সুস্থ এবং ফিট থাকার ৭ টি উপায় – (বাংলায় হেলথ টিপস)

বাংলায় হেলথ টিপস : সুস্থ জীবন যাপনের ইচ্ছা আমাদের সবার মনে অবশই থাকে। কিন্তু, আমাদের এই ব্যস্ততা ভরা জীবনে সেটা বজায় রাখাটা খুবই কঠিন হয়ে উঠেছে। আজকাল প্রায় প্রত্যেকেই সকাল থেকে বিকেল নিজেদের কাজ কর্মে ব্যস্ত হয়ে থাকেন। ফলে, এই ব্যস্ততা ভরা জীবনে নিজের স্বাস্থ্যের প্রতি ধ্যান বা নজর দেওয়াটা কঠিন হয়ে যাচ্ছে।

সুস্থ থাকার টিপস
সুস্থ ও ফিট থাকার উপায় বাংলাতে 

তবে এতে, আমাদের স্বাস্থ্যের ওপরে প্রচুর খারাপ প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা অবশই রয়েছে।

এক্ষেত্রে, রোগমুক্ত থাকার জন্য এবং সুস্থ জীবন যাপনের উদ্দেশ্যে, “সুস্থ থাকার টিপস” বা “ফিট থাকার উপায়” কিছু আমি আপনাদের আজকের এই আর্টিকেলে বলে দিতে চাই। (Health Tips In Bangla)

তবে, আর্টিকেলের শুরুতেই আমি আপনাদের বলে দিতে চাই যে, রোগমুক্ত ও সুস্থ জীবন যাপন ধারণ করতে হলে, নিজের শরীরের প্রতি এখন থেকেই যত্ন নেওয়াটা শুরু করুন।

প্রতিদিন, নিজের কাম কাজের ব্যস্ততার মধ্যে কিছুটা সময় আপনারা যদি নিজের জন্য বের করতে পারেন এবং ভালো সাস্থের জন্য কিছু সাধারণ নিয়ম মেনে চলেন, তাহলে একটি ফিট এবং সুস্থ জীবনের আরম্ভ অবশই করতে পারবেন।

এবং, তাই আমি আপনাদের এমন কিছু সাধারণ এবং ছোট ছোট হেলথ টিপস দিবো, যেগুলি পড়ে ও নিজেদের অভ্যাস গুলো পরিবর্তন করে, সুস্থ এবং রোগমুক্ত জীবন আরম্ভ করতে পারবেন।

সুস্থ এবং ফিট থাকার কিছু উপায় এবং টিপস (হেলথ টিপস)

নিচে যা যা হেলথ টিপস (health tips) আমি দিবো, সেগুলি অনেক সাধারণ হলেও আমরা এগুলির ওপরে কোনো রকমের নজর দেওয়াটা জরুরি বলে মনে করিনা।

কিন্তু, সুস্থ এবং রোগমুক্ত থাকার জন্য সব থেকে আগেই কিন্তু এই সাধারণ বিষয় গুলি নিয়ে ভাবাটা অনেক বেশি জরুরি।

চলুন, নিচে আমরা সাধারণ কিন্তু অনেক কার্যকর ৭ টি উপায় জেনে নেই, যেগুলি মেনে চললে রোগমুক্ত, সুস্থ এবং ফিট থাকা যেতে পারে।

১. সময় মতো ঘুমানো এবং সময় মতো ওঠা

আমাদের, প্রত্যেকদিন প্রায় ৭ থেকে ৮ ঘন্টা ঘুমের প্রয়োজন। সঠিক পরিমানের ঘুম শরীরের জন্য অনেক জরুরি। ভালো করে এবং সঠিক পরিমানের ঘুম নাহোলে, আমাদের কাজ কর্মে ব্যাঘাত আসে।

কারণ, চোখে ঘুম ঘুম ভাব থেকেযায় এবং যেকোনো কাজ করার জন্য মানসিক ভাবে সেই স্ফূর্তির অভাব দেখা যায়।

আজকাল, প্রায় প্রত্যেকেই রাতে ঘুমানোর সময় smartphone ব্যবহার করেন।

এবং, এই smartphone রাতে অনেক বেশি সময় ব্যবহার করার ফলে, সময় মতো আমরা ঘুমাইনা।

তাছাড়া, smartphone এর আলো অনেক বেশি সময় অন্ধকারে আমাদের চোখে পড়ার ফলে, আমাদের ঘুম, চোখ এবং ব্রেইনে খারাপ প্রভাব ফেলতে পারে।

