চাকরির ইন্টারভিউ এর প্রশ্ন ও উত্তর গুলো জেনেনিন – (ইন্টারভিউ টিপস)

আজকের আর্টিকেলের মধ্যে আমরা জানবো, চাকরির জন্য ইন্টারভিউ দিতে গেলে কি কি প্রশ্ন করা হয় এবং আপনি কিভাবে সেগুলোর উত্তর দিবেন।

Job interview tips in Bengali

যদি আপনি নিজের গ্রাডুয়েশন (Graduation) শেষ করে এখন একটি নতুন চাকরি করার কথা ভাবছেন,

তাহলে আপনাকে অনেক অভিনন্দন জানাচ্ছি। অবশই, এটা প্রত্যেকের জীবনের একটি অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

এবং, আমাদের ক্যারিয়ার এই প্রথম চাকরির থেকেই শুরু হয়ে থাকে।

তবে, চাকরির জন্য যখন আমরা ইন্টারভিউ দিয়ে থাকি,

তখন সেখানে জিগেশ করা প্রশ্নের বিপরীতে দেওয়া আমাদের উত্তর যদি সন্তুষ্টজনক হয়ে থাকে,

তাহলেই আমরা চাকরি পেয়ে থাকি।

মন দিবেন, ইন্টারভিউ দেওয়ার সময় এরকম অনেক candidates থাকে যারা অধিক শিক্ষিত থেকেও চাকরি পায়না।

এবং, আবার এরকম অনেক candidates থাকে যারা বেশি শিক্ষিত না হলেও সাধারণ যোগ্যতার সাথেই কিন্তু চাকরি পেয়ে যায়।

তবে এর অনেক গুরুত্বপূর্ণ একটি কারণ রয়েছে।

চাকরির খোঁজ করার সময় সবচে প্রথমেই আমাদের বিভিন্ন জায়গায় ইন্টারভিউ দিতে হয়।

এবং, চাকরির ইন্টারভিউ দেওয়ার সময় আমাদের অনেক ধরণের আলাদা আলাদা প্রশ্ন করা হয়।

আর সেই প্রত্যেক প্রশ্ন গুলোর মাধ্যমেই interviewer রা আপনার চরিত্র, জ্ঞান, অভিজ্ঞতা, ব্যক্তিত্ব, যোগাযোগ দক্ষতা ইত্যাদি বিভিন্ন বিষয়ে নিরীক্ষণ করে থাকে।

আর যদি আপনি প্রত্যেকটি প্রশ্নের উত্তর আত্মবিশ্বাসের সাথে সঠিক ভাবে দিয়ে দিতে পারেন,

তাহলে আপনি চাকরি পেয়ে যাবেন।

তাই, চাকরির ইন্টারভিউ এর প্রশ্ন ও উত্তর গুলো আপনার জানা থাকলে,

সাধারণ ধক্ষতা এবং সাধারণ শিক্ষার সাথেও interviewer এর মন জয় করতে পারবেন।

আজকের এই আর্টিকেলের মাধ্যমে, “চাকরির ইন্টারভিউ টিপস”, “চাকরির ইন্টারভিউ প্রশ্ন”, “চাকরির ইন্টারভিউ দেওয়ার কৌশল” এবং “কিভাবে ইন্টারভিউ দিতে হয়” সেই প্রত্যেক বিষয়ে জেনেনিতে পারবেন। 

চাকরির ইন্টারভিউ এর প্রশ্ন ও উত্তর গুলো – (ইন্টারভিউ টিপস)

চাকরির ইন্টারভিউ দিতে গেলে কি কি প্রশ্ন করা হয়, এই প্রশ্নের উত্তর হিসেবে প্রত্যেকের মত আলাদা আলাদা হতেই পারে।

তবে, কিছু এমন প্রশ্ন রয়েছে যেগুলো প্রত্যেক চাকরির ইন্টারভিউ এর সময় জিগেশ করা হবেই।

