হোম লোন কিভাবে পাওয়া যাবে ? জেনেনিন সম্পূর্ণ তথ্য বাংলাতে

হোম লোন কিভাবে পাওয়া যাবে ? বা কিভাবে হোম লোন এর জন্য আবেদন করতে হবে, এই সম্পূর্ণ বিষয়ে আমরা আজকে আপনাদের বিস্তারিত ভাবে জানাবো। (How To Apply For Home Loan in Bengali).

হোম লোন কিভাবে পাওয়া যাবে
হোম লোন আবেদন প্রক্রিয়া

নিজের স্বপ্নের বাড়ি নিয়ে সবারই কম-বেশি আশা-আকাঙ্খা থাকে। 

তবে, আপনার কাছে স্বপ্নের বাড়ি বানানো যদি টাকার অভাবে এখনও অধরা থাকে; তবে, আমাদের এই আর্টিকেলটি আপনাকে সহজে হোম লোন পাওয়ার পদ্ধতি সম্পর্কে সমস্ত বিস্তারিত ধারণা দেবে।

যাতে, আপনি খুব শীঘ্রই আপনার মনের মতো বাসা নিতে বা বানাতে পারেন। 

তাহলে চলুন, সরাসরি যেতে নেওয়া যাক, হোম লোন কিভাবে পাওয়া যায় ?- এই বিষয় সম্পর্কে।

হোম লোন কিভাবে পাওয়া যাবে ?

বিভিন্ন ঋণদাতার গৃহ ঋণ মকুবের পিছনে নানা ধরণের পন্থা থাকতেই পারে। 

তবে, নিচের তালিকাভুক্ত পদ্ধতিগুলো প্রায় সমস্ত ব্যাঙ্কই অনুসরণ করে থাকে। 

তাই, এখানে আলোচিত পদক্ষেপগুলো সঠিকভাবে অনুসরণ করলে, গৃহ ঋণের আবেদন প্রক্রিয়াটি সহজ ও ঝামেলামুক্ত হয়ে যেতে পারে –

১. ঋণের আবেদনপত্র পূরণ করে নিজের নথি যুক্ত করুন:

গৃহ ঋণের (home loan) আবেদনের জন্যে আবেদনকারীকে তার নিজের সম্পর্কে বেশ কিছু প্রাথমিক তথ্য ফর্মে যোগ করতে হবে।

এই তথ্যগুলো হল-

  • আবেদনকারীর ব্যক্তিগত তথ্য (নাম, ফোন নম্বর, ইত্যাদি)
  • আবেদনকারীর বাসস্থানের ঠিকানা
  • এবার, আবেদনকারীর মাসিক কিংবা বার্ষিক আয়
  • আবেদনকারীর শিক্ষাগত যোগ্যতা
  • আবেদনকারীর কর্মসংস্থানের তথ্য
  • সম্পত্তির বিবরণ যার জন্যে ঋণ নেওয়া হবে
  • সম্পত্তির আনুমানিক ব্যয়
  • গৃহের সম্পত্তি অর্থায়নের বর্তমান উপায়

এর পরের ধাপে, আপনাকে আপনার ব্যাঙ্কের প্রয়োজনীয় সমস্ত বৈধ নথি যুক্ত করতে হবে। যথা-

  • আয়ের প্রমাণ
  • পরিচয়পত্রের বা আইডির প্রমাণ
  • বয়সের প্রমাণ
  • বাড়ির ঠিকানার প্রমাণ
  • কর্মসস্থানের বিস্তারিত তথ্য
  • শিক্ষাগত যোগ্যতার প্রমাণ (স্কুল/ডিপ্লোমা/ডিগ্রী সার্টিফিকেট)
  • ব্যাঙ্কের বিবরনী
  • সম্পত্তির বিবরণ, যার জন্যে ঋণ প্রয়োগ করা হবে (যদি চূড়ান্ত হয়)

২. প্রসেসিং ফি দিন:

বেশিরভাগ ব্যাঙ্ককেই গৃহ ঋণ ফর্ম পূরণ করার পরিবর্তে একটা নূন্যতম প্রসেসিং ফী দিতে হয় তার লোন অ্যাকাউন্ট পরিচালনা করার জন্যে। 

এক্ষেত্রে, এই প্রসেসিং ফি ০.২৫% থেকে ০.৫০%-এর মধ্যে ঘোরাফেরা করে। 

আপনি এই ফি কমানোর জন্যে ব্যাঙ্কের সাথে পরামর্শ করতে পারেন। 

মূলত, যেসব ব্যাঙ্কে প্রসেসিং ফি নেওয়া হয় না; সেক্ষেত্রে অনেক আইনি চার্জ, উচ্চ সুদের হার ও লিগাল স্ট্যাম্পের সমস্যা থাকে।  

৩. ব্যাংকের সাথে আলোচনা করে নিন:

ব্যাঙ্কের বা ফিন্যান্সিয়াল কোম্পানীর কাছে ফর্ম পূরণ ও নথি জমা করার পর আবেদনকারীকে তার নথির যাচাইকরণের জন্যে অপেক্ষা করতে হবে। 

আপনি যদি সমস্ত নথি ও আবেদনপত্র সঠিকভাবে দিয়ে থাকেন; তবে, সাধারণত যেকোনো ব্যাংক বা ফিন্যান্সিয়াল কোম্পানী এইগুলো যাচাই করার জন্যে ১ বা ২দিন সময় নিতে পারে। 

অনেক সময়েই, এই ঋণদাতা কোম্পানী গুলো আবেদনকারীকে ডেকে পাঠিয়ে তার সাথে সামনাসামনি কথা বলতে পারে। 

এক্ষেত্রে, সেই কোম্পানী যাচাই করে দেখে যে, গৃহ লোন দেওয়া হলে, আবেদনকারী সময়মতো ঋণ শোধ করতে পারবে, কিনা। 

৪. নথির মূল্যায়ন করা:

সবসময় জানবেন যে, লক্ষ-লক্ষ মানুষ দৈনিক ভিত্তিতে গৃহ লোনের জন্য আবেদন করে থাকেন। 

তাই, ব্যাঙ্কের থেকে যদি চটজলদি লোনের কাগজপত্রগুলো অনুমোদন করতে চান; তবে নির্ভুলভাবে নিজের ফর্ম ও নথি জমা করার চেষ্টা করুন।

কোনো ব্যাঙ্কই জাল দলিল বা জালিয়াতি কার্যকলাপকে সমর্থন করে না। 

আর, জাল নথি জমা দেওয়া কিন্তু একধরণের ফৌজদারি অপরাধ ও ঋণ পাওয়ার ক্ষেত্রে তা বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়াতে পারে। 

এই কারণেই, যত তাড়াতাড়ি সম্ভব আবেদনপত্র ও নথি আর প্রসেসিং ফি জমা দিন। 

সঠিকভাবে সবকিছু জমা পড়লে তবেই ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ সেই নথিগুলো মূল্যায়ন করতে পারে।

একটি ব্যাঙ্ক আবেদনকারীর নিম্নলিখিত বিবরণগুলো পরীক্ষা করে –

  • বাসস্থানের ঠিকানা (আগের ও বর্তমান)
  • যে প্রতিষ্ঠানে কর্মরত
  • নিয়োগকর্তার প্রমাণপত্র
  • প্রতিষ্ঠানের যোগাযোগ নম্বর
  • গৃহের যোগাযোগ নম্বর

৫. ঋণ অনুমোদনের প্রক্রিয়া:

এই পর্যায়ে ব্যাঙ্ক চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়, যে আপনার লোনের আবেদনটি গ্রহণ করা হবে কি বাতিল করা হবে। 

