মোবাইল ফোনের গুরুত্ব, উপকারিতা এবং ব্যবহার – (Importance of mobile)

মোবাইল ফোনের গুরুত্ব (Importance of mobile phones in Bangla): মোবাইল ফোনের উপকারিতা বা সুবিধা নিয়ে যখন কথা বলা হচ্ছে, তখন আমরা প্রত্যেকেই জানি যে মোবাইল ফোন বা স্মার্টফোন আমাদের জীবনের একটি অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

মোবাইল ফোনের গুরুত্ব
Importance, uses and advantages of mobile phone.

মোবাইল ফোনের ব্যবহার আজ প্রত্যেকেই করছেন এবং মনোরঞ্জন, কাম-কাজ, যোগাযোগ, সামাজিকীকরণ ইত্যাদি বিভিন্ন ক্ষেত্রে মোবাইল ফোন এর ব্যবহার করা হচ্ছে।

বর্তমান সময়ে একটি স্মার্টফোন ছাড়া লোকেরা নিজের জীবন কল্পনাও করতে পারবেননা।

তবে, আগেকার সময়ে ছিল সেই ছোট ছোট আকারের মোবাইল যেগুলোর মাধ্যমে কেবল voice call, SMS ইত্যাদি সাধারণ কাজ গুলোই করা যেত।

কিন্তু বর্তমান সময়ে, mobile phone বলতে সেই শক্তিশালী smartphone device গুলোকে বোঝানো হয় যেগুলো একটি computer মতো শক্তিশালী এবং যেগুলোর দ্বারা multitasking, multimedia, Internet, processing, video chatting ইত্যাদি প্রচুর কাজ গুলো করা সম্ভব যেগুলো কল্পনাও করা যেতোনা।

এটা বললে আমি ভুল হবোনা যে মোবাইল ফোন আজ আমাদের জীবন অনেক সহজ, সরল এবং সোজা বানিয়ে দিয়েছে।

কেননা, যেকোনো সময় যেকোনো কাজ আমরা আমাদের মোবাইলের মাধ্যমে করে নিতে পারছি।

মোবাইল ফোন ব্যবহারের সুবিধা কি কি সেটা বলতে গেলে তালিকা (list) বেশ অনেকটাই বড়।

আর এই তালিকা অনেক বড় হওয়ার কারণেই, আমাদের দৈনন্দিন জীবনে মোবাইল ফোনের গুরুত্ব অনেকটা বেড়েই চলেছে।

তাই চলুন, নিচে আমরা সরাসরি জেনেনেই মোবাইল ফোনের উপকারিতা, সুবিধা এবং গুরুত্ব গুলো কি কি।

মোবাইল ফোনের গুরুত্ব, উপকারিতা এবং ব্যবহার গুলো

আগেকার সময়ে যেকোনো কাজ করার ক্ষেত্রে বা ইন্টারনেট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে একটি computer device বা laptop এর ব্যবহার করাটা জরুরি ছিল।

কিন্তু, আজ আধুনিক মোবাইল ফোন গুলোতে এরকম প্রযুক্তির ব্যবহার করা হয়েছে যেগুলোর ফলে মোবাইলের মাধ্যমে voice calling এর সাথে সাথে আমরা কম্পিউটারের মতোই বিভিন্ন ধরণের কাজ গুলো সহজেই করে নিতে পারি।

আর এটাই কারণ যার জন্য আমাদের জীবনে একটি মোবাইল ফোন এর গুরুত্ব অনেকটাই বেশি।

এছাড়া, মোবাইলের মাধ্যমে যে যোগাযোগ করাটা এতটা সোজা এবং সরল হয়ে দাঁড়াবে এর কল্পনা হয়তো আজ থেকে ২০ বছর আগে কেও করেননি।

আপনিও যদি একটি মোবাইল ফোন ব্যবহার করছেন তাহলে একদিন সেই মোবাইল ছাড়া দিন কাটিয়ে দেখুন।