এবং, এই প্রশ্ন গুলোর উত্তর হিসেবে আপনি কি বলছেন, সেটার ওপরেই ৯০% দেওয়া হয়।

তাহলে চলুন, নিচে আমরা সেই জরুরি প্রশ্ন গুলোর এবং তাদের সঠিক উত্তর হিসেবে কি বলবেন, সেটা জেনেনি।

১. নিজের বিষয়ে কিছু বলুন 

হে আমি জানি, এটা ঠিক প্রশ্ন না হলেও এই বিষয়ে প্রায় ৯৫% ইন্টারভিউ গুলোতে বলতে বলা হয়।

সাধারণ ব্যক্তিরা এই প্রশ্নটিকে অনেক সাধারণ মনে করেন এবং সাধারণ ভাবেই উত্তর দিয়ে থাকেন।

তবে, এই সাধারণ প্রশ্নের মাধ্যমে আপনার personality, confidence level এবং communication skills এর বিষয়ে সবটাই বুঝতে পারেন।

তাই, আপনি চাকরি পাবেন কি না, সেটা মূলত এই প্রশ্নের উত্তরের ওপরেই নির্ভর।

আপনি কিভাবে উত্তর দিচ্ছেন, উত্তর দেওয়ার সময় বেশি ভাবছেন নাকি, সরাসরি যদি উত্তর দিতে পারছেননা,

এই সমস্ত বিষয় গুলোর ওপরে ইন্টারভিউ নেওয়া ব্যক্তিরা নজর দিয়ে থাকে।

আর তাই, আপনার সঠিক ও সোজা উত্তর আপনাকে অন্যান্য candidates থেকে আলাদা করে তোলে।

লোকেরা এক্ষেত্রে কি ভুল করে থাকেন ?

  • জবাব দেওয়ার সময় অধিক চিন্তা করে বা ভেবে ভেবে জবাব দেওয়া।
  • জবাব দেওয়ার সময় তাদের কথা বাজে।
  • নাম বলার পর hobies এবং interest এর বিষয়ে বলা।
  • নিজের কৌশল এবং দক্ষতার ওপরে না বলা।
  • নিজের family members এর বিষয়ে বলা।

এগুলোই হলো কিছু সাধারণ ভুল যেগুলো অধিক সময় আমরা করে থাকি, যখন আমাদের নিজের বিষয়ে বলতে বলা হয়।

মনে রাখবেন, আপনার ঘরে কয়জন সদস্য রয়েছে সেটা নিয়ে কোম্পানির কিছু করার নেই।

তাছাড়া, যদি উত্তর দেওয়ার সময় আপনি অনেক ভাবছেন এবং আপনার কথা বেজে যাচ্ছে,

তাহলে, আপনার মধ্যে আত্মবিশ্বাস প্রচুর কম আছে বলে ভেবে নেওয়া হয়।

কিভাবে সঠিক উত্তর দিবেন ?

যখন আপনাকে নিজের বিষয়ে কিছুটা বলতে বলা হবে,

তখন আপনি প্রায় ২০ থেকে ৩০ সেকেন্ডের ভেতরে নিজের পরিচয় কিছুটা এভাবে দিতে পারবেন।

  • নিজের সম্পূর্ণ নাম বলুন।
  • আপনার permanent residence address কোন জায়গার।
  • ক্লাস ১০ এবং ১২ কোন board এবং college থেকে পাশ করেছেন।
  • ১০, ১২ এবং graduation এর ক্ষেত্রে কত শতাংশ নম্বর পেয়েছিলেন।
  • আপনার জীবনের উদ্দেশ্য কি ?
  • নিজের চরিত্র ও ভালো স্বভাব নিয়ে কিছুটা বলুন।

২. আমাদের কোম্পানির বিষয়ে আপনি কি জানেন ? 

