ভিডিও গেম খেলার উপকারিতা গুলো কি কি ? – (Gaming benefits)

বর্তমান সময়ে ছোট-বড় প্রত্যেকেই কম্পিউটার, ল্যাপটপ বা নিজেদের মোবাইলে গেম অবশই খেলে থাকেন।

গেম খেলার উপকারিতা ও লাভ

আমি নিজেই আমার কাজের সাথে সাথে যখনি কিছু খালি সময় পেয়ে থাকি, তখনি ভিডিও গেম অবশই খেলি।

আর আমি নিজেই অনুভব করি যে, ভিডিও গেম খেলার উপকারিতা কিন্তু অবশই রয়েছে।

আপনি চাইলে কম্পিউটারে গেম খেলুন বা মোবাইলে বা অন্যান্য গেমিং কনসোল গুলোতে (Sony Play Station, Xbox 360 etc.),

প্রত্যেক ক্ষেত্রেই সমান লাভ বা উপকারিতা কিছু অবশই দেখা গেছে।

এই আর্টিকেলে আমি আমার নিজের গেমিং এর অভিজ্ঞতা এবং ইন্টারনেটের মাধ্যমে করা কিছুটা রিসার্চ এর ওপরে নজর দিয়ে ভিডিও গেম খেলার কিছু গুরুত্বপূর্ণ লাভ এর কথা বলবো।

আমার হিসেবে, যখন আপনি সীমায় থেকে গেমিং করবেন, তখন অবশই গেম খেলে লাভ কিছুটা হলেও আপনার হবেই।

ভিডিও গেম খেললে কি কি লাভ বা উপকার আপনার হতে পারে ?

এমনিতে, যেকোনো ঘরেই ভিডিও গেম খেলাকে একটি নেশা বলে মনে করেন।

এর ফলে, কিছুটা বেশি সময় গেম খেললে, আমাদের ঘরের বড়রা আমাদের ওপর রাগ করে থাকে।

হে অবশই, আপনি যদি অধিক বেশি পরিমানে গেম খেলছেন, তাহলে সেটা আপনার জন্যে ক্ষতিকারক হতে পারে।

যেকোনো জিনিসের অধিক ব্যবহার আপনার জন্য ক্ষতিকারক হতেই পারে।

তবে, বিভিন্ন রিসার্চ (research) গুলোর বিপরীতে পাওয়া গেছে যে,

গেমিং করে আপনি মনোরঞ্জন তো পাবেন, তবে এর সাথে কিছু গুরুত্বপূর্ণ লাভ আপনার ক্ষেত্রে হতে পারে।

বাচ্ছা এবং বড়, প্রত্যেকের ক্ষেত্রেই গেমিং জ্ঞানীয় দক্ষতা বৃদ্ধি করার ক্ষমতা রাখে।

যেভাবে physical exercises করলে আপনার শরীরের muscles এর শক্তিশালীকরণ এর ক্ষেত্রে সাহায্য করে,

ঠিক সেভাবেই, গেমিং এর সাথে জড়িত থাকলে আপনার মানসিক অনুশীলন বা ব্যায়াম হয়ে থাকে।

ফলে, আপনার brain এর performance বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা প্রচুর থাকে।

চলুন, এখন আমরা সরাসরি জেনেনেই যে video games খেলে আপনার কি কি লাভ হতে পারে।

9 benefits of playing video games

চলুন, নিচে আমরা সরাসরি প্রত্যেকটি উপকারিতা গুলোর বিষয়ে জেনেনেই।

১. সমন্বয়তার (coordination) ক্ষেত্রে উপকার 

দেখা গেছে যে, গেম খেললে আপনি সমন্বয়তা বা সহযোগিতার ক্ষেত্রেও প্রচুর উপকার পেতে পারবেন।

কেননা, যখন একজন বাচ্চা বা অ্যাডাল্ট ব্যক্তি গেম খেলেন,

তখন সে কেবল টিভি বা কম্পিউটারের স্ক্রিনের মধ্যেই তাকিয়ে থাকেনা।

স্ক্রিনের মধ্যে গেম এর সাথে জড়িত বিভিন্ন ধরণের actions এবং activities এর সাথে আপনার সংযুক্ত হতে হয়।

এতে, প্রচুর মানসিক উদ্দীপনার (mental stimulation) সৃষ্টি হয়ে থাকে।

Game খেলার প্রক্রিয়াতে আপনাকে নিজের ভিজ্যুয়াল (visual) এবং শারীরিক চলন এর মধ্যে সমন্বয়তা (coordination) রাখতেই হবে।