অনেকটাই সহজে বুঝতে পারবেন যে সেই মোবাইলের গুরুত্ব আপনার জীবনে কতটা বেশি।

সে যাই হোক, নিচে দেওয়া মোবাইল ফোনের ব্যবহার এবং উপকারিতা গুলো দেখলেই আপনারা মোবাইলের গুরুত্ব আমাদের জীবনে কতটা বেশি সেটা বুঝতে পারবেন।

মোবাইল ফোনের ব্যবহার ও উপকারিতা গুলো

  1. যোগাযোগের মাধ্যম
  2. ছোট এবং সুবিধাজনক
  3. ছবি এবং ভিডিও
  4. জিপিএস (GPS)
  5. মনোরঞ্জন
  6. মাল্টিটাস্কিং
  7. গেমিং
  8. ইন্টারনেট 
  9. ভিডিও কলিং 
  10. মোবাইল ব্যাংকিং
  11. টর্চলাইট (Flash light)
  12. টেক্সট এবং নোট
  13. লাইভ টিভি 
  14. শিক্ষা ও গবেষণা
  15. মোবাইল দিয়ে ইনকাম
  16. এপ্লিকেশন (apps)
  17. অনলাইন শপিং
  18. রিচার্জ এবং বিল পেমেন্ট
  19. রিমোট ওয়ার্কিং (Remote working)
  20. খবর (news)

চলুন, নিচে আমরা মোবাইলের প্রত্যেকটি ব্যবহার বা উপকারিতার গুলোর বিষয়ে বিস্তারিত ভাবে জেনেনেই।

যোগাযোগের মাধ্যম 

মোবাইল ফোন এর প্রথম এবং সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ ব্যবহার হলো, “এটা যোগাযোগের দারুন একটি মাধ্যম”.

এর মাধ্যমে আমরা বিশ্বের যেকোনো জায়গার থেকে যেকোনো জায়গাতে থাকা আমাদের বন্দু-বান্ধব, প্রিয়জন, পরিবারের সদস্য, সহকর্মী দের সাথে বা প্রায় প্রত্যেকের সাথেই তাত্ক্ষণিকভাবে যোগাযোগ স্থাপন করতে পারি।

তবে এখনের আধুনিক মোবাইল গুলো ব্যবহার করে আমরা voice calling এর সাথে সাথে live video calling এর মাধ্যমে যোগাযোগ করে থাকি।

তাই, আপনার থেকে অনেক দূরে থাকা ব্যক্তি বা প্রিয়জনকে ভিডিওর মাধ্যমে দেখে সংযোগ স্থাপন করা সম্ভব।

ছোট এবং সুবিধাজনক 

একটি মোবাইল ফোন এর আকার অনেকটাই ছোট এবং তাই আমরা প্রত্যেকেই আমাদের মোবাইল পকেটে বা হাতে নিয়ে চলি।

আমাদের pocket বা bag এর মধ্যে অনেক সহজেই মোবাইল ফোন রাখা যাবে।

তাই, প্রয়োজন হিসেবে যেকোনো সময় নিজের মোবাইল ফোনটি ব্যবহার করাটা সম্ভব।

এছাড়া, মোবাইলের মধ্যে থাকে rechargeable battery আর তাই ঘর থেকে এক বার ভালো করে চার্জ দিয়ে রাখলে অনেকটা সময় এর ব্যবহার করতে পারবেন।

অবশই, যদি আপনার মোবাইলের ব্যাটারী প্রচুর কমে এসেছে বা শেষ হয়ে গেছে, তাহলে নিজের গাড়ি (car), bike বা যেকোনো electrical outlet এর দ্বারা একটি data cable বা charger এর মাধ্যমে মোবাইলের ব্যাটারী আবার চার্জ করা সম্ভব।

ছবি এবং ভিডিও 

বর্তমান সময়ে সুন্দর সুন্দর ছবি তুলা এবং ভিডিও রেকর্ড করাটা আমাদের প্রত্যেকের জীবনের একটি অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভাগ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

