গুগল কি (What Is Google) : আপনাদের মধ্যে অনেকেই হয়তো গুগল এর ব্যাপারে অবশই জানেন। হয়তো, গুগল কি এবং Google এর কাজ বা ব্যবহারের ব্যাপারে আপনারা নাও জানতে পারেন। কিন্তু, যদি আপনি কখনো ইন্টারনেট ব্যবহার করেছেন, তাহলে, ইন্টারনেটে যেকোনো তথ্য (information), file বা ডিটেলস (details) খোঁজার জন্য Google কে একবার হলেও ব্যবহার করেছেন।

গুগল কি এর জনক কে
Google এর বিষয়ে জানুন বাংলাতে।

আজ থেকে প্রায় ১০-১৫ বছর আগে, লোকেরা ইন্টারনেট ব্যবহার ঠিকি করতেন, কিন্তু এখনের মতো লাভ তার থেকে নিতে পারতেননা। কারণ, ১০-১৫ বছর আগে ইন্টারনেটে এখনের তুলনায় অনেক কম তথ্য (information) ছিল।

তাই, কিছু জিনিসের ব্যাপারে জানার জন্য বা যেকোনো জিনিসের বিষয়ে তথ্য পাওয়ার জন্য তারা বই (books) পড়তেন বা অন্যদের জিগেশ করতেন। কিন্তু, এভাবে যেকোনো জিনিসের জন্য বই পড়ে বা অন্য লোকেদের জিগিয়ে তথ্য করাটা সহজ কাজ ছিলোনা। এভাবে তথ্য গ্রহণ করাটা সেই সময় অনেক বড়ো সমস্যা ছিল।

কিছু সময় পর, ওয়েবসাইটের মাধ্যমে লোকেরা বিভিন্ন বিষয়ে তথ্য লিখে সেগুলি ইন্টারনেটে প্রচার করা শুরু করলেন। এভাবে, ঘরে বসেই, ইন্টারনেট (Internet) এবং ওয়েবসাইটের মাধ্যমে লোকেরা যেকোনো জিনিসের বিষয়ে তথ্য বা জ্ঞান পেতে শুরু করলেন।

কিন্তু, এই প্রক্রিয়াতেও একটি সমস্যা ছিল। সেটা হলো, সঠিক তথ্য (information) পাওয়ার জন্য কোন ওয়েবসাইট সঠিক, সেটা খুঁজে বের করাটা। মানে, ইন্টারনেটে হাজার হাজার ওয়েবসাইট নিজের নিজের জায়গা নিলো যেখানে বিভিন্ন বিষয়ে তথ্য রয়েছে।

এখন, কোন ওয়েবসাইট গুলিতে লোকেদের প্রয়োজন হওয়া তথ্য রয়েছে, সেটা তারা কিভাবে জানবেন ? একসাথে হাজার হাজার বিষয়ের আলাদা আলাদা ওয়েবসাইটের নাম মনে রাখাটা কিন্তু সম্ভব কথা নয়।

ইন্টারনেট থেকে, সহজে সঠিক তথ্য জলদি পেয়ে যাওয়াটা ছিল সেই সময়ের আসল সমস্যা।

এবং, তখনি এই সমস্যা দূর করার জন্য, দুজন যুবক আসলেন। সেই সমস্যার সমাধান ছিল “গুগল (Google)“। এবং, Google এর মাধ্যমে এর সমাধান করে, গুগলকে বিশ্বের সবচেয়ে প্রচলিত এবং লোকেদের প্রিয় Web search engine বানিয়ে দিলেন।


অবশই পড়ুন


সেই দুই যুবক কে ছিলেন, গুগল মানে কি, গুগলকে কেন বানানো হয়েছে ? গুগল এর মালিক কে, এই সব ব্যাপারে আমরা নিচে এক এক করে জেনে নেবো।

Google কি ? (What Is Google In Bangla)

সাধারণ ভাবে, গুগল (Google) বললে আমরা বিশ্বের সব থেকে বড়ো “Web search engine” কেই বুঝি। Search engine হলো internet বা web এর ওপরে ভিত্তি (based) করে বানানো এমন একটি application বা tool যেটা ব্যবহার কোরে, লোকেরা ইন্টারনেটের (world wide web) থেকে যেকোনো বিষয়ে সঠিক তথ্য (information) জলদি এবং সহজেই পেয়ে যেতে পারে। 