এই ধাপটি সবটাই ঋণদাতা কোম্পানীর সিদ্ধান্তের উপর নির্ভর করে।

সেক্ষেত্রে, আবেদনটি তাদের সন্দেহজনক মনে হলে, তারা তা বাতিল করার অধিকার রাখে। 

যদি, সব নথি ঠিক থাকে আর ব্যাংক আবেদনটি যদি মকুব করে; তাহলে লোন পেতে কোনো অসুবিধাই হবে না।

যেকোনো ব্যাঙ্ক সাধারণত হোম লোন অনুমোদনের জন্য আবেদনকারীর নিম্নলিখিত নথিগুলো গভীরভাবে পরীক্ষা করে –

  • আবেদনকারীর বয়স, যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার বিবরণ
  • আবেদনকারী ও ব্যাঙ্কের মধ্যেকার লেনদেন
  • মাসিক ও বার্ষিক আয়
  • বর্তমান নিয়োগকর্তা ও আবেদনকারীর চাকরির ধরণ
  • স্ব-নিযুক্ত হলে তাদের ব্যবসার ধরণ 
  • নির্ধারিত সুদের হারসমেত ঋণের পরিমাণ শোধের ক্ষমতা

যদি, এই উপরের নথিগুলো ব্যাংক ঠিকঠাকভাবে পেয়ে যায়, তাহলে খুব দ্রুতই গৃহ লোন মকুব হয়ে যাবে।

৬. অফার লেটারের প্রক্রিয়াকরণ:

ঋণ অনুমোদনের সাথে সাথেই ব্যাঙ্ক আবেদনকারীকে তাদের পক্ষ থেকে একটা প্রত্যয়িত অফার লেটার পাঠায়। 

এই অফার লেটারে নিম্নলিখিত বিবরণগুলো দেওয়া থাকে-

  • যে ঋণের পরিমাণ মকুব করা হয়েছে
  • মোট ঋণের পরিমাণের উপর সুদের হার
  • সুদের হারটি ফিক্সড নাকি পরিবর্তনশীল
  • ঋণের মেয়াদের বিবরণসামগ্রী
  • ঋণ পরিশোধের ধরণ
  • গৃহ লোনের মেয়াদ, পলিসি ও শর্তাবলী।
  • আবেদনকারীর স্বীকৃতিপত্র:

অফার লেটারের সমর্থনে আবেদনকারীকে ব্যাঙ্কের রেকর্ডের জন্য সেই অফার লেটারের একটা কপিতে স্বাক্ষর করতে হবে। 

অফার লেটারের সমস্ত বিবরণ মনোযোগ সহকারে পড়ে তবেই স্বাক্ষর করুন। 

আপনি ব্যাংকের সাথে আলোচনা করে যে সিদ্ধান্তে এসেছেন, তা স্পষ্ট ভাষায় এই লেটারে উল্লেখ করা থাকলে, তাহলেই স্বাক্ষর করবেন।

৭. একটি আইনি চেক দ্বারা সম্পত্তির কাগজপত্রের প্রক্রিয়াকরণ:

পরবর্তীতে, ব্যাঙ্ক আবেদনকারীর নির্বাচন করা বাড়ির সম্পত্তির উপর মনোনিবেশ করে। 

যদি, আবেদনকারী জমি নির্বাচন নাও করে থাকে, সেক্ষেত্রে ব্যাংক তাকে নির্দিষ্ট সময়ও প্রদান করে থাকে।

এই ধাপে আবেদনকারীকে সম্পত্তি সম্পর্কে নিম্নলিখিত তথ্যগুলো দিতে হয় –

  • বিক্রেতার নাম
  • বিক্রেতার পরিচয় ও ঠিকানার প্রমাণ
  • সম্পত্তির নাম
  • সম্পত্তির ঠিকানা
  • বিক্রেতা প্রাথমিক বা প্রকৃত মালিক না হলে, লিখিত নথির সমস্ত বিবরণ লাগবে
  • প্রথম আইনি মালিকের (যদি থাকে) থেকে নেওয়া NOC সার্টিফিকেট 
  • সংবিধিবদ্ধ উন্নয়ন বোর্ডের প্রতিনিধি ও সমবায় হাউজিং সোসাইটির NOC
  • (যদি জমিটির আগে থেকেই ইজারা নেওয়া থাকে, তবে ব্যাঙ্কের ইজারাদাতার NOC-ও লাগবে