কেননা, একটি স্মার্টফোন এর মাধ্যমে আমরা DSLR camera র মতোই স্পষ্ট এবং হাই কোয়ালিটির সুন্দর সুন্দর ছবি এবং ভিডিও ক্যাপচার করতে পারছি।

তাই, আজ প্রফেশনাল সুন্দর সুন্দর ছবি তুলার জন্য এবং ভিডিও রেকর্ড করার জন্য আমাদের মোবাইল ফোন যথেষ্ট।

এছাড়া, ছবি বা ভিডিও তুলার পর সাথে সাথেই email, messaging, Bluetooth বা internet এর মাধ্যমে অন্যান্য ব্যক্তিদের সাথে শেয়ার (share) করা সম্ভব।

এর বাইরেও ফটো এবং ভিডিও গুলোকে প্রফেশনাল ভাবে এডিট করার ক্ষেত্রেও মোবাইলের ব্যবহার করা যেতে পারে।

সত্যি বললে আধুনিক স্মার্টফোন গুলোতে এতটা দারুন ক্যামেরা কোয়ালিটি দেওয়া হয়েছে যে লোকেরা আজ digital camera কি সেটা ভুলেই গেছেন।

জিপিএস (GPS) 

আজকাল প্রত্যেক মোবাইলের মধ্যেই জিপিএস (GPS) এর সুবিধা দেওয়া হয়েছে।

আর এই GPS এর মাধ্যমেই আমরা আমাদের মোবাইল থেকে যেকোনো জায়গা, রাস্তা, হোটেল, বিল্ডিং ইত্যাদি খুঁজে পেতে পারি।

মোবাইলের মধ্যে Google maps এর মতো দারুন এপস কিছু দেওয়া হয় যেগুলো GPS এর মাধ্যমে লোকেশন (location) বা রাস্তা খুঁজতে সাহায্য করে থাকে।

তাই, যদি আপনার কাছে একটি smartphone আছে তাহলে আপনি কখনোই কোনো নতুন জায়গায় হারিয়ে যাবেননা।

মোবাইলের ম্যাপস (MAP) এপ্লিকেশন ব্যবহার করে যেকোনো জায়গার থেকে যেকোনো জায়গা, রাস্তা, বিল্ডিং ইত্যাদি খুঁজে পেয়ে যাবেন।

মনোরঞ্জন 

আজকাল একটি smartphone এর ব্যবহার মূলত মনোরঞ্জন (entertainment) এর ক্ষেত্রেই করা হয়।

এখনের মোবাইল গুলো হয়ে থাকে ৫ ইঞ্চি থেকে ৬ ইঞ্চি বড় এবং ফুল HD screen যেগুলোতে ভিডিও বা সিনেমা দেখার মজাই আলাদা।

এখন আর আগেকার সময়ের মতো একটি সিনেমা দেখার জন্য ডিভিডি প্লেয়ার, কম্পিউটার বা ল্যাপটপ চালাতে হয়না।

আমাদের মোবাইল ফোনেই আমরা সবটা যেকোনো সময় দেখে নিতে পারি।

ভিডিও এবং সিনেমা দেখা ছাড়া হাই গ্রাফিক্স গেমিং, গান শুনা, লাইভ ভিডিও স্ট্রিমিং, অনলাইন চ্যাটিং, ইন্টারনেট মাধ্যমে বন্ধুত্ব করা ইত্যাদি বিভিন্ন ভাবেই মোবাইলের মাধ্যমে আমাদের মনোরঞ্জন হয়ে থাকে।

মাল্টিটাস্কিং 

আজকের মোবাইল ফোন এর প্রযুক্তি এতটাই উন্নত এবং আধুনিক যে একটি মোবাইল একটি কম্পিউটারের মতোই শক্তিশালী।

তাই, আমরা যেসব কাজ কম্পিউটারে করতাম সেগুলো আজ মোবাইল ডিভাইস এর মাধ্যমেও করা সম্ভব।