ইন্টারনেট থেকে যেকোনো বিষয়ে সঠিক তথ্য (information, videos, software, movies, images) সহজে বের করে নেয়ার জন্য এই গুগল সার্চ ইঞ্জিন (Google search engine) আজ বিশ্বে সব থেকে বেশি ব্যবহার করা হয়। Google.com গোটা বিশ্বে সব থেকে বেশি ভিসিট করা ওয়েবসাইট।

কিন্তু, গুগল এর অর্থ বা মানে, আজকের দিনে, কেবল সার্চ ইঞ্জিন বললেই আমি সঠিক হবোনা।

আজ, Google একটি multinational company হয়ে দাঁড়িয়েছে। এবং, সার্চ ইঞ্জিনের বাইরেও এর আরো অনেক ধরণের পণ্য বা প্রোডাক্ট মার্কেটে অনেক প্রচলিত।

যেমন, Google cloud computing services, Google play store, Gmail এর দ্বারা ইমেইল সার্ভিস, Google Adword, Adsense, AdMob দ্বারা online advertising services, বিভিন্ন কম্পিউটার application, mobile application এবং আমাদের মধ্যে বেশির ভাগ লোকেরা ব্যবহার করা Android mobile গুলিতে যেই android operating system রয়েছে সেটাও গুগলের।

আপনারা, google product list এর Wikipedia লিংকে গিয়ে, সব ধরণের google products এর ব্যাপারে সবটাই জেনেনিতে পারবেন।

২০১৬ তে, গুগল নিজের ইচ্ছা মোবাইল এবং mobile industry তে দেখিয়ে একটি নতুন smartphone মার্কেটে এনেছিল। এবং, সেই মোবাইলটির নাম হলো “Google pixel“. Google pixel, মোবাইলটি লোকেরা অনেক পছন্দ করলেন, এবং এখনো এর অনেক মডেল মার্কেটে অনেক বিখ্যাত (famous)।

এই সব ধরণের প্রোডাক্ট (product) এবং সার্ভিসেস (services) এর মাধ্যমে গুগল বর্তমানে ইনকাম (income) করছে।

তাই, যারা গুগলকে কেবল একটি সার্চ ইঞ্জিন বলেই মনে করেন বা জানেন, তারা জেনেনিন, Google বিশ্বের অনেক নামকরা এবং বিখ্যাত কোম্পানি, যেখানে প্রায় ৯৮৭৭১ সংখক কর্মচারীরা কাজ করছেন। এবং, গুগলে কাজ করার স্বপ্ন নিয়ে অনেকেই দিনে রাত্রে চেষ্টা চলিয়ে যাচ্ছেন। এর, search engine এর বাইরেও অনেক product এবং services রয়েছে।

এখন, যদি আমরা গুগলের ইনকামের কথা বলি, তাহলে আপনি বিস্মিত (surprised) হয়ে যাবেন। হে, গুগলের সব থেকে বেশি ইনকাম হয় তার online advertising থেকে।

এবং, আপনি অবাক হয়ে যাবেন শুনে যে, গুগলের এক দিনের ইনকাম প্রায় ৬ কোটি টাকা আর সেই হিসাবে, প্রত্যেক সেকেন্ডে (second) প্রায় ৪2,০০০ টাকা আয় করছে।

তাহলে, গুগল কত টাকা কামাচ্ছে, সেটা শুনে অবাক হলেন তো  ?

গুগল যতই সফলতার দিকে এগিয়ে যাক, কিন্তু এইটা ভুলা যাবেনা যে, গুগল শুরু হয়েছিল কেবল একটি web search engine থেকেই। এবং, ইন্টারনেট থেকে যেকোনো তথ্য সঠিক এবং সহজ ভাবে খুঁজে বের করাই ছিল এর উদ্দেশ্য। এবং এই উদ্দেশ্য এখনো রয়েছে।

শেষে, Google কি, এখন এবেপারে হয়তো আপনার জ্ঞান অবশই হয়ে গেছে। এখন, চলুন নিচে আমরা গুগলের ব্যাপারে আরো কিছু জেনেনেই।

গুগলের ইতিহাস (History Of Google)

Larry Page এবং Sergey Brin দ্বারা officially ১৯৯৮ এ Google company চালু করা হয়েছিল “গুগল সার্চকে” প্রচার করার জন্য। এবং, তারপর অনেক কম সময়ের ভেতরে এই Google search, সব থেকে বেশি ব্যবহার হওয়া web search engine হয়ে দাঁড়ালো।

Larry Page এবং Sergey Brin দুজন পিএইচডি ছাত্র (PhD students) ছিলেন “Stanford university” র যেটা California তে রয়েছে। এবং, এই দুজনে একসাথে একটি search algorithm তৈরি করলেন, যার নাম ছিল “BackRub“.