এরপর, ব্যাঙ্ক আবার এই সমস্ত নথি পরীক্ষা করে তবেই তার নিজের আইনজীবী দ্বারা বাকি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে। 

৮. একটি প্রযুক্তিগত পরীক্ষা ও তুলনামূলক খরচের প্রক্রিয়াকরণ:

এই পর্যায়ে ব্যাংক আবেদনকারীর আবেদন করার সম্পত্তি পরীক্ষা করার জন্যে একজন প্রপার্টি এক্সপার্টকে পাঠায়। 

এই ধাপে জমির অবস্থা, আশেপাশের এলাকা, কাজের প্রগতি, আরও জমি-সংক্রান্ত নানান বিষয়ে খুঁটিয়ে দেখা হয়।

৯. ঋণের চূড়ান্ত চুক্তি করা:

প্রযুক্তিগত পরীক্ষা ও তুলনামূলক খরচের প্রক্রিয়াকরণের পর ব্যাঙ্কের আইনজীবী সমস্ত কাগজপত্র মঞ্জুর করে দেন। 

এর পরবর্তী ধাপে, ঋণের চুক্তির চূড়ান্ত নিবন্ধনীকরণ করা হয়। 

ব্যাংকের আইনজীবী এই ঋণের নথি চূড়ান্ত করে, খসড়া তৈরি করে ও সেগুলোকে স্ট্যাম্প লাগিয়ে স্বাক্ষর করে দেন।

১০. চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষর করা:

কাগজপত্র সম্পন্ন হলে, আবেদনকারীকে হোম লোনের চুক্তিতে স্বাক্ষর করতে হয়। 

উভয়পক্ষ সম্মত হলে, প্রাথমিকভাবে আবেদনকারীকে ৩৬ মাস পর্যন্ত চেক (পোস্ট-ডেটেড) জমা দিতে হয়।

পরবর্তীতে, ব্যাঙ্কের নিরাপত্তা ও প্রমাণের জন্য মূল সম্পত্তির কাগজপত্র ব্যাংককে জমা দিতে হবে।

এই ধাপটি MOE (মেমোরেন্ডাম অফ এক্সিকিউশন) নামে পরিচিত। 

আর, আবেদনকারী যে রাজ্যে আবেদন করেছেন, তার উপর ভিত্তি করেই স্ট্যাম্প ডিউটি ​​রয়েছে। 

আবেদনকারীকে এই শুল্ক  প্রদান করতে হয়।

১১. ঋণ বিতরণ:

আবেদনকারী কাগজপত্রে স্বাক্ষর করার পর, সবকিছু আইনতভাবে মিটে গেলে, তাকে তার ঋণের অর্থ চেকের মাধ্যমে দেওয়া হয়। 

তবে, এর আগে আবেদনকারীকে ব্যাঙ্কে কিছু প্রয়োজনীয় নথি জমা দিতে হয়, নিরাপত্তার জন্যে। 

আমাদের আজকের হোম লোন পাওয়ার পদ্ধতি (How To Get Home Loan) বা কিভাবে হোম লোন এর জন্য এপ্লাই করতে হয় ? এই নিয়ে লেখা আর্টিকেলটি এখানেই শেষ হল। 

লেখাটি পছন্দ হলে অবশ্যই তা কমেন্ট করে জানাবেন এবং পারলে সোশ্যাল মিডিয়া পেজ গুলোতে আমাদের আর্টিকেলটি শেয়ার করবেন। 

 

Leave a Comment

Your email address will not be published.

Scroll to Top
Copy link
Powered by Social Snap