এই প্রশ্ন প্রায় প্রত্যেক ক্ষেত্রেই ইন্টারভিউ দেওয়ার সময় জিগেশ করা হয়।

প্রশ্নটি করার কারণ হলো,

এর মাধ্যমে interviewer রা জানতে চাইছেন যে আপনি এই চাকরির জন্য কতটা উৎসাহিত।

মানে, ইন্টারভিউ দিতে আসার আগে আপনি কোম্পানির বিষয়ে কিছুটা রিসার্চ করেছেন কি না, সেটাই তারা জেনেনিতে চান।

যদি আপনি এই প্রশ্নের উত্তরে কোম্পানির বিষয়ে কিছুটা ভালো করে বলতে পারেন,

তাহলে অবশই আপনার একটি ভালো ছাপ ইন্টারভিউ নেওয়া ব্যক্তিদের ওপরে পরবে।

তারা বুঝতে পারবেন যে, আপনি এই চাকরি পাওয়ার জন্য সত্যি চেষ্টা করছেন এবং আপনার মধ্যে উৎসাহ রয়েছে।

লোকেরা এই প্রশ্নের উত্তর দিতে কি ভুল করেন ?

যদি আপনি ইন্টারভিউ দিতে আসার আগে কোম্পানি টির বিষয়ে কিছুই রিসার্চ করেননি,

তাহলে অবশই আপনি এই প্রশ্নের উত্তর ভালো করে দিতেই পারবেননা।

তাছাড়া, অনেকেই আবার বলেন যে তারা চাকরির খবরটি তাদের বন্ধুর থেকে জানতে পেরেছেন।

এবং এই ধরণের উত্তরের ফলে আপনার ইম্প্রেশন অবশই খারাপ হয়ে যাবে।

সঠিক উত্তর কিভাবে দিতে পারবেন ?

এই প্রশ্নের একেবারে সরাসরি সঠিক উত্তর আপনি কেবল তখন দিতে পারবেন,

যখন আপনি ইন্টারভিউ দেওয়ার আগেই কোম্পানির বিষয়ে কিছুটা জেনেনিবেন।

  • কোম্পানিটি কত বছর ধরে মার্কেটে কাজ করছে সেই বিষয়ে বলুন।
  • কোনো বিশেষ ক্ষেত্রে যদি কোম্পানিটি কোনো অ্যাওয়ার্ড (award) পেয়ে থাকে, তাহলে সেই বিষয়ে বলুন।
  • কোম্পানির মুখ্য branch কোথায় কোথায় আছে সেই বিষয়ে বলুন।
  • অবশই, কোম্পানির ইতিহাস নিয়ে কিছুটা বলতে পারবেন।
  • কোম্পানিতে মূল কোন জিনিস নিয়ে কাজ হয়ে থাকে সেটা বলুন।
  • বলুন, আমি এমন একটি কোম্পানিতে মন দিয়ে কাজ করে অনেক কিছু শিখতে পারবো বলেই আশা করছি।
  • বলুন, আমার অভিজ্ঞতা, দক্ষতা এবং অনুভব আপনার কোম্পানির অনেক কাজে আসবে বলে আমি ভাবি।

৩. এই কাজ আপনি কেন করতে চাইছেন ? 

ইন্টারভিউ নেওয়ার সময় প্রশ্ন করার সময় আপনাকে এই ধরণের প্রশ্ন অবশই করা হবে,

  • আপনি এই কাজের বিষয়ে কি জানেন ?
  • আপনি এই কাজটি কেন করতে চাইছেন ?

এই প্রশ্নের মাধ্যমে ইন্টারভিউ নেওয়া ব্যক্তি এটাই জানতে চাইবেন যে আপনি এই কাজটি কেন করতে চাচ্ছেন।

তাছাড়া, আপনি এমন কি দেখেছেন কাজটির মধ্যে যে আপনি এটাই করতে চাচ্ছেন।

কাজের প্রতি আপনার রুচি কতটা, উৎসাহ কতটুকু আছে, সবটাই আপনার উত্তরের মধ্যে দিয়ে বুঝা যাবে।

লোকেরা উত্তর দিতে কি ভুল করেন ?