তাই, নিয়মিত গেমিং করলে আপনার coordination skills অবশই ভালো হবে।

২. Problem-solving skills 

যেকোনো গেম খেলার সময় আপনার কাছে বিভিন্ন সংঘর্ষের পরিবেশ, বিপদ এবং নিয়ম থাকে।

তাই, প্রথম লেভেল থেকে শুরু করে পরের লেভেল গুলোতে যেতে হলে,

আপনাকে, বিভিন্ন নিয়ম গুলো মেনে সমস্যা গুলোর সমাধান বের করতে হয়।

গেমিং এর ক্ষেত্রে যখন আপনি নিয়মিত সমস্যা গুলোর সমাধান বের করার ক্ষেত্রে সংঘর্ষ করবেন,

এটা, এক ধরণের মানসিক ব্যায়াম এর মতোই কাজ করবে যার ফলে আপনার ব্যক্তিগত জীবনেও যেকোনো সমস্যার সমাধান করার কৌশল বৃদ্ধি পাবে।

৩. স্মৃতি শক্তি ভালো করা 

গেমিং করা বিভিন্ন ব্যক্তিদের ওপরে রিসার্চ করার ফলে জানা গেছে যে, গেমিং করলে আপনার স্মৃতি শক্তি ভালো হতে পারে।

যেকোনো গেম খেলার জন্যে আপনার বিভিন্ন জিনিস গুলোর ওপরে নজর দিতে হবে।

গেম এর সাথে জড়িত বিভিন্ন জায়গা, নির্দেশাবলী, কন্ট্রোল, চরিত্র, স্টোরি ইত্যাদি।

তাই, গেমটি খেলার সাথে সাথে আপনি নিজেকে অনেক কিছু মনে রাখার জন্যে নির্দেশ দিচ্ছেন।

এতে, স্মৃতি শক্তির ক্ষেত্রে এক ধরণের মানসিক ব্যায়াম আপনার হয়ে থাকে।

আর যার ফলে, কিছু সময়ের জন্যে হলেও আপনার স্মৃতির উন্নয়নের ক্ষেত্রে ভালো কাজ দিয়ে থাকে।

৪. একাগ্রতা বাড়ানোর ক্ষেত্রে উপকার 

গেম খেললে আপনার একাগ্রতা বাড়ার সুযোগ প্রচুর বৃদ্ধি পাবে।

কারণ, যখন আপনি একটি action বা adventure game খেলছেন তখন আপনার সম্পূর্ণ মন সেই গেমের মধ্যেই থাকে।

যেকোনো গেম আমরা অধিক মনোযোগ দিয়েই খেলি।

কারণ আমাদের মনের মধ্যে গেমের পরের লেভেলে যাওয়ার উৎসাহ ঘর করে ফেলে।

তাছাড়া, গেমের বিভিন্ন মিশন গুলো সম্পূর্ণ করার ক্ষেত্রে আমাদের বিভিন্ন উদ্দেশ্য (objectives) গুলো মনোযোগ দিয়ে সম্পূর্ণ করতে হয়।

তাই, এতে আমাদের একাগ্রতা বাড়ার সম্ভাবনা প্রচুর থাকছে।

৫. শেখার অনেক ভালো উৎস হলো গেমিং 

বড় দের সাথে সাথে গেমিং বাচ্চাদের জন্যেও শেখার একটি ভালো উৎস হিসেবে বলা যেতে পারে।

বিভিন্ন creative skills গুলোর বিষয়ে গেমিং এর মাধ্যমে জানা যেতে পারে।

বিভিন্ন স্কুল এবং কলেজে রয়েছে যেখানে গেমিং এর মাধ্যমে অনেক কিছু শিখানো হয়।

বর্তমান সময়ে games গুলোর story, scripting, objectives গুলো প্রচুর advanced এবং realistic হয়ে যাওয়ার ফলে,

গেম খেলে আমরা আমাদের ঘরের বাইরের পরিবেশের বিষয়েও অনেকটা শিখতে ও জানতে পারি।

৬. মাল্টি টাস্কিং এর ক্ষমতা বৃদ্ধি 

একটি action, adventure বা fighting game খেলার সময় আপনাকে অনেক ধরণের কাজ বা টাস্ক একসাথেই করতে হবে।

যেমন, স্ক্রিনের দিকে দেখা, গেম এর বিভিন্ন চরিত্রের ওপরে নজর রাখা, জয়স্টিক বা কীবোর্ড এর মাধ্যমে নিজের চরিত্রের নিয়ন্ত্রণ ইত্যাদি।

এক্ষেত্রে, আপনার বিভিন্ন কাজ একসাথে করতে থাকতেই হয়।

তাই, নতুন অবস্থায় বা যেই ব্যক্তি প্রথম প্রথম এই ধরণের গেম খেলে থাকে, তার জন্যে প্রথমে একসাথে এতো কাজ করাটা সুবিধাজনক হয়ে থাকেনা।

