ব্যবসা কি । ব্যবসা কাকে বলে । কত প্রকার ও কি কি

ব্যবসা কাকে বলে: বর্তমান সময়ে যেকোনো ক্ষেত্রে চাকরি পাওয়াটা একটি অনেক জটিল বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রতিযোগিতা এতটাই বেশি হয়ে গেছে যে একটি সাধারণ চাকরি পাওয়ার ক্ষেত্রেও আমাদের বছরের পর বছর অপেক্ষা করতে থাকতে হয়।

ব্যবসা কাকে বলে
ব্যবসার সংজ্ঞা কি ? (Definition of business in Bangla)

এক্ষেত্রে, চাকরির তুলনায় তাড়াতাড়ি টাকা ইনকাম করার আরেকটি উপায় আমাদের কাছে থাকতে পারে, আর সেটা হলো ব্যবসা (business).

আর এজন্যেই আজকের এই আর্টিকেলের মাধ্যমে আমরা সম্পূর্ণ বিস্তারিত ভাবে জানবো, ব্যবসা কি (what is business in Bengali) এবং ব্যবসা কত প্রকার ও কি কি ?

আগেকার পুরোনো সময়ে লোকেরা ব্যবসা (business) করতে প্রচুর ভয় করতেন, তারা ব্যবসা করার সাহস করতে পারতেননা এবং ব্যবসাতে ব্যর্থ (fail) হয়ে যাওয়ার ভয় তাদের মধ্যে সব থেকে বেশি দেখা যেত।

তবে, আজকের এই নতুন সমাজ এর মধ্যে থাকা আধুনিক লোকেরা ব্যবসার প্রতি থাকা তাদের ধারণা পাল্টে নিতে সফল হয়েছেন।

এখনের সমাজে ব্যবসা করার স্বপ্ন প্রায় প্রত্যেকেই দেখেন এবং একটি দারুন ব্যবসা করার পরিকল্পনা অবশই করে থাকেন।

কেননা, আমরা প্রত্যেকেই জানি যে, আজকের সময়ে দাঁড়িয়ে আনলিমিটেড টাকা রোজগার করার ক্ষেত্রে একমাত্র ব্যবসা করেই করা সম্ভব।

বেশিরভাগ লোকেদের ক্ষেত্রেই, কেবল চাকরি করে জীবনের প্রত্যেকটি চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হয়ে দাড়ায়না।

আর, ব্যবসা বলতে কি বুঝায় (what is business) বা ব্যবসা কি, এই বিষয়ে তখন আপনার জন্য জেনে রাখাটা সব থেকে অধিক জরুরি যখন আপনি নিজের ব্যবসা শুরু করার কথা ভাবছেন।

ব্যবসা কি / ব্যবসা কাকে বলে – (What is business in Bengali)

ব্যবসা মানে কি, বা ব্যবসার সংজ্ঞা বিভিন্ন আলাদা আলাদা পণ্ডিত এবং বিশেষজ্ঞের মতে আলাদা আলাদা হতে পারে।

আপনার শুনে অবাক লাগতেই পারে যে, ব্যবসা শব্দের (business) ব্যবহার সর্ব প্রথমে ৩০০০ বছর আগে করা হয়েছিল।

আর এটা বললে আমি ভুল হবোনা যে, ব্যবসাকে এখনো লোকেরা ভালো করে বুঝতে চাইছেন, কেননা এই ব্যবসার মাধ্যমেই অনেক কম সময়ে লক্ষ কোটি কোটি টাকা আয় করা সম্ভব।

এরকম প্রচুর ব্যবসা গুলোও বর্তমানে রয়েছে, যেগুলোর মাধ্যমে ঘরে বসে বসে টাকা ইনকাম করা সম্ভব।

তাহলে কি এই ব্যবসা ? চলুন জেনেনেই।

ব্যবসার সংজ্ঞা কি – (Definition of Business)

সামান্য ভাষাতে যদি বলা হয়, তাহলে ব্যবসাকে একটি সংগঠন, উদ্যোগী সত্তা বা উদ্যোক্তা হিসেবে বলা হয়েছে যেটা কোনো শিল্প, বাণিজ্যিক বা পেশাগত কার্যক্রমের সাথে নিযুক্ত হয়ে রয়েছে।

যদি ব্যবসার পেশাগত সংজ্ঞা জিগেশ করা হয় তাহলে বলা যেতে পারে,

“ব্যবসা হলো সেই কার্যকলাপ (activity) যার মাধ্যমে একজন বা একাধিক ব্যক্তি জীবিকা নির্বাহের রাস্তা খুঁজে পেতে পারে।”