লোকেরা এই ধরণের প্রশ্নের উত্তর হিসেবে সচরাচর নিচে দেওয়া উত্তর গুলো দিয়ে থাকে যেগুলো দিতে হয়না।

  • এই কাজে অনেক টাকা পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
  • ঘরের থেকে এই কাজ করার জন্যে বলেছে।
  • কিছু না করার থেকে এই কাজটি করা ভালো।

এই ধরণের উত্তর দিলেই ইন্টারভিউ নেওয়া ব্যক্তি বুঝে যাবে যে, কাজটি নিয়ে আপনার মনে কোনো ইচ্ছে বা রুচি নেই।

যদি ইন্টারভিউ নেওয়া সেই ব্যক্তি অল্প হলেও বুঝতে পারে যে, আপনি নিজের ইচ্ছাতে চাকরি করতে আসেননি বা কেবল টাকার লোভেই এই কাজ করতে চাইছেন,

তাহলে আপনার  বিষয়ে অনেক খারাপ একটি বিচারাধারার সৃষ্টি হবে।

সঠিক উত্তর কিভাবে দিতে হবে ?

আপনাকে এভাবে উত্তর দিতে হবে যাতে যেই শুনবে সেই বুঝতে পারে, কাজটির প্রতি আপনার অনেক রুচি রয়েছে।

আগের কাজের অনুভব এবং অভিজ্ঞতা গুলোকে এই নতুন কাজের সাথে মিলিয়ে উত্তর দিতে হবে।

আপনি এই চাকরির মাধ্যমে একটি ভালো ক্যারিয়ার তৈরি করতে পারবেন বলে বলতে হবে।

বলতে হবে যে, কাজটি করলে কাজের সাথে জড়িত বিভিন্ন বিষয়ে জ্ঞান এবং অভিজ্ঞতা পাবেন।

ইন্টারভিউ নেওয়া ব্যক্তি যাতে কোনো ভাবে এটা না ভাবে যে আপনি অন্যের ইচ্ছাতে এই চাকরি করতে এসেছেন।

পুরোনো অভিজ্ঞতা গুলোকে আমি এই কাজে ব্যবহার করে নিজের জ্ঞান আরো বেশি বাড়িয়ে নিতে পারবো।

আপনাকে এভাবেই জবাব দিতে হবে যেটা শুনে ইন্টারভিউ নেওয়া ব্যক্তি বুঝতে পারবেন যে আপনি নিজের ভালো ক্যারিয়ার এবং জ্ঞান বাড়ানোর জন্যে চাকরিটি করতে চাচ্ছেন।

৪. আপনার মধ্যে কি কি যোগ্যতা ও দক্ষতা রয়েছে ? 

এই প্রশ্নটি অবশই বেশিরভাগ ইন্টারভিউ এর মধ্যে জিগেশ করা হয়।

প্রশ্নটির মাধ্যমে জানার চেষ্টা করা হয় যে আপনার মধ্যে কি কি বিশেষ skills রয়েছে।

তাই, এক্ষেত্রে আপনি অনেক চিন্তা ভাবনা করে জবাব দিতে হবে।

এখানে আপনি সাধারণ বিষয় গুলো নিয়ে উত্তর দিলে কাজ হবেনা।

কি কি ভুল উত্তর দেওয়া হয় এক্ষেত্রে ?

বেশিরভাগ লোকেরা কিছু সাধারণ উত্তর দিয়ে থাকে যার ফলে তারা অন্যান্য candidates থেকে নিজেকে অধিক ভালো হিসেবে দেখিয়ে তুলতে পারেনা।

  • আমি অনেক কষ্ট করতে পারি।
  • দেরি পর্যন্ত কাজ করা ও ছুটিতেও কাজ করতে পারবো।

জিগেশ করা প্রশ্নের উত্তর হিসেবে আপনারা এই ধরণের উত্তর দেওয়ার পরামর্শ আমি কখনোই দিবোনা।

সঠিক ভাবে উত্তর কিভাবে দিবেন ?

