ডিজিটাল মার্কেটিং শিখতে কতদিন লাগে – (সোজা উত্তর)

ডিজিটাল মার্কেটিং শিখতে কতদিন লাগে ? আজকের আর্টিকেলের মাধ্যমে আমরা এই বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করবো।

ডিজিটাল মার্কেটিং শিখতে কতদিন লাগে
ডিজিটাল মার্কেটিং শিখতে কতদিন লাগে ?

বর্তমানের ইন্টারনেট-নির্ভর যুগে বিশ্বব্যাপী প্রায় সমস্ত ব্যবাসই বিপণনের ক্ষেত্রে ডিজিটাল মার্কেটিং-কে বেছে নিচ্ছে নিজেদের পণ্য বা পরিষেবার প্রচারের জন্যে। 

এই ডিজিটাল মার্কেটিং শুনতে সোজা মনে হলেও, এর অনেক জটিল স্তর রয়েছে, যা জানা না থাকলে কোম্পানির বিক্রয় বাড়াতে ব্যবহার করাটা অনেকটাই বেশি চ্যালেঞ্জিং কাজ হতে পারে। 

এই জটিলতার কারণেই যেকোনো ইন্ডাস্ট্রির প্রতিটি কোম্পানিই এখনকার চরম প্রতিযোগিতামূলক অনলাইন বিশ্বে উন্নতির জন্যে ডিজিটাল মার্কেটিং কৌশলের উপর ব্যাপকভাবে নির্ভর করছে।

তাই, নিজেদের কোম্পানির প্রচার ও প্রসার ঘটাতে এই সমস্ত কোম্পানি উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন ডিজিটাল মার্কেটিং পেশাদারদের নিয়োগ করতে সর্বদা আগ্রহী থাকে। 

তাই, আপনি যদি ডিজিটাল মার্কেটিং শিখতে আগ্রহী হন ও জানতে চান যে, ডিজিটাল মার্কেটিং শিখতে মোটামোটি কতদিন লাগতে পারে বা এখানে আপনি কি কি শিখতে পারবেন ?- তাহলে অবশ্যই এই আর্টিকেলটিতে চোখ বুলিয়ে নেবেন। 

কারণ, আমাদের এই আর্টিকেলে আমরা ডিজিটাল মার্কেটিং শেখার কারণ, সময়কাল ও এর নানান বিষয় সম্পর্কে আলোচনা করবো।

ডিজিটাল মার্কেটিং শিখতে কতদিন লাগে ?

এই মুহূর্তে ডিজিটাল মার্কেটিং হল পৃথিবীর সবচেয়ে দ্রুত বর্ধনশীল ইন্ডাস্ট্রির মধ্যে অন্যতম। 

এই ধরণের মার্কেটিং হল এমন এক ধরণের পেশাদার কোর্স, যা আপনি ৩ থেকে ৬ মাসের মধ্যে প্রথাগত জ্ঞান লাভের মাধ্যমে শিখে নিতে পারবেন।

সামগ্রিকভাবে, এই কৌশলগুলোর সম্পর্কে মৌলিক স্তরের জ্ঞান লাভ করতে ৩ থেকে ৫ মাস একটানা সময় লেগে যেতে পারে।

ডিজিটাল মার্কেটিং-এর  ৭টি ভিন্ন দিক সম্পূর্ণরূপে আয়ত্ত করতে, তবে, ৫ থেকে ৬ বছরের একটানা অনুশীলন ও প্রাক্টিক্যাল প্রয়োগের প্রয়োজন হবে।

যেহেতু, এই বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে সময়ের সাথে সাথে পরিবর্তনশীল; তাই, এরপরেও, এই মার্কেটিংয়ের পিছনের মূল নীতিগুলো আমূলভাবে পরিবর্তিত হতে পারে। 

যে কারণে, আপনাকে সময়ের সাথে সাথেই নিজের জ্ঞান বাড়িয়ে চলতে হবে।

ডিজিটাল মার্কেটিং কেন শিখবো ?

