যগুলোকে পড়তে পারি। 

মুখ্যত বলা যায়, এই বার কোড হল একধরণের সাংকেতিক চিহ্নের সমষ্টি। এই ডিজিটাল যুগে ই-কমার্স কোম্পনিগুলো ব্যাপকভাবে বারকোড সিস্টেম ব্যবহার করে থাকে। 

এই সিস্টেম ব্যবহার করে এই কোম্পনিগুলো তাদের প্রোডাক্ট সম্পর্কে যাবতীয় তথ্য গুছিয়ে রাখে। 

কোনো ক্রেতা যখন সেই বারকোড সিস্টেমে থাকা কোনো পণ্য ক্রয় করে, তখন বারকোড সিস্টেমের নিজস্ব ডাটাবেস থেকে সেই পণ্যের তথ্য সহজেই সেখান থেকে অপসারিত হয়ে যায়।

এর ফলে, এই কোম্পনিগুলো সহজেই নিজেদের পণ্যের ব্যাপারে সঠিক হিসাব রাখতে পারে।

বারকোডের প্রকারভেদ: (Types Of Barcode)

প্রধানত আমরা দুই ধরণের বারকোড দেখে থাকি। এইগুলো হল –

১. একমাত্রিক বা 1D বারকোড: 

এই বারকোডগুলো শুধুমাত্র লাইন ও স্পেস দিয়ে তৈরি হয়।

এই কোডগুলোতে কেবলমাত্র পণ্যের রং, আকার ও ধরণের ব্যাপারে তথ্য জমা রাখা যায়। 

মূলত এই ধরণের বার কোডগুলো আমরা প্রোডাক্টের প্যাকেজিং-এ কিংবা ইউনিভার্সাল প্রোডাক্ট কোড-এ দেখে থাকি।

এই কোডগুলো থেকে খুব সহজেই প্রোডাক্ট প্যাকেজিং ট্র্যাক করা যায়। 

বিভিন্ন ট্রান্সপোর্ট কোম্পনি এই ধরণের কোডগুলো ব্যবহার করে থাকে।

মূলত, একমাত্রিক কোডগুলো ডোমেস্টিক পণ্য যেমন- ক্রিম, পেন, তেল ও অন্যান্য প্রোডাক্টের গায়ে দেখা যায়।

২. দ্বিমাত্রিক বা 2D বারকোড:

সাধারণ হিসেবে, দ্বিমাত্রিক বারকোডগুলো একমাত্রিক কোডগুলোর থেকে অনেক বেশি জটিল হয়ে থাকে। 

এইগুলো সাধারণ তথ্য ছাড়াও প্রোডাক্টের ছবি, মূল্য, ইনভেন্টরি লেভেলস, ও অন্যান্য বর্ণনা জমা রাখতে সক্ষম।

এই ধরণের বারকোড গুলো QR বা কুইক রেসপন্স কোড নামে পরিচিত।

কিউআর কোডগুলোর স্টোরেজ প্রায় ২০০০টি ক্যারেক্টার মজুত করে রাখতে পারে।

বারকোড কিভাবে তৈরী করে ? (How To Create Barcode?)

বার কোড তৈরি করা বর্তমান যুগে এমন কোনো কঠিন কাজ নয়।

এখন মার্কেটে অনেক বারকোড প্রস্তুতকারী কোম্পানি রয়েছে। 

এছাড়াও, বিভিন্ন রকমের বারকোড জেনারেটিং সিস্টেম রয়েছে।

তাছাড়াও, বর্তমানে নানা রকমের ফ্রি বারকোড জেনারেটার আছে। 

এই জেনেরেটর গুলো  ব্যবহার করে আপনি খুব সহজেই বারকোড তৈরী করতে পারবেন।

এমনকি নানান ধরণের অনলাইন ওয়েবসাইট থেকেও এখন বারকোড তৈরী করা সম্ভবপর হয়ে গেছে।

বারকোড জেনারেটর কিভাবে কাজ করে ?

বারকোড তৈরী করার সময় জেনারেটর সিস্টেমগুলো স্ট্রিংয়ের আকারে তথ্য সংগ্রহ করে। 

তারপর এই স্ট্রিংগুলোকে এই বারকোড মেশিনগুলো বাইনারিতে বা গাণিতিক পরিভাষায় রূপান্তরিত করে। 

এইভাবেই কোডগুলোতে আমরা লাইন আর স্পেসের মাধ্যমে তথ্যগুলো সংগ্রহ করে রাখতে পারি।

আর, এই ধরণের কোডগুলোতে ভুল হওয়ার কোনো সম্ভবনাই থাকে না। 

আর, বারকোডিং ভুল হলে, তা কোনোভাবেই স্ক্যান করা যায় না।

তাই বারকোড হল এরর-ফ্রি সিস্টেম।

বারকোড কেন ব্যবহার করা হয় ? (Why Barcode Is Used?)

যেহেতু বারকোড কখনোই ত্রুটিপূর্ণ হয় না। তাই, এই সিস্টেম ব্যবহার করলে পণ্যের বর্ণনা, মূল্য ও আরও অন্যান্য তথ্য কোনোভাবেই ভুল হয়না। 

ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে ক্রেতারা এই বারকোড সিস্টেম থেকে খুব সহজেই পণ্যের তথ্য সংযুক্ত ও পড়তে পারেন। 

এই কোডগুলো ক্রেতাদের অসাধু ব্যবসায়ীদের হাত থেকে রক্ষা পেতে সাহায্য করে।

কারণ, এই কোড ব্যবহার করে কোম্পানিগুলো তাদের পণ্যের যে মূল্য নির্ধারণ করে, তা অন্য কেউ কোনোদিন পরিবর্তন করতে পারে না।

তাই ক্রেতারা অবশ্যই সেই পণ্য পেয়ে যেতে পারে তার আসল মূল্যে। 

আমাদের শেষ কথা,,

আজকে আমাদের বারকোড সম্বন্ধে লেখা এই আর্টিকেলটি এখানেই শেষ হল।

আশা করছি, বার কোড কি বা বারকোড বলতে কি বুঝায় এই বিষয় নিয়ে লিখা এই আর্টিকেলটি পড়ে আপনার বারকোড সম্পর্কে আইডিয়া অনেকটাই পরিষ্কার হয়েছে।

তাই, আপনার মতামত অবশ্যই জানাবেন কমেন্টের মাধ্যমে।

 

Leave a Comment

Your email address will not be published.

Scroll to Top