মানে, ব্যবসা হলো সেই কার্যকলাপ যেখানে, পণ্য উৎপাদন বা ক্রয় এবং বিক্রয় দ্বারা অর্থ উপার্জন করা হয়।

তাই, সোজা ভাবে বলতে গেলে, ব্যবসা সেই যেকোনো কার্যকলাপই হতে পারে যার মাধ্যমে লাভ আয় করা যেতে পারে বা লাভ আয়ের চেষ্টা করা হচ্ছে।

যদিওবা অনেক সময় ব্যবসার একটি আলাদা নাম ও পরিচয় দেওয়া হয়ে থাকে, সেই ক্ষেত্রেও কিন্তু একটি ব্যবসায়িক সত্তা তার মালিকের থেকে পৃথক হয়ে যায়না।

তাই, যেকোনো সময় ব্যবসার মালিকই সেই ব্যবসার দ্বারা সংগৃহীত যেকোনো ধরণের ঋণ এর জন্যে দায়ী এবং দায়বদ্ধ।

যেকোনো ব্যবসা মসৃণভাবে চলতে থাকার ক্ষেত্রে ব্যবসার থেকে হওয়া লাভ বা মুনাফাই হলো সব থেকে অধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

তাই যেকোনো ব্যবসাতেই ব্যবসায়ীর জন্য সব থেকে অধিক চিন্তাজনক বিষয় হলো, “লাভ বা মুনাফা আয় করাটা”.

তাহলে বন্ধুরা, ব্যবসা বলতে কি বুঝায় বা ব্যবসা কাকে বলে, বিষয়টা হয়তো অবশই বুঝতে পেরেছেন।

চলুন, এখন আমরা ব্যবসার সাথে জড়িত অন্যান্য বিষয় গুলো জেনেনেই।

ব্যবসা কত প্রকার ও কি কি – (Types of business)

ওপরে আপনারা ব্যবসা কি এই বিষয়ে হয়তো সম্পূর্ণটা বুঝে নিতে পেরেছেন, তবে ব্যবসা শুরু করার ক্ষেত্রে কেবল এতটুকু তথ্য জেনে রাখাটাই যথেষ্ট না, আপনাকে ব্যবসার বিভিন্ন প্রকার গুলোর বিষয়েও অবশই জেনে রাখতে হবে।

যেকোনো ব্যবসা করার ক্ষেত্রে সব থেকে প্রথম এবং গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত এটাই হয়ে থাকে যে, “আপনি কোন প্রকারের ব্যবসা করতে চাইছেন।”

ব্যবসা বিভিন্ন প্রকারের হয়ে থাকে আর যেগুলোর মধ্যে একটিকে বাছাই করে আপনাকে এগোতে হবে।

১. উৎপাদন ব্যবসার (Manufacturing business)

উৎপাদন ব্যবসা হলো সেই ধরণের ব্যবসা যেখানে একটি পণ্য তৈরি করা হয় বা উৎপাদন করা হয় এবং তারপর সেই পণ্য গুলোকে বাজারে বিক্রি করা হয়। এই ধরণের উৎপাদন ব্যবসাতে মূলত কাঁচামাল বা বিভিন্ন অংশ গুলোর ব্যবহার করে সমাপ্ত পণ্য গুলো তৈরি করা হয়।

এই ধরণের ব্যবসাতে বিভিন্ন tools, human labor, machinery, chemical processing ইত্যাদির ব্যবহার করা হয়। মনে রাখবেন, manufacturing business গুলো শুরু করার ক্ষেত্রে অনেক বেশি পরিমানের মূলধনের প্রয়োজন।

২. খুচরো ব্যবসা (Retail business)

রিটেল ব্যবসা বা খুচরো ব্যবসা বর্তমানে সব থেকে অধিক পরিমানে করা হয়।

এই ধরণের ব্যবসাতে ব্যবসায়ীরা উৎপাদনকারী এবং বিতরকারী দের থেকে পাইকারি হিসেবে (wholesale) জিনিস / পণ্য কিনে তারপর সেগুলোকে খুচরো হিসেবে (retail) গ্রাহকের কাছে অধিক দামে বিক্রি করে থাকেন।

এই ধরণের ব্যবসাকে সাধারণত কেনা-বেচা ব্যবসা বলেও বলা হয়, কেননা এখানে ব্যবসায়ীরা কম দামে পণ্য কিনে অধিক দামে বিক্রি করে অধিক মুনাফা আয় করে থাকেন।

