টাকা দিয়ে টাকা ইনকাম করার উপায় গুলো কি কি ?

টাকা দিয়ে টাকা ইনকাম করার উপায়: বন্ধুরা, আপনাদের মধ্যে অনেকেই হয়তো এই বিষয়ে অবশই জানেন যে টাকা দিয়ে টাকা কামানো বা টাকা দিয়ে টাকা আয় করাটা জরুরি একটি কৌশল। তবে, এটা কেবল একটি প্রবাদ মাত্র কিন্তু না, এই কথার মধ্যে সত্যি সত্য রয়েছে। টাকা ইনভেস্ট করে ইনকাম করার বর্তমানে প্রচুর উপায় আছে।

টাকা দিয়ে টাকা ইনকাম
টাকা ইনভেস্ট করে অধিক টাকা ইনকাম করুন।

বর্তমান সময়ে, যদি আপনারা নিজেদের টাকা সঠিক জায়গাতে বিনিয়োগ করতে পারেন, তাহলে অবশই তাড়াতাড়ি অধিক টাকা ইনকাম করতে পারবেন।

এমনিতে, যেই ব্যক্তিরা তাড়াতাড়ি অধিক টাকা আয় করতে চান বা যেই ব্যক্তিরা নিজের কাছে থাকা টাকা গুলোকে এমনি ফেলে রাখতে চাননা, তারাই টাকা কে কাজে লাগিয়ে আরো অধিক টাকা ইনকাম করার কথা ভেবে থাকেন।

আর, যিহেতু আপনিও ইন্টারনেটে টাকা দিয়ে টাকা কমানোর উপায় গুলো খুঁজছেন, তাই আপনিও হয়তো অধিক ইনকাম এর রাস্তা খুঁজছেন।

সে যাই হোক, আপনি কিন্তু একেবারেই সঠিক নির্ণয় নিয়েছেন।

কারণ, আজকাল এরকম অনেক বিনিয়োগের মাধ্যম গুলো রয়েছে যেখানে টাকা ইনভেস্ট করে কিছুটা জ্ঞান, ধর্য্য এবং সাহস এর সাথে আপনি প্রচুর ইনকাম করতে পারবেন।

যদি আপনার কাছে টাকা আছে, তাহলে আপনারা সেই টাকা গুলোকে এমন জায়গায় বিনিয়োগ করুন যেখান থেকে আপনার টাকা গুলোকে দুগুণ, তিনগুন বা কিছুটা হলেও বাড়ানো যাবে।

আজকের এই আর্টিকেলের মধ্যে আমি আপনাদের এমনই কিছু উপায় গুলোর বিষয়ে বলতে চলেছি যেখানে টাকা বিনিয়োগ করে অধিক টাকা ইনকাম করা যাবে।

এই আর্টিকেলটি কেবল সেই ব্যক্তিদের জন্যেই যাদের কাছে আগের থেকেই টাকা রয়েছে।

টাকা দিয়ে টাকা ইনকাম কিভাবে করবেন ?

টাকা কে কাজে লাগিয়ে বা টাকা বিনিয়োগ করে আরো অধিক টাকা ইনকাম করার সেরা উপায় গুলো নিচে উল্লেখ করা হলো।

  1. শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ করুন এমন টাকা আয় করুন,
  2. Cryptocurrency-তে বিনিয়োগ করুন,
  3. Mutual fund-এর মধ্যে বিনিয়োগ করুন,
  4. এফিলিয়েট মার্কেটিং করুন,
  5. টাকা ধারে খাটিয়ে ইনকাম করুন,
  6. পুরোনো জিনিস এর কেনা বেচা করুন,
  7. অনলাইন শোনা (Gold) কিনে রাখুন,

চলুন, এবার আমরা নিচে ওপরে বলা প্রত্যেকটি উপায় গুলোর বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করে নেই।

টাকা ইনভেস্ট করে টাকা ইনকাম করুন

নিচে বলা প্রত্যেকটি উপায়ে টাকা রোজগার করার জন্যে আপনাদের কাছে আগের থেকেই টাকা থাকতে হবে।

যত অধিক টাকা আপনার কাছে থাকবে, ততটাই অধিক টাকা আপনি কাজে লাগাতে পারবেন।

এবং, এই উপায় গুলোতে আপনি যত অধিক টাকা বিনিয়োগ করতে পারবেন, ততটাই অধিক ইনকামের সুযোগ হয়ে দাঁড়াবে।

১. শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ করুন

টাকা দিয়ে টাকা কমানোর এবং তাড়াতাড়ি ধনী হওয়ার সব থেকে লাভজনক ও দুর্দান্ত উপায় হলো, “শেয়ার বাজার” এর মধ্যে বিনিয়োগ করা।

শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ এর আরেকটা মানে হলো, “ট্রেডিং করা” বা “শেয়ার এর কেনা-বেচা” করা।

তবে, যখন আপনি শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ করবেন, এটা জরুরি যে আপনি সেখান থেকে লাভ করতে পারবেন।

হতে পারে আপনি যেই টাকা বিনিয়োগ করেছেন সেগুলোর কিছুটা আপনার লস (loss) হয়ে গেছে।

তাই, share market এর মধ্যে বিনিয়োগ করার আগে শেয়ার বাজারের সঠিক জ্ঞান, নিয়ম ও প্রক্রিয়া গুলো জেনে নিতে হয়।

যদি আপনি শেয়ার বাজারের বিষয়ে জানেননা, তাহলে জেনে রাখুন,

Share market বা stock market হলো এমন এক ধরণের মার্কেট বা প্লাটফর্ম যেখানে বিভিন্ন ছোট-বড় কোম্পানি গুলোর শেয়ার কেনা-বেচা করা হয়।

আপনি যেই কোম্পানির শেয়ার বা স্টক কিনেন, আপনি সেই কোম্পানির শেয়ারহোল্ডার বা অংশীদার হয়ে যান।

শেয়ার বাজার, যেখান থেকে এক তরফে লোকেরা লক্ষ লক্ষ টাকা ইনকাম করার সুযোগ পাচ্ছেন, তবে আরেক দিকে অনেক লোকেরা তাদের প্রচুর টাকা এখানে হারিয়েছেন।

তাই, শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ করার আগে এর বিষয়ে সম্পূর্ণ খুঁটিনাটি জেনে রাখা দরকার।

এখন আপনারা হয়তো ভাবছেন, শেয়ার বাজার থেকে কিভাবে ইনকাম করা যায় ?

ধরুন, আপনি শেয়ার বাজার থেকে একটি কোম্পানির ১০০ টি share কেবল ১০০ টাকা প্রতি শেয়ার এর দাম দিয়ে কিনলেন।

এর মানে হলো, ১০০ টি শেয়ার কিনতে আপনার মোট ১০,০০০ টাকা খরচ হলো।

এখন, যদি সেই কোম্পানির শেয়ার এর দাম ১০০ টাকার বেশি হয়ে দাঁড়ায়, তাহলে আপনার হবে লাভ,

এবং, যদি সেই কোম্পানির শেয়ার এর দাম ১০০ টাকা প্রতি শেয়ার থেকে কমে আসে, তাহলে আপনার হলে লস (loss).

এভাবেই শেয়ার বাজারে হওয়া শেয়ার এর দামের কমা বাড়ার ওপরে নির্ভর করে আপনি টাকা ইনকাম করতে পারবেন।

আপনি YouTube এর মধ্যে ভিডিও দেখে বা অনলাইনে আর্টিকেল পড়ে, শেয়ার বাজারের বিষয়ে অধিক জেনেনিতে পারবেন।

২. Cryptocurrency-তে বিনিয়োগ করুন

Cryptocurrency-তে বিনিয়োগ করাটাও বর্তমানে প্রচুর লাভজনক একটি বিকল্প যদি আপনি টাকাকে কাজে লাগিয়ে ইনকাম করতে চাইছেন।

আসলে ক্ৰিপ্তকারেন্সি হলো ডিজিটাল মুদ্রার (digital currency) একটি প্রকার।

এই ধরণের ডিজিটাল মুদ্রা গুলো দিয়ে online shopping ইত্যাদি করা সম্ভব।

তবে বর্তমান সময়ে আমরা বিভিন্ন ধরণের cryptocurrency গুলোকে সরাসরি কেনা-বেচা করতে পারি।

Bitcoin হলো বর্তমান সময়ের সব থেকে জনপ্রিয় একটি cryptocurrency.

তবে, Bitcoin এর বাইরেও এখনের সময়ে অন্যান্য প্রচুর cryptocurrency আছে যেগুলোতে আপনারা বিনিয়োগ করতে পারবেন।

এই ধরণের ডিজিটাল মুদ্রা গুলোকে কেনার জন্যে বা এগুলোতে বিনিয়োগ করার জন্যে প্রচুর apps রয়েছে যেগুলোকে ব্যবহার করে ডিজিটাল মুদ্রার কেনা-বেচা করা সম্ভব।

যেমন, wazirx, coinswitch ইত্যাদি।

Cryptocurrency গুলোও শেয়ার বাজারের মতোই কাজ করে থাকে।

আপনি কত টাকা দিয়ে কতটা মুদ্রা কিনছেন এবং কেনে নেওয়া মুদ্রা গুলোর দাম কতটা বাড়ছে বা কমছে, এর ওপরেই নির্ভর করছে আপনার লাভ বা লোকসান।

Bitcoin যখন নতুন ছিল তখন একটি বিটকয়েন এর দাম  $0 থেকে শুরু হয়।

July 17, 2010-এ একটি বিটকয়েন এর দাম ছিল $.09 টাকা এবং October of 2013-এ একটি বিটকয়েন এর দাম ছিল $123.00.