পরে, এই BackRub নামটি বদলে এর নাম গুগল (Google) দেয়া হলো।

১৯৯6 এ গুগল কেবল একটি research project হিসেবে চালু করা হয়েছিল। এবং, এই research project টির নাম ছিল “BackRub“. নানান কঠিন পরিস্থিতি এবং চ্যালেঞ্জ গুলির পর এই প্রজেক্ট সফল হলো এবং পরে পরে এর নাম Google search হয়ে দাঁড়ালো।

Research করার সময়, মূলত search engine টি র নিজস্ব কোনো ডোমেইন (domain) বা সার্ভার ছিলোনা। তারা, একে Stanford university র ওয়েবসাইটের থেকেই google.stanford.edu এবং z.stanford.edu ডোমেইনের মাধ্যমে ব্যবহার করছিলেন।

পরে পরে, Google.com ডোমেইন নামটি ১৫ সেপ্টেম্বর ১৯৯৭ (15 sep. 1997) এ প্রথম বারের জন্য রেজিস্টার (register) করা হয়েছিল।

গুগল নামের ইতিহাস (History Of The Name “Google”)

আমি ওপরে আপনাদের বলেছি, যখন এই search algorithm এর research project চলছিল, তখন এর নাম “BackRub” দেয়া হয়েছিল।

কিন্তু, পরে পরে যখন এই প্রজেক্ট সফল হয়ে দাঁড়ালো তখন এর নাম “Google” এ পরিণত করা হলো।

এখন, আপনারা হয়তো ভাবছেন যে এই, “গুগল নামের অর্থ কি ?” এবং, কেন একে গুগল নাম দেয়া হয়েছিল।

তাহলে জেনেনিন, Google নামটি “Googol” শব্দটির বর্ণাশুদ্ধি (misspelling) থেকে বানানো বা নেওয়া হয়েছে। অংক (mathematics) এ এই “Googol” শব্দটির অনেক গুরুত্ব রয়েছে। এই Googol শব্দটির মানে হলো ১ এর পেছনে ১০০ টি শূন্য (০).

এবং, Google নামটি Googol থেকে এজন্যই দেয়া হয়েছিল কারণ, নামটি ইঙ্গিত করে যে, এই সার্চ ইঞ্জিনটি আমাদের খোঁজা তথ্যের অনেক বৃহৎ পরিমানে সমাধান দিতে সক্ষম হবে। মানে, নামটি বোঝায় যে, সার্চ ইঞ্জিনটি আমাদের অনেক বড়ো সংখ্যায় তথ্য প্রদান করবে।

তাই, আপনারা যখন গুগল সার্চে কিছু সার্চ করেন, তখন অবশই দেখতে পান যে, G শব্দটির পরে অনেকগুলি O রয়েছে। এবং, প্রত্যেকটি O আলাদা আলাদা রেজাল্ট পেজে আমাদের নিয়ে যায় যেখানে আমাদের খোঁজা তথ্যের সাথে জড়িত ওয়েবসাইট থাকে।

গুগল লোগোর ইতিহাস
History of google logo.

ওপরে ছবিটি দেখলেই আপনারা বুঝতে পারবেন, আমি কি বলতে চেয়েছি। এবং, সোজা ভাবে বললে, “গুগল লোগোর ইতিহাস‘ এটাই। (একের পেছনে ১০০ টি শূন্য).

১৯৯৮ এ Larry Page গুগল লোগোর বা লেটারের একটি computerized version তৈরি করেছিলেন একটি ফ্রি graphic software ব্যবহার করে। এবং, সেই সফটওয়্যারটির নাম হলো “GIMP”.

