বিক্রয় বৃদ্ধির কৌশল, নিয়ম এবং উপায় গুলো জেনে রাখুন

বিক্রয় বৃদ্ধির কৌশল: আমরা এমন অনেক প্রতিযোগী কোম্পানিদেরকেই দেখেছি যে, যাদের হাজার প্রতিযোগিতার মধ্যে, মাত্র একটি বা দুটিই সবসময় সেরা হয়ে থেকে গেছে। 

আসলে, প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার হাজার-একটা কৌশল থাকা সত্ত্বেও, যেই ব্যাপারটা, যেকোনো ব্যবসার ক্ষেত্রেই ম্যাজিকের মতো কাজ করে- সেটা হল সেই কোম্পানির বিক্রয় বা সেলস বৃদ্ধির কৌশল। 

যেকোনো বিজনেসের সফলতার পিছনে থাকে, গ্রাহক অর্জন করে নিজের পণ্য, পরিষেবা কিংবা তথ্য পরিমাণ মাত্রা বৃদ্ধি করা। 

আর, কোনো কোম্পানিই কোনোদিন আশা রাখতে পারে না যে, তাদের পরিষেবা বা পণ্য হঠাৎ করেই মানুষে কিনতে শুরু করবে। 

বরং, ব্যবসাতে বিক্রয় বৃদ্ধি আসলেই হল পরিকল্পিত ও কার্যকরী চিন্তাশীল বিক্রয় কৌশলগুলোর ফলাফল। 

তাই, পরিকল্পিত বিক্রয় কৌশল যেকোনো ব্যবসাকেই তাদেরকে বিক্রি-বাটা বাড়াতে অনস্বীকার্যভাবে সাহায্য করে।

এই কারণেই, আমরা আমাদের আজকের এই আর্টিকেলে আলোচনা করবো, সেই রকমই কিছু চমৎকারই বিক্রয় বৃদ্ধির কৌশল সম্পর্কে।

ব্যবসাতে বিক্রয় বৃদ্ধির সেরা ১০টি কৌশল:

বিক্রয় বৃদ্ধির কৌশল
How to increase sales in Bangla.

আপনার ব্যবসার বিক্রয় বা লাভ বাড়ানোর জন্যে নিচে বেশ কতগুলো বিক্রয় বাড়ানোর কৌশলের ব্যাপারে আলোচনা করা হল।

১. লিড বৃদ্ধি করে বিক্রি বাড়ান:

নতুন লিড তৈরি করার অর্থই হল সম্ভাব্য ক্রেতার সংখ্যা বাড়ানোর একটা আদর্শ কৌশল। 

শক্তিশালী লিড তৈরী করার জন্যে আপনার ব্যবসায়িক কম্যুনিকেশনের দলকে গ্রাহকদের উদ্দেশ্যে নানান ধরণের সমীক্ষা ও ডেমোস্ট্রেশনের ব্যবস্থা করতে বলুন। 

যাতে, পণ্য বা পরিষেবার গুণগত মান, ব্যবহারের সময়ের জটিলতা সম্পর্কে আরও গভীরভাবে গবেষণা চালানো সম্ভব হয়। 

আর, এর থেকে আপনি আপনার পণ্য বা পরিষেবাগুলোর মানের উন্নতি ঘটিয়ে নতুন করে গ্রাহকদের কাছে তা তুলে ধরতে পারেন। 

এক্ষেত্রে, ব্যবসায়ী লিডারদের তাদের গ্রাহকদের বর্তমান উদ্দেশ্যগুলোর ব্যাপারে অত্যন্ত প্রতিক্রিয়াশীল হতে হবে- যাতে কোম্পানি বাজারে তার কাঙ্খিত অবস্থান ধরে রাখতে ও বিক্রি বাড়াতে পারে। 

২. প্রোডাক্ট-টু-মার্কেট ফিট পরীক্ষা করুন:

কোনো গ্রাহক তখনই আপনার পরিষেবা নিতে পছন্দ করবে, যখন সে দেখবে তার বাজেটের মধ্যে সেরা প্রোডাক্টের সুবিধা আপনার কোম্পানি থেকেই একমাত্র পাওয়া সম্ভব হচ্ছে। 

তাই, যেকোনো ব্যবসার উচিত তার পণ্য বা পরিষেবার প্রোডাক্ট -টু-মার্কেট ফিট দেখে নেওয়া। 

অর্থাৎ, তার প্রোডাক্ট যে মূল্যের বিনিময়ে বাজারে আসছে, তা তার প্রতিযোগী কোম্পানিতে কেমন মূল্য ও কেমন মানে বিক্রি হচ্ছে। 

সেক্ষেত্রে, যদি আপনার পণ্যের অতিরিক্ত মূল্যসহ নানান সমস্যাগুলো থাকে, তবে তা সমাধান করে আপনার প্রতিযোগী কোম্পানিগুলোর তুলনায় কম দাম ও ভালো মানে বিক্রি করলে তাতে আপনার বিক্রয় বৃদ্ধি হতে পারে।

৩. পণ্যের অনন্যতাকে হাতিয়ার করুন:

যেকোনো কোম্পানির কাছেই তার পণ্য ও পরিষেবার একটা অনন্য বিক্রয় বিন্দু বা ইউনিক সেলিং প্রোপোজিশন (USP) থাকাটা খুবই জরুরি। 

আপনার ব্যবসা যদি গ্রাহকদের নিখুঁত পরিষেবা কিংবা পণ্য দেয়;

আর আপনার সমগোত্রীয় কোম্পানিগুলোও সেই একই ধরণের পরিষেবা বা পণ্য দিতে থাকে, তবে সেক্ষেত্রে বিক্রয় বাড়ানো কঠিন হয়ে পড়লেও, আপনি যখন নিজের প্রোডাক্টের অনন্যতা ও গুণমানের ব্যাপারে প্রতিশ্রুতি রক্ষা করে চলেন,

তখন আপনার গ্রাহকরা আপনার পণ্য বা পরিষেবার প্রতি অনুগত থাকতে বাধ্য। 

৪. সামঞ্জস্যপূর্ণ মার্কেটিং কৌশল নিন:

ব্যবসাকে টপে রাখতে অবশ্যই একটা পেশাদার মার্কেটিং দলের সাহায্য নিয়ে সামঞ্জস্যপূর্ণ মার্কেটিং কৌশল ব্যবহার করুন। 

কিংবা, নিজেই নিজের ব্যবসার প্রচার করতে শিখুন। 

যথা- আপনি নিজেই নিজের পণ্য সম্পর্কে অর্গানিক ভিডিও তৈরি করুন। 

অথবা, নিজেই নিজের ব্র্যান্ড সম্পর্কে লিখুন ও নানান জায়গাতে পাবলিশ করে মানুষের মন জয় করার চেষ্টা করুন। 

নিত্য-নতুনভাবে প্রোডাক্টের মার্কেটিং করলে মানুষের মনে তা দাগ কাটে, আর ফলবশতঃ আপনার বিক্রয়ও বাড়ে।

৫. কার্টের মান ও ঘনঘন ক্রয়ের পরিমাণ বৃদ্ধি করুন:

ব্যবসার ক্ষেত্রে লয়াল কাস্টমার থাকাটাও খুব জরুরি। 

আর, আমরা জানি যে, নতুন গ্রাহকের কাছে কোনো পণ্য বিক্রি করার চাইতে বিদ্যমান গ্রাহকের কাছে তা বিক্রি করা অনেকটাই সোজা। 

তাই, প্রথমে কার্টের মান বাড়ান আর দেখুন আপনি কি ধরণের কমপ্লিমেন্টারি বা বিনামূল্য পণ্য বা পরিষেবা আপনার গ্রাহকদের দিতে পারবেন। 

দ্বিতীয়ত, ঘন ঘন অফার বা ছাড় চালাতে থাকলে, তা আপনার পণ্যের ক্রয়ের মাত্রা বাড়িয়ে দিতে পারে। 

আপনার ব্যবসার ধরণের উপর নির্ভর করে, আপনার গ্রাহকদেরকে ঘনঘন ফিরিয়ে আনার জন্য, একচেটিয়া ডিল বা প্রমোশনের অফার দিতেই পারেন।

৬. বিদ্যমান গ্রাহকদের উপর মন দিন:

গ্রাহকদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগের ব্যবস্থা রাখুন। 

তাদের ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবন সম্পর্কে খবরাখবর নিন। 

এছাড়াও, আপনার পরিষেবা বা পণ্যগুলোর মান বাড়ানোর উদ্দেশ্যে তাদের থেকে পরামর্শ নিন। 

সবশেষে, আপনার পরিষেবা বা পণ্যের প্রয়োজন আছে- এমন কেউ পরিচিত আছে কিনা আপনার বিদ্যমান গ্রাহকদের জিজ্ঞাসা করুন ও আপনার রেফারেল প্রক্রিয়াটিকে একেবারেই সহজ করে দিন।

৭. গ্রাহকদের ক্রয়ের কারণের উপর নজর দিন:

যেকোনো প্রোডাক্ট বিক্রয়ের পিছনের একমাত্র প্রধান কারণ থাকে গ্রাহকের ক্রয়ের কারণ। 

গ্রাহকের ক্রয়ের কোনো কারণ থাকলে, তবেই তারা আপনার পণ্য বা পরিষেবা গ্রহণ থাকে। 

তাই, আপনার বিক্রয় বাড়ানোর ক্ষেত্রে গ্রাহকদের কেনার কারণগুলো ভালো করে বিশ্লেষণ করুন।

আর, তাদের কারণগুলোকে হাতিয়ার করেই বিক্রয় বাড়াতে থাকুন।

৮. অতিরিক্ত পণ্য বা পরিষেবা কিনতে বাধ্য করুন:

আপনার গ্রাহকদের অতিরিক্ত পণ্য বা পরিষেবা কিনতে প্রলোভন দেখান। 

উদাহরণস্বরূপ- আপনার প্রসাধন সামগ্রীর ব্যবসা আছে, এইবার আপনার কোনো গ্রাহক আপনার কাছে শ্যাম্পু কিনতে চান, কিন্তু আপনি তাকে শ্যাম্পু, সাবান, কন্ডিশনার, বডি ক্রিম ও ময়েস্টরাইজারের এমন একটা লিমিটেড অফার সেট ক্রয়ের জন্যে প্রলুব্ধ করলেন, যাতে পয়সা বাঁচানোর তাগিদে আপনার ক্রেতা সেই সমগ্র কম্বোটি তার অনুমানিক বাজেটের তুলনায় বেশি টাকাতেই কিনতে বাধ্য হন।   

৯. ভিডিও রিভিউয়ের সুবিধা নিন:

বিক্রয় বাড়ানোর কৌশল হিসেবে, বর্তমানে ভিডিও রিভিউগুলো বেশ বিশ্বাসযোগ্য মাধ্যম হয়ে উঠেছে। 

যা আপনার গ্রাহকদের পণ্য ক্রয় করার জন্যে আরও আগ্রহী করে তুলতে পারে। 

বিদ্যমান বা পুরনো গ্রাহদের ভিডিও পর্যালোচনা আপনার সম্ভাব্য ক্রেতাদের প্রলুব্ধ করতে পারে। 

তাই, পণ্য বা পরিষেবা বিক্রয় করার পর অবশ্য করেই আপনার গ্রাহকদের কাছে সেই সংক্রান্ত ভিডিও রিভিউ চান। 

এইভাবে, আপনি সেই নির্দিষ্ট গ্রাহকের পাশাপাশি সেই কম্যুনিটির কাছেও ব্যবসায়িক সুনাম অর্জন করতে পারবেন।

১০. ওয়েবসাইট অডিট পরিচালনা করুন:

নিজের ব্যবসার ওয়েবসাইটের অডিট করুন। 

গুগল এনালিটিক্স দেখে নিজের প্রতিযোগীদের পারফরম্যান্স বিশ্লেষণ করুন। 

এমন সব এরিয়া খুঁজুন, যাতে আপনি এসইও ও গ্রাহকদের অভিজ্ঞতার উন্নতি করতে পারেন। 

কীওয়ার্ড ব্যবহার সম্পর্কে সতর্ক হয়ে, গুগলের দ্বিতীয় পেজ থেকে প্রথম পেজে এসে আপনার বিক্রয়ের পরিমাণকে বাড়ার সুযোগ করে দিন। 

এখনকার ব্যবসাতে আপনার ইন্টারনেট উপস্থিতিই কেবলমাত্র বিক্রি বাড়ানোর অন্যতম হাতিয়ার হয়ে উঠতে পারে।

পরিশেষে:

আপনার ব্যবসার বিক্রয় বাড়ানোর অন্যতম সেরা উপায় হল প্রোডাক্টের গুণমান ও দাম সঠিকভাবে বজায় রাখার পাশাপাশি গ্রাহকদের ভরসার পাত্র হয়ে ওঠা। 

আর, নিজেকে ব্র্যান্ড হিসেবে সমস্ত দর্শকদের কাছে উপস্থাপিত করা, যাতে প্রোডাক্টের কথা মাথায় আসলেই, তাদের আপনার কোম্পানির কথাই প্রথম মনে আসে।

আজকে আমাদের ব্যবসার বাড়ানোর কৌশল গুলো নিয়ে লেখা আর্টিকেলটি এখানেই শেষ হল।

কৌশলগুলো পড়ে পছন্দ হলে অবশ্যই তা কমেন্ট করে জানাবেন।

 

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top