এতে, ঘুমের অভাবের সৃষ্টি হয় এবং তার ফলে যথেষ্ট পরিমানের ঘুম নেয়াটা আমাদের জন্য অনেক কষ্টকর হয়ে যায়।

দীর্ঘদিন এভাবে যথেষ্ট পরিমানে ঘুম না নেওয়ার ফলে, আমাদের শারীরিক এবং মানসিক ভাবে অনেক ধরণের সমস্যার দেখা দিতে পারে।

তাই, সুস্থ জীবন যাপনের উপায় হিসেবে, প্রথমেই আমি আপনাদের বলবো, নিয়মিত ভাবে প্রয়োজনীয় পরিমানে ঘুমানোর বিষয়টা নিয়ে ভাবুন। 

প্রত্যেক রাতে খাবার গ্রহণ করার কিছু সময় পর প্রায় ১০ টার দিকে ঘুমিয়ে পড়ার অভ্যেস করুন।

এবং, প্রত্যেক সকাল ৬ থেকে ৭ ভেতরে ঘুম থেকে ওঠার অভ্যেস।

এই অভ্যেস করার পর, আপনি নিজের মধ্যে এক অনেক অসাধারণ পরিবর্তনের অনুভব করবেন এবং সারা জীবন সুস্থ থাকার জন্য এই অনুভব অনেক জরুরি।

২. Fast food এবং তৈলাক্ত খাবার কম গ্রহণ করুন

Fast food এবং তৈলাক্ত খাবার যারা অধিক পরিমানে খায়, তাদের জন্য এই ধরণের খাবার অনেক ক্ষতিকর প্রমাণিত হতে পারে।

তাই, এই ধরণের বাজারের তৈলাক্ত ও বাঁশি খাবার যারা বেশি পরিমানে খান, তারা একটু নিজের স্বাস্থ্যের প্রতি সচেতন হয়ে উঠুন এবং এই ধরণের fast food আহার যতটা সম্ভব এড়ানোর চেষ্টা করুন।

যতটা সম্ভব ঘরে বানানো খাবার গ্রহণ করুন।

কারণ, fast food গুলি তৈরি করার জন্য যেই তেল (oil) ব্যবহার করা হয়, সেগুলি ভালো মানের থাকেনা।

তাছাড়া, অনেক ক্ষেত্রে পুরোনো তেল বা আগে ব্যবহার করা তেল আবার ব্যবহার করে খাবার বানানোর সম্ভাবনা প্রচুর দেখা গেছে।

তাই, এই ধরণের পুরোনো এবং খারাপ মানের তেল ও মসলা (spices) দিয়ে তৈরি করা খাবার দীর্ঘদিন (regular) গ্রহণ করার ফলে, পেটের অনেক ধরণের সমস্যার দেখা দিতে পারে।

খারাপ মানের Fast food বা junk food দীর্ঘদিন গ্রহণ করার ফলে, বিভিন্ন ধরণের স্বাস্থ্যের সমস্যা লোকেদের মধ্যে দেখা গেছে।

যেমন, high blood pressure, heart disease, অপ্রয়োজনীয় ওজনের বৃদ্ধি হওয়া, হজমের সমস্যা (digestive issues) এবং আরো অনেক ধরণের খারাপ রোগ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

তাই, মনে রাখবেন যাতে আপনার সম্পূর্ণ দিনের আহার বা খাবার, সম্পূর্ণ ভাবে পুষ্টিকর, কম তৈলাক্ত, ময়দা না খেয়ে আটা খাওয়া এবং কম মসলা থাকা, তাজা এবং ঘরে তৈরি করা থাকে।

এটা, সারা জীবন সুস্থ (healthy) থাকার সবচেয়ে জরুরি এবং দরকারি উপায়। 

যতটা জলদি সম্ভব, বাইরের fast food বা junk food খাবার অভ্যেসটি বন্ধ করুন।

কারণ এটা এড়ানোটা আপনার সুস্থ শরীরের জন্য অনেক জরুরি।

৩. পর্যাপ্ত পরিমানে জল পান করা

জল, আমাদের শারীরিক ভাবে সুস্থ থাকার জন্য একটি প্রধান ভূমিকা পালন করে।

একজন ব্যক্তি শারীরিক ভাবে সুস্থ থাকার জন্য সারাদিনে ২ থেকে ৩ লিটার এর ভেতরে জল (water) পান করা অবশই উচিত।