আপনার মনে যদি এখনও প্রশ্ন থাকে যে, কেন ডিজিটাল মার্কেটিং শিখবো,

তাহলে আমরা নিচে স্পষ্টভাবে আলোচনা করলাম, এই সময়ে ডিজিটাল মার্কেটিং শেখার সেরা কতগুলো কারণ সম্পর্কে –

১. ডিজিটাল মার্কেটের চাহিদা বৃদ্ধি:

বেশিরভাগ কোম্পানিই তাদের ক্রিয়াকলাপকে ডিজিটাইজ করার প্রয়োজনীয়তা বোঝে। 

তাই, এই কোম্পানিগুলো তাদের পণ্য বা পরিষেবার প্রচারের জন্য দক্ষতাসম্পন্ন ডিজিটাল মার্কেটিং-এর বিশেষজ্ঞদের জন্যে অনুসন্ধান করে। 

ইন্টারনেট বিজ্ঞাপন ইতিমধ্যেই টিভি বিজ্ঞাপনের জায়গা প্রায় দখল করে নিচ্ছে। 

এমনকি, গুগলের মতো শীর্ষস্থানীয় ব্র্যান্ডগুলো সক্রিয়ভাবে নতুন প্রজন্মের ডিজিটাল মার্কেটারদের সন্ধান করে, যারা উদীয়মান উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে তাদের ব্র্যান্ডের হয়ে প্রচার করতে পারে৷ 

এছাড়াও, যোগ্য ডিজিটাল মার্কেটারদের চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে একটা স্পষ্ট বিদ্যমান ব্যবধান রয়েছে। 

এখানে এই কাজের চাহিদা ৫৯% হলেও, এর মধ্যে মাত্র ১৯% কাজই সমাধা হয়ে থাকে। 

তাই, ডিজিটাল মার্কেটিং পেশাতে নিরাপদ চাকরি পাওয়ার যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে।

২. সহজে কেরিয়ার শুরু করা যায়:

যেকোনো মানুষ, যেকোনো শিক্ষাগত যোগ্যতা থেকেই ডিজিটাল মার্কেটিং শিখতে পারে। 

কেবলমাত্র, ব্যাচেলার ডিগ্রি সম্পূর্ণ করার পর, আপনি ডিজিটাল মার্কেটিং-এর সার্টিফিকেশন কোর্স করে নিতে পারেন। 

এই বিষয় নিয়ে পড়ার জন্যে আপনাকে মোটেও ৩-৪ বছরের সময় ব্যয় করতে হয়না। 

আপনি এই মার্কেটিংকে নিজের পেশা বানাতে চাইলে, প্রথমে একটা বিশ্বস্ত সার্টিফিকেশন কোর্স করে, নানান প্রজেক্টে অংশগ্রহণ করে একটা বৈচিত্র্যপূর্ণ পোর্টফোলিও তৈরী করুন। 

পরবর্তীতে, নানান ফ্রীলান্সিং প্রজেক্ট ও ইন্টার্নশিপের মাধ্যমে নিজের বাস্তব অভিজ্ঞতা বাড়াতে পারেন। 

এই পেশাতে উন্নতমানের ল্যাপটপ, শক্তিশালী ইন্টারনেট সংযোগ ও ভালো কম্যুনিকেশন দক্ষতা থাকা বাঞ্চনীয়। 

৩. উদ্যোক্তা হওয়ার দক্ষতা তৈরী হয়:

উদ্যোক্তাদের মতো ডিজিটাল মার্কেটারদের মধ্যেও দক্ষ পরিচালন ক্ষমতা ও নেতৃত্বদানের ব্যাপক ক্ষমতা থাকতে হয়। 

ডিজিটাল মার্কেটিং কোর্সগুলোতে আচরণগত দক্ষতাও শেখানো হয়, যা একজন উদ্যোগপতিরও বিশেষ দক্ষতা হিসেবে মনে করা হয়। 

এখানে আপনাকে ভালো যোগাযোগ ক্ষমতার মাধ্যমে ক্লায়েন্টদের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রেখে মার্কেটিং-এর পরিকল্পনা করতে হয়। 

এছাড়াও, একজন উদ্যোক্তার মতো ডিজিটাল মার্কেটারদেরও সৃজনশীল পদ্ধতিতে তাদের পণ্য বা পরিষেবার প্রচার করতে হয়; যাতে তারা তাদের ব্র্যান্ডের সেরা মুখপাত্র বা পরিচিতি হয়ে ওঠে।      