তারপর, আমাদের এখনের বিখ্যাত (famous) গুগল লোগো develop করলেন graphic designer “Ruth Kedar“.

গুগলের উদ্দেশ্য কি ? কেন বানানো হয়েছে 

এবেপারে আমি ওপরে আগেই বলেছি। আসলে, সবচে প্রথমে Google ছিল একটি web search engine যার উদ্দেশ ছিল, ইন্টারনেটে থাকা বিভিন্ন লক্ষ লক্ষ তথ্য আমাদের প্রয়োজন হিসেবে সহজে এবং সঠিক ভাবে প্রদান করাটা।

এবং, গুগল আগেও তার এই উদ্দেশ্যে অনেক ভালো ভাবে কাজ করেছে এবং এখনো করছে। এটাই, কিন্তু গুগলের সফলতার আসল কারণ।

আজ, ২০১৯ সালে গুগল কেবল একটি সার্চ ইঞ্জিন নয়, সে হয়ে দাঁড়িয়েছে একটি “Multinational company“. এবং, সার্চ ইঞ্জিন দ্বারা সঠিক তথ্য সহজ ভাবে প্রদান করা ছাড়াও গুগলের কাছে রয়েছে অনেক উদ্দেশ্য।

যেমন, আপনারা অবশই জানেন, Android OS, Google chrome browser, Gmail, YouTube, Google Adsense, Google map, Google translate এবং আরো অনেক Product বা services গুগলের রয়েছে।

এক্ষেত্রে, গুগলের উদ্দেশ্য হলো, সাধারণ মানুষের জীবনধারা (lifestyle), বিভিন্ন digital products & services, apps, software এগুলির দ্বারা আরো অনেক সহজ, সরল এবং উন্নত মানের করে দেয়া।

তাছাড়া, দিনের পর দিন নতুন নতুন online বা web services গুগল দ্বারা প্রচার হওয়াতে, আমাদের অনলাইন জীবন (online life) অনেক সহজ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

গুগলের কিছু বিখ্যাত product এবং তাদের কাজ 

এমনিতে যেকোনো ক্ষেত্রে, গুগলেরত অনেক ধরণের কাজের apps, software, extensions বা online services রয়েছে। কিন্তু, নিচে আমি কেবল কিছু সেরা এবং অনেক কাজে আশা গুগলের পণ্যের (products) বেপারে বলবো।

১. Google drive : গুগল ড্রাইভ কি, এবেপারে আমি আপনাদের আগেও বলেছি।  Google drive ব্যবহার করে, আপনারা অনেক সহজে যেকোনো file, software, ছবি, PDF file, video গুগলের ক্লাউড স্টোরেজে (Google cloud storage) সেভ করে রাখতে পারবেন।

এতে, আপনার মোবাইল বা কম্পিউটারের স্টোরেজ স্পেস বেঁচে থাকবে এবং যেকোনো জায়গার থেকেই আপনি সেই ফাইলগুলি আবার access (download) করতে পারবেন।

২. Google map : আমাদের মধ্যে অনেকেই হয়তো Google map অবশই নিজেদের মোবাইলে ব্যবহার করছি। গুগলের এই সার্ভিস ব্যবহার করে, আমরা যেকোনো জায়গার লোকেশন (location) বা এড্রেস (address) অনেক সহজে খুঁজে বেড় করতে পারি। এই সার্ভিস ব্যবহার করে অনেকেই লাভ পাচ্ছেন।

৩. Google play app store : Google play app store এর মাধ্যমে আমরা অনেক সহজে আমাদের এন্ড্রয়েড মোবাইলের জন্য, হাজার হাজার ফ্রি এবং পেইড (paid) এপ্লিকেশন পেয়ে যাই।

৪. Google Adsense : ইন্টারনেট থেকে বিজ্ঞাপনের মধ্যে অনলাইন টাকা আয় করার সব থেকে সেরা এবং লাভজনক মাধ্যম গুগল এডসেন্স। এবং, গুগল এডসেন্স কি ? কিভাবে এর থেকে টাকা আয় করবেন, এবেপারে আমি আগেই বলেছি।

৫. Google adwords :  গুগলের এই অনলাইন সার্ভিস দ্বারা আপনারা নিজের business বা product অনলাইন ইন্টারনেটে marketing বা প্রচার করে লোকেদের নিজের ব্যবসার ব্যাপারে ঘরে বসে বসেই জানিয়ে দিতে পারবেন। এতে, আপনার ব্যবসাতে লাভের পরিমান বেড়েযাবে।