এবং বর্তমান সময়ে একটি বিটকয়েন এর ভারতীয় মুদ্রাতে দাম হলো, 17,40,488.48INR.

ভাবুন, আপনি যদি মাত্র একটি bitcoin কিনে রাখতেন তাহলে আজ প্রায় ১৭ লক্ষ টাকার মালিক হতে পারতেন।

তবে, বিটকয়েন এর মূল্য এখন অনেকটাই বেশি, তাই এখনের সময়ে নতুন করে লঞ্চ হওয়া ডিজিটাল মুদ্রা গুলোতে বিনিয়োগ করুন।

নতুন করে লঞ্চ হওয়া ডিজিটাল মুদ্রা গুলোর দাম শুরুতে অনেকটাই কম থাকে,

তাই কম দামে মুদ্রা গুলো কিনে রাখতে পারলে, পরে দাম বাড়লে প্রচুর লাভে এগুলোকে আবার বিক্রি করতে পারবেন।

৩. Mutual fund-এ বিনিয়োগ করুন

মিউচুয়াল ফান্ড হলো টাকা বিনিয়োগ করে অধিক টাকা ইনকাম করার আমার সব থেকে প্রিয় মাধ্যম বা উপায়।

কেন মিউচুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগ করবেন, এই বিষয়ে আমি আগেই আপনাদের সম্পূর্ণটা আগেই বলেছি।

Mutual fund কিন্তু শেয়ার বাজারেরই একটি ভাগ বা অংশ, তবে শেয়ার বাজার থেকে অনেকটা সেফ।

যদি আপনারা শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ করতে ভয় পাচ্ছেন তাহলে অবশই মিউচুয়াল ফান্ড আপনার সেরা জন্যে একটি সেরা বিকল্প।

Mutual fund এর বিভিন্ন আলাদা আলাদা ধরণের scheme গুলো রয়েছে।

আপনি যদি অধিক return বা profit পেতে চাইছেন, তাহলে অবশই এর ইকুইটি স্কিম গুলোতে বিনিয়োগ করতে পারেন।

বর্তমান সময়ে বিশ্বজুড়ে প্রচুর লোকেরা মিউচুয়াল ফান্ডকে সেরা বিনিয়োগের মাধ্যম হিসেবে বেছে নিয়েছেন।

অবশই, এখান থেকে লাভ আয় করতে কিছুটা সময় প্রায় ৫ থেকে ৭ বছর লেগে থাকে,

তবে টাকা দিয়ে টাকা ইনকাম করার ইটা আমার হিসেবে সেরা উপায়।

৪. এফিলিয়েট মার্কেটিং করুন

এফিলিয়েট মার্কেটিং হলো অনলাইন টাকা ইনকাম করার সব থেকে সেরা এবং দারুন একটি উপায়।

এটাকে আপনি একটি অনলাইন ব্যবসা বলেও বলতে পারেন।

এখানে আপনাকে বিভিন্ন ই-কমার্স কোম্পানি গুলোর পণ্য বা সেবা গুলোকে অর্গানিক বা বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে প্রচার করতে হয়।

যখন আপনার প্রচার করা পণ্য গুলোকে কোনো ব্যক্তি কিনে থাকেন, তখন আপনি সেই কোম্পানির তরফ থেকে কমিশন হিসেবে টাকা পেয়ে থাকেন।

যদি আপনার কাছে বিনিয়োগ (invest) করার মতো টাকা থাকে, তাহলে আপনি Google Ad, Facebook Ad ইত্যাদির দ্বারা পণ্যের প্রচার চালাতে পারবেন।

এই কৌশল ভালো ভাবে শিখতে পারলে আপনি লক্ষ লক্ষ টাকা অনলাইনে ইনকাম করতে পারবেন।

এমনিতে কোনো টাকা ছাড়াও এফিলিয়েট মার্কেটিং করে প্রচুর টাকা ইনকাম করা সম্ভব, তবে এক্ষেত্রে প্রচুর সময়ের দরকার।