৪. ডিজিটাল মার্কেটিং-এর পেশাগুলো বৈচিত্র্যময় ও জনপ্রিয়:

ডিজিটাল মার্কেটিং যেহেতু হল মার্কেটিংয়েরই একটা অংশ, তাই এর মধ্যেও নানান স্পেসালাইজেশন রয়েছে। 

একটা ডিজিটাল মার্কেটিং কোর্স আপনাকে বিভিন্ন ধরণের স্পেশালাইজেশনের সম্পর্কে পরিচিত করায়; সেগুলোর কয়েকটি হল- ইন্ফ্লুয়েন্সার, অফলাইন, ইমেইল ও সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং। 

আপনি যেকোনো জায়গা থেকেই ডিজিটাল মার্কেটিং প্রজেক্ট ও ক্লায়েন্টের সাথে কাজ করতে পারেন। 

পেশাদারি দক্ষতা থাকলেই আপনি ডিজিটাল মার্কেটিং-এ ব্যাপক সাফল্য লাভ করতে পারেন।  

৫. আকর্ষণীয় স্যালারি প্যাকেজ:

যেহেতু, এই পেশাগুলোতে চাহিদার সাথে পেশাদার ডিজিটাল মার্কেটারদের অভাব থাকায়, এখানে দক্ষ পেশাদারদের যথেষ্ট কদর রয়েছে। 

যে কারণে, আপনি এই পেশায় যথেষ্ট পরিমাণ স্যালারির দাবি রাখতে পারেন। 

তবে, এই পেশার ক্রমবর্ধমান চাহিদার ফলে, এর বেতনের পরিমাণও বাড়বে বলে আশা করা যাচ্ছে। 

এখানে আপনি অভিজ্ঞতা ও শিক্ষাগত যোগ্যতার ভিত্তিতে আপনার স্যালারি বাড়াতে পারবেন।

৬. মন্দায় এই পেশার কোনো ক্ষতি হয় না:

যেকোনো সেক্টরের জন্যেই এই ডিজিটাল মার্কেটিং হল একটা অপরিহার্য অংশ। 

যেই কারণে, অদূর ভবিষ্যতেও এই পেশার চাহিদা কমবার নয়। 

বরং, এই ডিজিটাল মার্কেটিং-এর ক্ষেত্রে কোম্পানিদের নিজস্ব পণ্য বা পরিষেবার প্রচারের জন্য উন্নত বিশেষজ্ঞদের প্রয়োজনীয়তা দিনে দিনে বাড়ছে। 

যতদিন ওয়ার্কফোর্স ব্যবসায়িক ক্রিয়াকলাপের জন্য ইন্টারনেট ও ল্যাপটপ ব্যবহার করছে, ততদিন পর্যন্ত ডিজিটাল মার্কেটারদের প্রয়োজনীয়তা থেকেই যাবে। 

৭. কঠোর পরিশ্রম ও সৃজনশীল পেশা:

এটি হল এমন একটা বিষয়, যেখানে আপনি আপনার শৈল্পিক চিন্তাভাবনার সাথে টেকনিক্যাল বিষয়বস্তুগুলোর মেলবন্ধন ঘটিয়ে নিজের পেশাকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারেন। 

আপনি যখন ডিজিটাল মার্কেটিং শেখেন, তখন আপনি গভীর জ্ঞানলাভের পাশাপাশি আপনার সৃজনশীলতাকেও কাজে লাগাতে পারেন। 

কোনো প্রজেক্টে কাজ করার সময়ে আপনাকে গ্রাফিক ডিজাইন, ভিডিও কনটেন্ট কিংবা ফটোশুটও বানাতে হতে পারে। 

যার সাথেই আপনাকে আপনার ডিজিটাল মার্কেটিং কৌশলগুলো সম্পাদন করতে হয়। 

তাই, আপনাকে আপনার সৃজনশীল কন্টেন্টের কার্যকারিতা বুঝে সেই অনুযায়ী ভবিষ্যতের সিদ্ধান্ত নিতে হয়। 