তবে, কিছু দিন নিয়মিত গেম খেলতে খেলতে অনেক সহজেই সেই ব্যক্তি ভালো করে প্রত্যেকটি কাজ একসাথে করতে পারে।

এতেই বুঝা যাচ্ছে যে গেমিং এর মাধ্যমে আমাদের একসাথে একাধিক কাজ গুলো করার ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।

৭.  Social connectivity ক্ষেত্রে লাভ 

বর্তমান সময়ে গেমিং করার আসল মজা online multiplayer games গুলো খেলেই আসে।

রিয়েল লোকেদের সাথে ইন্টারনেটের মাধ্যমে বর্তমানে একসাথে গেম খেলা সম্ভব।

এতে, গেমিং এর প্রতি আলাদা এক উৎসাহ চলে আসার বাইরেও নতুন নতুন লোকেদের সাথে চেনা পরিচিত হয়ে থাকে।

এভাবে, গেম খেলার মাধ্যমে আমরা বিভিন্ন real players দের সাথে যোগাযোগ করে তাদের সাথে সামাজিক ভাবে সংযুক্ত হতে পারি।

তাই, গেমিং এর ক্ষেত্রে নতুন নতুন বন্ধু তৈরি করাটাও এখন গেমিং এর মাধ্যমেই সম্ভব।

অনেক অনলাইন গেম গুলো রয়েছে যেগুলোতে আপনাকে অচেনা ব্যক্তিদের সাথে একসাথে গ্রুপ তৈরি করে খেলতে হবে।

এভাবে, অচেনা অব্যাক্তিদের সাথে একসাথে খেলা, নির্দেশ দেওয়া এবং একমত হয়ে খেলার ফলে,

আপনার social connectivity skills অবশই ভালো হওয়ার সম্ভাবনা থাকছে।

৮.  Stress relief করার ক্ষেত্রে দারুন কাজে আসে 

অনেক ক্ষেত্রে দেখা গেছে যে, গেমিং এর মাধ্যমে লোকেদের মন সত্যি ভালো হয়ে যায়।

মানসিক চাপ থেকে মুক্ত হওয়ার ক্ষেত্রেও অনেক ভিডিও গেম গুলো প্রচুর কাজে আসে।

আপনার মন ভালো না লাগলে বা মানসিক চাপ থাকলে, আপনি গেম খেলুন।

যখন, আপনি কোনো ভালো গেম এর সাথে সংযুক্ত হবেন তখন আপনি সেই গেম এর পরিবেশের সাথেই নিজেকে ব্যস্ত রাখবেন।

ফলে, আপনার মনের থেকে চাপ, খারাপ চিন্তা ইত্যাদি চলে যাওয়ার সম্ভাবনা প্রচুর।

তাই, নিজের মন ভালো রাখার একটি ভালো উপায় হিসেবে গেমিং এর ব্যবহার অনেকেই করে থাকেন।

৯.  উৎসাহিত এবং তরুণ অনুভব করুন 

অনেকেই বলেন যে, ভিডিও গেমস খেলা বাচ্চাদের কাজ।

কিন্তু, ভিডিও গেম এর উপকার এবং লাভ প্রত্যেকেই নিতে পারেন।

বাইরের বিভিন্ন দেশ গুলোতে বয়স্ক লোকেরাও পর্যন্ত ভিডিও গেম খেলেন।

এতে, আপনি নিজেকে উৎসাহিত এবং তরুণ হওয়ার অনুভব দিতে পারবেন।

Video games এর মাধ্যমে আপনি আপনার ব্যস্ততা পূর্ণ জীবনের থেকে নিজেকে আলাদা রাখতে পারবেন।

নিজেকে একটি ভার্চুয়াল রিয়ালিটি র দুনিয়াতে নিয়ে গিয়ে নতুন উৎসাহ নিজের মধ্যে ভরতে পারবেন গেমিং এর মাধ্যমে।

 

আমাদের শেষ কথা,,

তাহলে বন্ধুরা আজকের আর্টিকেলের মাধ্যমে আমরা ভিডিও গেম খেলে কি কি লাভ হতে পারে সেই বিষয়ে জানলাম।

What are the benefits of playing video games“, নিয়ে লিখা আমার আর্টিকেল আপনাদের ভালো লেগে থাকলে,

আর্টিকেলটি শেয়ার অবশই করবেন।

তাছাড়া, আর্টিকেলের সাথে জড়িত কোনো ধরণের প্রশ্ন বা পরামর্শ থাকলে, আমাকে কমেন্ট অবশই করবেন।

শেষে মনে রাখবেন, যদি আপনার গেমিং করার মন রয়েছে তবে অবশই করুন।

যেকোনো জিনিস করার কোনো নির্ধারিত বয়েস নেই।

আপনার মন তরুণ থাকাটা সব থেকে বড় এবং গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

 

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error:
Scroll to Top
Copy link
Powered by Social Snap