তাই, কিছু টাকা ইনভেস্ট করতে পারলে অনেক তাড়াতাড়ি এর মাধ্যমে ইনকাম সম্ভব।

৫. টাকা ধারে খাটিয়ে ইনকাম করুন

যখন কথা হচ্ছে টাকাকে কাজে লাগিয়ে অধিক টাকা উপার্জন করার, তখন আপনারা এই টাকা ধারে দেওয়ার ব্যবসা অবশই করতে পারেন।

আপনারা শুরুতে কেবল চেনা পরিচিত এবং বিস্বাসী লোকেদের ছোট ছোট পরিমানে টাকা দেওয়া শুরু করতে পারেন।

অবশই, দিয়ে দেওয়া টাকার বিপরীতে আপনারা ইন্টারেনট তো নিবেন, তবে শুরুতে অধিক ইন্টারেস্ট নিয়ে টাকা দিন।

অনেক লোকেরা গাড়ি, বাইক ইত্যাদি কেনার জন্যে কম ইন্টারেস্টে টাকা নেওয়ার জন্যে তৈরি থাকেন।

তাই, আপনি এই সুযোগের লাভ নিয়ে তাদেরকে টাকা ধরে দিয়ে ইন্টারেস্ট হিসেবে অধিক রিটার্ন আয় করতে পারবেন।

কম টাকা ইনভেস্ট করে ইনকাম করার এটা অবশই একটি দারুন উপায়।

৬. পুরোনো জিনিস এর কেনা বেচা করুন

আপনি যদি টাকা ইনভেস্ট করে আয় করার একটি লাভজনক উপায় খুঁজছেন, তাহলে পুরোনো জিনিসের কেনা-বেচার ব্যবসা করতে পারেন।

যদি আপনার কাছে ভালো পরিমানে টাকা আছে,

তাহলে পুরোনো বাইক, স্কুটার বা গাড়ি ইত্যাদি কম দামে কিনে সেগুলোকে অধিক দামে বিক্রি করে প্রচুর ইনকাম করতে পারবেন।

এই ব্যবসা সাধারণত চোখে পড়েনা, তবে যারা এই ব্যবসা করছেন তারা কিন্তু ভালো লাভ আয় করছেন।

আপনি চাইলে বাইক বা গাড়ি গুলোকে ভাড়া (rent) হিসেবে দিয়েও ইনকাম করতে পারবেন।

আজকাল গাড়ি, বাইক ইত্যাদির শক প্রত্যেকেরই থাকে, তবে টাকার অভাবের জন্যে তারা নতুন গাড়ি কিনতে পারেননা।

এক্ষেত্রে আপনারা পুরোনো উপকরণ, গাড়ি, বাইক, টিভি ইত্যাদি গুলোকে কিনে সেগুলোকে ঠিকঠাক করে বিক্রি করতে পারেন।

৭. অনলাইন শোনা (Gold) কিনে রাখুন

ডিজিটাল মুদ্রার মতোই আজকাল ডিজিটাল শোনা (digital gold) এর জনপ্রিয়তা প্রচুর বেড়েছে।

এরকম অনেক অ্যাপস রয়েছে যেগুলো আপনাকে digital gold কেনার সুযোগ দিয়ে থাকে।

ভারতে আপনারা paytm digital gold platform থেকে digital gold কিনতে পারবেন।

এক্ষেত্রে, বর্তমানে আপনার দেশে বা শহরে শোনার দাম যেটাই থাকবে সেই হিসেবেই আপনাকে ডিজিটাল শোনা কেনার সুযোগ দেওয়া হবে।

এবার, আপনি যত টাকার শোনা কিনতে চাইছেন সেটা সরাসরি কিনে রাখতে পারেন।

ভবিষ্যতে যখন শোনার দাম বাড়বে তখন আপনি কিনে রাখা এই শোনা অধিক দামে বিক্রি করে ভালো মুনাফা আয় করতে পারেন।

আপনার দেশে বা শহরে ডিজিটাল শোনা (Digital Gold) কেনার কোনো উপায় বা অ্যাপস থাকলে অবশই কিছুটা শোনা কিনে রাখুন।

টাকা ইনভেস্ট করে ইনকাম করার এটা সত্যি একটি দারুন উপায়।

 

আমাদের শেষ কথা,,

তাহলে বন্ধুরা, আজকের আর্টিকেলের মাধ্যমে আমরা টাকা দিয়ে টাকা ইনকাম করার সেরা উপায় গুলোর বিষয়ে জানলাম।

আশা করছি, আজকের আর্টিকেলটি আপনাদের কাজে অবশই লাগবে।

টাকা ইনকাম করার উপায় গুলো নিয়ে অন্যান্য প্রশ্ন বা পরামর্শ থাকলে, সেটা নিচে কমেন্ট করে অবশই জানাবেন।

অবশই পড়ুন –

 

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top