৮. ব্যবসায়িক জ্ঞান বৃদ্ধি করে:

ডিজিটাল মার্কেটিং-এর সবথেকে কঠিন কাজ হল মার্কেটিং ক্যাম্পাইনের ফলাফল বিশ্লেষণ করা। 

আর, সফলভাবে বিশ্লেষণ করাই হল একজন দক্ষ ডিজিটাল মার্কেটারের সেরা গুণ। 

আপনি এই মার্কেটিং ক্যাম্পাইনের ফলাফল বিশ্লেষণ করার ট্রেনিং পেতে পারেন, বিভিন্ন ডিজিটাল মার্কেটিং কোর্সের থেকে। 

এছাড়াও, আপনাকে অর্থনীতি, সমাজবিজ্ঞান ও সাইকোলজির উপরেও যথেষ্ট জ্ঞান রাখতে হবে। 

কারণ, সফলভাবে মার্কেটিং পরিকল্পনা করার জন্যে নিম্নলিখিত বিষয়গুলোর দিকে নজর দিতে হয় –

  • কিভাবে ক্রেতাদের চাহিদা বোঝা সম্ভব ?
  • কিভাবে ক্রেতাদের কোনো অ্যাকশন নেওয়াতে রাজি করানো যায় ?
  • কিভাবে কোনো ব্যবসা ক্রেতাদের অ্যাকশনের দ্বারা উপকৃত হতে পারে ?

ডিজিটাল মার্কেটিং-এ কি কি শেখানো হয় ?

এখন আমরা জানবো ডিজিটাল মার্কেটিং এর কোর্স এর মধ্যে কি কি বিষয়ে শেখানো হয়।

১. কনটেন্ট মার্কেটিং:

কনটেন্ট ডিজিটাল মার্কেটিং এর অন্যতম প্রধান উপাদান। 

কনটেন্ট সর্বদাই মার্কেটিং-এর একটা গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে কাজ করে। 

কিন্তু, কন্টেন্ট মার্কেটিং নিজেই একটা চ্যালেঞ্জিং কাজ। 

আপনাকে বিভিন্ন চ্যানেলের জন্য উচ্চমানের এসইও-ফ্রেন্ডলি কনটেন্ট তৈরি করতে হয়। 

আর, দর্শকদের এনগেজ ও ট্রান্সফর্ম করতে আপনাকে কনটেন্ট মার্কেটিং-এর সেরা কৌশলগুলো এই ,মার্কেটিং-এর কোর্সগুলোতে শেখানো হয়। 

এই কনটেন্ট মার্কেটিং-এর ক্ষেত্রে আপনাকে ওয়েব, ইমেইল, সোশ্যাল মিডিয়া, ইবুক, ব্লগ ও নানান ফর্মে কনটেন্ট তৈরী করতে হতে পারে।

২. সার্চ ইঞ্জিন অপ্টিমাইজেশান (SEO):

সার্চ ইঞ্জিন অপ্টিমাইজেশান হল কন্টেন্ট তৈরীর একটা উন্নতমানের কৌশল। 

এই এসইও পদ্ধতির মাধ্যমে আপনি কন্টেন্টগুলোকে কিভাবে গুগলের মতো সার্চ ইঞ্জিনের মাধ্যমে কিভাবে অনেক দর্শকদের কাছে দৃশ্যমান করতে রেঙ্কিং করবেন- তা শিখতে পারবেন। 

এই ক্ষেত্রে আপনি কিভাবে কীওয়ার্ড ব্যবহার করে আপনার কন্টেন্টকে সার্চ ইঞ্জিন রেজাল্ট পেজের প্রথম দিকে নিয়ে আসতে পারবেন- সেটাও শিখতে পারবেন। 

এখান থেকে আপনি পেইড ও অর্গানিক ট্রাফিকের ব্যাপারেও বিস্তারিতভাবে জানতে পারেন। 

৩. সার্চ ইঞ্চিন মার্কেটিং (SEM):

অর্গানিক ট্রাফিক ছাড়াও, পেইড বিজ্ঞাপনের মাধ্যমেও কন্টেন্টগুলোকে রেঙ্ক করানো যায়। 