৬. Google pay : গুগলের এই Google pay অনেক বেশি পরিমানে ব্যবহার করা একটি mobile wallet app. এই মোবাইল ওয়ালেট এপ ব্যবহার করে আমরা মোবাইল থেকেই যেকোনো ব্যাঙ্ক একাউন্টে নিজের ব্যাঙ্ক একাউন্ট থেকে টাকা পাঠাতে পারি।

এর সাথে, নিজের বা অন্যের মোবাইল রিচার্জ এবং bill payment এর মতো সব ধরণের কাজ ঘরে বসেই নিজের ব্যাঙ্ক একাউন্ট থেকে করে নিতে পারবেন।

৭. Google translate : গুগল ট্রান্সলেট এমন একটি অনলাইন সার্ভিস যেটা ব্যবহার করে আমরা যেকোনো ভাষাকে যেকোনো অন্য ভাষাতে পরিবর্তন, ট্রান্সলেট বা অনুবাদ করতে পারবো।

উদাহরণ স্বরূপে, আপনি যদি যেকোনো শব্দ বা বাক্য, বাংলা থেকে ইংরেজিতে অনুবাদ করতে চান, তাহলে গুগল এই সার্ভিস ব্যবহার করে, যেকোনো জায়গার থেকে সহজে করতে পারবেন।

৮. YouTube : ইউটিউব কি এবং কেন ইউটিউবের ব্যবহার জোড়া হয় সেটা আমরা সবাই জানি। YouTube আজ এমন একটি মাধ্যম যার দ্বারা আমরা যেকোনো জিনিসের বিষয়ে ভিডিওর মাধ্যমে শিখে নিতে পারি।

আপনি, entertainment videos, tutorial videos, informational videos এবং প্রায় সব ধরণের ভিডিও এখানে ফ্রীতেই দেখতে পারবেন। আজ ইউটিউবের মাধ্যমে লোকেরা অনেক কিছু ঘরে বসেই শিখে নিচ্ছেন ভিডিও দেখে দেখে।

তাছাড়া, ইউটিউব ঘরে বসে অনলাইন টাকা আয় করার সেরা উপায় হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে। ইউটিউবের থেকে টাকা আয় কিভাবে করবেন, সে বিষয়ে আমি আগেই আপনাদের বলেছি।

৯. Android OS : আমাদের এন্ড্রয়েড স্মার্টফোনে চলা অপারেটিং সিস্টেম (Operating system) হলো Android OS এবং এটাও গুগলের। আজ, এন্ড্রয়েড মোবাইল বিশ্বের সব থেকে বেশি বিক্রি হওয়া মোবাইল ফোন হয়ে দাঁড়িয়েছে। এবং, অনেক কম দামেই একটি এন্ড্রয়েড মোবাইল পাওয়ার ফলে, সব ধরণের লোকেরা একটি স্মার্টফোনের লাভ নিয়ে নিতে পারছেন।

১০. Blogger.com : আজ ব্লগার (blogger) বিশ্যের সব থেকে বড়ো, প্রচলিত এবং জনপ্রিয় ফ্রি প্লাটফর্ম যেটা ব্যবহার করে আমরা একটি ফ্রি ওয়েবসাইট বা ব্লগ তৈরি করতে পারি। ব্লগারের মাধ্যমে, লক্ষ লক্ষ লোকেরা নিজেদের একটি ওয়েবসাইট বানিয়ে অনলাইন টাকা আয় করছেন। কিভাবে একটি ব্লগার ব্লগ তৈরি করব, এবেপারে আমি আগেই আপনাদের বলেছি।

তাহলে দেখলেন তো, গুগল তার বিভিন্ন রকমের products এবং services এর দ্বারা, আমাদের সাধারণ জীবন প্রণালীকে কত অ্যাডভান্সড (advanced) এবং সহজ বানিয়ে দিয়েছে।

গুগলের ফুল ফর্ম কি (Full form of google)