প্রত্যেকদিন, সকালে ঘুম থেকে উঠে খালি পেটে জল পান করাটা, আমাদের শরীরের জন্য অনেক ক্ষেত্রে উপকারী বলে প্রমাণিত হয়েছে।

এতে আপনার শরীর থেকে অপ্রয়োজনীয় toxins গুলি সহজে বের হয়ে যায়।

সকালে ঘুম থেকে ওঠে প্রথমেই জল পান করার অভ্যেস করলে, kidney stones হওয়ার থেকে বেঁচে থাকতে পারবেন।

তাছাড়া, colon এবং bladder এ infections হওয়ার ভয় অনেক পরিমানে কমে যায়।

Constipation এবং পেট ভালো করে পরিষ্কার না হওয়ার সমস্যা এর ফলে অনেক পরিমানে কমে যাওয়াটাও দেখা গেছে।

শেষে, আপনার skin এবং মুখে ধীরে ধীরে glow ও উজ্জ্বলতা দেখতে পাবেন।

তবে, সকালে খালি পেটে জল পান করার লাভ এমনিতে আরো অনেক রয়েছে।

কেবল এতটুকু জেনে রাখুন যে, অন্য সব হেলথ টিপস গুলির থেকে এটা একটি অনেক কাজের এবং জরুরি health tip, যার অভ্যেস করতে পারলে, অনেক ক্ষেত্রে আপনি লাভ পাবেন।

৪. খারাপ অভ্যেস থেকে বিরত থাকা

আমরা দৈনন্দিন জীবনে কখনো না চাইতে এবং অনেক ক্ষেত্রে নিজের ইচ্ছে হিসেবে অনেক ধরণের খারাপ অভ্যেসে লিপ্ত হয়ে থাকি।

যেমন, ধূম্ৰপান (smoking), মদ্যপান (drinking), সাদা এবং পান মসলা ও গুটখা গ্রহণ করা।

এই ধরণের নেশা বা খারাপ অভ্যেস আপনার শরীরে বিভিন্ন ধরণের রোগের সৃষ্টি করতে পারে।

তাই, রোকমুক্ত এবং সুস্থ থাকার জন্য সব থেকে প্রথমেই, এরকম সব ধরণের খারাপ অভ্যেস এবং নেশা থেকে নিজেকে মুক্ত করতে হবে।

৫. ব্যায়াম (physical exercise)

শারীরিক ভাবে ফিট এবং সুস্থ থাকার উপায় গুলির মধ্যে, সব থেকে জরুরি হলো “প্রত্যেক দিন কিছু সময় ব্যায়াম করাটা”.

ব্যায়ামের লাভ প্রচুর এবং যদি আপনি এর অভ্যেস করতে পারেন, তাহলে অনেক ধরণের শারীরিক সমস্যার থেকে দূরে বা বেঁচে থাকতে পারবেন।

তাই আমি প্রত্যেককেই বলবো, নিজের স্বাস্থ ভালো রাখতে হলে প্রত্যেকদিন কিছু সময় অল্প ব্যায়াম এবং প্রনয়ম অবশই করা শুরু করুন।

হে, হতে পারে আপনি অফিসে কাজ করেন বা আপনার কোনো ব্যবসা রয়েছে এবং আপনার কাছে একেবারেই সময় নেই।

এই ক্ষেত্রে, কাজ করে এসে বিকেলে কেবল ১৫ থেকে ৩০ মিনিটের জন্য হলেও কিছু সাধারণ ব্যায়াম এবং প্রাণায়াম অবশই করুন।

দীর্ঘদিন নিয়মিত ভাবে physical exercise করার ফলে আপনি নিজের মধ্যে অনেক ভালো বা ধনাত্মক (positive) পরিবর্তনের অনুভব করবেন।

তাছাড়া, অন্যান্য অনেক ধরণের শারীরিক লাভ যেমন, heart diseases এর ভয় কমে যাওয়া, বেড়ে যাওয়া ওজন নিয়ন্ত্রণ করা, blood sugar level নিয়ন্ত্রণ রাখা, নেশা থেকে দূরে থাকতে সাহায্য, মানসিক ভাবে শক্তিশালী হওয়া, মন ভালো থাকা, কাজে একাগ্রতা ও মনোযোগ এবং আরো অনেক ধরণের লাভ আপনারা পাবেন।