এই সার্চ ইঞ্জিন মার্কেটিং পদ্ধতির সাহায্যে আপনি আপনার কন্টেন্টকে সার্চ ইঞ্জিন রেজাল্ট পেজের প্রথমদিকে রেঙ্ক করানো শিখবেন। 

এখানে, আপনি পে-পার-ক্লিক, কস্ট-পার-ক্লিকের মতো বিভিন্ন বিষয়গুলোও শিখতে পারবেন।   

৪. সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং:

ফেইসবুক, টুইটার কিংবা ইনস্টাগ্রামের মতো সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম গুলোকে কিভাবে ডিজিটাল মার্কেটিং চ্যানেল হিসেবে পণ্য বা পরিষেবা প্রচারের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করবেন, তা শেখানো হয়। 

এখানে আপনি বিজ্ঞাপন দেওয়ার মাধ্যমে নতুন ক্রেতা তৈরী করার পাশাপাশি যেকোনো সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে বিসনেস পেজ তৈরী করে পোস্টের মাধ্যমে নতুন কনটেন্ট দিয়ে নতুন পণ্যের প্রচার করতে পারবেন। 

এক্ষেত্রে আপনি কোন সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করবেন, তা নির্ভর করে আপনার টার্গেট অডিয়েন্সদের ধরণের উপর।   

৫. অ্যাফিলিয়েট ও ইনফ্লুয়েন্সার মার্কেটিং:

ডিজিটাল মার্কেটিং কোর্সে আপনি কিভাবে ইনফ্লুয়েন্সার ও অ্যাফিলিয়েটদের মাধ্যমে কোম্পানির বিক্রি বাড়ানোর জন্যে মার্কেটিং করতে পারবেন, সে বিষয়েও শিখতে পারবেন। 

এক্ষেত্রে, আপনাকে কার্যকরী অ্যাফিলিয়েট/ইনফ্লুয়েন্সার সম্পর্ক তৈরী করার জন্যে, কোনো বিশ্বস্ত ও বড় মাপের ইনফ্লুয়েন্সার বা অ্যাফিলিয়েটদেরই বাছতে হবে। 

এই ধরণের মার্কেটিংয়ে এইসব ব্যক্তিরা আপনার কোম্পানির হয়ে কনটেন্ট তৈরী করে, সেখানকার প্রোডাক্টগুলোর প্রচার করে নানান সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে।  

৬. ইমেইল মার্কেটিং:

ইমেইল মার্কেটিং অনেক পুরোনো ধরণের মার্কেটিং হলেও, এটা ডিজিটাল মার্কেটিং জমানাতেও যথেষ্ট কার্যকরী। 

এই ইমেইল মার্কেটিং-এর মাধ্যমে কিভাবে ইমেইল সাবস্ক্রাইবার লিস্ট তৈরী করে সম্ভাব্য ক্রেতাকে ক্রেতাতে রূপান্তরিত করা যায়, সেই বিষয়ে বিস্তারিতভাবে শিখতে পারবেন। 

৭. মোবাইল মার্কেটিং:

গুগল অনুসন্ধান বলছে যে, বিশ্বব্যাপী ২৭% মানুষ ভয়েস সার্চের মাধ্যমে পণ্য খোঁজেন। 

ডিজিটাল মার্কেটিং-এর জন্য লয়াল্টির মতো বিষয়ের প্রয়োজন রয়েছে। 

তাই, কোম্পানিগুলো তার ক্রেতাদের সমস্যার সমাধানের অন্য স্মার্টফোনগুলোকে তাদের কাছে পৌঁছানোর দ্রুত মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করে। 

যেসব ব্র্যান্ড তার ক্রেতাদের সাথে-সাথে থাকতে চায়, তাদের জন্য মোবাইল মার্কেটিং একেবারেই বাধ্যতামূলক। 

এর জন্য মার্কেটারকে তার ডেস্কটপের সমস্ত ব্যবস্থাগুলোই মোবাইলেও উপলব্ধ করতে হয়। 

ইন-অ্যাপ বিজ্ঞাপন, টেক্সটিং ও সোশ্যাল মেসেজিং অ্যাপের মতো মোবাইল-কেন্দ্রিক কাজেও, একজন ডিজিটাল মার্কেটার হিসেবে আপনাকে দক্ষ হতে হবে। 