আপনার এভাবে বলতে হবে,

  • যেকোনো কাজ যখন আমাকে দেওয়া হয়, তখন সেই কাজ আমি সম্পূর্ণ মন দিয়ে সম্পূর্ণ করার চেষ্টায় থাকি। আর আমার মনে হয় আমার এই অভ্যেস সব থেকে সেরা।
  • আমার মধ্যে সমস্যার সমাধান করার ক্ষেত্রে প্রচুর ধর্য্য রয়েছে। তাই, যতক্ষণ না আমি সমস্যার সমাধান খুঁজতে পারি, আমি অবশই চেষ্টা করেই থাকি।
  • কাজের চাপ অধিক হলেও আমি অনেক সহজে নিজেকে সামলিয়ে নিতে পারি।
  • আমি সহজেই লোকেদের সাথে মিলে থাকতি পারি।
  • কাজের সাথে জড়িত কি কি দক্ষতা বা অভিজ্ঞতা রয়েছে সেটা বলুন।
  • আমি নতুন নতুন কাজ শিখতে পছন্দ করি।

৫. আপনার মধ্যে কি কি দুর্বলতা রয়েছে ? 

এই প্রশ্ন অবশই আপনাকে করা হবে যখন আপনি ইন্টারভিউ দিতে যাবেন।

তবে, এর উত্তর আপনি অনেক চিন্তা ভাবনা করে দিতে হবে।

কেননা, আপনি সরাসরি নিজের দুর্বলতা গুলো তাদের বলতে পারবেননা এবং কোনো দুর্বলতা নেই বলেও বলাটা মানাবেনা।

এই প্রশ্ন করে সেই ইন্টারভিউ নেওয়া ব্যক্তি আপনার মনের ভাব যাচাই করতে চাইবেন।

এটা অনেক গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রশ্ন যার উত্তর ভুল ভাবে দেওয়ার ফলে আপনি চাকরি পাওয়ার সুযোগ হাতছাড়া করবেন।

তাই, নিজের কমজোরি গুলো যেমন, আমার রাগ বেশি, আমার খিদে বেশি পায়, আমি লোকেদের সাথে মিলে থাকতে পারিনা, আমার ধর্য্য কম ইত্যাদি এসব ধরনের কথা কখনোই বলার পরামর্শ আমি দিবোনা।

এতে, কেবল একেবারেই আপনার impression খারাপ হয়ে যেতে পারে।

কিভাবে দিবেন এই প্রশ্নের সঠিক উত্তর ?

আপনাকে এভাবে কিছু দুর্বলতার বিষয়ে বলতে হবে যেগুলো হতে পারে দুর্বলতা তবে শুনে একটি পসিটিভ ভাবের তৈরি হয়ে থাকে।

যেমন,

আপনি বলতে পারেন যে, আমি অনেক সময় কাজ গুলোকে সঠিক এবং সেরা ভাবে করার ক্ষেত্রে একটু বেশি সময় নিয়ে থাকি।

এতে, হতে পারে কাজ করার জন্য আপনি বেশি নিচ্ছেন এবং সেটা আপনার দুর্বলতা,

তবে, আপনি সময় নিচ্ছে কাজটিকে একেবারেই সঠিক ভাবে সম্পন্ন করার উদ্দেশ্যে।

তাই, আপনার উত্তরে কাজের প্রতি থাকা আপনার নিষ্ঠা, রুচি এবং ইন্টারেস্ট ভালো করেই বুঝা যাচ্ছে।

৬. আগের চাকরি কেন ছাড়তে চাইছেন বা ছেড়েছেন ? 