উদাহরণ স্বরূপে, কাপড়ের দোকান, বই এর দোকান, মুদি দোকান ইত্যাদি।

৩. সেবা ব্যবসা (Service business)

সেবা ব্যবসা বা সার্ভিস বিজনেস হলো এমন ধরণের ব্যবসা যেখানে বিভিন্ন ধরণের সেবা গুলোকে সরাসরি গ্রাহক / উপভোক্তার কাছে বা অন্যান্য ব্যবসা গুলোর কাছে বিক্রি করা হয়।

বর্তমান সময়ে এই ধরণের ব্যবসা প্রচুর পরিমানে বৃদ্ধি পেয়েছে এবং এই ধরণের ব্যবসাতে প্রচুর লাভ করা সম্ভব।

মূলত, এই ব্যবসাতে উপভোক্তাদের তাদের চাহিদা হিসেবে সেবা প্রদান করা হয়।

যেমন, ক্যাটারিং ব্যবসা, ইভেন্ট প্লানিং, উবের রাইড, কোচিং ক্লাস, রিয়েল এস্টেট ব্যবসা ইত্যাদি।

৪. হাইব্রিড ব্যবসা (Hybrid business)

এটা হলো সেই বিশেষ ধরণের ব্যবসা যেখানে ওপরে বলা তিন ধরণেরই কার্যকলাপ গুলো থাকছে, মানে পণ্যের উৎপাদন, উৎপাদন এর বিক্রি এবং সেবা প্রদান করা, এই ধরণের ব্যবসা হাইব্রিড ব্যবসার মধ্যে ধরা হয়।

তবে এটা কখনোই জরুরি না যে এখানে ৩ ধরণেরই ব্যবসা হতে হবে, যদিওবা কেবল ২ ধরণের ব্যবসাও একসাথে করা হচ্ছে, সেক্ষেত্রেও সেটাকে হাইব্রিড ব্যবসা বলা যেতে পারে।

উদাহরণ স্বরূপে, 

একটি ফার্নিচার ব্যবসাতে যদি ফার্নিটারের বিক্রি করার সাথে সাথে লোকেদের পুরোনো ফার্নিচার গুলোকে পালিশ করার সেবাও প্রদান করা হচ্ছে, তাহলে এখানে পণ্যের রিটেল বিক্রি এবং সেবা প্রদান দুধরণের ব্যবসা করা হচ্ছে, যার জন্যে এই ব্যবসাকে হাইব্রিড ব্যবসার শ্রেণীতে ধরা হবে।

ব্যবসার প্রকৃত এবং গঠন এর ওপরে লক্ষ্য রেখে প্রকারভেদ

সত্যি বললে একটি সফল ব্যবসার পেছনে আপনার ব্যবসার ধরণ বা প্রকৃতির প্রচুর গুরুত্ব এবং অবদান রয়েছে, তবে আপনার ব্যবসার ধরণ বা গঠন কিরকম হবে বা হতে লাগে সেটা প্রত্যেকের ক্ষেত্রেই আলাদা আলাদা হতে পারে।

ব্যবসার প্রকৃতি কিরকম হবে সেটা বিভিন্ন বিষয়ের ওপরে নির্ভর করতে তারপর সিদ্ধান্ত নেওয়া যেতে পারে।

যেমন, ব্যবসায়ীর যোগ্যতা, জ্ঞান, ব্যবসার আকার, বিজনেসের এলাকা, ব্যবসায়ী দের সংগঠন, ব্যবসায়ীর রিস্ক নেওয়ার ক্ষমতা ইত্যাদি।

মূলত, ব্যবসার প্রকৃতি এবং গঠন এর ওপরে নির্ভর করে ব্যবসাকে তিন ধরনে ভাগ করা যেতে পারে।

  • একক মালিকানা (Sole-proprietorship)
  • অংশীদারিত্ব (Partnership)
  • কোম্পানি (Company)

চলুন প্রত্যেকটি ব্যবসার প্রকৃতি এবং গঠন এর প্রকার গুলোর বিষয়ে বিস্তারিত ভাবে আলোচনা করেনি।

একক মালিকানা (Sole-proprietorship)

এটা এমন এক ধরণের ব্যবসা যেখানে ব্যবসার মালিকানা অধিকার কেবল একজন ব্যক্তির কাছেই থাকে, মানে ব্যবসার মালিক কেবল একজন।