কম বয়সী ক্রেতাদের লক্ষ্য করে এমন ব্র্যান্ডগুলোর ক্ষেত্রে মোবাইল মার্কেটিংও যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। 

৮. ভিডিও মার্কেটিং:

ফেইসবুক কিংবা ইনস্টাগ্রামের শর্টস, রিলিস স্টোরিজের মতো ছোট-ছোট ভিডিও হোক কিংবা বিজ্ঞাপনের ভিডিও- ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের অন্যতম সেরা মাধ্যম হল ভিডিও মার্কেটিং। 

আর, দর্শকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করার জন্যে ভিডিও কনটেন্ট খুবই কার্যকরী। 

প্রতিদিন লক্ষ-লক্ষ মানুষ ইউটিউবে ভিডিও দেখে থাকে। 

তাই, সেই সব লক্ষ লক্ষ মানুষের কাছে পৌঁছনোর জন্যে ভিডিও মার্কেটিং হতে পারে, যেকোনো কোম্পানির কাছেই সেরা মাধ্যম। 

৯. অডিও মার্কেটিং:

রেডিও হোক, কিংবা এখনকার পডকাস্ট বা স্পটিফাই, ডিজিটাল মার্কেটিং-এর ক্ষেত্রে অডিও মার্কেটিং খুবই জরুরি একটা ব্যাপার। 

অডিও ,মার্কেটিং অনেকটাই  বিস্তৃত; কারণ এখানে পডকাস্ট ছাড়াও, স্মার্ট হোম অ্যাসিস্ট্যান্ট,

যেমন- আমাজন আলেক্সা বা গুগল হোমও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। 

তাই, ডিজিটাল মার্কেটিং কোর্সে আপনি এই অডিও মার্কেটিংয়ে দর্শকদের শোনার অভ্যাস সম্পর্কেও শিখতে ও জানতে পারবেন।  

১০. ডেটা এনালাইটিক্স:

একজন সফল ডিজিটাল মার্কেটিং পেশাদার হতে গেলে, সঠিকভাবে ক্যাম্পেইন থেকে পাওয়া তথ্যের বিশ্লেষণ করতে জানাটা খুবই জরুরি। 

কারণ, এই তথ্যের বিশ্লেষণের উপর কোম্পানির মার্কেটিং কৌশল ব্যাপকভাবে নির্ভর করে। 

এছাড়াও, কোম্পানির পণ্য বা পরিষেবা সংক্রান্ত  সিদ্ধান্তও এই তথ্য বিশ্লেষণের উপর নির্ভর করে থাকে। 

তাই, ডিজিটাল মার্কেটিং-এর কোর্সগুলোতে আপনি ডেটা এনালাইটিক্স-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোও শিখতে পারবেন। 

এক্ষেত্রে Google Analytics খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটা টুল।  

পরিশেষে:

এইগুলো ছাড়াও, ডিজিটাল মার্কেটিং-এর ধারা অনেকটা পরিবর্তিত হচ্ছে।

এখানে এখন অটো-ইন্টেলিজেন্স বা এআই-এর মাধ্যমে মার্কেটিং, চ্যাটবটের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয় রিয়েল-টাইম কথোপকথনের মাধ্যমে মার্কেটিং, ভিডিও মার্কেটিং এবং কৃত্রিম বাস্তবতা বা অগমেন্টেড রিয়ালিটি ও ভার্চুয়াল মার্কেটিং-এর কনসেপ্ট নিয়ে ব্যাপকভাবে কাজ চলছে। 

তাই, ডিজিটাল মার্কেটিং-এর কোর্সগুলো করে আপনি যত তাড়াতাড়ি এই কেরিয়ারে আসবেন, ততই আপনাকে কম প্রতিযোগিতার মুখোমুখি হতে হবে।

আজকে আমাদের ‘ডিজিটাল মার্কেটিং শিখতে কত সময় লাগতে পারে?’ নিয়ে লেখা আর্টিকেলটি এখানেই শেষ হল। 

লেখাটি পছন্দ হলে অবশ্যই তা কমেন্টের মাধ্যমে জানাবেন।  

   

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top