সাধারনে, গুগলের পুরো নাম বা ফুল ফর্ম হলো, Global Organization of Oriented Group Language of Earth. কিন্তু, এখানে অনেক বিশৃঙ্খলা (confusion) রয়েছে যে, আসলে গুগলের কোনো সম্পূর্ণ নাম রয়েছে না নেই।

আর, এটাও হতে পারে যে, Google নিজেই একটি শব্দ যাকে গুগলের মালিকদের দ্বারা বানানো হয়েছে।

অফিসিয়ালি (officially), গুগল শব্দটির কোনো ফুল ফর্ম বা সম্পূর্ণ নাম নেই। যা আমি আগেই ওপরে বলেছি, Google শব্দটি Googol শব্দের থেকে নেয়া হয়েছে এবং এর মানে হলো “অনেক বড়ো সংখ্যা“.

গুগল এর জন্মদিন কবে ?

গুগল এর জন্মদিন পরিত্যেক বছর ২৭ সেপ্টেম্বর তারিখে উদযাপন (celebrate) করা হয়। এমনিতে, গুগল অন্তর্ভুক্ত (incorporated) করা হয়েছিল ৪ সেপ্টেম্বরে।

গুগলের জনক এবং মালিক কে ?

গুগল এর জনক হলো, Larry Page এবং Sergey Brin. যখন তারা, California র Stanford University তে Ph.D. করছিলেন, তখন একটি research project হিসেবে গুগলের ওপরে কাজ শুরু করেছিলেন। তারপর, তাদের সফলতার ফল স্বরূপে আজকের এই Google আমরা পেয়েছি।

গুগল এর মালিকের কথা বলতে, “গুগলের মালিক অনেক“.

Google একটি publicly-traded company. এবং, যারা যারা গুগলের শেয়ার (share) কিনেছেন তারাই আসলে গুগলের মালিক। এবং, এই হিসেবে দেখলে, গুগলের হাজার হাজার লক্ষ লক্ষ মালিক বা owners রয়েছে।

কিন্তু, গুগল কোম্পানিতে সবথেকে বেশি শেয়ার রয়েছে

  • Larry page – ২৭.৪ % শেয়ার।
  • Sergey Brin – ২৬.৯ % শেয়ার।
  • Eric Schmidt – ৫.৫ % শেয়ার।

Google এর CEO র নাম কি ? (Who is the CEO of Google)

২০১৯ এর বর্তমানে যখন আমি এই আর্টিকেলটি লিখছি তখন Google এর CEO হলো “ভারতের Sunder Pichai“. উনাকে, ১০ অগাস্ট ২০১৫ তে গুগলের নতুন CEO হিসেবে বেঁচে নেয়া হয়েছিল।

 

আমাদের শেষ কথা,

তাহলে বন্ধুরা, গুগলের ব্যাপারে আজকের এই আর্টিকেল আপনাদের অবশই ভালো লেগেছে বলে আমি আশা করছি।

এমনিই, “গুগল কি (what is google in bangla)” এবেপারে আপনাদের ভালোই জ্ঞান রয়েছে যে সেটা আমি জানি। এবং, আমি ভাবি যে, গুগল (Google) ভবিষ্যতে আরো অনেক ভালো ভালো এবং অ্যাডভান্সড টেকনোলজি (technology) নিয়ে আসবে, যেগুলি ব্যবহার করে আমরা অনেক ক্ষেত্রে আরো বেশি স্মার্ট (smart) এবং টেকনিক্যালি অ্যাডভান্সড হয়ে দাঁড়াবো। এতে, আমরা বিভিন্ন ধরণের কাজ অনেক সহজেই করে নিতে পারবো যেভাবে এখন করছি।

তাহলে, গুগল এর বিষয়ে যা যা আমি বললাম যেমন, গুগলের ইতিহাস, গুগল এর জনক কে বা গুগলের বিভিন্ন বিখ্যাত প্রোডাক্টস এর ব্যাপারে, সবটাই হয়তো আপনাদের ভালো লেগেছে।

যদি তাই হয়ে থাকে, তাহলে এই আর্টিকেল অন্যদের সাথে Facebook, Twitter, Whatsapp এবং অন্য social media গুলিতে শেয়ার অবশই করবেন। হতে পারে, এই তথ্য অন্যদের অনেক কাজের। তাছাড়া, আমাদের “ইউটিউবের চ্যানেল” অবশই subscribe করবেন।

Related Contents: