ডিজিটাল মার্কেটিং কিভাবে শুরু করব? ক্যারিয়ার তৈরির ধাপ

ডিজিটাল মার্কেটিং কিভাবে করতে হয়: বর্তমান সময়ে প্রায় প্রত্যেকটি ব্যবসা তাদের গ্রাহক সংখ্যা বৃদ্ধি করার উদ্দেশ্যে নানান অনলাইন ডিজিটাল প্লাটফর্ম গুলি ব্যবহার করে থাকেন। আর এটাই কারণ যার জন্যে ডিজিটাল মার্কেটিং এর চাহিদা ও জনপ্রিয়তা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।  

এমনিতে আমার কাছে ডিজিটাল মার্কেটিং রিলেটেড কোনো ডিগ্রি নেই যদিও গত ৬ থেকে ৭ বছর ধরে আমি একজন ডিজিটাল মার্কেটার হিসেবে কাজ করছি এবং নানান ডিজিটাল মার্কেটিং কৌশল ও দক্ষতা গুলি অর্জন করে চলেছি। আর তাই, সত্যি বলতে ডিজিটাল মার্কেটিং জেকেও শুরু করতে পারবেন। 

শুরুতে, আপনার মতো আমিও, ডিজিটাল মার্কেটিং কিভাবে শুরু করব, ডিজিটাল মার্কেটিং এর জন্য কি কি শিখতে হবে এবং ডিজিটাল মার্কেটিং কেন শিখবো, এই ধরণের নানান প্রশ্ন গুলি নিয়ে ভাবতেই থাকতাম। 

জেনে রাখুন, এই পেশাতে একটি বিশেষ লাভ বা সুবিধা অবশই রয়েছে। এবং সেটা হলো, ডিজিটাল মার্কেটিং এর কাজ করার জন্য বা এক্ষেত্রে ক্যারিয়ার তৈরি করার জন্য আপনার কোনো ধরণের সার্টিফিকেট বা ডিগ্ৰী থাকার প্রয়োজন হয়না। 

ডিজিটাল মার্কেটিং পেশায়, আপনার কাজের অভিজ্ঞতা এবং কৌশল গুলি একটি ডিগ্রী বা সার্টিফিকেট থেকেও অধিক কার্যকর প্রমাণিত হয়ে থাকে। 

সে যাইহোক, ডিজিটাল মার্কেটিং শুরু করার জন্য আপনার, ব্যবহারিক অভিজ্ঞতা এবং ডিজিটাল মার্কেটিং রিলেটেড দক্ষতা উভয়ই থাকতে হবে। 

আর এখানেই আমাদের আজকের এই আর্টিকেলটি আপনাদের সাহায্য করবে। 

আজকের এই আর্টিকেলের মধ্যে আপনারা জানবেন, কিভাবে আপনি নিজের ডিজিটাল মার্কেটিং ক্যারিয়ার শুরু করতে পারবেন এবং একজন পেশাদার ডিজিটাল মার্কেটার হওয়ার ক্ষেত্রে আপনাকে কোন কোন ধাপ গুলি অনুসরণ করতে হবে। 

অবশই পড়ুন: ডিজিটাল মার্কেটিং এর গুরুত্ব, সুবিধা এবং প্রয়োজনীয়তা

আর্টিকেল সূচি: show

ডিজিটাল মার্কেটিং কি একটি ভালো ক্যারিয়ার অপসন?

অবশই, বর্তমানের উন্নত এবং আধুনিক সময়ে ডিজিটাল মার্কেটিং একটি অনেক লাভজনক এবং নতুন ক্যারিয়ার অপসন হিসেবে প্রমাণিত হচ্ছে।

এক্ষত্রে, একটি নির্দিষ্ট ডিজিটাল মার্কেটিং প্লাটফর্ম এর কাজ গুলি ভালো করে শিখে নিজেকে একজন দক্ষ ডিজিটাল মার্কেটার হিসেবে গড়তে পারলে, প্রচুর টাকা ইনকাম করার সুযোগ অবশই রয়েছে।

ডিজিটাল মার্কেটিং একটি অনেক বড় ইন্ডাস্ট্রি যেটি কম সময়ে অনেক তাড়াতাড়ি বৃদ্ধি পাচ্ছে।

Graphic designers থেকে শুরু করে SEO experts, content marketer, ইত্যাদি অনেকেই ডিজিটাল মার্কেটিং রিলেটেড কৌশল এবং অভিজ্ঞতা গুলি অর্জন করার মাধ্যমে এই ইন্ডাস্ট্রি থেকে ইনকাম করার প্রচুর সুযোগ পাচ্ছেন।

মনে রাখবেন, আপনি যত বেশি অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারবেন, ডিজিটাল মার্কেটিং ফিল্ডে অসংখ্য কাজের সুযোগ গুলি পেতে ততটাই কম সময় আপনার লাগবে। 

তাই, শেষে আমি এটাই বলবো যে, হ্যা অবশই ডিজিটাল মার্কেটিং বর্তমান সময়ে একটি অনেক লাভজনক ক্যারিয়ার অপসন।

ডিজিটাল মার্কেটিং চাকরি করে কতটা বেতন পাওয়া যেতে পারে?

দেখুন, ডিজিটাল মার্কেটিং হলো এমন একটি পেশা যেখানে আপনার ইনকাম বা বেতন আপনার কাজের অভিজ্ঞতা এবং দক্ষতার উপরে নির্ভর করে থাকে।

এক্ষেত্রে আপনি যত ভালো করে কাজ করতে জানবেন, একজন ডিজিটাল মার্কেটার হিসেবে আপনার চাহিদাও ততটাই অধিক থাকবে এবং ইনকামের পরিমানও তুলনামূলক ভাবে অধিক বাড়বে।

তাই, এক্ষেত্রে আপনাকে নিজের অভিজ্ঞতা বাড়ানো এবং এই কাজে কিভাবে অধিক দক্ষ হবেন, সেটা নিয়ে ভাবা দরকার।

জানিয়ে দিচ্ছি যে, এমন অনেক সরকারি এবং বেসরকরি সেক্টর রয়েছে যেগুলি, দক্ষ ডিজিটাল মার্কেটারদের চাকরি অফার করে থাকে এবং তাদের দ্বারা উচ্চ বেতনও অফার করা হয়।

রিপোর্ট অনুযায়ী, একজন দক্ষ ডিজিটাল মার্কেটিং ম্যানেজারের বেতন বিভিন্ন বিষয় গুলির উপর নির্ভর করে থাকে, এবং প্রতি বছর প্রায় ৩ লক্ষ থেকে ৩০ লক্ষ পর্যন্ত পরিবর্তিত হতে পারে। 

অবশই পড়ুন: ডিজিটাল মার্কেটিং কেন একটি লাভজনক ক্যারিয়ার অপসন ?

ডিজিটাল মার্কেটিং এর জন্য কি কি শিখতে হবে?

ডিজিটাল মার্কেটিং এর জন্য আপনাকে আলাদা ভাবে কিছু শিখতে হয়না।

তবে, একজন দক্ষ ডিজিটাল মার্কেটার হিসেবে নিজেকে তৈরি করতে হলে আপনার মধ্যে অন্যান্য কিছু বেসিক কৌশল ও দক্ষতা গুলি অবশই থাকতে হয়। 

আপনাকে অবশই নিজেই বিবেচনা করতে হবে যে, ডিজিটাল মার্কেটিং কি আপনার জন্য একটি ভালো ক্যারিয়ার হতে পারে? এক্ষেত্রে আপনার কি ভালো রকমের যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা আছে? 

একজন সফল ডিজিটাল মার্কেটার হতে গেলে আপনার মধ্যে নিচে বলে দেওয়া এই দক্ষতা গুলি থাকাটা আমার হিসেবে জরুরি।   

১. সৃজনশীলতা (Creativity):

একজন ডিজিটাল মার্কেটার হিসেবে আপনাকে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই কাজের বিভিন্ন দিকগুলিতে নিজের ক্রিয়েটিভিটি বা সৃজনশীলতা দেখাতে হয়।

কেননা এই কাজের মধ্যে সৃজনশীলতা অনেক গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়।

যেকোনো ধরণের কনটেন্ট তৈরি করার থেকে শুরু করে নানান সোশ্যাল মিডিয়া প্লাটফর্ম গুলি ব্যবহার করা পর্যন্ত আপনি যতটা ক্রিয়েটিভিটি সহ কাজ গুলি করবেন, বিষয়টা আপনার সাফল্যের একটি অনেক গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়াবে।  

২. উদ্ভাবনী (Innovation): 

নতুনত্ব বা উদ্ভাবনী হওয়া, যেকোনো কাজের ক্ষেত্রেই একটি অনেক জরুরি ও গুরুত্বপূর্ণ দক্ষতা যেটি আপনার ক্যারিয়ারকে ব্যাপকভাবে উপকৃত করতে পারে।

ডিজিটাল মার্কেটিং কাজের ক্ষেত্রে, ক্রিয়েটিভ হয়ে চিন্তা করা এবং সময়ে সময়ে নতুন নতুন আইডিয়া নিয়ে আসা, অনেক গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়।

আপনাকে এমন নতুন নতুন কৌশল এবং টেকনিক গুলি শিখতে ও জানতে হবে যেগুলির একটি কোম্পানি বা ব্র্যান্ড এর জন্য সত্যি অনেক কার্যকর হতে পারে। 

৩. বিশ্লেষণাত্মক দক্ষতা:

একজন ডিজিটাল মার্কেটার হিসেবে, সৃজনশীলতার পাশাপাশি আপনার মধ্যে নানান বিশ্লেষণাত্মক দক্ষতা থাকাটাও অনেক জরুরি।

ডিজিটাল মার্কেটিং ক্যারিয়ারে এটাও আপনার সাফল্যের ক্ষেত্রে প্রচুর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে।

এক্ষেত্রে আপনাকে নানান চার্টস, গ্রাফ, রিপোর্ট ইত্যাদি গুলিকে দ্রুত বুঝতে ও ব্যাখ্যা করতে পড়তে হবে। 

৪. নিয়মিত নতুন কিছু শেখার ইচ্ছে:

এটা আরেকটি অনেক গুরুত্বপূর্ণ কৌশল যা যেকোনো পেশাতেই আপনাকে ব্যাপকভাবে উপকৃত করার ক্ষমতা রাখে।

আর যিহেতু ডিজিটাল মার্কেটিং এর কৌশল এবং ধরণ গুলি নিয়মিত পরিবর্তিত হতেই থাকে, তাই আপনাকে এই বিষয়ে নতুন কিছু শেখার জন্য সবসময় উন্মুক্ত থাকতে হবে।

এছাড়া, ডিজিটাল মার্কেটিং ইন্ডাস্ট্রিতে এগিয়ে থাকতে হলে, লেটেস্ট এবং নতুন নতুন সরঞ্জাম, ট্রেন্ড, কৌশল এবং টেকনিক সম্পর্কে জ্ঞান রাখতেই হবে। 

তাহলে বন্ধুরা, ডিজিটাল মার্কেটিং এর জন্য কি কি শিখতে হবে বা আপনার কি কি জানা দরকার, এই বিষয়ে ভালো ভাবে জানার পর, চলুন এখন আমরা সরাসরি জেনেনি, ডিজিটাল মার্কেটিং কিভাবে শুরু করবেন।

মানে, কোন কোন ধাপ গুলি অনুসরণ করে আমরা ডিজিটাল মার্কেটিং শুরু করবো, সেই বিষয়ে জন্য। 

অবশই পড়ুন: ডিজিটাল মার্কেটিং এর ভবিষ্যৎ কি ?

ডিজিটাল মার্কেটিং কিভাবে শুরু করব? ক্যারিয়ার শুরু করার ধাপ

ডিজিটাল মার্কেটিং কিভাবে শুরু করব
How to start digital marketing? step by step guide in Bengali.

নিচে বলে দেওয়া এই প্রত্যেকটি টিপস গুলি অনুসরণ করার মাধ্যমে আপনারা নিজের ডিজিটাল মার্কেটিং ক্যারিয়ার শুরু করতে সাহায্য পাবেন। 

১. একটি ভালো ডিজিটাল মার্কেটিং কোর্সে এনরোল করুন:

ডিজিটাল মার্কেটিং মূলত এমন একটি কৌশল যেখানে ইন্টারনেটের সাহায্যে যেকোনো ব্যবসা, পণ্য, পরিষেবা, বা ব্র্যান্ড এর প্রচার চালানো হয়।

এখানে এমন নানান উপায় গুলি রয়েছে যেগুলিকে কাজে লাগিয়ে সম্পূর্ণ ফ্রীতে কোনো টাকা না লাগিয়ে অর্গানিক ভাবে পণ্যের মার্কেটিং করা যায়, আবার পাশাপাশি টাকা খরচ করে পেইড ভাবেও মার্কেটিং করার নানান উপায় আছে।

তাই, যদি আপনি ডিজিটাল মার্কেটিং এর ক্ষেত্রে একজন নতুন বা বিগিনার, সেক্ষেত্রে শুরুতে আপনার digital marketing basics গুলি অবশই জানা দরকার।

এছাড়া, এই ইন্ডাস্ট্রিতে একজন দক্ষ ডিজিটাল মার্কেটার হিসেবে কাজ করার আগে আপনি যদি এর মূল বিষয়গুলি ভালো ভাবে না বুঝে নিতে পারেন, তাহলে নিজের কাজে একজন এক্সপার্ট কখনোই হবেন কিভাবে।

তাই শুরুতেই, একটি সেরা ও ভালো ডিজিটাল মার্কেটিং কোর্স করার পরামর্শ দিবো, যেখানে ডিজিটাল মার্কেটিং এর সাথে জড়িত সমস্ত বিষয় এবং দিকগুলিকে কভার করা হয়েছে। 

একটি ভালো ডিজিটাল মার্কেটিং কোর্স এর মধ্যে নিচে বলে দেওয়া এই প্রত্যেকটি বিষয়ে আলোচনা করা দরকার। 

  • Search Engine Optimization (SEO)
  • Search Engine Marketing (SEM)
  • Website marketing
  • Content marketing
  • Email marketing
  • Social media marketing (SMO)
  • Mobile marketing
  • Video marketing
  • Google Analytics
  • Paid marketing
  • PPC
  • Content writing

২. নিজের পছন্দের একটি বিষয় (niche) বাছুন:

ডিজিটাল মার্কেটিং হল একটি বিস্তৃত ক্ষেত্র বা ইন্ডাস্ট্রি যেখানে এসইও (SEO) বিশেষজ্ঞ, কনটেন্ট লেখক, গ্রাফিক ডিজাইনার এবং PPC বিশেষজ্ঞদের মতো, কাজের আলাদা আলাদা ক্ষেত্র বা ভাগ গুলি রয়েছে।

সুতরাং, আপনাকে অবশই আপনার ব্যক্তিগত আগ্রহ এবং রুচির উপর ভিত্তি করে একটি নির্দিষ্ট ক্ষেত্র বেছে নিতে হবে। এক্ষেত্রে এটা অবশই আপনার জন্য একটি ভাল সিদ্ধান্ত হিসেবে প্রমাণিত হবে।

কেননা এতে আপনি, নিজের মতো করে একটি বিশেষ ক্ষেত্রে ফোকাস করতে পারবেন এবং নিজেকে সেই ক্ষেত্রে একজন এক্সপার্ট ডিজিটাল মার্কেটার হিসেবে তৈরি করতে পারবেন। 

৩. অভিজ্ঞতা অর্জন করা:

Digital marketing এর basics গুলি ভালো করে জানার ও শেখার পর, আপনাকে এগুলিকে নানান রিয়েল-টাইম প্রজেক্ট গুলিতে এপ্লাই করতে হবে।

এক্ষেত্রে আপনাকে অবশ্যই একটি ইন্টার্নশিপ বা অন্য যেকোনো সুযোগ খুঁজতে হয় যা আপনাকে আত্মবিশ্বাসের সাথে নিজের ডিজিটাল মার্কেটিং দক্ষতা গুলি প্রয়োগ করার সুযোগ ও সুবিধা দিবে।

এমনিতে, বর্তমানে এমন প্রচুর ডিজিটাল মার্কেটিং এজেন্সী বা কোম্পানি গুলি আছে যেগুলিতে ইন্টার্নশিপ জব গুলি অফার করা হয়।

ইন্টার্নশিপ এর ক্ষেত্রে মাইনে অনেক কম পাবেন যদিও, শুরুতে কাজ শেখার জন্য এবং ডিজিটাল মার্কেটিং ফিল্ডের নানান কাজ গুলি শিখে অভিজ্ঞতা অর্জন করার জন্য, আপনাকে কিছুদিন কম বেতনে কাজ করতে হলেও সেক্ষেত্রে লস নেই।

ধীরে ধীরে আপনার কাজের অভিজ্ঞতা যত বেশি বাড়বে, আপনি আপনার ডিজিটাল মার্কেটিং ক্যারিয়ারে নতুন নতুন হাই পেয়িং স্যালারি সহ কাজ পাওয়ার সুযোগও প্রচুর পাবেন।

৪. আপনার অনলাইন উপস্থিতি তৈরি করুন:

ডিজিটাল মার্কেটিং এর নানান ক্ষেত্র এবং প্লাটফর্ম গুলির সাথে জড়িত থাকার পাশাপাশি আপনার নিজের একটি ব্যক্তিগত ডিজিটাল উপস্থিতি তৈরি করাটাও অনেক জরুরি।

এতে, কাজ বা নানান প্রজেক্টস গুলি পাওয়ার ক্ষেত্রে আপনি আপনার নিয়োগকর্তাদের নিজের কাজের অভিজ্ঞতা ও কাজের কিছুটা নমুনা অবশই দেখাতে পারবেন।

এটা অনলাইনে আপনার একটি ওয়েবসাইট, সোশ্যাল মিডিয়া পেজ, বা একটি সাধারণ পোর্ট-ফোলিও পেজও হতে পারে, যেখানে আপনি আপনার কাজের নমুনা, অভিজ্ঞতা বা স্যাম্পল গুলি নিয়মিত শেয়ার করতে পারেবন।

আপনি যদি নিজের পুরোনো প্রজেক্টস গুলিতে অনেক ভালো কাজ করে থাকেন এবং সেগুলিতে আপনার কাজের দক্ষতার ভালো প্রদর্শন থেকে থাকে, সেক্ষেত্রে এর অনেক বেশি সুযোগ রয়েছে যে একটি ভাল কোম্পানি ভবিষ্যতে আপনাকে নিয়োগ করতে চাইবে।     

৫. চাকরি করুন বা পরামর্শদাতা হিসাবে কাজ করুন:

একজন ডিজিটাল মার্কেটার হিসেবে কাজের অভিজ্ঞতা এবং দক্ষতা গুলি অর্জন করার পর আপনি চাইলে একটি কোম্পানির জন্য ফুল-টাইম হিসেবে কাজ করতে পারবেন, বা নিজেই নিজের মালিক হয়ে একজন স্বাধীন ডিজিটাল মার্কেটার হিসেবেও কাজ শুরু করে বিভিন্ন কোম্পানি এবং ব্যবসা গুলির সাহায্য করতে পারেন।

এবার, ডিজিটাল মার্কেটিং ইন্ডাস্ট্রিতে আপনি যদি একেবারেই নতুন, সেক্ষেত্রে শুরুতে একটি কোম্পানিতে ফুল-টাইম হিসেবে চাকরি করার পরামর্শই আমি দিবো।

এটি আপনাকে ব্যবহারিক কাজের অভিজ্ঞতা অর্জন করার ক্ষেত্রে এবং আপনার নির্দিষ্ট কাজের এরিয়াতে দক্ষতা অর্জন ও উন্নত করতে সহায়তা করবে।

বিশ্বাস করুন, এই পদক্ষেপ আপনাকে ভবিষ্যতে আপনার ডিজিটাল মার্কেটিং ক্যারিয়ারে প্রচুর উন্নতি করতে সাহায্য করবে।

আর একবার যখন আপনি, একাধিক প্রজেক্টস গুলিকে সহজে পরিচালনা করার দক্ষতা অর্জন করে নিবেন, তখন আপনি একজন ফ্রিল্যান্সার ডিজিটাল মার্কেটার বা এক্ষেত্রে একজন পরামর্শদাতা হিসেবেও কাজ করতে পারবেন। 

৬. চাকরিতে আবেদন এবং ইন্টারভিউ:

প্রফেশনাল ভাবে ডিজিটাল মার্কেটিং কাজ শুরু করার জন্য, এখন আপনাকে অবশই নিজের জন্য একটি ভালো চাকরি খুঁজতে হবে এবং পাশাপাশি ইন্টারভিউ এর জন্য তৈরি হতে হবে।

আপনি যেই জিনিস গুলিতে ভালো এবং যেই কাজে আপনার অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা রয়েছে, সেই কাজের সাথে রিলেটেড কাজ গুলি খুজুন এবং সেগুলিতে এপ্লাই করুন।

এক্ষেত্রে আপনি নানান অনলাইন জব পোর্টাল এবং পাশাপাশি কোম্পানির অফিসিয়াল ওয়েবসাইট গুলিও ব্যবহার করতে পারবেন।

আপনি যেই কোম্পানি গুলির সাথে কাজ করতে চান, সরাসরি সেই কোম্পানির ওয়েবসাইটে গিয়ে তাদের সাথে যোগাযোগ করে কাজে খবর নিতে পারবেন।

জব ইন্টারভিউ এর জন্য নিজেকে তৈরি করাটা দ্বিতীয় সবথেকে জরুরি বিষয়।

এক্ষেত্রে, যে সমস্ত প্রশ্ন গুলি ইন্টারভিউতে আপনাকে জিজ্ঞাসা করা হতে পারে, আপনাকে আগের থেকেই সেগুলির সম্পর্কে চিন্তা করতে হবে এবং কিছু ভাল উত্তর প্রস্তুত করে রাখতে হবে।

মনে রাখবেন, আপনাকে নিজের উপর বিশ্বাস রাখতে হবে এবং পাশাপাশি আত্মবিশ্বাসের সাথে ইন্টারভিউ গুলি দিতে হবে। 

৭. নেটওয়ার্কিং এবং ফ্রিল্যান্সিং:

আপনি চাইলে, LinkedIn-এর মতো প্লাটফর্ম গুলিতে একটি প্রোফাইল তৈরি করে সেখানে নিজের কাজ এবং অভিজ্ঞতার প্রদর্শন করতে পারবেন।

এছাড়া, এখানে আপনি আপনারই মতো নানান দক্ষ ব্যক্তিদের সাথে সংযুক্ত হয়ে বন্ধুত্বের সম্পর্ক তৈরি করতে পারবেন।

LinkedIn-এর মাধমেই আপনি এমন নানান ব্যক্তি, কোম্পানি এবং সংস্থা গুলির সাথে সংযুক্ত হতে পারবেন যাদের সাথে আপনি কাজ করতে চান।

এতে, আপনি সরাসরি নিজের দক্ষতা এবং কাজের অভিজ্ঞতা গুলি তাদের সামনে প্রদর্শিত করার সুযোগ পাবেন এবং কেন আপনি তাদের জন্য একটি সেরা বিকল্প, সেটাও বোঝাতে পারবেন।

আপনি LinkedIn-এর মতো প্লাটফর্ম গুলি ব্যবহার করার মাধ্যমে ডিজিটাল মার্কেটিং রিলেটেড নানান ফুল-টাইম বা ফ্রিল্যান্সিং প্রজেক্ট গুলি পেয়ে যাবেন।

এভাবে, নানান প্রজেক্টস গুলিতে কাজ করার মাধ্যমে আপনি কাজের নতুন নতুন অভিজ্ঞতা গুলি পাবেন।

ডিজিটাল মার্কেটিং রিলেটেড কাজ বা প্রজেক্টস গুলি পাওয়ার জন্য আপনারা নানান ফ্রিল্যান্সিং ওয়েবসাইট গুলিও ব্যবহার করতে পারবেন।