কম্পিউটারের মতোই এখনের মোবাইল গুলোতে শক্তিশালী প্রসেসর, অধিক র্যাম (RAM), অধিক ইন্টারনাল স্টোরেজ স্পেস এবং গ্রাফিক্স প্রসেসিং ইউনিট থাকে।

আর এর ফলে আমরা আমাদের মোবাইলের মাধ্যমে জটিল কাজ গুলো করার সাথে সাথে একসাথে একাধিক কাজ করতে পারি।

যেমন, ভিডিও দেখতে দেখতে মেসেজ করা, গান শুনতে শুনতে ইন্টারনেট এর ব্যবহার, একদিন এপ্লিকেশন গুলোকে একসাথে ব্যবহার করতে পারি ইত্যাদি।

গেমিং 

আগের সেই দিন চলে গেছে যখন ভালো ভালো high graphics games গুলো কেবল computer বা laptop এর মাধ্যমেই খেলা সম্ভব ছিল।

কারণ, এখনের স্মার্টফোন গুলো এতটাই শক্তিশালী যে এগুলোর মাধ্যমে দারুন হাই গ্রাফিক্স গেম গুলো খেলা সম্ভব।

আজ ছোট থেকে বড় প্রত্যেকেই তাদের মোবাইল ফোনে heavy graphics games গুলো খেলতে পারছেন।

আর আমি যদি ভুল বলছিনা, তাহলে এখনের প্রায় অনেক আধুনিক mobile device গুলো মূলত gaming performance এর ওপরেই focus করে launch করা হচ্ছে।

কেবল একটি মোবাইলের মাধ্যমে এতটা আধুনিক এবং অ্যাডভান্স gaming performance পাওয়া যাবে বলে আগে কখনো কল্পনা করা যেতোনা।

তাই, যদি আপনি গেম খেলতে পছন্দ করেন তাহলে গেমিং এর জন্য আলাদা করে কম্পিউটার বা ল্যাপটপ না কিনলেও চলবে।

ইন্টারনেট 

কিছু বছর আগে ইন্টারনেট শব্দটি বললে কম্পিউটার এবং ল্যাপটপ ছাড়া এর কল্পনা করা যেতোনা।

কেননা, আগেকার সময়ে ইন্টারনেট এর ব্যবহার কেবল একটি কম্পিউটার বা ল্যাপটপ এর দ্বারা সম্ভব ছিল।

কিন্তু আজ আমরা আমাদের মোবাইলের মাধ্যমে পুরো ২৪ ঘন্টা ইন্টারনেট এর সাথে সংযুক্ত হয়ে থাকতে পারছি।

অনলাইন সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে বন্ধু বানানো, নতুন নতুন ব্যক্তির সাথে কথা বলা, অনলাইন কেনা-কাটা, অনলাইনে ব্যবসা করা, ভিডিও ক্যালিং, চ্যাটিং, অনলাইনে ভিডিও দেখা ইত্যাদি সবটাই আমরা আমাদের মোবাইলের মাধ্যমে করে নিচ্ছি।

আজকাল মোবাইলে ইন্টারনেটের মাধ্যমে আমরা বিভিন্ন online multiplayer games গুলো ঘরে বসে বসে বন্ধু দের সাথে একসাথে খেলতে পারছি।

ভিডিও কলিং 

আজকাল মোবাইলের মধ্যে ফ্রন্ট এবং ব্যাক দুটো ক্যামেরা দেওয়া হয়।

আর এই ফ্রন্ট ক্যামেরার মাধ্যমে আমরা ভিডিও কলিং করতে সাহায্য পেয়ে থাকি।

আগেকার সময়ের মোবাইলে কেবল voice calling এবং text SMS করাটা সম্ভব ছিল।

কিন্তু আজ আমরা মোবাইল থেকে live video calling করে প্রিয়জনের সাথে video chatting এর মাধ্যমে কথা বলতে পারছি।