ব্যবসার সাথে জড়িত যেকোনো ধরণের ছোট-বড় সিদ্ধান্ত সেই একজন মালিকের দাড়াই নেওয়া হয়।

ব্যবসার থেকে হওয়া প্রত্যেক লাভ এবং লোকসান এর মালিক কেবল সেই একজন ব্যক্তি।

আইনের নজরে একক ব্যবসায়ী এবং ব্যবসা উভয়ই একই ব্যক্তি হিসেবে ধরা হয়।

ব্যবসার সাথে জড়িত সমস্ত দায়িত্ব গুলো কেবল সেই একক ব্যবসায়ীকেই (Sole-proprietor) নিতে হয়।

অংশীদারিত্ব (Partnership)

যখন একটি ব্যবসার মধ্যে দুজন বা দুজনের অধিক ব্যক্তিদের মধ্যে মালিকানা অধিকার থাকে এবং ব্যবসার থেকে হওয়া লাভের মধ্যে উভয়ের অধিকার থাকে তখন সেই ধরণের ব্যবসার প্রকৃতিকে অংশীদারিত্ব ব্যবসা বলে বলা হয়।

সোজা ভাবে বুঝলে,

যদি আপনার ব্যবসার মালিকানা অধিকার এবং সাথে ব্যবসা পরিচালনার অধিকার আপনার বাইরেও আরো একজন বা একাধিক ব্যক্তির কাছে থেকে থাকে, তখন এই ধরণের ব্যবসা গুলোকে পার্টনারশীপ বিজনেস (partnership business) হিসেবে গঠন করতে হবে।

এই ধরণের পার্টনারশীপ ব্যবসার গঠনের ক্ষেত্রে কমেও দুজন ব্যক্তির প্রয়োজন হয়ে থাকে।

কেবল একজন ব্যক্তির সাথে আপনার ব্যবসা কখনোই partnership business হিসেবে গঠিত করা সম্ভব না।

অংশীদারিত্বের শুরুতেই অংশীদার এর মধ্যে একটি অংশীদারি দলিল (Partnership deed) বানানো হয়ে থাকে যেখানে অংশীদার এর দ্বারা ব্যবসাতে লাগানো পুঁজি, লাভ এবং ক্ষতির ভাগ/অনুপাত ইত্যাদির বিষয়ে উল্লেখ থাকবে।

কোম্পানি (Company)

একটি কোম্পানি হলো, লাভ আয়ের উদ্দেশ্যে তৈরি করা একটি ইচ্ছুক প্রতিষ্ঠান যেখানে সম্পূর্ণ পুঁজি হস্তান্তরযোগ্য (transferable) ভাগে বিভাজিত থাকে, যেখানে রেজিস্ট্রেশন একজন কৃত্রিম ব্যক্তি হিসেবে কোম্পানি আইনের অধীনে হয়ে থাকে।

কোম্পানির বিভিন্ন আলাদা আলাদা স্বরূপ হতে পারে যেমন, One Person Company, Private Company, Public Company, Government Company, Not for Profit Company, Producer Company.

এই প্রত্যেক আলাদা আলাদা ধরণের কোম্পানি গুলোর নিজের নিজের বৈশিষ্ট রয়েছে।

কোম্পানির শেয়ারহোল্ডাররা বর্তমানে কোম্পানির প্রকৃত মালিক এবং কোম্পানির সম্পূর্ণ পুঁজি ছোট ছোট অংশে বিভক্ত থাকে।

 

আমাদের শেষ কথা,,

তাহলে বন্ধুরা, আজকের আর্টিকেলের মাধ্যমে আমরা জানলাম ব্যবসা মানে কি / ব্যবসা কাকে বলে (what is business in Bengali) এবং ব্যবসা কত প্রকার ও কি কি, এই সম্পূর্ণ বিষয়ে। 

আশা করছি ব্যবসার (business) সম্পর্কে লিখা আমাদের আজকের এই আর্টিকেল আপনাদের অবশই পছন্দ হয়েছে।

যদি সত্যি আর্টিকেলটি ভালো লেগে থাকে তাহলে অবশই আর্টিকেলটি সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করবেন।

এছাড়া, আর্টিকেলের সাথে জড়িত কোনো ধরণের প্রশ্ন বা পরামর্শ থাকলে, নিচে কমেন্ট করে জানাতে ভুলবেননা।

 

>> Related Articles <<

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error:
Scroll to Top
Copy link
Powered by Social Snap