রেডিও কে আবিষ্কার করেন ? কখন আবিষ্কার করা হয় এবং সম্পূর্ণ ইতিহাস

রেডিও কে আবিষ্কার করেন, রেডিও আবিষ্কারের ইতিহাস এবং রেডিও আবিষ্কার হয় কত সালে ? এই প্রত্যেক প্রশ্নের উত্তর আজকের এই আর্টিকেলের মাধ্যমে আপনারা পাবেন। (Who invented radio details in Bengali).

রেডিও কে আবিষ্কার করেন
রেডিও এর আবিষ্কার কার দ্বারা করা হয়েছিল ?

আগেকার সময়ে যখন TV এবং mobile phone অনেক কম লোকেদের কাছে থাকতো, তখন সময় কাটানোর এক মাত্র উপায় ছিল “Radio“.

রেডিওতে থাকা বিভিন্ন এফএম রেডিও চ্যানেল গুলোতে গান, খবর, কাহিনী ইত্যাদি লোকেরা শুনতেন। 

তবে, আজকের সময়ে আধুনিক smart tv এবং smartphone প্রত্যেকের কাছেই রয়েছে এবং তাই সময় কাটানোর জন্য আজ আর রেডিওর ব্যবহার করা হয়না।

অবশ্যই, এখনো এরকম প্রচুর ব্যক্তিরা রয়েছেন যারা এই আধুনিক সময়েও রেডিও শুনে থাকেন।

আজকের সময়ে যেভাবে TV, computer, laptop, smartphone ইত্যাদি গুলো মনোরঞ্জন এবং সমাচার-সংবাদ এর একটি দারুন উৎস, ঠিক সেভাবেই রেডিও কে আগেকার সময়ে মনোরঞ্জন এবং সমাচার-সংবাদ এর উৎস হিসেবে ব্যবহার করা হতো।

যদি রেডিওর কথা বলা হয়, তাহলে লোকেরা নিজেদের পছন্দের channel এর frequency গুলো set করে গান বা সংবাদ ইত্যাদি শুনতেন এবং এখনো অনেকেই শুনেন।

আমরা যতই যা আধুনিক ডিভাইস (device) বা গ্যাজেট (Gadgets) ব্যবহার করে থাকিনা কেন, রেডিওতে গান শুনার মজা সত্যি আলাদা।

তবে, এখনের তরুণ প্রজন্মের ক্ষেত্রে গান শুনা এবং অন্যান্য মনোরঞ্জনের জন্য আধুনিক প্রচুর গ্যাজেট গুলো রয়েছে।

তাই, আধুনিক টিভি, স্মার্টফোন, কম্পিউটার ইত্যাদির ব্যবহার এবং ব্যবহারের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পাওয়ার সাথে সাথে রেডিও র ব্যবহার প্রায় বিলুপ্ত হয়ে গেছে বললে আমি ভুল হবোনা।

চলুন, এখন আমরা সরাসরি নিচে রেডিও আবিষ্কারের ইতিহাস এবং রেডিও আবিষ্কার করেন কে সেই বিষয়ে জেনেনেই। 

কিন্তু তার আগে, চলুন রেডিওর বিষয়ে কিছুটা তথ্য জেনেনেই।

রেডিও কি ? (What is radio in Bangla)

এমনিতে যখন আমরা রেডিও শব্দটি বলে থাকি তখন আমাদের মাথায় একটি FM (এফএম) এর চিত্র চলে আসে, তবে সেটা কিন্তু কেবল একটি যন্ত্র মাত্র।

রেডিও সম্পূর্ণ রূপে একটি প্রযুক্তিগত উপাদান যার মাধ্যমে বার্তা গুলো বেতার ভাবে (তার ছাড়া) একটি জায়গা থেকে আরেকটি জায়গায় পাঠানো হয়।

এখনের সময়ে প্রায় প্রচুর যোগাযোগের মাধ্যম (means of communication) এবং যন্ত্র গুলো এই radio technology ব্যবহার করে থাকে।

একটু আলাদা ভাবে যদি বলা হয় তাহলে আমরা এভাবেও বলতে পারি যে,

এটা এমন এক ধরণের প্রযুক্তি যেখানে রেডিও তরঙ্গ (Radio Waves) এর ব্যবহার করে সিগন্যাল (signal) পাঠানো হয় বা যাতে তরঙ্গের মাধ্যমে একে অপরের সাথে যোগাযোগ করতে পারে।

রেডিওর আবিষ্কার যদি না হয়ে থাকতো, তাহলে আজকের বিভিন্ন আধুনিক যোগাযোগের মাধ্যম গুলো হয়তো আমরা দেখতে ও ব্যবহার করতে পারতামনা।

এমনিতে, এখনের রেডিও প্রযুক্তি অনেকটাই উন্নত এবং আধুনিক হয়ে দাঁড়িয়েছে।

কেননা, এখন কেবল একটি মাত্র radio station থেকেই radio waves গুলোকে লক্ষ লক্ষ এবং কোটি কোটি লোকেদের কাছে পাঠানো সম্ভব।

Radio Waves গুলো আসলে এক প্রকারের ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক তরঙ্গ যেগুলোর ফ্রিকোয়েন্সি 30Hz থেকে 300GHz পর্যন্ত হয়ে থাকে।

এখন হয়তো আপনারা রেডিও কি এবং এর বিষয়ে সম্পূর্ণটা বুঝতে পেরেছেন।

রেডিও কার দ্বারা আবিষ্কার করা হয় এবং রেডিও আবিষ্কারের সাথে জড়িত ইতিহাস নিয়ে জানার ইচ্ছে এখন হয়তো আপনার অধিক বেড়ে গিয়েছে। 

নিচে সম্পূর্ণ আর্টিকেল ভালো করে পড়লে আপনারা রেডিওর ইতিহাস এবং আবিষ্কার এর সাথে জড়িত প্রত্যেকটি বিষয়ে জেনেনিতে পারবেন।

রেডিও কে আবিষ্কার করেন ? (Who invented radio)

রেডিও আবিষ্কার এর প্রধান ক্রেডিট Guglielmo Marconi কে দেওয়া হয়।

কিন্তু, গুগল সার্চ এর মধ্যে সার্চ করলে আমাদের ৩ টি নাম দিয়ে দেওয়া হয়।

  • Guglielmo Marconi
  • William Dubilier
  • Reginald Fessenden

এছাড়াও, রেডিও আবিষ্কার এর ক্ষেত্রে প্রচুর বুদ্ধিজীবীদের যোগদান বা অবদান রয়েছে বলে বলা যেতে পারে।

তাই, যখন এই প্রশ্নটি করা হচ্ছে যে “রেডিও আবিষ্কার করেন কে ?” সেক্ষেত্রে উত্তর হিসেবে কেবল একজন ব্যক্তির নাম বলা যেতে পারেনা। 

তবে, রেডিও এর আবিষ্কার এর ক্ষেত্রে ওপরে উল্লেখ করা সেই তিন জনের মুখ্য ভূমিকা ছিল বলে বলা যেতে পারে।

Guglielmo Marconi, হলো সেই ব্যক্তি যাকে রেডিও প্রযুক্তির প্রধান আবিষ্কারক হিসেবে জানা যায়।

Heinrich Rudolf Hertz দ্বারা ১৮৮০ দশকে ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক তরঙ্গের খোঁজ করার পর, Guglielmo Marconi সেই প্রথম ব্যক্তি ছিলেন যার দ্বারা এই প্রযুক্তির ব্যবহার করে দীর্ঘ দূরত্বের যোগাযোগের জন্য একটি সফল যন্ত্র তৈরি হোর হয়।

আর এটাই কারণ যার ফলে তাকে রেডিওর আবিষ্কারক বলে বলা হয়।

এর পরে, Reginald A. Fessenden নামের একজন কানাডিয়ান আবিষ্কারক দ্বারা ১৯০০ এর ২৩ ডিসেম্বর তারিখে ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক তরঙ্গের ব্যবহার করে একটি অডিও (audio) পাঠানো হয়।

তিনি এই audio পাঠিয়েছিলেন ১.৬ কিলোমিটার এর দূরত্ব থেকে।

১৯০৬ সালে Christmas Eve এর দ্বারা প্রথম পাবলিক রেডিও সম্প্রচার (public radio broadcast) করা হলো।

এভাবেই কিছুটা সময় যাওয়ার পর এর ব্যবহার বাড়তে থাকলো এবং পরে গিয়ে এই ওয়্যারলেস ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক সিস্টেম টিকে ‘Radio’ নাম দিয়ে দেওয়া হলো।

তাহলে এখন হয়তো আপনারা বুঝতেই পেরেছেন যে, রেডিও আবিষ্কার করার ক্ষেত্রে কারা কারা জড়িত ছিলেন

রেডিও আবিষ্কার কখন এবং কত সালে হয় ?

যা আমি ওপরে আগেই বলেছি, Heinrich Rudolf Hertz দ্বারা ১৮৮০ দশকে ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক তরঙ্গ আবিষ্কৃত হয়ে থাকে।

এই আবিষ্কারের সাথে জড়িত একটি বই প্রকাশিত করা হয় যেখানে আবিষ্কারের পুরোনো বিফল ও সফল ভাবে করা আবিষ্কার এবং ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক তরঙ্গের বিষয়ে বিস্তারিত ভাবে বলা হয়।

এই বইটি জগদীশ চন্দ্র বসু নামের একজন বিশেষগ্যের দ্বারা পড়া হয় এবং সেই বই এর প্রভাব ওনার ওপরে এতটাই পড়ে থাকে যে তিনি ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক তরঙ্গের ওপরে ভিত্তিক একটি যন্ত্র বানিয়ে ফেলেন।

এর পর, একটি বৈজ্ঞানিক প্রদর্শন এর সময় তিনি দূরে রাখা একটি ঘন্টা ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক তরঙ্গের সাহায্যে বাজিয়ে দেখিয়ে দিলেন।

সেই সময় এই বিষয়টি একটি অবিশ্বাস্য বিষয় ছিল।

তবে এটা গুলিয়েলমো মার্কোনির দ্বারা করা আবিষ্কার এর আগের কথা।

এর পরে পরে গুলিয়েলমো মার্কোনির দ্বারা রেডিও আবিষ্কার করা হয়।

মার্কোনির দ্বারা রেডিওর আবিষ্কার ১৮৯০ এর দশকে করা হয়।

মার্কিন পেটেন্ট রেকর্ড এর হিসেবে গুলিয়েলমো মার্কোনির দ্বারা রেডিও এর আবিষ্কার ১৮৯৬ সালে করা হয়েছিল।

রেডিও আবিষ্কারের ইতিহাস

রেডিওর আবিষ্কার বিশ্বের প্রত্যেক গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার গুলোর মধ্যে ধরা হয়।

তাই, যেভাবে প্রত্যেক গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার গুলোর একটি দারুন ইতিহাস রয়েছে, ঠিক সেভাবেই রেডিওর ইতিহাস নিয়েও অনেক মজার কিছু তথ্য অবশই রয়েছে।

  •  একজন ব্রিটিশ বৈজ্ঞানিক James Clerk Maxwell দ্বারা radio এর আবিষ্কার এর আরম্ভ করা হয়।
  • ম্যাক্সওয়েল কাজ করছিলেন ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক তরঙ্গের ওপরে। তবে এই বিষয়ে তিনি কোনো সঠিক তত্ত্ব দিতে পারলেননা।
  • এর পর Oliver Heaviside দ্বারা এই কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হলো, তবে তিনিও সঠিক ভাবে ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক তরঙ্গ গুলোকে বুঝতে পারলেননা।
  • শেষে, Heinrich Rudolf Hertz দ্বারা সফলভাবে ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক তরঙ্গ আবিষ্কার করা হলো।
  • হার্টজ দ্বারা করা আবিষ্কারের পর জগদীশ চন্দ্র বসু এবং অলিভার লজ এর মতো বৈজ্ঞানিক দ্বারা এই কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।
  • শেষে ১৮৯৬ সালে গুলিয়েলমো মার্কোনি দ্বারা রেডিও আবিষ্কার করা হলো।
  • ভারতে প্রথম বারের জন্য ১৯২০ সালে মুম্বাই শহর থেকে বেতার রেডিও সম্প্রচার শুরু করা হলো।
  • বিশ্বের সর্ব প্রথম radio station চালু হয়েছিল New York শহরে।

আমাদের শেষ কথা,,

তাহলে বংশগুড়া, আজকের আর্টিকেলের মাধ্যমে আমরা রেডিও নিয়ে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জেনেনিতে পারলাম।

আমরা জানলাম, রেডিও কে আবিষ্কার করেছিলেন, কখন আবিষ্কার হয়েছিল এবং এর ইতিহাস কি। 

আশা করছি, আমাদের আর্টিকেলটি আপনাদের অবশই ভালো লেগেছে।

যদি আমাদের আর্টিকেলটি আপনাদের ভালো লেগে থাকে, তাহলে অবশই সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করবেন।

এছাড়া, আর্টিকেলের সাথে জড়িত কোনো ধরণের প্রশ্ন বা পরামর্শ থাকলে, নিচে কমেন্ট করে অবশই জানিয়ে দিবেন।

 

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error:
Scroll to Top
Copy link
Powered by Social Snap