মোবাইল ব্যাংকি 

আপনার কাছে যদি একটি মোবাইল ফোন আছে, তাহলে ব্যাংকে না গিয়ে ঘরে বসে বসে mobile banking এর মাধ্যমে প্রায় প্রত্যেক banking transaction গুলো করতে পারবেন।

আজ মোবাইলের মাধ্যমে ব্যাংক থেকে টাকা পাঠানো, টাকা গ্রহণ করা, NEFT, ডেবিট কার্ড এপ্লাই, চেক বুক এপ্লাই সবটা করা সম্ভব।

একবার ভেবে দেখুন, একটি মোবাইল ডিভাইস এর ব্যবহার করে আপনি নিজের কতটা সময় বাঁচিয়ে নিতে পারছেন।

এমনিতে ব্যাংকে গিয়ে কাজ গুলো করতে হবে আপনার কতটা সময় নষ্ট হতো, কিন্তু মোবাইল ব্যাংকিং এর মাধ্যমে আপনি সবটা নিজের ঘরে বা দপ্তরে বসে বসেই করে নিচ্ছেন।

টর্চলাইট (Flash light) 

দেখতে গেলে অনেক সাধারণ একটি জিনিস যদিও সময়ে এই সাধারণ জিনিস আপনার অনেক কাজে এসে থাকে।

আগে অন্ধকারে চলাফেরা করার ক্ষেত্রে আমাদের আলাদা করে একটি টর্চটাইট এর প্রয়োজন হয়ে থাকতো।

কিন্তু এখনের প্রায় প্রত্যেক মোবাইল গুলোতে টর্চলাইট এর সুবিধা থেকে থাকে যার ফলে অন্ধকারে কিছু খুজার জন্য বা অন্ধকার রাস্তায় আপনার অনেক সাহায্য হয়ে থাকে।

মোবাইলে টর্চ লাইট থাকার ফলে আলাদা করে টর্চ রাখার ভেজাল করতে হয়না।

টেক্সট এবং নোট 

মোবাইলে আজকাল বিভিন্ন রকমের আলাদা আলাদা ওয়ার্ড এবং টেক্সট প্রসেসিং এপ্লিকেশন থাকে যেগুলোর মাধ্যমে আমরা বিভিন্ন ধরণের লেখালেখি কাজ গুলো করতে পারি।

যেমন, জরুরি হিসাব করা, তালিকা বানানো, নোট তৈরি করা, আর্টিকেল লিখা, এক্সেল বা ওয়ার্ড ফাইল এডিট করা বা তৈরি করা ইত্যাদি।

আপনি যেকোনো জায়গাতে বসে নিজের মোবাইল থেকে জরুরি প্রেসেন্টেশন, এক্সেল বা ওয়ার্ড ফাইল গুলোকে এডিট করতে পারবেন।

তাই, ব্যবসা বা দপ্তরের কাম-কাজের ক্ষেত্রে কিন্তু একটি মোবাইল ডিভাইস এর গুরুত্ব অনেকটাই বেশি বলা যেতে পারে।

লাইভ টিভি 

যখন আমরা মোবাইল ফোনের উপকারিতা নিয়ে কথা বলছি তখন এই বিষয়টির উল্লেখ না করলে কিন্তু চলবেনা।

কেননা, আজকাল আমাদের smartphone আমাদের টিভি (TV) হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আজ আপনার মোবাইলে প্রায় প্রত্যেকটি টিভি চ্যানেল গুলোকে লাইভ দেখে নিতে পারছি।

মোবাইলের screen size অনেক বড় এবং HD হওয়া কারণে মোবাইল এর মাধ্যমে যেকোনো জায়গার থেকে টিভি দেখাটা আজ অনেক সামান্য একটি ব্যাপার।

শিক্ষা ও গবেষণা 

এটা প্রত্যেকেই জানেন যে বর্তমান সময়ে নতুন কিছু শিখার ক্ষেত্রে বা গবেষণার ক্ষেত্রে মোবাইল এর ব্যবহার প্রচুর পরিমানে হয়ে থাকে।