তাই, সুস্থ এবং রোগমুক্ত থাকার জন্য আজ থেকেই ব্যায়াম করা চালু করে দিন।

৬. পুষ্টিকর খাদ্য গ্রহণ করুন

আমাদের শরীর রোগ মুক্ত এবং সুস্থ থাকার জন্য, বিভিন্ন ধরণের vitamins, minerals এবং protein এর প্রয়োজন।

এবং, এই ধরণের প্রত্যেক nutrients গুলি সঠিক ভাবে শরীরকে উপলব্ধ করানোর জন্য, পুষ্টিকর খাদ্য গ্রহণ করাটা অনেক জরুরি।

যতটা সম্ভব, সবুজ শাক সবজি, বিভিন্ন রকমের বাদাম, দুধ, মাছ (fish) এবং এই ধরণের পুষ্টিকর আহার গ্রহণ করবেন।

বাইরের fast food এবং তৈলাক্ত বাজে খাবারের থেকে যতটা সম্ভব দূরেই থাকবেন।

আপনি যত পুষ্টিকর খাদ্য খাবেন, আপনার শরীরে ততটাই বেশি পুষ্টি পাবে এবং শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও বৃদ্ধি হবে।

Healthy food, একটি সুস্থ এবং রোগমুক্ত জীবন যাপনের প্রথম ধাপ (step).

৭. মানসিক ভাবে চিন্তা মুক্ত থাকা

ছোট থেকে বর সবাই আজ কিছু না কিছু মানসিক চাপ বহন করে চলে।

ছোট বাচ্চারা পড়াশোনার চাপ এবং বড়দের অফিস, ঘর এবং টাকা-পয়সা নিয়ে বিভিন্ন রকমের চাপ রয়েছে।

কিন্তু, যখন এই চাপ গুলি অধিক বেশি মাত্রায় বেড়ে যায়, তখন “মানসিক চাপের”, “depression” এবং “anxiety” র মতো অনেক ধরণের মানসিক সমস্যার সৃষ্টি হয়।

এবং, এই ধরণের মানসিক সমস্যার ফলে, আপনি শারীরিক ও মানসিক ভাবে অনেক দুর্বল হয়ে যেতে পারেন।

তাই, কেবল একটাই কথা মনে রাখতে হবে যে, জীবনে সমস্যা আসবেই এবং প্রত্যেক সমস্যার কিছু না কিছু সমাধান রয়েছে।

আর, নিজের মনে সব সময় positive বিচার রেখে ভালোটা ভাবতে হবে।

অত্যাধিক বেশি পরিমানে কোনো বিষয় নিয়ে চিন্তা করবেননা এবং সব সময় খুশি থাকার চেষ্টা করবেন।

মানসিক চিন্তা বা টেনশন দূর করার উপায় গুলির মধ্যে সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো, যতটা সম্ভব কাজে কর্মে ব্যস্ত থাকা, বন্ধু বান্ধব এবং পরিবারের সদস্যদের সাথে কথা বলা ও ঘুরতে বের হওয়া, সব সময় ধনাত্মক (positive) কথা ভাবা, খারাপ চিন্তা আসলে সেটা এড়ানোর (avoid) চেষ্টা করা। 

তাই, বন্ধুরা সুস্থ থাকার জন্য মানসিক ভাবে চিন্তা মুক্ত থাকাটা কিন্তু অনেক জরুরি।

হে, চিন্তা বা টেনশন প্রত্যেকের হওয়াটা স্বাভাবিক।

তবে, যেকোনো সমস্যা নি দুশ্চিন্তা করার থেকে তার সমাধান করার কথা নিয়ে ভাবাটা জরুরি।

 

আমাদের শেষ কথা,

তাহলে বন্ধুরা, সুস্থ থাকার টিপস এবং ফিট থাকার উপায় এমনিতে প্রচুর রয়েছে।

তবে, আমি আপনাদের ৭ টি এমন কিছু জরুরি এবং প্রয়োজনীয় হেলথ টিপস (Health Tips In Bangla) দিলাম, যেগুলি সুস্থ জীবন যাপনের জন্য অনেক জরুরি। 

তাছাড়া, যতটা সম্ভব হাটা চলা করা, পুষ্টিকর খাদ্য গ্রহণ করা, অধিক জল পান করা এবং শারীরিক পরিশ্রম ও ব্যায়াম করাটা রোগ মুক্ত থাকার জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

Related Contents:

BanglaTech

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top