এই প্রশ প্রত্যেককেই জিগেশ করা হয়না যদিও কেবল আগে চাকরি করা ব্যক্তি দের জিগেশ করা হয়।

প্রশ্নটি জিগেশ করার মধ্যে ইন্টারভিউ নেওয়া ব্যক্তির উদ্দেশ্য হলো আপনার চাকরি ছাড়ার মূল কারণ জানা।

তবে এটা অনেক জরুরি একটি প্রশ্ন যেটার জবাব অনেক ধ্যান দিয়ে দিতে হবে।

সচরাচর বেশিরভাগ লোকেরা নিচে দেওয়া উত্তর গুলো দিয়ে থাকে যেগুলো দেওয়াটা ঠিক না।

  • আগের চাকরিতে অনেক ঝগড়া ঝামেলা হতো।
  • কোম্পানির কাজের প্রক্রিয়া আমার পছন্দ ছিলোনা।
  • কাজ করে ভালো লাগতোনা বা মন বসতো না।
  • অনেক কম স্যালারি দিতো।

এই ধরণের উত্তর দিলে বুঝা যাবে যে আপনি নিজের কোম্পানি এবং কাজ এর প্রতি সৎভাবে রাখেননা।

আর তাই, এই কোম্পানির ক্ষেত্রেও আপনি এই ভাব রাখতে পারেন বলেই তারা মনে করবে।

তাই, আপনাকে অনেক ভালো করে ভেবে নিচে বলা হিসেবে এই প্রশ্নের উত্তর দিতে পারবেন।

  • আমি একটি ভালো ক্যারিয়ার এর ক্ষেত্রে আগের চাকরি ছেড়েছি।
  • আপনাদের কোম্পানিতে আমি নতুন কিছু শেখার সুযোগ পাচ্ছি।
  • Career growth এর ক্ষেত্রে আপনাদের কোম্পানি আমার হিসেবে অধিক ভালো।
  • আমি যেরকম চাকরির স্বপ্ন দেখেছি সেটার সত্যি হওয়ার সুযোগ এই নতুন কোম্পানিতে রয়েছে।

এভাবে, পুরোনো কোম্পানির বদনাম না করে পসিটিভ ভাবে এই প্রশ্নের উত্তর দিয়ে আপনি ইন্টারভিউ নেওয়া ব্যক্তিদের মন জয় করতে পারবেন।

৭. কত টাকা স্যালারি হিসেবে আশা করছেন ? 

একটি চাকরির ইন্টারভিউ এর প্রশ্ন গুলোর মধ্যে সব থেকে শেষে এই প্রশ্ন করা হয়।

তবে অনেকেই কিছু বুঝে শুনে নিজের মন মতো salary চেয়ে বসে।

আবার অনেকেই কোনো ধরণের স্যালারি এক্সপেক্ট করেননা।

কিছু এমন উত্তর যেগুলো দেওয়ার পরামর্শ আমি দিবোনা –

  • আমিতো নতুন তাই যেকোনো স্যালারি চলবে।
  • আপনারা যা দিবেন।
  • কোম্পানির সিদ্ধান্ত যেটা।
  • আগের কোম্পানির থেকে বেশি পেলেই হলো।

এই ধরণের উত্তর যদি salary expectation এর প্রশ্নের ক্ষেত্রে আপনি বলে থাকেন,

তাহলে আপনার নিজের কোনো দাম থাকবেনা কোম্পানির সামনে।

তাই, আপনাকে অনেক স্মার্ট ভাবে নিজের চাহিদার বিষয়ে বুঝিয়ে বলতে হবে।

আপনাকে নিচে বলা হিসেবে উত্তর দেওয়ার পরামর্শ আমি দিবো –

আপনি কোন sector এর মধ্যে চাকরি করতে চলেছেন সেখানে মিনিমাম এবং ম্যাক্সিমাম স্যালারি কত হতে পারে,

সেই বিষয়ে আগেই রিসার্চ করে রাখতে হবে।

এতে, আপনি ইন্ডাস্ট্রি স্ট্যান্ডার্ড হিসেবে স্যালারি চাইতে পারবেন।

তাছাড়া, আপনি নিজের মাসের খরচ গুলোর হিসেবে করে সেটার ধ্যান রেখে স্যালারি চাইতে পারবেন।

আপনার অভিজ্ঞতা এবং কোয়ালিফিকেশন এর কথা মনে রেখে স্যালারি চাইবেন।

তবে হে, অধিক বেশি স্যালারি চাওয়াটা ঠিক ভালো হবেনা।

তাই, আপনাকে নিজের খরচ, আগের অভিজ্ঞতা এবং এই কাজের জন্য কতটা স্যালারি সঠিক সবটা রিসার্চ করে স্যালারি চাইতে হবে।

চাকরির ইন্টারভিউ টিপস বাংলাতে – (Job interview tips in Bangla)

প্রথমবার হোক বা দ্বিতীয়বার বা বার বার, আপনি যখনি চাকরির জন্য ইন্টারভিউ দিতে যাবেন,

নিচে দেওয়া টিপস গুলো অবশই প্রত্যেক বার মনে রাখবেন।

এতে, ইন্টারভিউ নেওয়া ব্যক্তির সামনে আপনার ভালো প্রভাব অবশই পরবে।

  • যেই কোম্পানিতে ইন্টারভিউ দিতে যাচ্ছেন, সেই কোম্পানির বিষয়ে সম্পূর্ণ রিসার্চ আগের থেকেই করে রাখবেন।
  • ইন্টারভিউ দিতে যাওয়ার আগের দিন রাতে ভালো করে ঘুমিয়ে নিবেন।
  • Confidently কথা বলতে হবে।
  • Formal কাপড় পরে ইন্টারভিউ দিতে যাবেন।
  • ইন্টারভিউ দিতে যাওয়ার আগে কিছু প্রশ্ন নিয়ে চর্চা করুন যেগুলো জিগেশ করার সম্ভাবনা রয়েছে।
  • Resume printout করে অবশই নিয়ে যাবেন।
  • একেবারে সঠিক সময়ে উপস্থিত থাকতে হবে।
  • নিজের মোবাইলের switch বন্ধ রাখুন ইন্টারভিউ দেওয়ার সময়।

এই ধরণের কিছু মূল বিষয়ে নজর দিলে আপনার ইন্টারভিউ অবশই ভালো হবে।

 

আমাদের শেষ কথা,,

তাহলে বন্ধুরা আজকে আমরা জানলাম এমন কিছু প্রশ্ন ও উত্তর এর বিষয়ে যেগুলো ইন্টারভিউ দিতে গেলে জিগেশ করা হয়।

তাছাড়া, চাকরির ইন্টারভিউ টিপস (job interview tips in Bengali) নিয়েও আমরা পরের ভাগে কথা বললাম।

তাই, আশা করছি আমাদের আজকের আর্টিকেল পড়ার পর আপনারা ইন্টারভিউ দেওয়ার আগেই নিজেকে অনেকটা তৈরি করে নিতে পারবেন।

ওপরে বিষয় গুলো ভালো করে পড়ার পর অবশই আপনার চাকরির ইন্টারভিউ এর কৌশল ভালো হবে।

চাকরির ইন্টারভিউ নিয়ে লিখা আমাদের আজকের আর্টিকেল যদি আপনাদের ভালো লেগে থাকে,

তাহলে অবশই আর্টিকেলটি শেয়ার করবেন।

তাছাড়া, আর্টিকেলটি নিয়ে যদি আপনার মনে মনো ধরণের প্রশ্ন বা পরামর্শ থাকে, তাহলে কমেন্ট অবশই করবেন।

 

2 thoughts on “চাকরির ইন্টারভিউ এর প্রশ্ন ও উত্তর গুলো জেনেনিন – (ইন্টারভিউ টিপস)”

  1. ধন্যবাদ ভাইয়া লেখা গুলো অনেক সুন্দর হয়েছে এবং আমার কাছে ভালো লেগেছে

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error:
Scroll to Top
Copy link
Powered by Social Snap