আজ যেকোনো নতুন জিনিস শিখার জন্য আমরা আমাদের মোবাইলে ভিডিও বা আর্টিকেল দেখে সেটা শিখে থাকি বা সেবিষয়ে জ্ঞান নিয়ে থাকি।

নিতুন নতুন বিষয়ে গবেষণা করার ক্ষেত্রে মোবাইল এবং ইন্টারনেটের ব্যবহার করে প্রচুর তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।

আজকাল স্কুল এবং কলেজে মোবাইলে ভিডিও কলিং এর মাধ্যমে অনলাইন ক্লাস করিয়ে শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে।

অনলাইন ক্লাস এর বাইরে কিছু কিছু জায়গাতে মোবাইলের মাধ্যমে পরীক্ষা দেওয়া ও নেওয়া হচ্ছে।

তাই, এখনের বাচ্চাদের জন্যেও মোবাইল ফোন একটি অনেক গুরুত্বপূর্ণ ডিভাইস বা জিনিস হয়ে দাঁড়িয়েছে।

মোবাইল দিয়ে ইনকাম 

যখন ঘরে বসে টাকা আয় করার কথা বলা হয় তখন একটি মোবাইল ফোন এর ব্যবহার অবশই করা হয়।

অনেকেই আছেন যারা মোবাইল বিভিন্ন ধরণের এপস গুলো ব্যবহার করে টাকা ইনকাম করছেন।

এছাড়া, মোবাইলে কাজ করে ইউটিউব থেকে টাকা আয়, ব্লগিং করে ইনকাম করা, ক্যাপচা এন্ট্রির কাজ করে ইত্যাদি প্রচুর অনলাইন কাজ গুলো মোবাইল দিয়ে করে অনেকেই টাকা ইনকাম করছেন।

তাই, বর্তমান সময়ে পার্ট-টাইম টাকা ইনকাম করার ক্ষেত্রেও কিন্তু একটি মোবাইল ফোনের প্রচুর ভূমিকা রয়েছে।

এপ্লিকেশন (apps) 

কম্পিউটার বা ল্যাপটপের মতোই আজ একটি মোবাইলের মাধমেও আমরা নানান ধরণের কাজ গুলো করতে পারি।

আর প্রত্যেক আলাদা আলাদা ধরণের কাজ গুলো করার ক্ষেত্রে আমরা মোবাইলে বিভিন্ন এপস (apps) গুলো ব্যবহার করতে পারি।

আজ মোবাইলে কেবল একটি এপ্লিকেশন ইনস্টল করে প্রায় প্রত্যেক কাজ মোবাইলের মাধ্যমে করা সম্ভব।

ভিডিও এডিটিং, ভয়েস রেকর্ডিং, একাউন্টিং, স্ক্রিন রেকর্ডিং ইত্যাদি প্রায় যেকোনো কাজ করার জন্য একটি এপস রয়েছে।

তাই, এক্ষেত্রেও মোবাইলের গুরুত্ব অনেকটাই বেশি কেননা আমরা সহজে বিভিন্ন ধরণের জরুরি কাজ গুলো মোবাইল থেকেই করে ফেলতে পারছি।

অনলাইন শপিং 

আজ লোকেরা বাজারে গিয়ে কেনা-কাটা করার তুলনায় ঘরে বসে অনলাইনে শপিং করাটা অধিক পছন্দ করে থাকেন।

এমনিতে অনলাইন শপিং এর ক্ষেত্রে মূলত ইন্টারনেট এর ব্যবহার হয়ে থাকে যদিও এক্ষেত্রে মোবাইলের ভূমিকা কিন্তু প্রচুর রয়েছে।

আমরা যখনি কোনো জিনিস অনলাইনে কিনে নিতে চাই তখন প্রথমে নিজের মোবাইলের ইন্টারনেট ব্রাউজার এর মধ্যে সেই জিনিসটি সার্চ করে থাকি।