যেমন, Guru.com, FlexJobs, SimplyHired, 99designs, Upwork, Freelancer.com, SolidGigs, Fiverr, এবং আরো আছে। 

৮. অ্যাড-অন সার্টিফিকেশন:

ডিজিটাল মার্কেটিং এর সাথে জড়িত নানান কনসেপ্ট এবং ধারণা গুলি জানার ও শেখার পাশাপাশি Google Adwords-এর মতো কিছু নির্দিষ্ট অ্যাড-অন সার্টিফিকেশন গুলি নিয়ে রাখাটা কিন্তু এক্ষেত্রে প্রচুর উপকারী।

তবে মনে রাখা দরকার যে, এই সার্টিফিকেশন গুলি বাধ্যতামূলক না।

সার্টিফিকেশন গুলি করা থাকলে, এগুলি আপনার resume, profile এবং portfolio গুলিকে অন্যদের তুলনায় অধিক আকর্ষণীয় করে তুলতে পারে।  

৯. নিয়মিত শিখতে থাকুন:

ডিজিটাল মার্কেটিং হলো, এমন একটি পরিবর্তনশীল ইন্ডাস্ট্রি যেখানে এর নানান কৌশল এবং টেকনিক গুলি সময়ে-সময়ে বিকশিত এবং পরিবর্তিত হতেই থাকে।

তাই, একজন ডিজিটাল মার্কেটার হিসেবে আপনাকে সব সময় নিজেকে আপডেট রাখতে হবে এবং নিয়মিত এর নতুন কৌশল গুলিকে শিখতে ও এপ্লাই করতে হবে।

শেষে মনে রাখবেন, আপনি যদি ডিজিটাল মার্কেটিং ক্যারিয়ারে সব সময় সফল থাকতে চান, তাহলে আপনাকে অবশই এই ইন্ডাস্ট্রি সম্পর্কিত নানান বিষয় গুলি নিয়ে নিজেকে আপডেট রাখতে হবে।

অবশই পড়ুন: ডিজিটাল কনটেন্ট কি এবং কত প্রকার?

আমাদের শেষ কথা,,

বর্তমান সময়ে, প্রায় প্রতিটি কোম্পানির, তা বড় বা ছোট যাই হোক না কেন, তাদের আলাদা ভাবে একটি ডিপার্টমেন্ট অবশই রয়েছে যারা কোম্পানির হয়ে নানান ডিজিটাল মার্কেটিং সম্পতর্কটি বিষয়গুলিতে কাজ করেন।

তাই, সত্যি বলতে ভালো এবং দক্ষ ডিজিটাল মার্কেটারদের চাহিদা আগের থেকে প্রচুর বেড়েছে এবং ভবিষ্যতে আরো বাড়বে বলেই মনে হচ্ছে।

আপনি যদি এখনো ভাবছেন যে, ডিজিটাল মার্কেটিং কিভাবে শুরু করব, এক্ষেত্রে শুরুতে একটি ভালো এবং জনপ্রিয় অনলাইন ডিজিটাল মার্কেটিং কোর্স একটি বাছুন এবং সম্পূর্ণ করুন।

এতে ডিজিটাল মার্কেটিং সম্পর্কে বেসিক জ্ঞান আপনারা অবশই পাবেন। এবার, উপরে যেই ধাপ গুলি বলে দিয়েছি সেই হিসেবে কাজ করুন এবং ধীরে ধীরে এগিয়ে যেতে থাকুন।

চিন্তা করতে হবেনা, আপনিও পারবেন নিজের একটি সফল ডিজিটাল মার্কেটিং ক্যারিয়ার শুরু করতে।

তাহলে বন্ধুরা, ডিজিটাল মার্কেটিং কিভাবে শুরু করতে হয় নিয়ে লিখা আমাদের আজকের আর্টিকেলটি কেমন লাগলো, নিচে কমেন্ট করে অবশই জানাবেন।

এছাড়া, ডিজিটাল মার্কেটিং নিয়ে কোনো প্রশ্ন থাকলে সেটাও নিচে কমেন্ট করে আমাদের জানাতে পারবেন। 

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top