এছাড়া, জিনিসটি অর্ডার করা থেকে শুরু করে ডেলিভারি ট্র্যাকিং সবটাই আমরা আমাদের মোবাইল থেকেই করে থাকি।

তাই, অনলাইন কেনা-কাটা করার ক্ষেত্রে একটি মোবাইল ফোনের ব্যবহার অনেকটা গুরুত্বপূর্ণ।

রিচার্জ এবং বিল পেমেন্ট 

আগের সেই দিন এখন আর নেই যখন মোবাইল, DTH ইত্যাদি রিচার্জ করার ক্ষেত্রে আমাদের দোকানে দোকানে গিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে হতো।

এখন মোবাইল রিচার্জ এবং বিল পেমেন্ট এর মতো কাজ গুলো নিমিষের মধ্যে জেকেও নিজের মোবাইল থেকেই করে ফেলতে পারেন।

কেবল মোবাইল বা DTH না তবে, বিদ্যুৎ বিল, জলের বিল, বিভিন্ন ধরণের পেমেন্ট গুলো আজ আমরা আমাদের মোবাইল থেকে অনেক সহজেই করতে পারছি।

তাই, বর্তমান সময়ে মোবাইলের গুরুত্ব কিন্তু অনেকটাই বেশি যখন এই ধরণের সুবিধা গুলো আমরা মোবাইল এর দ্বারা পাচ্ছি।

রিমোট ওয়ার্কিং (Remote working) 

আমি ওপরে আগেই বলেছি এখনের মোবাইল ডিভাইস গুলো একটি কম্পিউটার বা ল্যাপটপ মতোই শক্তিশালী।

কেননা, এখনের smartphone গুলোতেও computer এর মতো শক্তিশালী processor, RAM, storage এবং GPU ব্যবহার করা হয়।

আর তাই, অনেক জটিল এবং ভারী কাজ গুলো নিজের mobile device থেকে করাটা আজ সম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এক্ষেত্রে, অনেকেই দপ্তরের বাইরে বসে বা নিজের ঘর থেকে বা যেকোনো অন্য জায়গার থেকে নিজের কাজ গুলো মোবাইল এর মাধ্যমে রিমোট ভাবে করে ফেলতে পারেন।

খবর (news) 

সকালে ঘুম থেকে উঠে বা বিকেলে যদি লেটেস্ট খবর পড়ার অভ্যেস আপনার আছে, তাহলে এক্ষেত্রেও মোবাইল আপনার অনেক কাজে আসবে।

কেননা, আজকাল latest news পেতে হলে যেকোনো সময় নিজের মোবাইলের মাধ্যমে খবর জেনেনিতে পারবেন।

Live news channel, YouTube, news website, news apps ইত্যাদি গুলোর মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে তাজা খবর আপনার সামনেই থাকছে।

 

আমাদের শেষ কথা,,

তাহলে বন্ধুরা, দৈনন্দিন জীবনে মোবাইল ফোনের গুরুত্ব, উপকারিতা এবং ব্যবহার গুলো আমরা আজকে জানতে পারলাম।

এমনিতে আধুনিক মোবাইল ফোনের এর সুবিধা এবং লাভ প্রচুর রয়েছে।

আমি কেবল কিছু জরুরি ব্যবহার এবং উপকারিতা গুলোর বিষয়ে আপনাদের বললাম।

আমাদের আজকের আর্টিকেল, “importance of mobile phone in Bengali“, যদি আপনাদের ভালো লেগে থাকে,

তাহলে আর্টিকেলটি অবশই শেয়ার করবেন।

এছাড়া, আর্টিকেলের সাথে জড়িত কোনো ধরণের প্রশ্ন বা পরামর্শ থাকলে নিচে কমেন্ট করে অবশই জানিয়ে দিবেন।

 

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error:
Scroll to Top
Copy link
Powered by Social Snap